Tuesday, August 30, 2016

                        কাছে আসার গল্প-০৩

ভোর থেকেই আকাশ কাদঁছে কারণ কাল মেঘ তাকে ঢেকে রেখেছে। চারদিকের পরিবেশ অনেক ঠান্ডা। ঘুমের জন্য উপযুক্ত সময়।কিন্তু কি করা,যেতে তো হবেই, প্রথম ক্লাস বলে কথা। ভার্সিটির বাসে করে যাওয়া যাবে না। নতুনদের নাকি যাওয়া নিষেধ। এদিকে অটো রিক্সা গুলোও দেখা যাচ্ছে না। নতুন ছাত্রী হওয়াতে লেডিস হলে জায়গা নাই, যা দেশের বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর সাধারণ চিত্র। হঠাৎ এক অটো রিক্সার আগমন। কিন্তু রাস্তার অপর পাশে একটা ছেলের ঐদিক থেকে আসার জন্য ছেলেটি আগে ডাক দিয়েছে অটোকে। এই দিক মেয়েটিও ডাকা শুরু করলো। ছেলেটির কাছে অটো যেয়ে থামলো। মেয়েটি আবার হতাশ এযেন প্রচন্ড গরমে পানি পান করতে গিয়ে পানির গ্লাস পরে যাওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু একি রিক্সাটি ঐপাশে থেকে এপাশে পার হয়ে আসলো। রিক্সাওয়ালা বলল যে, আপনার জন্য আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। মেয়েটি খুশি হয়ে ধন্যবাদ দিবে কিন্তু সেটার কোন উপায় নেই, একে তো বৃষ্টি তারপর রাস্তার ওপার। যাই হোক ক্লাসের দেরি হয়ে যাবে দেখে মেয়ে রওনা দিল। ক্লাসে যেয়ে মেয়েটির ভালোই লাগছে। নতুন ক্লাস সবার সাথে শিক্ষক পরিচিত হচ্ছে, সবার ভাল লাগছে। ইতিমধ্যে ২০মিনিট পার হয়ে গেছে, স্যার বিভিন্ন বিষয়ে পরিচিত করাচ্ছে এমন সময় এক ছেলের আগমন। সবার চোখ সামনের দরজার দিকে, এক কাক ভেজা ছেলে দাঁড়িয়ে অনুমতি চাইছে ক্লাসে ঢোকার জন্য। কাপর থেকে পানি টুপ টুপ করে পড়ছে। সাধারণ পোষাক- শার্ট,প্যান্ট। কিন্তু প্যান্টটা পায়ের গোড়ালি থেকে এক ইঞ্চি উপরে। থুতনিতে ছোট ছোট দাঁড়ি, মনে হয় দাঁড়ি ঠিকভাবে ওঠেই নি। স্যার অনুমতি দিলে সে ভেতরে ঢুকে একদম শেষে বসে পড়লো। সবার পরিচয় জানা শেষ শুধু ছেলেটাই বাকি, তাই তাকে দাড়িয়ে পরিচয় দিতে বলল। সে জানালো তার নাম ওমর মুখতার বাসা শাহ জালালের দেশ সিলেটে। স্যার জিজ্ঞেস করলো ওমর মুখতার কে জানো? সে বলল যে, "হ্যাঁ, ইতালি বিদ্রোহের এক মুসলিম নেতা যে, গর্ব ভরে মৃত্যুদন্ড মেনে নিয়েছিল। পড়াশুনা কোথায় করেছে জানতে চাইলে সে জানালো, প্রথমে কওমী মাদ্রাসা থেকে হাফেজী পাশ করে তারপর স্কুলে ভর্তি হয়েছিল। মেয়েটি এটুকু শোনার পর একটু চমকেই উঠলো যে, ছেলেটি মাদ্রাসা থেকে পড়েছে, হাফেজ হয়েছে এ বিষয়টি তাকে ভাবাই নি কারণ সে জানে না হাফেজ কিভাবে হয়। ছেলেটিকে আরেক বার দেখে নিল যে ছেলেটি ইসলামধর্ম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়েছে। প্রথম দিন এইভাবেই পরিচয় পর্বেই কেটে গেল।
তারপর কিছুদিন এভাবেই চলছে। এরই মধ্যে এক স্যার ক্লাস নেওয়ার সময় যে মুসলিম, হিন্দু বাদে অন্য ধর্মের কেউ আছে কিনা। তখন মেয়েটি দাড়ায় এবং নাম বলে রেশমী। ছেলেটি তখন কৌতুহল নিয়ে প্রথমবার মেয়েটির দিকে তাকায়। এর কিছুদিন পর তাদের অনুষদের পরিচিতি অনুষ্ঠান(Orientation Program) হয়। মেয়েটি অনুষ্ঠান দেখতে যায়। অনুষ্ঠান শেষে অডিটোরিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ চেয়ারের সাথে পা লেগে পড়ে যায়। উঠে কাপড় পরিষ্কার করতে বেসিনে যায়। ফিরে আসতে একটু দেরি হওয়াতে দেখে তার বান্ধবীগুলো সবাই চলে গেছে। তখন সে পড়ল বিপদে, ৯টা বাজে এতো রাতে সে একা যাবে কিভাবে। তেমন কোন বড় আপুও পরিচিত হয় নি তার যে লেডিস হলে থাকবে। খুব দুঃশ্চিন্তায় সময় কাটছে, এ সময় দেখে রাস্তার অপর পাশে অটো রিক্সা ডাকছে যাওয়ার জন্য, ভিতরে দেখে সেই হাফেজ ছেলেটি। সে ভয় পায়, ইতোপূর্বে তার গীর্জার পাদ্রীর কাছে শুনেছে যে মুসলিমরা ভাল হয় না। তারা মেয়েদের দেখে সুযোগ নিতে চায়। কিন্তু উপায় তো দেখছে না, পরিচিত বলতে সেই ছেলেটাই। যা হবার দেখা যাবে বলে অটোতে উঠতে গেল। তাকে দেখে ছেলেটা নেমে সামনে বসতে যাবে ঠিক তখনই আরেক জন সামনে উঠে গেল। সেও কোন উপায় না পেয়ে পিছনে তার বামপাশে বসে এতো চেপে থাকলো যে তাদের দুজনের মাঝে মনে হয় অদৃশ্য কেউ বসে আছে। অটো চলতে শুরু করলো আর মেয়েটা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে তার উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করলো। অনেকক্ষণ লক্ষ্য করে মেয়েটা অবাক হয়ে গেল। সে ভাবলো, সাধারণত কাউকে কাছে থেকে অনেকক্ষণ লক্ষ্য করলে বিষয়টা অন্যজন বুঝতে পারে। কিন্তু এছেলে তো ফিরেও তাকালো না, তার মতো যুবতী সুন্দরী মেয়ে যে কোন ছেলের পাশে বসলে তারা ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকে আর কথা বলার চেষ্টা করে এর আগে সে এগুলো বিষয় উপলদ্ধি করেছে। এছেলে একেবারে ব্যতিক্রম, গন্তব্য এসে গেল তবুও একটি কথাও বলল না, আপন মনে সে মুখ দিয়ে সারা রাস্তা আস্তে আস্তে কি যেন পড়ছিল।অটো থেকে নেমে দুজনে যার যার ভাড়া দিয়ে দিলো। রাস্তা থেকে একটু দূরে মেস হওয়াতে মেয়ে যেতে ভয় পেল, এদিকে আবার সন্ধ্যার পর লোকজন কম হয়ে যায়। ছেলেটিকে ভাল মনে হলো বিধায় সে তার কাছে সাহায্য চাইবে ভাবলো। মেয়ে: এই যে শুনুন, আমার মেসটা একটু দূরে রাতও অনেক, একটু এগিয়ে দিলে অনেক উপকার হতো। ছেলে: (একটু ভেবে) ঠিক আছে। মেয়ে আগে আগে ছেলে পিছে পিছে। মেসের সামনে যেয়ে দরজা দিয়ে ঢুকতেই মনে পড়লো ছেলেটাকে ধন্যবাদ দেওয়ার কথা। পিছনে তাকাতেই দেখে ছেলেটি নিঃশব্দে হেঁটে যাচ্ছে। কাছে গিয়ে মেয়েটি বলল, মেয়ে: এই যে, আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দিবো। ছেলে: না ঠিক আছে। আমি মুসলিম হিসেবে একজন বিপদগ্রস্থের সাহায্য করেছি শুধু। মেয়ে: তারপরও আমার জন্য অনেক কষ্ট করলেন। ছেলে: নাহ! এটা আমি আমার আল্লাহ্‌'র জন্য করেছি। মেয়ে: আমি এর প্রতিদান কিভাবে যে দিবো? ছেলে: প্রতিদান আমি আল্লাহ্‌'র কাছে থেকে নিবো। ভালো কাজের প্রতিদান তিনি অবশ্যই দিয়ে থাকেন। মেয়ে: ঠিক আছে। ধন্যবাদ।
এরপর রুমে এসে মেয়ের চোখের ঘুম উধাও। ছেলের কথাগুলো তার মনের গভীরে গেঁথে গেছে। সৃষ্টিকর্তার উপর কিভাবে মানুষ এতোটা বিশ্বাস করতে পারে মেয়েটা ভেবে পায় না। ছেলেটার কথার যে সত্যতা আছে তা বলার ভাবভঙ্গির মধ্যে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। তার মনে জাগলো সেদিন বৃষ্টির সময় হয়তো এই ছেলেই সাহায্য করেছিল। বিছানার এপাশ ওপাশ হচ্ছে কিন্তু মাথাতে তার কথাগুলো ভেসে আসছে। আবার তার সাথে কথা বলার ইচ্ছা হচ্ছে। পরদিন ক্লাসের ফাকে।ছেলেটির কাছে যেয়ে জিজ্ঞেস করলো, মেয়ে: হ্যালো, ভাল আছো? ছেলে: (কিছুটা চমকে উঠে) হ্যাঁ, ভালো। মেয়ে: পরিচয় হই, আমি রেশমী ছেলে: আমি ওমর মুখতার মেয়ে: তুমি নাকি হাফেজ? এর মানে কি? ছেলে: হ্যাঁ, আমাদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন শরীফ যে মুখস্থ করে তাদের হাফেজ বলে। মেয়ে: পুরোটাই মুখস্থ? (আশ্চার্য হয়ে) ছেলে: হ্যাঁ, এটা শুধু কুরআনের ক্ষেত্রেই সম্ভব। পৃথিবীতে এমন কোন লোক দেখাতে পারবে না যে, কোন বই পুরোটাই মুখস্থ করতে পারে। মেয়ে: বিষয়টা কোনদিন ভাবি নি তো।আচ্ছা, ক্লাসের প্রথম দিন কি তুমিই বৃষ্টির মধ্যে আমার দিকে অটো রিক্সা পাঠিয়েছিলে? ছেলে: মনে হয়। মেয়ে: তুমিও তো আসতে পারতে, অযথা কেন বৃষ্টিতে ভিজতে গেছ? ছেলে: একটা মেয়ে বৃষ্টিতে দাড়িয়ে থাকবে আর আমি চলে যাবো বিষয়টা ভালো লাগে নি। আর আমি মেয়েদের সাথে যাতায়াত করি না। মেয়ে: সেদিন অটোতে যাওয়ার সময় তুমি কি যেন পড়ছিলে? ছেলে: ওহ! দোআ পড়ছিলাম। মেয়ে: কেন? ছেলে: সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করার জন্য। মেয়ে: আমি তোমার ধর্ম সমন্ধে জানতে চাই। আমি এর আগে মুসলমানদের সম্পর্কে যা শুনেছি তার থেকে তুমি ব্যতিক্রম। ছেলে: এটা তো আমার জন্য অনেক বড় আমল যে আমি তোমাকে ইসলাম সমন্ধে বলতে পারবো। ঠিক আছে আমি তোমাকে কাল কিছু বই দিবো। মেয়ে: ঠিক আছে।
এরপর রুমে এসে মেয়ের চোখের ঘুম উধাও। ছেলের কথাগুলো তার মনের গভীরে গেঁথে গেছে। সৃষ্টিকর্তার উপর কিভাবে মানুষ এতোটা বিশ্বাস করতে পারে মেয়েটা ভেবে পায় না। ছেলেটার কথার যে সত্যতা আছে তা বলার ভাবভঙ্গির মধ্যে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। তার মনে জাগলো সেদিন বৃষ্টির সময় হয়তো এই ছেলেই সাহায্য করেছিল। বিছানার এপাশ ওপাশ হচ্ছে কিন্তু মাথাতে তার কথাগুলো ভেসে আসছে। আবার তার সাথে কথা বলার ইচ্ছা হচ্ছে। পরদিন ক্লাসের ফাকে।ছেলেটির কাছে যেয়ে জিজ্ঞেস করলো, মেয়ে: হ্যালো, ভাল আছো? ছেলে: (কিছুটা চমকে উঠে) হ্যাঁ, ভালো। মেয়ে: পরিচয় হই, আমি রেশমী ছেলে: আমি ওমর মুখতার মেয়ে: তুমি নাকি হাফেজ? এর মানে কি? ছেলে: হ্যাঁ, আমাদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন শরীফ যে মুখস্থ করে তাদের হাফেজ বলে। মেয়ে: পুরোটাই মুখস্থ? (আশ্চার্য হয়ে) ছেলে: হ্যাঁ, এটা শুধু কুরআনের ক্ষেত্রেই সম্ভব। পৃথিবীতে এমন কোন লোক দেখাতে পারবে না যে, কোন বই পুরোটাই মুখস্থ করতে পারে। মেয়ে: বিষয়টা কোনদিন ভাবি নি তো।আচ্ছা, ক্লাসের প্রথম দিন কি তুমিই বৃষ্টির মধ্যে আমার দিকে অটো রিক্সা পাঠিয়েছিলে? ছেলে: মনে হয়। মেয়ে: তুমিও তো আসতে পারতে, অযথা কেন বৃষ্টিতে ভিজতে গেছ? ছেলে: একটা মেয়ে বৃষ্টিতে দাড়িয়ে থাকবে আর আমি চলে যাবো বিষয়টা ভালো লাগে নি। আর আমি মেয়েদের সাথে যাতায়াত করি না। মেয়ে: সেদিন অটোতে যাওয়ার সময় তুমি কি যেন পড়ছিলে? ছেলে: ওহ! দোআ পড়ছিলাম। মেয়ে: কেন? ছেলে: সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করার জন্য। মেয়ে: আমি তোমার ধর্ম সমন্ধে জানতে চাই। আমি এর আগে মুসলমানদের সম্পর্কে যা শুনেছি তার থেকে তুমি ব্যতিক্রম। ছেলে: এটা তো আমার জন্য অনেক বড় আমল যে আমি তোমাকে ইসলাম সমন্ধে বলতে পারবো। ঠিক আছে আমি তোমাকে কাল কিছু বই দিবো। মেয়ে: ঠিক আছে।
পরদিন ছেলেটি মেয়ের জন্য দুটি বই নিয়ে আসে। ছেলে: এই যে তোমার জন্য দুটি বই এনেছি। একটি মুফতি যুবায়ের আহমেদের লেখা "আলকুরআনে যীশু ও খৃস্টধর্ম" ও আরেকটি ড.মরিস বুকাইলির লেখা "বাইবেল,কুরআন ও বিজ্ঞান" ইনি আবার মুসলিম হয়েছিলেন। প্রাথমিক অবস্থায় এগুলো পড়, ভালো লাগলে আরও এনে দিবো। মেয়ে: ধন্যবাদ। কত দিতে হবে বইয়ের দাম? ছেলে: নাহ! বইয়ের দাম নিবো না। এর বিনিময় তো আমি আল্লাহ্‌'র কাছে নিবো। মেয়ে: আমি আগে শুনেছি ইসলামধর্ম নাকি ভূয়া কারণ তারা যীশুকে মানে না। ছেলে: কি বলো। আমরা তো তোমাদের চাইতে যীশুকে বেশী মানি। আমাদের পবিত্র কুরআনে সূরা মরিয়ম নামে আলাদা অধ্যায় আছে। যেটা তোমার বাইবেলেও নাই। মেয়ে: কিন্তু তোমরা যীশুর ক্রাইস্ট মানো না। ছেলে: আচ্ছা তুমি এমনি যুক্তিতে বুঝতে চেষ্টা কর, এক সৃষ্টিকর্তা কিভাবে তার পুত্রের হত্যা হতে দেখে কিছুই করতে পারলো না। আর ট্রিনিটি তত্ত্ব তোমাদের ধর্মগুরুরাও ঠিক মতো বোঝে না। মেয়ে: আসলে আমি ধর্ম নিয়ে কোনদিন ভাবি নি। তোমার সাথে সাক্ষাতের পর থেকে আমাকে বিষয়টা ভাবিয়ে তুলেছে। ছেলে: ঠিক আছে বই দুটো ভালো ভাবে পড়ে আমাকে জানাইও। মেয়ে: ঠিক আছে।
এরপর ছেলেটি বাসায় যেয়ে চিন্তা করতে লাগলো যে একজন বিধর্মী মেয়ে শুধু হাফেজ হওয়াতে আমাকে ধার্মিক মনে করলো, তাহলে বাহিরের সুন্নতগুলো আদায় করলে তাকে আরও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব হতো। সে নিজের উপর আফসোস করতে লাগলো, "ইশ! যদি পোশকটা আমার সুন্নতি হতো, আমার চলাফেরা যদি সুন্নতি হতো, তাহলে আরও দশজনকে দাওয়াত দেয়া সহজ হতো। এজন্যই বোধহয় সুন্নতগুলোর এতো দাম। নবী(স) দাওয়াতের জন্য কত কষ্ট, নির্যাতন সহ্য করেছিল আর আমি সামান্য সুন্নতই আদায় করতে পারবো না? আমাকে পারতেই হবে। মেয়েটা সত্য খোঁজার কত চেষ্টা করছে, আর আমি সত্য ধর্ম পেয়েও অবহেলায় জীবন পার করছি।" এরপর সে চিন্তা করলো তার যেহেতু জ্ঞান কম, এজন্য একজন ভালো আলেমের কাছে যেতে হবে। মুফতি যুবায়ের আহমেদ এবিষয়ে অনেক ভালো একজন আলেম, কিন্তু তার কাছে যাওয়া একটু কঠিন। এজন্য সে স্থানীয় কওমী মাদ্রাসার মুহাদ্দিসের কাছে গিয়ে বিষয়টা খোলামেলা আলোচনা করলো। আলেম তাকে অনেক পরামর্শ নিলো যে, তাকে খুশি মনে ইসলাম জানতে দিতে হবে, তাড়াহুরা করা যাবে না কারণ সে মেয়ে মানুষ আর বেশি বেশি দুআ করতে হবে তার জন্য। এরপর ছেলেটা তার জন্য বেশি বেশি দুআ শুরু করলো এবং নিজে সুন্নতের জন্য পাবন্দি করলো। এরপর থেকে সে ক্লাসে টুপি ও পাঞ্জাবী পরে যাওয়া শুরু করলো। একদিন তার বন্ধুরা ক্লাসে বসে সেই খৃস্টান মেয়েকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করছিল তখন সে বলল, ছেলে: তোরা মেয়েটিকে নিয়ে কেন খারাপ কথা বলতেছিস? ১ম বন্ধু: মেয়েটা তো খৃস্টান ছেলে: খৃস্টান হয়েছে তো কি হয়েছে? মেয়ে তো তারও তো ইজ্জত আব্রুর আছে। ২য় বন্ধু: সব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাস কেন? ছেলে: দেখ আমার তোর ধর্ম কখনো অনুমতি দেয় না যে, মেয়ে জাতিকে নিয়ে অসম্মান করা, সে আত্মীয় হোক অথবা বিধর্মী হোক। এরপর বন্ধুরা থেমে যায়। কিন্তু এখানে একটা ঘটনা ঘটে যায়। মেয়েটা ছেলের পিছনে দাড়িয়ে সব শুনে চলে যায়, ছেলের প্রতি সম্মান আরও বেড়ে যায়। পরদিন ছেলেটা ক্লাসে বসে ছিল এমন সময় মেয়েটা এসে বলল, মেয়ে: আসসালামু আলাইকুম। ছেলে:( চমকে উঠে) ওয়ালাইকুম। মেয়ে: তোমরা এভাবেই সালাম দাও না?(হেসে) ছেলে: হ্যাঁ(হতভম্ব হয়ে) মেয়ে: তোমার দেয়া বই দুটো যতই পড়েছি ততোই অবাক হয়েছি। কুরআন এতটা নির্ভুল কিভাবে হয়, অথচ আমাদের বাইবেলের অনেক সংশোধন, সংযোজন হয়েছে। ছেলে: কুরআন পৃথিবীর বুকে এমন এক কিতাব যার শুরুতেই বলা হয়েছে যে, এ কিতাবে কোন সন্দেহ নেই। মেয়ে: যীশুর ব্যাপারেও অনেক সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ দেয়া আছে যা বাইবেলে নেই। আমাদেরকে আমাদের পাদ্রীরা ভুল বলেছে। আমি এই প্রশ্নের উত্তর চাইবো তাদের কাছে থেকে। ছেলে: তারা বেঁচে থাকা পর্যন্ত সে সবের উত্তর দিতে পারবে না। মেয়ে: আমি আমার বাবা-মাকেও বলবো। ছেলে: সাবধানে বলো এবং যুক্তি সহকারে। মেয়ে: তুমি হয়তো জানো না যে, আমি ও আমার পরিবার ধর্মকর্ম থেকে অনেক দূরে। আসলে আমি ধর্মের প্রতি টান কখনো অনুভব করি নি যতটা এখন করছি। আমি কাল বাসায় যাবো এবং এসব বিষয়ের একটা বিহিত করবো। ছেলে: ঠিক আছে। অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাইবে যাতে তোমার পথ সহজ হয়। মেয়ে: (অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে) ঠিক আছে। মেয়েটার চোখ যেন অনেক কিছু বলতে চাচ্ছিল কিন্তু পারলো না।
এরপর ছেলেটা খৃস্টান মিশনারিজদের অপতৎপরতা নিয়ে খুঁজতে গিয়ে অনেক ভয়ঙ্কর তথ্য পেল। সে দুঃশ্চিন্তায় পড়লো মেয়েটাকে নিয়ে যে, কি করছে, কেমন আছে, বিপদে পড়লো, নাকি হাল ছেড়ে দিলো। অথচ মেয়েটার সাথে তার কোন সম্পর্কও নাই, তার উপর অন্য ধর্মের। ধর্মান্তরিত হলেও কি বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব? এসমাজ তার নিয়মের বাহিরে যেতে দিবে? গত এক সপ্তাহে তাদের দুজনের কোন যোগাযোগ হয় নি। ছেলেটি নিয়মিত মেয়েটির হেদায়েতের জন্য দুআ করে যাচ্ছে। তারপর একদিন ছেলেটি ক্লাসে বসে অপলক দৃষ্টিতে বাহিরে তাকিয়ে আছে, হঠাৎ সেই কন্ঠের সালাম, মেয়ে: আসসালামু আলাইকুম। ছেলে: ওয়ালাইকুম সা.... (বলতে যেয়ে থেমে গেল) সে দেখলো এক বোরকা পরিহিত মেয়ে দাড়িয়ে আছে যার কন্ঠ সেই মেয়েটির মতো, মেয়ে: কি, আমাকে চেনা যাচ্ছে? ছেলে: হ্যা মানে, না মানে.....(হতভম্ব হয়ে) মেয়ে: হ্যা, আমিই রেশমী। গত একসপ্তাহ আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমি নিজেকে চিন্তে পেরেছি। আমি আমার রবের দেখা পেয়েছি। ছেলে: এরচেয়ে খুশির ব্যাপার আর কি হতে পারে যে, এক সৃষ্টি তার স্রষ্টাককে পেয়েছে। কি ঘটলো এ কদিনে একটু বলো, তোমার জন্য আমার অনেক চিন্তা হচ্ছিল। মেয়ে: তুমি আমার চিন্তা করেছো?(খুশি হয়ে) শোন তাহলে, আমি বাসায় গিয়ে যা জানতে পারলাম তা আমি কোনদিন কল্পনাও করতে পারি নি। আমার দাদা মুসলিম ছিল। তিনি খৃস্টানদের কবলে পড়ে, খৃস্টান মিশনারিজরা তাকে ঋণ দেয় এবং সময়ের আগেই তা চেয়ে বসে। ঋণের পরিমান বেশি ছিল বলে দাদার পক্ষে দেয়া সম্ভব হলো না, সময় পর্যন্তও অপেক্ষা করলো না আর বলছিল যে, পথ একটাই যে তার দাদা যদি খৃস্টান হয় তাহলে ঋণ শুধু মাফই না উপরোন্ত আরও টাকা দেয়া হবে। সে সময় তাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না। ছেলে: আমিও এই রকম অনেক ঘটনা জানতে পেরেছি। মেয়ে: আমার বাবা বলল যে, আমরা যে খৃস্টান পাড়ায় থাকি তা আগে ছিল না, আমার বাবা যখন ছোট তখন থেকে এপাড়ার লোকজন খৃস্টান হওয়া শুরু করে। আমার বাবাও মুসলমান হতে চাইতো আগে থেকেই কিন্তু অন্য কোথাও যাওয়া আর মাকে বিয়ে করার পর আর সুযোগ পায় নি।আমার আগ্রহ দেখে বাবা-মা দুজনেও সাহস পাচ্ছে।কিন্তু তাদের ভয় ঘটনা জানাজানি হলে বিপদ হতে পারে। ছেলে: তুমি পাদ্রী মানে ফাদারের কাছে জিজ্ঞেস করো নি? মেয়ে: ফাদারকে পাই নি, কিন্তু আমার ওখানকার এক বান্ধবী মিশনারিজদের সাথে কাজ করে, তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। সে কোন উত্তর দিতে পারে বরং সে ইসলাম জানতে আগ্রহী হয়, আর আমি তাকে তোমার দেয়া বই দুটি দিয়ে এসেছি। সে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে কয়েকদিনের মধ্যেই ২৫-৩০জন মুসলমানকে খৃস্টান বানানোর জন্য কাজ করছে, ঢাকা থেকে ফাদার আসলেই কাজ সম্পন্ন করবে। সে এও জানালো তাদের এই মিশনারিজের কাজের টাকা ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আসে। ছেলে: ব্যাপারগুলো বেশ ভয়ানক। এরপর ক্লাসে স্যার চলে আসলে তারা আর ঐদিন কথা বলতে পারে না।
ছেলেটি সেই দিনই তার আলেমের কাছে গেল এবং পরামর্শ করলো বিষয়টা নিয়ে। পরদিন ক্লাস শেষে মেয়ের সাথে দেখা হলো, মেয়ে: আসসলামু আলাইকুম। ছেলে: ওয়ালাইকুম। মেয়ে: মুসলিম হতে গেলে কি করতে হয়? ছেলে: আমি জানতাম তুমি এই প্রশ্ন করবে তাই আগেই ব্যবস্থা করে রেখেছি। চল আমার সাথে। মেয়ে নিশ্চিন্ত, যে নিয়ে যাচ্ছে তাকে সে নিজের চাইতেও বেশি বিশ্বাস করে। ছেলে মেয়েটাকে সরাসরি আলেমের কাছে নিয়ে যায়। আলেম তাকে বলে যে, তুমি তো আগেই মুসলিম হয়েছ যখন তোমার বিশ্বাস আল্লাহ্‌ ও তার নবী(স) এর প্রতি এনেছিলে। এরপর মেয়ে কলেমা পড়ে মুসলিম হয়ে গেল। কিন্তু আলেম তাকে তার মুসলিম হওয়ার বিষয়টি কাউকে প্রকাশ করতে নিষেধ করলো। মেয়ে তো হতবাক, কারণ সে সাহস নিয়েই একাজ করছে যাতে দুনিয়ার মানুষদের মোকাবেলা করতে পারে। তখন আলেম বলল, আলেম: আমরা চাচ্ছি যে, যে সব সহজ সরল মানুষদের ধোকা দিয়ে মিশনারিজরা খৃস্টান বানাতে চাচ্ছে সে সব লোকদের বাঁচাতে। মেয়ে: আমরা তাহলে প্রশাসনকে জানাতে পারি। আলেম: জানাবো তো বটেই। কিন্তু আমরা চাচ্ছি প্রমাণসহ হাতে নাতে ধরতে। আগে ধরলে ওরা মিথ্যা বলতে পারে। মেয়ে: বলুন আমাকে কি করতে হবে, ইসলামের খেদমতে প্রাণ দিতেও প্রস্তুত। আলেম:মাশাল্লাহ। আল্লাহ্‌ তোমাকে কবুল করুক মা। আজই ইসলামের ছায়াতলে আসলে আর আজই তোমাকে কঠিন কাজ দেয়া হচ্ছে, আসলে এসব আমাদেরই ব্যর্থতা যে মুসলিম দেশে আজ মুসলিমরাই ষড়যন্ত্রের শিকার। তোমাকে একটু গুপ্তচর হতে হবে। মেয়ে: এতো আমার সৌভাগ্য যে আমি কিছু করতে পারবো। আমাকে বুঝিয়ে দিন। আলেম: তুমি আজই তোমার বাসায় চলে যাও এবং ওখানে তোমার বান্ধবীর সাথে যোগাযোগ করে দেখ যে, তারা কবে অনুষ্ঠানটি করতে চাচ্ছে। তুমি কখনো বলো না যে তুমি মুসলিম হয়েছ, এমনকি তোমার বাবা-মাকেও না। এদিকে আমরাও প্রশাসনকে জানিয়ে রাখবো। তুমি খবর দেয়া মাত্রই আমরা হাজির হবো। মেয়ে: ঠিক আছে, আমি পরবো ইনশাল্লাহ্ আলেম: কিন্তু ধরা পরলে বিপদ হতে পারে, তাই সাবধানে থেকো। মেয়ে: সমস্যা নাই, আল্লাহ্‌ আমার সাথে আছে। আলেম: যাও, ফিআমানিল্লাহ্ এরপর ছেলেটি মেয়েকে নিয়ে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এগিয়ে দেয় এবং বলে, ছেলে: কোন ভয় করবে না, আল্লাহ্ তোমার সাথে আছে। তোমাকে এত বিপদে ফেলতে আমার মোটেই ভাল লাগছে না, আমার অনেক চিন্তা হচ্ছে। মেয়ে: চিন্তা করো না, আল্লাহ্‌ সব ভালোই করবেন। ছেলে: হ্যাঁ, ভয় পাবে না, আমি তোমার কোন ক্ষতি হতে দিবো না। মেয়ে: তুমি আমার জন্য ভেবেছো এটাই আমার কাছে অনেক বড়। আসি, আসসালামু আলাইকুম ছেলে: ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্ মেয়ে: এর আগেও তোমাকে সালাম দিয়েছি কখনো তো এত বড় জবাব পাই নি। ছেলে: এর আগে তুমি ছিলে খৃস্টান তাই। মেয়ের চোখে পানি ছলচল করছে, এমন অবস্থায় বিদায় নিচ্ছে। মেয়ে দেখছে ছেলেটা একবারও চোখ তুলে তাকায় নি, তাকাবেই বা কেন, তাদের ভিতর কোন সম্পর্ক যে নেই। মেয়ের বারবার মনে হচ্ছে এমন যদি কোন দিন আসতো যখন ছেলেটা তার চোখে চোখ রেখে কথা বলে যাবে আর চোখগুলো পলক ফেলতে ভুলে যাবে। ভাবতে থাকে মেয়ের মন আর চলতে থাকে গাড়ির চাকা। ছেলেটিও নিজের বাসায় চলে গেল এবং বাবা-মার সামনে মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরলো। তার বাবা-মাও খুশি ছেলের কাজে। ছেলেটি তাদের সামনে মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। বাবা-মা প্রথমে রাজি হয় নি। পরে ছেলে বলল যে, একটা মেয়ে মুসলিম হতে কি পরিমান কষ্ট, সাহস করেছে, তার তুলনায় আমরা ইসলামের জন্য কি করি? তার মোটামোটি বাবা-মা ধার্মিক হওয়ার কারণে বিষয়টা বুঝে নেয় ওও মেনে নেয়। ছেলে বিষয়টা মেয়েকে জানায় না। এদিকে মেয়েটা পরিকল্পনা মতো তার বান্ধবীর সাথে কথা বলে কখন কি হবে শুনে নেয় ও বিভিন্ন দিক নজর রাখতে থাকে। কিন্তু মিশনারিজদের এক লোক আবার দুই মেয়ের একসাথে ঘোরাঘুরি লক্ষ্য করে।পরে লোকটা রেশমীর বান্ধবীর বাসায় যেয়ে খুঁজে সেই বই দুটো পায়। যখন জিজ্ঞেস করে কে দিয়েছে, প্রথমে মেয়েটা অস্বীকার করে পরে বিভিন্ন নির্যাতন শুরু করলে বলে দেয় রেশমীর নাম। লোকটি তার দলবল নিয়ে রেশমীর বাড়িতে হানা দেয়। রেশমীকে বের করে এনে বন্দি করে রাখে। তারা রেশমীর ব্যাপারে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যে, হয় পাচার করে দিবে না হয় গুম করে হত্যা করবে। কিন্তু আগামী পরশু অনুষ্ঠান হবে বিধায় তাকে বন্দি অবস্থায় রাখে। এদিকে দুইদিন পার হয়ে গেলেও ফোন আসে না বিধায় ছেলেটিও দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেল। সে ভেবে অস্থির যে, মেয়েটার ক্ষতি হলো কি না। আরো চিন্তা হচ্ছে যে, তাড়াহুরাতে মেয়েকে ফোন নম্বর দেয়ও নি, তার ফোন নম্বর নেয়ও নি। ছেলেটি নামাজে দাড়িয়ে গেল এবং শেষে দোআ করতে লাগলো।
এদিকে রেশমীকে বন্দি করে রাখা হয়েছে তার এলাকা থেকে একটু দূরে। রেশমীর বান্ধবী বিভিন্ন ছলে মিশনারিজদের কাছে থেকে রেশমীর ঠিকানা জেনে নেয়। তারপর সে ওখানে পৌঁছে দেখে ঘরটা তালা দেয়া। তখন সে জানালা খুঁজে সেখানে টোকা দেয়। রেশমী ভিতরে কান্না করে করে দুআ করতেছিল, সে শব্দ শুনে জানালার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলে তার বান্ধবী জবাব দেয়। তখন রেশমী একটা মোবাইল দিতে বলে, তার বান্ধবী মোবাইল দিলে সে ছেলেটাকে ফোন দেয়।ফোন এক বার বাজতেই ছেলেটা ফোন ধরে, ছেলে: তোমার কিছু হয় নি তো? তুমি কোথায়? মেয়ে: আমার ফোনের আশাতেই ছিলা? আমি ধরা পরে গেছি। ছেলে: আজ ২দিন যাবত ফোনটা হাতে নিয়ে বসে আছি যাতে ফোনে আমাকে পেতে তোমার সমস্যা না হয়। তুমি এখন কোথায়? আমরা সবাই প্রস্তুত, তুমি শুধু জায়গার নাম বলো। মেয়ে: আমার কথা পরে, আজই বিকেল ৪ টায় তাদের অনুষ্ঠান আমাদের পাড়ার গীর্জাতেই হবে। তুমি পুলিশসহ চলে এসো। ছেলে: তা না হয় বুঝলাম, কিন্তু তুমি কোথায়? আমার তোমাকে দরকার আগে। মেয়ে: আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না, ওদের ধরার পর আমার বান্ধবী তোমাকে বলে দিবে আমাকে কোথায় আনা হয়েছে। আর কথা বলতে পারবো না কেউ এসে যেতে পারে, ভালো থেকো। ছেলে: থামো। শোন। রেশমী!! ফোন কেটে গেছে। ছেলে আর এক মুহূর্তও দেরি করলো না। সে প্রশাসন ও কয়েকজন আলেম নিয়ে রওনা দিলো। প্রশাসন যেয়ে তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলল ও প্রতারণার সত্যতা পেল। সেই মুসলিম লোকগুলোকে তওবা করানো হলো এবং এলাকায় জানিয়ে দেওয়া হলো যে, খৃস্টান মিশনারিজদের ধরা হয়েছ আপনারা চাইলেই সবাই মুসলিম হতে পারেন। তখন সবাই মুসলিম হয়ে গেল। এদিকে ছেলে কয়েকজন পুলিশসহ রেশমীর বান্ধবীকে নিয়ে রেশমীর বন্দিশালার দিকে রওনা দেয়। পুলিশ তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে রেশমীকে অচেতন অবস্থায় পায়। ঐমুহূর্তেই তাকে হাসপাতাল নেওয়া হলে জানা যায় কয়েকদিন না খাওয়ার কারণে সে অজ্ঞান হয়েছিল। জ্ঞান ফিরলে তার বাবা-মাকে সামনে দেখতে পায়। তারা মেয়েকে সম্পূর্ণ ঘটনা বলে এবং সাথে এটাও বলে তাদের পাড়ার নতুন নাম হয়েছে মুসলিম পাড়া। মেয়েটির চোখ ভিজে ওঠে এবং ঠোঁট 'আলহাদুলিল্লাহ' বলে ওঠে।মেয়ে বারবার দরজার দিকে তাকায়, যেন কারও আসার অপেক্ষা করছে। মেয়ে তার মাকে ছেলের কথা জিজ্ঞাস করলে বলে যে, তাকে রেখে জরুরী কাজে বাহিরে গেছে। পরদিনও যখন ছেলে আসলো না, তখন ভাবতে লাগলো যে আর হয়তো দেখা হবে না তাদের। একজন নওমুসলিমকে হয়তো সে ও তার সমাজ মেনে নিবে না। চোখ জোড়া দিয়ে পানি গড়িয়ে গড়িয়ে পরে বালিশ ভিজতে শুরু হলো।
তারপরের দিন মেয়েকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়। পাড়ায় ঢুকতেই মেয়ে দেখে পাড়ার চিত্রই পাল্টে গেছে। চারদিকে বানারে সাজানো, যেন কোন উৎসব চলছে। আজ পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল, সংবর্ধনা ও গজল পরিবেশন হবে। মেয়ে তার বাসায় যেয়ে দেখে আরও এলাহী কান্ড, যেন কোন বিয়ের বাড়ি। বাচ্চারা খেলাধূলা করছে মহিলারা রান্নায় ব্যস্ত, বড়রা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এদিক থেকে সেদিক ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু তার যেন কিছুই ভাল লাগছে না। একদিক খুশি যে সবাই ইসলামের ছায়াতলে এসেছে, অপরদিকে ছেলেটার কথা ভাবছে যে একবারও তাকে দেখতে আসলো না। তার মা তাকে ঘরে যেয়ে আরাম করতে বলল আরও বলল একঘন্টা পর তৈরী হতে মেহমান আসবে। একঘন্টা পর বাহিরে গাড়ির শব্দ শোনা গেল ও বাচ্চারা"বর আসছে, বর আসছে" বলে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিয়েছে। মেয়ে ভাবছে আজ কিসের বিয়ে, এলাকায় তো মাহফিল। এমন সময় রেশমীর মা এসে বলল যে, বর এসে গেছে প্রস্তুত হয়ে নে। সে আরও একবার চমকে উঠল আর বলল যে, চেনে না জানে না এমন কাউকে বিয়ে করবে না, তারপর সে এখন মুসলিম। তার মা বলল যে, পাত্র পছন্দ হবে। মেয়ে নাছড়বান্দা, সে কোন ভাবেই বিয়ে করবে না। এরকম চেচামেচি শুনে ওমর রেশমীর ঘরে প্রবেশ করলো এবং তাকে দেখেই রেশমী আরও একবার চমকে উঠল। এই চমকে ওঠা আগের তুলনায় অনেক বেশি, সে একদিকে যেমন খুশি তাকে দেখে আরেক দিকে অনেক অভিমান নিয়ে বলল, মেয়ে: তুমি! এখানে কেন, কিভাবে আসলে? কি দেখতে আসছো বেঁচে আছি কিনা? ছেলে: উত্তেজিত হচ্ছো কেন? আর আমার বিয়েতে আমি আসবো না তো কি আমার ক্লাসের স্যার আসবে? মেয়ে: তোমার বিয়ে? কার সাথে?(উৎকন্ঠনিত গলায়) ছেলে: যার বাসায় এসেছি। মেয়ে: এটা তো আমার.... (লজ্জা পেয়ে, মাথা নিচু করে) ছেলে: কি, পাত্র পছন্দ হয়েছে? নাকি চলে যাবো? (মুচকি হেসে) মেয়ে:...... লজ্জায় মাথা তুলতে পারলো না। এরপর বিয়ে সম্পন্ন হলো। আসল ঘটনা হলো ওমর রেশমীকে হাসপাতালে দিয়ে আসার পর পুলিশের কাছে গিয়ে সব কাজ শেষ করেছিল। তারপর হাসপাতালে যেয়ে রেশমীর বাবা-মার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং তারাও খুশি মনে রাজী হয়ে যায়। তারপর দুজনের বাবা-মা বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করলে ওমর তার আলেমের পরামর্শে ঐদিনই মাহফিলের আয়োজন করে যাতে এলাকার লোকজনের ভিতরের ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত হয় এবং তাদের করণীয় কি বুঝতে পারে। শেষে তাদের হাতে এলাকাতে নতুন মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। ওয়াজ মাহফিলের শেষে ওমর ও রেশমী, স্বামী-স্ত্রী দুজনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাদের সাহসিকতার সাথে খৃস্টানদের প্রতারণাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার ঘটনা সবার সামনে তুলে ধরা হয়। সাথে সাথে তাদের বিয়েরও এলান করা হয় এবং খেজুর ছিটিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের প্রথম রাত্রি!!! রেশমীকে সাময়িক ভাবে ওমরের বাসায় আনা হয়েছে। ওমরের পড়াশুনা শেষ হলে একবারে তুলে আনা হবে শর্তে বিবাহ হয়। সব মেহমান চলে গেলে ওমর তার ঘরে ঢোকে যেখানে রেশমী তার জন্যে বধু সেজে বসে আছে। ঢোকার শুরুতেই সালাম দিয়ে ঢোকে, স্বামী: আসসলামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ্। স্ত্রী: ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্। স্ত্রী এসে স্বামীকে পায়ে সালাম করতে ধরলে স্বামী তার হাত ধরে ফেলে এবং বলে, স্বামী: তোমার স্থান পায়ে নয়, তুমি আমার রাজ্যের রাণী। আমার সব কিছুতে তোমারও সমপরিমান অধিকার আছে। এই নাও তোমার মোহরানা। স্ত্রী: মোহরানা কি? আর এতগুলো টাকা! স্বামী: ইসলামে স্ত্রী স্বামীর কাছে থেকে কিছু অর্থ পেয়ে থাকে যার মালিক শুধু সে নিজেই। স্ত্রী: আল্লাহ্ আমাকে কতগুলো নিয়ামত দিয়েছে। আচ্ছা আগে বলো হাসপাতালে আমাকে দেখতে যাও নি কেন? তোমার আসায় কত পথ চেয়ে ছিলাম। স্বামী: আমি গিয়েছিলাম তখন তুমি ঘুমিয়েছিলে। আর এসব আয়োজন করে তোমাকে চমকে দেয়াটাও আমার উদ্দেশ্য ছিল। স্ত্রী: ওরে পাজি। আর আমি ভাবছিলাম তোমার সাথে হয়তো আমার আর দেখা হবে না। স্বামী: আসো আমরা আগে এই রাতের সু্ন্নত হিসেবে নামায পড়ে নেই। নামায শেষে, স্বামী: তোমাকে একটা বিষয় জিজ্ঞাসা করার ছিল। মানে.... থাক। স্ত্রী: কি, যে আমি ভার্সিটিতে যাবো কি না? তুমি চাইলেও আমি আর ওখানে যাবো না। আমি আমার মতো মেয়েদের ইসলামের দাওয়াত দিয়ে যাবো। ভার্সিটিতে গিয়েছিলাম দুনিয়ার ভবিষ্যত গড়তে, এখন আমার ভবিষ্যত তো জান্নাত। স্বামী: মাশাআল্লাহ। এতটুকু সময়ে তোমাকে আল্লাহ্ অনেক বেশি ইসলামের বুঝ দিয়েছেন। চাও আমার কাছে তোমার কি চাওয়ার আছে। স্ত্রী: আমি জানি তুমি হাফেজ, আজ এই পবিত্র রাতে তোমার মুখে আল্লাহ্'র সেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত শুনাও যার শুধু কয়েকটা আয়াতের ব্যাখ্যাই আমাকে এতদূর এনেছে। স্বামী: তাহলে তোমাকে সেই সূরা শুনাবো যা আল্লাহ্‌ স্বয়ং নিজে জান্নাতবাসীদের শুনাবে। এরপর স্বামী সুন্দর কণ্ঠে সূরা আর-রহমান তেলাওয়াত করা শুরু করলো এবং স্ত্রী স্বামীর ঘাড়ে মাথা দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুনতে লাগলো।

No comments:

Post a Comment

One

অনেক ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। খেয়ে দেয়ে আবার ক্লান্তও হয়ে যায়। যার কিছু হয়তো ভাল, আবার কিছু হয়তো কালো। তেমনি আজ একটা বিষয় মাথায় আসলো।...