Tuesday, August 30, 2016

Collected - মিউজিক

ক্লাস নাইনে পড়বার সময়, এক উস্তাদের কাছে যেতাম গীটার শিখতে । তখন ধর্মের কোন ভাবনা ছিলনা । তাই মিউজিক হারাম কি না, এ নিয়ে কোন মাথাব্যথাও ছিলনা । তবু একদিন এক সহপাঠী জিজ্ঞেস করে বসলো উস্তাদকে, “ভাইয়া, আচ্ছা মিউজিক কি হারাম ?” উনি উত্তরে যা বলেছিলেন তা মনে আছে এখনও ।
“আসলে মিউজিক দুই প্রকার । একটা হল এমন যা প্রেমকে প্রমোট করে । আরেকটা কাম কে । কামকে প্রমোট করা মিউজিক শেখা যাবেনা । তবে প্রেমকে প্রমোট করা মিউজিক ওকে” ।

ওনার ভাষায় কামবাচক মিউজিক ছিল মেটাল বা হেভি মেটালগুলো । আমার ইন্টারেস্টের মূল বিষয় ছিল ক্লাসিকাল গিটার, যা যারা শুনেছেন, তারা এর বিমোহিত করবার ক্ষমতা জানেন । আমার উস্তাদের লজিক খুব সুন্দর ছিল । উনি এর সাথে আরও কিছু প্রমাণ দিয়েছিলেন । যেমন ক্রীশ্চান চার্চের ফাদারদের মিউজিক চর্চা । আমার জানামতে নটরডেমের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল, মিউজিকের বস ইন্সট্রুমেন্ট, পিয়ানোর বস । আমি নটরডেমে ভর্তি হবার কথা শুনে, উস্তাদ, ক্লাসিকাল গীটারের জন্য ইন্দোনেশিয়ান এক ফাদারের কাছে যেতে বলেছিলেন । মগবাজার চার্চে ।
লজিক দিয়ে ইসলামী ফিকহ ডেভেলপ হয়নি । কিন্তু ফিতরাত বলে মানুষের ভিতর একটি বিষয় আল্লাহ্‌, সৃষ্টির সময় বিল্ট ইন হিসেবে দিয়েছেন, যা দিয়ে সে ভালো মন্দ বুঝতে পারে । আমি ইসলামী ফিকহের ছাত্র নই । তাই সাধারণ মানুষ হিসেবে কিছু কথা তুলে ধরাই কর্তব্য ভেবেছি ।
আমাদের প্রজন্মে সবচাইতে প্রচলিত হল হিন্দি গান । না বুঝে হিন্দি গানের মাধ্যমে আমরা যে কত নিকৃষ্ট কালিমা উচ্চারণ করি, সে প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি । টি এস সির ঘটনার পরে একটি গান জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ফেসবুকে
“মেলায় যাইরে ... ... বখাটে ছেলের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই”
এই গান গুলোর কথা কি একবারও ভেবে দেখেছেন? “চুমকি চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে?”
কিংবা জেমসের বিখ্যাত প্রথম স্পর্শ বা মীরাবাঈ গানের কথাগুলো?
বাঈ মানে আমার জানামতে বাঈজি; মানে যে নারী নেচে গেয়ে দরবারের মানুষের মনোরঞ্জন করে । তো এই গানের প্রথম লাইন হল “ঝাকানাকা ঝাকানাকা ঝাকানাকা দেহ, দোলা না”
এই গানটি চলচ্চিত্রে যখন নেওয়া হল, জেমস তখন অভিযোগ করলেন, শাবনূরের খোলামেলা নাচ নাকি তার গানের সম্মান নষ্ট করেছে । হাসবো না কাঁদবো ভেবে পাইনা ।
হিন্দি গানে প্রচলিত আছে শিরকে আকবারের মত বিষয় , যা একজনকে ইসলাম থেকে টেনে বের করে, চিরস্থায়ী জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারে ।
২০১২ এর ডিসেম্বরে মুগদায় থাকতাম । পাশেই ছিল বাচ্চাদের স্কুল । তারা সম্ভবত ১৬ ডিসেম্বর উদযাপনের অনুষ্ঠানে একটি গান বাজাচ্ছিল । হিন্দি ছবির নাম রাওড়ি রাথোড় । গানটিতে একজন মহিলা বলছে,
“আয় রে, প্রেমিক আমার । বন্দুকে আমার আর গুলি নেই রে ।
আয় রে প্রেমিক আমার, সব আগুন এখন তো ব্লাউজে রে ।
ওড়নারই নিচে লুকিয়ে রেখেছি, উঠালে যদি হাঙ্গামা হয় ।
ওড়নারই নিচে দাবিয়ে রেখেছি, উঠালে যদি হাঙ্গামা হয়”।
কথাগুলো লিখতে ঘেন্না হচ্ছে শরীরে । কিন্তু সেদিন নার্সারী থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা, এই গানের তালে তালে তাদের টিচারদের সাথে নেচেছিল ঘন্টাব্যাপী। এসব কথা, যদি কোন মেয়ে আমাদের সমাজে বলে, আমরা তার পেশা সম্পর্কে কোন সন্দেহ পোষণ করিনা । অথচ, কোন এক গায়ে হলুদের ডিজে পার্টিতে, আমাদের মা-বোনেরাও এই গান গাচ্ছেন । ড্রইংরুমে বসে বাঈদের নাচ দেখাটাই যে সভ্য মানুষের কালচার !!!
“চোলি কা পিছে কেয়া হ্যায়” গানটা অনেকেই শুনেছেন ।
নায়কঃ “ওড়নার পিছে কী তোর, ওড়নার পিছে?”
নায়িকা “ওড়নাতে হৃদয় আমার, ওড়নাতে হৃদয় আমার, আর কী। আর কী !!!”
কথাগুলো লিখতে গেলেও কান গরম হয়ে যায় । আঊযুবিল্লাহ ।
এক পাকিস্তানী গায়ক আমার খুব পছন্দের ছিল । তার একটি প্রেমের গান একদিন মনে মনে গাচ্ছিলাম । প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে গাওয়া, গানের এই লাইনে এসে থেমে গেলাম ।
“তুঝকো ছুলু (তোকে স্পর্শ করি) তুঝকো পূজাও (তোর পূজা করি )”
এতো গেল উন্মত্ত ব্যভিচারের আহ্বান আর ছোটখাটো শিরকি কথাবার্তা । এবার খুব জনপ্রিয় একটি গানে ডাহা শিরক দেখাই ।
“তুঝমে রাব দিখতা হ্যায়, ইয়ারা মে কেয়া কারু”
নায়ক তাঁর প্রেমিকাকে বলছেন,
“তোর ভিতরে আমি আমার রবকে দেখি,
ইয়ার, আমার কী দোষ”
এর পরের লাইন শোনেন ।
“সেজদায় মাথা ঝুঁকে যায়, ইয়ার, আমার কী দোষ”
প্রিয় পাঠক, এই কথাগুলো আপনার সামনে কেও বললে, আপনি তাকে সতর্ক করবেন আপনি যেমন মুসলিমই হন না কেন । কিন্তু শয়তান ও তার জুনূদ, আপনাকে মিউজিকের তালে এতখানি ভুলিয়ে রাখে, যে আপনি এই গান দিনে হাজারবার শুনলেও কোন প্রতিক্রিয়া হয়না ।
আমার গীটারের উস্তাদের মতই, এই সমাজে মিউজিক চর্চা নিয়ে বহু মিথ বা রূপকথার গল্প প্রচলিত আছে । কেও কেও বলে, রসূল সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় মিউজিক ছিলনা । ইন্সট্রুমেন্ট ছিল শুধু দাফ, যা উনি বিয়েশাদীতে বাজানোর অনুমতি দিয়েছেন । আর কোন ইন্সট্রুমেন্ট থাকলে সেটাও তিনি অনুমতি দিতেন । ওয়াল্লাহি, তারা মিথ্যে বলে । অথবা এমন কথা বলে, যে বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই ।
“আর মানুষদের মধ্যে সে কি অযথা সময়কে ক্রয় করে, যা তাকে আল্লাহ্‌র পথ ব্যতীত অন্যত্র ধাবিত করে?” –সূরা লুকমান-৬
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রদিইয়াল্লাহু আনহু এই আয়াতের “অযথা সময়ের” তাফসীর করেছেন “গান-বাজনা” । ইবন আব্বাস হলেন এই জাতির তাফসীরের বস, যিনি তাফসীর খেয়াল খুশি মত করতেন না; আল্লাহ্‌র রসূলের একজন সাহাবী ছিলেন ।
“আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক থাকবে, যারা ব্যভিচার, সিল্ক, মদ আর বাদ্যযন্ত্রের অনুমোদন দেবে”- কতই না সত্যি আল্লাহর রসূল সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী । যদি মিউজিক হারাম না হত, তাহলে মদ আর লাম্পট্যের সাথে কেন এই কথা উচ্চারিত হল ?
ফ্রিমেসনদের ইতিহাস পড়েছেন ? এদের কথা আগেও বলেছি । এদের মূলনীতি হল, আল্লাহ্‌র মাটিতে মানুষের আইনকে প্রতিষ্ঠা করা । এদের সিম্বল হল একচোখ, যা কিনা দাজ্জালেরও প্রতীক । এরা একটি সম্প্রদায় । নিজের সম্প্রদায়ের লোককে বাঁচানোর জন্য এরা সব করতে প্রস্তুত । খুন করে কোন ফ্রি মেসন যদি কাঠগড়া থেকে বিচারককে একটি সিগ্নাল দিয়ে বুঝায় যে সে ফ্রি মেসন, আর বিচারক যদি ফ্রি হয়, তাহলে সে কোন সাজা পাবেনা । ফ্রি মেসনদের ইতিহাস অনেক প্রাচীন । সম্ভবত সুলাইমান ‘আলাইহিস সালামের যুগ থেকে এরা এই পৃথিবীতে আসে অর্থাৎ প্রায় তিন হাজার বছর । যদিও কালের বিবর্তনে এদের অনেক পরিবর্তন হয়েছে । তবুও বেসিক এক, আর তা হল আল্লাহ্‌র আইনকে প্রতিস্থাপিত করা । এদের একটি বাইবেল আছে যার নাম ‘শয়তানের বাইবেল’ ।
প্রশ্ন হল কেন, মিউজিক হারাম কিনা এই আলোচনায় ফ্রি মেসন্দের কথা লিখছি? কারণ বহু মিউজিক কিংবদন্তি হল ফ্রিমেসন । মাইকেল জ্যাক্সনের একটি এলবামের প্রচ্ছদে ফ্রিমেসনদের প্রতীক এক চোখ ব্যবহার করা হয় । ম্যাডোনার একটি বিখ্যাত গান হল “লাইক এ প্রেয়ার” এই গানের মিউজিক ভিডিওতে ম্যাডনা একটি বইয়ের উপর দাঁড়িয়ে পোজ দেয় । পরে জুম করে দেখা যায় বইয়ের লেখাগুলো আরবী । ফ্রি মেসনরা কী করে তাদের গানে? এরা গানের ভিতরে ব্যাকট্র্যাকিং করে সেখানে শয়তানের পূজার শ্লোক ঢুকিয়ে দেয় । যেমন ম্যাডোনা তার ‘Like a prayer’ গানে করে । গানটি ব্যাকওয়ার্ডে বা পিছন থেকে সামনে শুনলে, শয়তানকে ডাকার প্রমাণ পাওয়া যায় । আর ফরোয়ারডে শুনলে, ঐ শয়তানের প্রার্থনার অংশ, আপনার অবচেতন মনে আল্লাহ্‌র অস্তিত্বের সম্পর্কে প্রশ্ন জাগাবে, আখিরাত ও আল্লাহ্‌র আইনের প্রতি অশ্রদ্ধার জন্ম দেবে । এটাই ম্যাডোনার বা EAGLES ব্যান্ডের Hotel California গানের চাওয়া । প্রসঙ্গত, হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া কোন হোটেল নয়, বরং চার্চের রাস্তার নাম । এই চার্চটি খ্রিষ্টান চার্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও পরে, চার্চের মেসনিক কার্যক্রমের জন্য, পরে ক্রীশ্চানরা এর দায় অস্বীকার করে ।
প্রিয় ভাইয়া/আপু, এই দীর্ঘ নোটের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে গেছি । ধৈর্য নিয়ে পড়বার জন্য ধন্যবাদ দিচ্ছি । আল্লাহ্‌ তার বান্দাদের কষ্ট চান না । পরীক্ষা করতে চান কারা উত্তম । আল্লাহ্‌ মানুষের ফিতরাতের ভিতরে গানের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে দিয়েছেন । তাই গান হারাম নয় । তবে সেই গান হতে হবে মিউজিক মুক্ত । বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ককে প্রমোট করেনা । কোন পাপ বা গুনাহের কাজে উৎসাহ দেয় না । মিউজিককে শান্তির কিংবা পবিত্রতার মনে হলেও আদতে তা নয় । আপনি হয়ত সলাত পড়তে চাচ্ছেন, কিন্তু পারছেন না । ফজরে কিছুতেই উঠতে পারছেন না, যত চেষ্টাই করছেন । কিন্তু কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না । মিউজিক যদি সত্যিই শান্তি নিয়ে আসতো, তাহলে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে মাদক, ব্যভিচার আর আত্মহত্যার হার এত বেশি হত না । মিউজিক আপনার অবচেতন মনে শয়তানের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে । মৃত্যু হল সেই সময়, যখন শয়তান তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে, যাতে আপনি আল্লাহ্‌র প্রতি সন্দেহ পোষণ করেন, তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন, আর চিরস্থায়ী জাহান্নামের আগুনে পতিত হন । নাঊযুবিল্লাহ ।
ফুটনোটঃ মুম্বাইয়ের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির একজনের উদাহরণ দিয়ে অনেকেই ভাবেন, “উনিও তো মুসলিম । নামাযীও শোনা যায় ।“
উনি হিন্দু থেকে ইসলামে আসেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌ । কিন্তু সুফিবাদের আদর্শ তাঁকে এই গুনাহের কাজকে উপলব্ধি করতে দিচ্ছেনা হয়তোবা । আপনি কি অন্য কোন মুসলিমের কাজেক দলিল হিসেবে গ্রহণ করতে চান, যখন আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা ও তাঁর রসূল সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে স্পষ্ট সতর্ক করেছেন? ঐ গায়ক, তাঁর হিসাব তাঁর রবের কাছে দেবেন । আমরা তাঁর জন্য দুয়া করি ।
যিনি তাঁকে শিরক থেকে তাওহীদের পতাকাতলে এনেছেন, তিনিই যেন তাঁকে এই গুনাহ থেকে বের হয়ে আসার তৌফিক দেন ।
অজ্ঞতাঃ ইদানিংকালের ইসলামিক টিভিচ্যানেল আর ইসলামী নাশিদে যে মিউজিক থাকে সেগুলো হালাল কিনা জানিনা । তবে কিছু নাশিদে হারাম মিউজিক আছে যা সম্পূর্ণ হারাম। মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট থেকে পাখির আওয়াজ বের করলে তা কী করে হালাল হয়, আমার বুঝে আসেনা । Allaah knows best.
আল’হামদুলিল্লাহ ।
আল্লাহুম্মা ইন্নী নাঊযুবিকা মিন ফিত্নাতিল মাহিয়া ওয়াল মামাত (আল্লাহ, আপ্নি জীবন ও মৃত্যুর ফিত্না থেকে আমাদের রক্ষা করুন,)
ইবলিস্ দ্বারা উদ্ভাবিত মিউজিক ও তার সকল অনিষ্ট থেকে দূরে রাখুন।

Collected- শুরু করি

ঢাকা মেডিকেলের উল্টো দিকে বুয়েটের টিচার্স কোয়ার্টার অবস্থিত। এই কোয়ার্টার সংলগ্ন মসজিদে দীর্ঘদিন যাবত একটি মক্তব চালু আছে। যেখানে বাচ্চাদের সহীহ ভাবে কুরআন ও মাসআলা মাসায়েল শেখানো হয়। ছোটবেলায় স্কুল থেকে ফিরে দুপুরে এই মক্তবে পড়তে যেতাম। আমার সমবয়সী আরো অনেকেরই কুরআন শেখার হাতেখড়ি এই মক্তবেই হয়েছে। বুয়েটের স্বনামধন্য ও সুপরিচিত শিক্ষক প্রফেসর হামিদুর রহমান সাহেব, যাকে আমরা বড় হুজুর হিসেবে চিনতাম, তিনি এই মক্তবের প্রতিষ্ঠাতা। তার মুখেই একবার এই মক্তব শুরু করার কাহিনী শুনতে পাই।
উনার বড় ছেলের বয়স যখন ৬/৭ বছর, তখন তিনি তার ছেলেকে কুরআন শেখানোর জন্য একজন হুজুরের খোজ করছিলেন, যিনি বাসায় এসে তার ছেলেকে কুরআন পড়িয়ে যাবেন। এজন্য তিনি তার পূর্বপরিচিত মাওলানা আব্দুল্লাহ সাহেবের কাছে গেলেন, যিনি আজিমপুর কবরস্থান মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ছিলেন। তার সাথে সেদিনের কথাবার্তা অনেকটা এরকম ছিল,
- হুজুর! আমাকে একটা হুজুর দেন। আমার ছেলেকে বাসায় এসে কুরআন পড়াবে।
- আপনাকে আমি কোন হুজুর দিব না। আপনি বরং মক্তবে আপনার ছেলেকে পাঠান।
- আমাদের এখানে তো কোন মক্তব নেই !
- মক্তব নেই তো কি হয়েছে, আপনি মক্তব চালু করেন!
আব্দুল্লাহ সাহেবের সাথে এই সংক্ষিপ্ত কথাবার্তার প্রেক্ষিতে তিনি কোয়ার্টারের প্রতিটি বাসায় মসজিদে মক্তব চালু করার কথা জানিয়ে ও সবাইকে তাদের বাচ্চা মক্তবে পাঠানোর অনুরোধ করে একটি চিঠি লিখেন। কিন্তু সে সময় কেউ তার বাচ্চাকে মক্তবে পাঠাতে রাজি হল না।
ব্যাপারটি তিনি আব্দুল্লাহ সাহেবকে পুনরায় জানালে তিনি তার ছেলেকে দিয়ে একাই মক্তব চালু করার কথা বলেন। মসজিদের ইমাম সাহেব (যিনি এখনও আছেন), তাকে দিয়ে তখন এই মক্তব শুরু করা হয়। একজন ছাত্র একজন শিক্ষক, এভাবেই বেশ কিছুদিন চলার পর বুয়েটের অন্যান্য শিক্ষকরাও তাদের বাচ্চাদের পাঠাতে শুরু করেন। আর এভাবেই মাস চারেক এর মাথায় মক্তবটি পুরোপুরি চালু হয়ে যায়।
মক্তব চালুর কিছুদিন পর, প্রফেসর হামিদুর রহমান সাহেব একবার আব্দুল্লাহ সাহেবের সাথে দেখা করতে গেলে, তিনি মক্তব প্রসঙ্গে একটি কথা বলেন, যা আমার এত কিছু লেখার মূল উদ্দেশ্য,
"আপনারা ইংরেজি শিক্ষিতরা আপনাদের ছেলে মেয়েদের পার্থিব শিক্ষার ক্ষেত্রে সমাজ ও পরিবেশ খুব ভাল বোঝেন। তাদের স্কুল কলেজে না পাঠিয়ে বাসায় টিউটর রেখেও তো পড়ানো যেত। কিন্তু আপনারা তা করেন না। কেননা আপনারা জানেন, কেবল শিক্ষা দেয়াই যথেষ্ট না, বরং শিক্ষার পাশাপাশি তাকে একটি পরিবেশের মধ্যে থেকে বেড়ে উঠতে হবে। যেটা তার সঠিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। অথচ এ বিষয়গুলো কিন্তু আল্লাহ্‌র কালাম শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে আপনারা অনুভব করেন না। তখন বলেন,
হুজুর! একটা হুজুর দেন। বাসায় এসে পড়িয়ে যাবে।
-----------------------------
আজ এই দুইজন মানুষের কারণে আমার মত আরও শত শত ছেলে মেয়ে সহীহ ভাবে কুরআন পড়তে পারছে। মক্তব চালু না করে অন্যান্যদের মত যদি "একটা হুজুর দিয়ে কুরআন পড়ানোর" রেওয়াজের উপর জমে থাকতেন, আমরা অনেকেই হয়ত এই শিক্ষা থেকে আজ বঞ্চিত থেকে যেতাম !
আল্লাহ তা'আলা মাওলানা আব্দুল্লাহ সাহেব ও প্রফেসর হামিদুর রহমান সাহেবকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন !
সালাহুদ্দিন আইয়্যুবি (র) বলেছেন, একটি মুসলিম সমাজকে ধ্বংস করার সহজ পন্থা হল সেই সমাজের যুবক শ্রেণীর মাঝে অশ্লীলতা ঢুকিয়ে দেওয়া। কথাটি শতভাগ সত্য। তবে, এই সহজ পন্থার তুলনায় আরও অনেক কঠিন, অধিক ফলপ্রসূ ও দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যান হল, মুসলিম সমাজের শিশুদেরকে এমন ভাবে গড়ে তোলা যাতে সে জীবন কাটাবে মুসলিম নামে, কিন্তু তার সমস্ত কাজকর্ম, চিন্তাধারা ও মন মানসিকতা হবে বিধর্মীদের মত। তার কথা বার্তা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার সাথে একজন অমুসলিমের বিশেষ কোন পার্থক্য থাকবে না।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বর্তমান যুগের বাচ্চাদের পড়াশোনার সিলেবাস ও শিক্ষাদান পদ্ধতিকে এমন ভাবে সাজানো হয়েছে, যেখানে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও তাতে গভীরতা অর্জনের কোন সুযোগই নেই। স্কুলের সিলেবাসের মধ্যে নামে মাত্র “ইসলামী শিক্ষা” নামে যা চালু আছে, একে তো হাজারো ভুলে ভরা, পাশাপাশি তা যেই পরিবেশে ও যে ধরণের শিক্ষক দ্বারা পড়ানো হয়, তাতে সুশিক্ষা পাওয়ার থেকে কুশিক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এরকম একটি প্রতিকুল অবস্থায় আমরা যদি নিজেরাই পরিবেশকে আরও জটিল বানিয়ে ফেলি, একজন হুজুর ডেকে বাচ্চাকে এক খতম কোরআন (শুদ্ধ হোক বা অশুদ্ধ) পড়িয়ে দিয়েই যথেষ্ট মনে করি, অসম্ভব কিছু নয়, সুরা আহযাবের ৬৮ নং আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী এই সন্তানই কিয়ামতের দিন উল্টো আমাকে দিগুণ শাস্তি দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে অনুরোধ জানাবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সতর্ক হওয়ার সৌভাগ্য দিন। আমাদের সন্তানরা বড় হয়ে যেন আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ না হয়। তাদেরকে আমাদের চক্ষু শীতলকারী বানিয়ে দিন

Collected-রোমান্টিক ইসলাম!

রোমান্টিক ইসলাম!
----------------
--- আচ্ছা, ইসলামে কি রোমান্টিকতা আছে?
--- এটা কোনও প্রশ্ন হলো? রোমান্টিকতা নেই মানে, আলবৎ আছে।
.
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)। তার কথা মনে হলেই হৃদয়পটে ভেসে ওঠে আব্বাসী খলীফার দরবার। একজন বৃদ্ধকে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে পেটানো হচ্ছে। আর তিনি উচ্চৈঃস্বরে বলছেন:
-কুরআন কারীম মাখলুক নয়। আমাকে কুরআন হাদীস থেকে প্রমাণ দাও।
.
অথবা হৃদয়পটে ভেসে ওঠে, একজন আলিম মসজিদে বসে হাদীস ও ফিকহের দরস দিচ্ছেন। হাজার হাজার ছাত্র তাদের ঘিরে রেখেছে।
.
এমন একজন মানুষ রোমান্টিকতার ওপরও ক্লাস নিচ্ছেন, ছেলেকে প্রেম নিবেদন শেখাচ্ছেন, ভাবা যায়? বাস্তবে তাই ঘটেছে। একটা বর্ণনায় এমনি একটা ঘটনা পেলাম। মুল ভাব ঠিক রেখে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছি।
.
ইমাম সাহেবের ছেলের বিয়ের সব ঠিকঠাক। একদিন ফাঁক করে পুত্রকে ডেকে পাশে বসালেন। আন্তরিক ভঙ্গিতে বলতে শুরু করলেন:
--- ওয়ালাদী! তুমি কি সুখী হতে চাও?
--- না‘আম ইয়া আবী!
--- তাহলে তোমাকে তোমার হবু জীবনসঙ্গীনির জন্যে দশটা বিষয় নিয়ে যেতে হবে।
-কী সেগুলো? কোথায় পাওয়া যাবে?
-তোমাকে কোথাও যেতে হবে না। কিনতেও হবে না। আমার কাছে, তোমার কাছে, সবার কাছেই সেগুলো আছে। সবাই ব্যবহার করতে পারে না, এই যা। চলো দেখা যাক, অমূল্য সেই দশটা বিষয় কী?
-----------
প্রথম ও দ্বিতীয়: নারীরা সাধারণত রোমান্টিকতা পছন্দ করে। খুনসুটি-রসিকতা পছন্দ করে। নখরা-ন্যাকা তাদের স্বভাবজাত। তারা ভালোবাসার স্পষ্ট প্রকাশকে খুবই পছন্দ করে।
তুমি একান্তে তোমার স্ত্রীর কাছে এসব প্রকাশে কখনোই কার্পণ্য করবে না। তাকে বেশি বেশি ভালোবাসার কথা বলবে।
যদি এসবে কার্পন্য করো, তাহলে দেখবে কিছুদিন পরই তোমার আর তার মাঝে একটা অদৃশ্য পর্দা ঝুলে গেছে। এরপর দিনদিন পরস্পরের সম্পর্কে শুষ্কতা আসতে শুরু করবে। ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালাবার পথ খুঁজবে।
-----------
তৃতীয়: নারীরা কঠোর-কর্কশ-রূঢ়-বদমেজাযী-রুক্ষ্ণ স্বভাবের পুরুষকে একদম পছন্দ করে না। তুমি তোমার মধ্যে যদি এমন কিছু থেকে থাকে এখনই ঝেড়ে ফেল।
কারণ তারা সুশীল, ভদ্র, উদার পুরুষ পছন্দ করে। তুমি তার ভালোবাসা অর্জনের জন্যে, তাকে আশ্বস্ত করার জন্যে হলেও গুণগুলো অর্জন করো।
-------
চতুর্থ: এটা খুব ভাল করে মনে রাখবে, তুমি তোমার স্ত্রীকে যেমন পরিচ্ছন্ন-সুন্দর-পরিপাটি-গোছালো-সুরুচিপূর্ণ-সুগন্ধিময় দেখতে চাও, তোমার স্ত্রীও কিন্তু তোমাকে ঠিক তেমনটাই চায়।
তাই সাবধান থাকবে, তার চাহিদা পূরণে যেন, কোনও অবস্থাতেই, তোমার পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র অবহেলা না হয়।
--------
পঞ্চম: ঘর হলো নারীদের রাজ্য। একজন নারী নিজেকে সব সময় সেই রাজ্যের সিংহাসনে আসীন দেখতে খুবই পছন্দ করে। সে কল্পনায়, স্বপ্নে, বাস্তবে এই রাজ্য নিয়ে ভাবে। সাজায়। রচনা করে।
তুমি খুবই সাবধান থাকবে! কখনোই তোমার স্ত্রীর এই সুখময় রাজত্বকে ভেঙে দিতে যেওনা। এমনকি তাকে তার সিংহাসন থেকে নামিয়ে দেয়ার প্রয়াসও চালাবে না।
তুমি তো জানোই, আল্লাহ তা‘আলার কাছে, সবচেয়ে অপছন্দীয় বিষয় কী?
--- তার সাথে কোনও কিছুকে শরীক করা।
--- হ্যাঁ, ঠিক বলেছো। একজন রাজার কাছেও সবচেয়ে ঘৃণিত বিষয় কী?
--- তার রাজ্যে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করা।
----
ষষ্ঠ: নারীরা তার স্বামীকে মনেপ্রাণে-সর্বান্তঃকরণে প্রবলভাবে কাছে পেতে চায়। পাশাপাশি তার বাপের বাড়িকেও হারাতে চায় না।
হুশিয়ার থেকো বাবা! তুমি ভুলেও নিজেকে আর স্ত্রীর পরিবারকে এক পাল্লায় তুলে মাপতে শুরু করে দিওনা। তুমি এ অন্যায় দাবীও করে বসো না:
--- হয় আমাকে বেছে নাও, নাহলে তোমার বাবা-মাকে।
তুমি এ বিষয়টা এমনকি চিন্তাতেও স্থান দিও না। যদি তুমি তাকে এমনটা করতে বাধ্য করোও, সে হয়তো চাপে পড়ে মেনে নিবে, কিন্তু তার মনের গহীনে কোথাও একটা চাপা-বোবা কান্না গুমরে মরতে থাকবে। তোমার প্রতি এক ধরনের সুপ্ত অশ্রদ্ধা তার কোমল মনে চারিয়ে উঠবে।
------------
সপ্তম: তুমি জান, অনেক শুনেছ, পড়েছ: নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে বাহু (বা পাঁজরের) বাঁকা হাড় থেকে।
এই বক্রতা কিন্তু তার দোষ নয়, সৌন্দর্য। তুমি চোখের ভ্রু লক্ষ করে দেখেছো? সেটার সৌন্দর্যটা কেথায়?
-বক্রতায়।
--- একদম ঠিক কথা। বক্রতাই ভ্রুকে সুন্দর করে তোলে। ভ্রুটা যদি সোজা হতো, দেখতে সুন্দর লাগতো না।
যদি তোমার স্ত্রী কোনও ভুল করে ফেলে, সাথে সাথেই অস্থির হয়ে, রেগেমেগে তাকে হামলা করে বসো না। উত্তেজিত অবস্থায় তাকে সোজা করতে যেয়ো না, তাহলে অতিরিক্ত চাপে ভেঙে যেতে পারে। আর ভাঙা মানে বোঝোইতো: তালাক।
আবার সে অনবরত ভুল করে যেতে থাকলে, কিছু না বলে, ভেঙে যাওয়ার ভয়ে, লাগামহীন ছেড়েও দিও না। তাহলে তার বক্রতা আরও বেড়ে যাবে। সে নিজের ভেতরে গুটিয়ে যাবে। তোমার প্রতি তার আচরণ উদ্ধত হয়ে যাবে। তোমার কথায় কান দিবে না।
--- আমি তাহলে কী করবো?
--- তুমি মাঝামাঝি অবস্থানে থাকবে।
-----------
অষ্টম: তুমি হাদীসটা পড়ো নি?
-কোনটা আব্বাজান?
--- ঐ যে, যার ভাবার্থ হলো:
= নারীদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে এমনভাবে যে, তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। তার প্রতি অতীতে কৃত সদ্ব্যবহার-সদাচার ভুলে যায়।
তুমি যদি তার প্রতি যুগ-যুগান্তরও সুন্দর আচরণ করো, হঠাৎ একদিন কোনোক্রমে একটু রূঢ় আচরণ করে ফেলেছো, ব্যস অমনিই সে নাকের জল চোখের জল এক করে বলবে:
--- আমি তোমার কাছ থেকে কখনোই ভালো কিছু পাইনি।
দেখো বাছা! তুমি তার এই আচরণে রুষ্ট হয়ো না। তার এই চপল স্বভাবের প্রতিক্রিয়ায় তার প্রতি মনে বিতৃষ্ণা এনো না।
তার এই স্বভাবকে তুমি অপছন্দ করলেও, তার মধ্যে তুমি অনেক এমন কিছু পাবে যা তুমি শুধু পছন্দই করো না, তার জন্যে তুমি জানও লড়িয়ে দিতে পারো।
---------------
নবম: নারীদের শরীর-মনের অবস্থা সবসময় এক রকম থাকে না। এক সময় এক রকম থাকে। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটা সময় তাদের শারীরিক দুর্বলতা থাকে। অনেক সময় মানসিক অস্থিরতাও বিরাজ করে। তাদের এই দুর্বলতা, অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনা করে আল্লাহ তা‘আলা তাদের নির্দিষ্ট সময়ের নামায মাফ করে দিয়েছেন। রোযাকে পিছিয়ে দিয়েছেন, তার স্বাস্থ্য ও মেজায ঠিক হওয়া পর্যন্ত।
তুমি তো রাব্বে কারীমের বান্দা। তুমিও তোমার রবের গুণে গুণান্বিত হও। রব্বানী হও। তুমি তোমার স্ত্রীর দুর্বল মুহূর্তগুলোতে তার প্রতি কোমল হবে। তোমার আব্দার-আবেগ শমে রেখো। তোমার রবও খুশি হবেন, তোমার রাব্বাহও খুশি হবে, কৃতজ্ঞ হবে।
-----------
দশম: সব সময় মনে রেখো, তোমার স্ত্রী তোমার কাছে অনেকটা দায়বদ্ধ, বিভিন্নভাবে তোমার মুখাপেক্ষী। তোমার সুন্দর আচরণের কাঙাল। তুমি তার প্রতি যত্নবান হবে, তার প্রতি অনেক বশি মনোযোগ দিবে, তাকে আপন করে নিবে। তাহলে সে তোমার জন্যে শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হবে। তাকে অনুপম সঙ্গী হিশেবে পাবে।
---------------------------------
.
দ্বিতীয় অঙ্ক:
পটিয়াতে একটা বিখ্যাত গ্রাম আছে। নাম আশিয়া। আমাদের বন্ধু তৈয়বের বাড়ি এই গ্রামে। আমরা মাঝেমধ্যে, বৃহস্পতিবারে ছুটি হলে, দলবেঁধে তার বাড়িতে বেড়াতে যেতাম। খুবই সুন্দর একটা গ্রাম। পটিয়ার মানুষ এমনিতেই বৃক্ষবান্ধব। সবাই গাছ লাগানোর প্রতি উৎসাহী।
.
আশিয়া গ্রামটাও ছায়াঘেরা নিবিড়। স্নিগ্ধ। মনোরম। সেদিন আমরা পৌঁছতে পৌঁছতে রাত হয়ে গেছে। আমজুর হাট নেমে হেঁটে হেঁটেই দীর্ঘ পথ এসেছি। এতগুলো সদ্য কৈশোরের শেষ সীমায় পৌঁছা একদল ছেলে একসাথ হলে, গাড়িতে উঠতে ইচ্ছে করে? গ্রামের পথ তো গাড়িতে চড়ার জন্যে নয়, হাঁটার জন্যে। গ্রামের পথ তো চাঁদনী রাতে অভিসারে বের হওয়ার জন্যে।
.
তৈয়ব আগে থেকেই বলে রেখেছিল, আমাদের জন্যে বিশেষ কিছু একটা অপেক্ষা করছে। বাড়ি গেলাম। চিনিপানা (শরবত) দিল। আরও নানা আয়োজন। দিলদরাজ পরিবার। মুক্তহস্ত। উপুড়হৃদয়। সাথে ছিলাম আমি দুই ফারুক। সাইফুল। মাকসুদ। বিশাল দল।
.
কিছুক্ষণ পর একে একে অনেকে এল। তৈয়ব সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় নাম বললো: বাসর।
-কী নাম বললি?
-বাসর। বাসর।
-যাহ! বাসর কারো নাম হয় নাকি?
তৈয়ব মিটিমিটি হেসে জবাব দিল:
-হয় রে হয়! কিভাবে হয় একটু পরেই টের পাবি।
.
রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব চুকে গেল। অবাক হয়ে দেখলাম আশেপাশের বাড়ি থেকেও মেয়ে-মহিলারা পানের বাটা, তালপাখা নিয়ে একজন-দু’জন করে উঠোনে হাজির হচ্ছে। আমরা তো আগে থেকেই বিশাল বড় উঠোনে শীতল পাটিতে গা এলিয়ে দিয়েছি। আকাশের তারা গুনছি। এলোমেলো গল্প করছি।
.
তৈয়ব কাছে নেই। সে দৌড়াদৌড়ি করছে। উঠোনের একপাশে একটা মঞ্চের মতো কী যেন একটা সাজাচ্ছে। আমরা জিজ্ঞেস করলে বললো, সার্কাসের মঞ্চ সাজাচ্ছি। আমরা জুলজুল চোখে তাকিয়ে আছি। কী হয় কী হয়? আগামীকাল সারাদিন কী করবো তার পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। মাকসুদ সাঁতার জানে না, তাকে সাঁতার শেখাতে হবে। পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে হবে। ক্ষেতে মিষ্টি আলু করা হয়েছে, সেটা তুলে খেতে হবে। আর কত কী!
.
মঞ্চ সাজানো হলো। এবার সবাইকে দেখলাম মঞ্চের চারপাশ ঘিরে বসছে:
-তৈয়ব এবার বল না, কী হচ্ছে?
-বাসর হবে, বাসর।
-সেটা আবার কী?
-এ্যাই ব্যাটা, বাসরও বুঝিস না!
.
ছেলেমেয়ে, কিশোর-কিশোরী, বুড়ো-বুড়ি, জোয়ান-জোয়ানীতে ভরে গেছে বড় উঠোন। মঞ্চটা চারপাশ থেকে পর্দা দিয়ে ঘেরা। তৈয়বের ছোট ভাই একটা বিড়াল নিয়ে এল। বিড়ালের গলায় রশি লাগানো। সাইফুলের হাতে বিড়ালটা দিয়ে ধরে রাখতে বললো। পরে লাগবে। বিড়াল কিছুক্ষণ টানাটানি করে ছুটতে না পেরে, বিকট এক ভেচকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে পালিয়ে গেল।
সবাই বিড়ালের পিছু পিছু ছুটলো। ধর ধর ধর। সাইফুল আর ফারুক অনেক যুদ্ধ করে বেড়ালটাকে বগলদাবা করে নিয়ে এল। মাকসুদটা ভীতুর ডিম। সে এতক্ষণ আগের জায়াগতেই বসে ছিল।
.
শুরু হলো মূল পর্ব। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। বাসর দেখবো। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদেরও আর তর সইছে না। পর্দা উঠলো। অবাক হয়ে দেখলাম তৈয়বের একজন বন্ধুকে বধূবেশে একটা খাটের ওপর বসিয়ে রাখা হয়েছে। তৈয়ব গিয়ে বেড়ালটাকে মঞ্চের একটা খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে এল।
.
দুলামিঞা এল। আরে সেই বাসরই দেখি দুলা সেজে এসেছে। মৃদু গুঞ্জরণ শুরু হয়েছে। আমরা তো আগে দেখিনি, তাই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। দুলা কাল্পনিক দরজা খুলে বাসর ঘরে প্রবেশ করলো। প্রবেশ করেই এক কোনে খুঁটির সাথে বাঁধা বেড়ালটাকে হ্যাঁচকা টানে রশিসহ উঠিয়ে নিয়ে জোরে এক আছাড় মারল। বিড়াল ম্যাঁওওওওওওওও করে দৌড়ে পালাল। ভাগ্যিস মঞ্চের এককোনে একগাদা খড় জড়ো করে রাখা ছিল। বেড়ালটাকে কায়দা করে সেখানেই ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল। নিখুঁত ব্যবস্থা।
.
আমরা তো হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ার অবস্থা। দুলামিয়ার সেকি ভাব। আস্তে আস্তে খাটের দিকে এগিয়ে গেল। একেবারে অননুকরনীয় ভঙ্গিতে বধূর চিবুক তুলে ধরলো। মাথার ঘোমটা সরিয়ে কপালের চুল ধরে সশব্দে দু‘আটা পড়তেও ভুলল না: আল্লাহুম্মা........।
মাকসুদ বললো:
--- এযে দেখি সত্যিকার বাসর শুরু হলো রে!
সাইফুল টিপ্পনী কেটে বললো:
-তুই মনে হয় আগে থেকেই বাসরের সাথে পরিচিত!
এবার দুজনে ঝগড়া শুরু হয়ে গেল।
.
দুলা প্রেম গদগদ কণ্ঠে বললো:
-ওগো! চলো আগে দুই রাকাত নামায পড়ে নি। আমাদের ভবিষ্যত জীবনের জন্যে, অনাগত সন্তানদের জন্যে কায়মনোবাক্যে দু‘আ করি।
.
আবার দু’জনে খাটে বসলো। নওশা বিবির হাত ধরে আলাপ শুরু করলো। সেকি ডায়লগ! পুরো মজমা হাসতে হাসতে পেটে খিল। এমননি বুধূবেশি সেলিমও হাসি চেপে রাখতে পারছে না। কিন্তু খুরশিদ মানে বাসরের মুখে হাসির লেশমাত্রও নেই। সে যেন সত্যি সত্যি দুলা।
.
এক পর্যায়ে বাসরের অভিনয় এতই পরিণত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, বধূবেশি সেলিম পর্যন্ত তন্ময় হয়ে ঘোরলাগা চোখে, নিষ্পলক তাকিয়ে ‘স্বামীর’ কথায় মাথা নেড়ে সায় দিতে শুরু করলো।
-মিলি! তুমি কিন্তু আমার ওপর রাগ করে থাকতে পারবে না। আমি রাগ করলেও না। আর শোন, আমি পুঁটি মাছের দোপেঁয়াজা খুব পছন্দ করি। কলই ডালের বড়া খেতে পছন্দ করি, তুমি না পারলে শিখে নেবে।
আর তোমার প্রিয় মাছ কোনটা সেটা আমাকে জানিয়ে দিও। বাজারে গেলে নিয়ে অাসব।
.
এভাবে প্রায় আধঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বাসর তার সংলাপ আউড়ে গেল। শেষের দিকে তার বক্তব্যগুলো এত বেশি আবেগঘন হয়ে উঠেছিল যে, এ যে মিথ্যে, এটা যে দুষ্টুমি সেটাই উপস্থিত দর্শকদের কেউ কেউ ভুলে গিয়েছিল। কয়েকজনকে দেখলাম বারবার চোখ মুছছে।
.
শেষ করার একটু আগে, সে যখন বললো:
-মিলি! তুমি যদি পঙ্গুও হয়ে যাও, আমি তোমার সেবা করে বাকী জীবন কাটিয়ে দেব। তুমি অন্ধ হয়ে গেলে আমি তোমার হাতের লাঠি হবো। তুমি বোবা হয়ে গেলে আমি তোমার কথা হয়ে থাকব। তুমি স্মৃতিহীন হলে, আমি তোমার স্মৃতি হয়ে থাকব। তবুও তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। তোমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দেব, নাইয়ে দেব। চুল আঁচড়ে দেব। বেনী করে দেব। তোমার সাথে সাপ-লুডু খেলব। রাতের বেলায় তালপাখায় বাতাস করে তোমায় ঘুম পাড়াব। দখিনের জানালা খুলে চাঁদনী রাত কাটাব। তোমার শিয়রে বসে গল্প শোনাব। চুলে বিলি কেটে তোমার মাথাব্যথা ভাল করে দেব। গভীর রাতে কুপি জ্বেলে তোমাকে ‘বাহির’ থেকে ঘুরিয়ে আনব। তোমার পাতের মাছের কাঁটা আমি বেছে দেব। তোমার জন্যে পিতলের তৈরী পানের বাটা এনে দিব। শেষ রাতে শীতল বাতাসের পরশে, কুন্ডুলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে থাকা তোমার গায়ে আলগোছে সুজনি কাঁথা ছড়িয়ে দেব।
= এসব কথা শোনার পর, একটা মেয়েকে দেখলাম আঁচল চাপা হুহু করে কাঁদতে কাঁদতে, দৌড়ে অন্ধকারে হারিয়ে যেতে। হয়তো তার কোনও ব্যথার স্মৃতি মনে পড়ে গেছে।
অন্যদের কথা আর কী বলবো, আমাদের পর্যন্ত চোখ ভিজে উঠেছিল। আহা এমন ভালোবাসা যদি আমিও কারো কাছ থেকে পেতাম!
.
বাসর রাতে হয়তো এত কথা হয় না। এত সংলাপ হয় না। এত নাটকীয় কথোপকথন হয় না। কিন্তু এখন অবাক হয়ে ভাবি, ক্লাস টেনে পড়া একটা ছেলে এতটা নিখুঁত করে কিভাবে বাসর কথা শিখল? এত অভিজ্ঞ সংলাপই বা সে কোত্থেকে জোগাড় করলো?
.
পরে তৈয়বের কাছে জেনেছি, সে একটা বইয়ে বাসরের বর্ণনা পড়ার পর থেকেই তার মাথায় এই পোকা ঢুকেছে। প্রথম প্রথম সে একা একাই সংলাপ বলতো। পরে বন্ধুদের সাথে। অল্প ক’দিনেই সে একজন বাসরসংলাপ জিনিয়াসে পরিণত হলো। তার কথার মধ্যে কোনও রকমের অস্বাভাবিকতা ছিল না। শ্রুতিকটু কিছু ছিল না। ছিল নির্মল-নির্দোষ-নিদাঘ কথা। সুখ-দুঃখের বর্ণনা। আবেগমথিত কিছু উচ্চারণ। মনটা যে কারও ভিজে উঠবে।
.
আমরা ভেবেছিলাম নিছক একটা হাসির আয়োজন হবে ব্যাপারটা, সে নিজেই যখন কাঁদতে কাঁদতে সংলাপ বলতে শুরু করলো, বধুবেশি সেলিমের চোখ পর্যন্ত টলোমলো করতে শুরু করে দিয়েছিল।
.
খোরশেদের অভিনয় প্রতিভা দেখে, স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে, বিয়েবাড়িতে তার ডাক পড়তে শুরু হলো। সেও চুটিয়ে বাসর অভিনয় করে যেতে লাগল।
.
কিছুদিন পর, আমরা বাসরকে মাদরাসায়ও দাওয়াত দিয়ে এনেছিলাম। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর। ছুটির আগের রাতে। এবার আমরা আমরাই তার বাসর উপভোগ করলাম। সমস্যা বেঁধেছিল ঠিক শেষমুহূর্তে। যিম্মাদার হুযুর কীভাবে যেন খবর পেয়ে, বেত হাতে তেড়ে এলেন। কী দুলা আর কী বধু! এলোপাথারি সেকি মার! হুযুর পিটাচ্ছেন আর বলছেন:
--- বিয়া গরিবার শখ অইয়ে দে ন!
আয়! তোরারে গম করি বিয়া গরাইর!
(তোদের বিয়ে করার শখ হয়েছে না! আয় তোদেরকে ভাল করে বিয়ে করিয়ে দি)।
মজার বিষয় হলো, হুযুরও হাসছেন। আমরা পিটুনি খাচ্ছি আর ইঁদুরের মতো ছোটাছুটি করছি। কোন ফাঁকে যেন ‘দুলা-বাসর’ ছিটকে কামরা থেকে বেরিয়ে সোজা আশিয়া চলে গেল।
আহ! সে কী দিন ছিল! মার খাওয়াও ছিল কত আনন্দের।

ভালবাসা সবার জন্যই এক

" ভালবাসা সবার জন্যই এক, শুধু প্রকাশ করার পদ্ধতি সম্পর্ক অনুসারে আলাদা।"
বন্ধু ক: আসসালামুআলাইকুম, বন্ধু কেমন আছো?
বন্ধু খ:ওয়ালাইকুম সালাম,ভাল আছি। তোমার কি অবস্থা?
বন্ধু ক:আলহামদুলিল্লাহ, ভাল। তুমি ব্যস্ত না থাকলে কিছু আলোচনা করতাম।
বন্ধু খ: হ্যাঁ, অবশ্যই।
বন্ধু ক: আমরা তো মুসলিম, আল্লাহ্‌ কে বিশ্বাস করি।
বন্ধু খ: হ্যাঁ তা তো অবশ্যই।
বন্ধু ক: মানে আল্লাহ্‌ কে ভালবাসি।
বন্ধু খ: বাসবো না আবার। তিনিই তো আমাদের সৃষ্টি করেছেন।
বন্ধু ক: তাহলে তুমি যে আল্লাহ্‌'কে ভালবাসো তার প্রমাণ কি?
বন্ধু খ: প্রমাণ আবার কি লাগে, আল্লাহ্‌ কে বিশ্বাস করি, অন্য ধর্ম পালন করি না এটাই তো।
বন্ধু ক: মানে কাজে কর্মে তা তো প্রমাণ করতে হবে, নাকি?
বন্ধু খ: ধুর কি বলো, এসব তো মনের ব্যাপার, আল্লাহ্‌ তো মন দেখতিছে।
বন্ধু ক: আচ্ছা বাদ দিলাম। কাল তোমাকে যে মেয়ের সাথে দেখলাম ওটা কে ছিল?
বন্ধু খ: আরে ও তো আমার বউ।
বন্ধু ক: তুমি বিয়ে করলি কব? :-O
বন্ধু খ: মানে girlfriend। বিয়ে করবো পড়া শেষে চাকরি পেলেই।
বন্ধু ক: তাহলে তো তুমি মেয়েটাকে ভালবাসো?
বন্ধু খ: আবার জিগায়। হ্যাঁ
বন্ধু ক: তার প্রমাণ কি?
বন্ধু খ: এই যে প্রতিদন রাত জেগে কথা বলি, দেখা করি, ওর ভাললাগে যেসব, সেসব করে ওকে খুশি রাখি আরও অনেক কিছু।
বন্ধু ক: এই তো তুমি নিজের যুক্তিতে ঠিক নাই। পক্ষপাতি করলা।
বন্ধু খ: কিভাবে।
বন্ধু ক: আল্লাহ্ কে ভালবাসো অথচ তার খুশি মতো চলো না, আল্লাহ্‌ র সাথে তাহাজ্জুদে কথা বলো না, আল্লাহ্‌ র সাথে দেখা করতে মসজিদে যাও না। তাহলে এটা কি ভালবাসা হলো, তুমিই বলো।
বন্ধু খ: এভাবে তো ভাবি নি।(লজ্জিত হয়ে)

আমাদের কাছের মানুষ গুলো মা,বাবা,ভাই,বোন সহ সবার খুশির জন্যই কাজ করা, তাদের ভাল লাগা গুলো খেয়াল রাখা এবং সবার শেষে তাদের রক্ষার জন্য দরকার হলে নিজের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দেওয়া, এটাই তো ভালবাসা, নয় কি? আসুন নিজের সৃষ্টিকর্তা/প্রভু-->আল্লাহ্‌ কে ভালবাসা থেকেই সব ভালবাসা শুরু করি।

মানুষ বনাম জানোয়ার

মানুষ বনাম জানোয়ার
আমাদের আশেপাশে তাকালে দেখা যায়, অনেক জীবিত, মৃত প্রাণী,উদ্ভিদ,জড় বস্তুদের সাথে আমরা বসবাস করি। এর মধ্যে মানুষই সর্বোচ্চ ক্ষমতাধারী,বুদ্ধি সম্পন্ন প্রাণী। কারণ মানুষ চিন্তাশীল, সব সময় নতুন কিছু খোঁজা ও আবিষ্কারের কাজে ব্যস্ত থাকে।
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের মধ্য অনেক মিল আছে। যেমন- দু'জনেরই ক্ষুধা লাগে, দু'জনেরই বাসস্থানের দরকার হয়(ব্যতিক্রম আছে), দু'জনেরই ক্লান্তি আসে, ঘুমের প্রয়োজন হয়, মল-মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হয়।
কিন্তু
মানুষ বেশীর ভাগ সময় খাবার প্রক্রিয়ারর মাধ্যমে খায়, উন্নত মানের বাসস্থানে থাকে এসব প্রাণীরা করতে পারে না।
কিন্তু
অনেক মানুষ উপরের দু'টো ঠিক করলেও কয়েকটা বিষয়ে জানোয়ারের সাথে নিজেদের মিল রাখতে চায়। যেমন- স্রষ্টা প্রাণীদের লজ্জা নিবারণের জন্য গায়ের লোম বড় দিয়েছে, কিন্তু মানুষের সেই লোম নাই, তারা কাপড় পরে লজ্জা নিবারণ করে।এরপরও অনেক মানুষ জানোয়ারের সাথে মিল রাখতে প্রতিনিয়ত কাপড় খোলার প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে। প্রাণীরা তাদের মল-মূত্র ত্যাগ করে যেখানে সেখানে খোলা জায়গায়, দাঁড়ানো অবস্থায়।তাদের পরে পরিষ্কার হওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মানুষ সাধারণত গোপনে উপযোগী পরিবেশে, বসা অবস্থায় করে। এখানেও অনেক মানুষ জানোয়ারের মতো যেখান সেখানে, দাঁড়িয়ে, পরিষ্কার না হয়ে থেকে যায়। হ্যাঁ ইউরোপ, আমেরিকা সহ অনেক উন্নত দেশে উন্নত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তারা বেশির ভাগ এই কাজ করে। আমরাও ওদের সাথে মিল রাখতে জানোয়ার হওয়ার জন্য চেষ্টার ত্রুটি করি না। আসুন একবার মানুষ হই।
বি:দ্র: যেখানে মানুষকে প্রাণী বানিয়েছি, সেখানেই জানোয়ার লিখেছি। আমি জানি জানোয়ার কোন সময় প্রয়োগ করা হয়।

ভেজাল/ফরমালিন হাঁসি

ভেজাল/ফরমালিন হাঁসি
আপনি কখনো বিজ্ঞাপন ফলকের (Billboard) মেয়েগুলোর বাঁকা ঠোঁটের হাঁসি দেখেছেন? দেখারই কথা। এসব আমাদের চোখে পরার জন্যই তো রাস্তার মোড়ে মোড়ে, বড় দালানগুলোর ছাদে ছাদে ঝুলানো হয়।তাদের হাঁসিগুলো দেখে আপনি ভাবেন যে আপনার কাছের মানুষটি যদি ঐভাবে হাসতো কতই না ভালো লাগতো। আহা! কতই না সুন্দর সেই হাঁসি, সেই প্রাণ জুড়ানো হাঁসি। বিশ্বাস করুন এই হাঁসিগুলোর মধ্যে ১% সত্যতা নাই, ভেজাল সম্পূর্ণটাই ফরমালিনের ভেজাল। এই হাঁসি তারা টাকার বিনিময়ের, কৃত্রিমভাবে তাদের অনুভূতিগুলোকে বানিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আপনাকে আনন্দ দেয়ার। আর আপনিও সেই নকল,ভেজাল হাঁসি দেখে গুলগুলা।শুধু কি বিজ্ঞাপন ফলক, নাহ! পত্রিকা, পোস্টার, টিভি, ইন্টারনেট সর্বত্র এইসব ভেজাল বিনোদন দিয়ে ভরা। এই সব দেখে কি আপনার, নিজের বাসায় অপেক্ষা করা মানুষটির কথা ভাবেন? যখন আপনি ঘরে প্রবেশ করলে সেই মানুষটি যে হাঁসি দেয় সেটার মর্ম বুঝবেন? বাবা-মা'র কাছে গিয়ে তাদের সাথে গল্প করলে যে হাঁসি তারা দেয় সেটার সত্যতা, ছোটদের জন্য চকলেট নিয়ে গেলে তাদের হাঁসির পবিত্রতা, অনেক দিন পর বন্ধু আপনাকে দেখলে বুকে জড়িয়ে নিয়েয়ে যে হাঁসি দেয় সেই আসল হাঁসির মূল্য আপনি বুঝবেন না। তাদের হাঁসিগুলো টাকায় কেনা নয়, তাদের হাঁসি আপনার প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকাশ করে। আহা! কত নির্ভেজাল, কত বিশুদ্ধ। আর আমরা এসব বাদ দিয়ে হাঁসির জন্য, বিনোদনের জন্য মিরাক্কেল দেখি, কৌতুকের নাটক, চলচ্চিত্র দেখি। না দেখেই কি উপায় আছে! আমরা ডিজিটাল হচ্ছি, তাই হাঁসিটাও ডিজিটাল। সারাদিন ভেজাল খাওয়ার মতো ভেজাল হাঁসি, বিনোদন আমাদের প্রকৃত অনুভূতি গুলো থেকে লক্ষ, কোটি মাইল দূরে রাখছে। আসুন দূরত্ব কমাই, হাসি ফরমালিন মুক্ত প্রকৃত হাঁসি।

বলুন তো


-বলুন তো আমি কে?
-তুমি আমার বাম পাঁজরের অংশ,
তুমি আমার দ্বীনের অর্ধাংশ,
তুুমি চক্ষু শীতলাকরণ, নয় শুধু দেহ বিশিষ্ট মাংশ,
তুমি তো সেই রাণী যার রাজত্ব আমার রাজ্যের সম্পূর্ণাংশ।
-বলুন তো আমি কোথায়?
-তুমি এখনো আমার স্বপ্নে,
তুমি আছো হৃদয়ের গহীনে,
যেখানে যাই নি আমি তুমি আছো সেই বনে।

Collected - বিয়ের কিছু চমৎকার আইন

উসমানি খিলাফায় বিয়ের কিছু চমৎকার আইন ছিল।
(এক) ঐচ্ছিক বিয়ের বয়েস শুরু হতো আঠার থেকে। শেষ হতো পঁচিশে। এর মধ্যে বিয়ে না করলে, তাকে বাধ্য করে বিয়ে করানো হতো।
-
(দুই) যদি কেউ অসুস্থতার অজুহাত দেখাতো, তদন্ত করে দেখা হতো, বক্তব্যটা সঠিক কি না। রোগটা নিরাময়যোগ্য হলে, সুস্থ্য হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় চাপ স্থগিত রাখা হতো। আর দুরারোগ্য ব্যধি হলে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই বিয়ে করতে বাধা দেয়া হতো।
-
(তিন) পঁচিশ হয়ে যাওয়ার পরও যদি কেউ বিনা কারণে বিয়ে না করে থাকতো, তার আয়/ব্যবসা বা সম্পদের এক চতুর্থাংশ কেটে রাখা হতো। জব্দকৃত অর্থ নিয়ে বিবাহোচ্ছুক গরীবদের বিয়ের বন্দোবস্ত করা হতো।
-
(চার) পঁচিশের পরও বিয়ে না করলে, তাকে রাষ্ট্রীয় কোনও চাকুরিতে নেয়া হতো না। কোনও সংগঠনেও ভুক্তি দেয়া হতো না। আর চাকুরিতে থাকলে, ইস্তেফা দেয়া হতো।
.
(পাঁচ) কোনও ব্যক্তির বয়েস যদি পঞ্চাশ হয়ে যায়, ঘরে বিবি থাকে একটা, কিন্তু তার আর্থিক সংগতি ভালো, তখন তাকে সামাজিক কোন কাজে অর্থ দিয়ে অংশগ্রহণ করতে বলা হতো। গ্রহণযোগ্য কোনও কারণ দেখিয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে, সামর্থ্য অনুসারে অন্তত এক থেকে তিনজন এতীমের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে বাধ্য করা হতো।
-
(ছয়) আঠার থেকে পঁচিশের মধ্যে যদি কোনও গরীব যুবা বিয়ে করতো, তাকে হুকুমতের পক্ষ থেকে ১৫৯ থেকে শুরু করে ৩০০ দুনমা পরিমাণের জমির বন্দোবস্তি দেয়া হতো। চেষ্টা করা হতো জমিটা যেন তার বাড়ির কাছাকাছি কোথাও হয়। এক দুনমা সমান: ৯০০ মিটার।
.
(সাত) গরীব বর যদি কারিগর বা ব্যবসায়ী হয়, তাকে পূঁজিপাট্টা দেয়া হতো। কোনও বিনিময় ছাড়াই। তিন বছর মেয়াদে।
.
(আট) ছেলে বিয়ে করার পর, বাবা মায়ের সেবা করার জন্যে আর কোনও ভাই না থাকলে, বরকে বাধ্যতামূলক সেনাকার্যক্রম থেকে রেহাই দেয়া হতো। তদ্রƒপ মেয়ের বিয়ের যদি বাবা মায়ের সেবার জন্যে ঘরে কেউ না থাকে, মেয়ের জামাইকেও বাধ্যতামূলক সেনা কার্যক্রম থেকে রেহাই দেয়া হতো।
.
(নয়) পঁচিশের আগেই বিয়ে করে তিনসন্তানের বাবা হলে, নৈশস্কুলে বিনামূল্যে তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হতো। সন্তান তিনজনের বেশি হলে, তিনজনের লেখাপড়ার ব্যবস্থা বিনামূল্যে করা হতো। বাকী সন্তানদের জন্যে দশ টাকা করে বরাদ্দ করা হতো। তের বছর বয়েস হওয়া পর্যন্ত।
কোনও মহিলার ঘরে চার বা তার চেয়ে বেশি ছেলে সন্তান থাকতো, তাকে মাথাপিছু ২০ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হতো।
.
(দশ) কোন ছাত্র লেখাপড়ার কাজে ব্যস্ত থাকলে, লেখাপড়া শেষ হওয়া পর্যন্ত বিয়ে স্থগিত রাখার অনুমতি দেয়া হতো।
.
(এগার) কোনও কারণে স্বামীকে অন্য এলাকায় থাকতে হলে, বাধ্য করা হতো সাথে করে স্ত্রীকেও নিয়ে যেতে! যুক্তিসঙ্গত কোনও কারণে স্ত্রীকে সাথে নিতে না পারলে, স্বামীর যদি আরেক বিয়ে করার সামর্থ থাকতো, তাকে কর্মস্থলে আরেক বিয়ে করতে বাধ্য করা হতো। তারপর চাকুরি শেষে নিজের এলাকায় ফিরলে, দুই স্ত্রীকেই সমান অধিকারে রাখতে বাধ্য করা হতো।
------
বর্তমানের প্রেক্ষাপটে আইনগুলো হয়তো বেখাপ্পা শোনাবে, কিন্তু সমাজে প্রচলিত সব ধরনের অনাচার রোধে, আইনগুলো বেশ কার্যকর বলেই মনে হয়।

অযোগ্য যুক্তি

অযোগ্য যুক্তি
ধরুন, আপনি কলেজে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন একটা বিষয়ের উপর ক্লাস করছে। আপনি আর সবার মতোই যোগ্যতা নিয়েই ক্লাসে বসার সুযোগ পেয়েছেন।ক্লাস নিচ্ছেন সবচেয়ে ভাল একজন শিক্ষক। শিক্ষক অসাধারণ ক্লাস নিচ্ছেন। সবাই ভাল ভাবে বুঝে নিচ্ছে। কিন্তু আপনি অমনোযগী হয়ে আছেন বা পাশে বসা বন্ধুটির সাথে গল্প করছেন। ক্লাসের সময় অর্ধেক গড়িয়েছে এমন সময় হঠাৎ আপনার মনে হলো ক্লাসে কি পড়াচ্ছে একটু দেখি। তখন বুঝতে যেয়ে আপনার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। কিছু শব্দ আপনার পরিচিত কিন্তু এগুলো অবহেলা করে আগে শিখে নেন নি। ফলাফল কিছুই বুঝতে পারছেন না। ক্লাস শেষে শিক্ষককে গালি দিলেন, যে বিষয়ে পড়ানো হয়েছে ঐ বিষয়কেও গালি দিলেন। আবার জিজ্ঞেস করলেন পাশের বন্ধুকে সে বলল সেও বোঝে নি। কারণ সে আপনার সাথেই গল্প করছিল। এখন আপনি মনে করলেন পাশের জন বোঝেনি বলে ক্লাসের কেউ বোঝে নি। এখন এর জন্য দায়ী কে? শিক্ষক নাকি বিষয় নাকি ছাত্র?
আরেকটা উদাহরণ দেই, ধরুন বিশ্বের সবচেয়ে ভাল ব্রান্ডের গাড়ি যেমন- মার্সিডিজ, ল্যাম্বোরগিনি,বুগাটি এগুলোর কোন একটি চালাতে দেওয়া হলো রিক্সাওয়ালাকে। গাড়িটি দেওয়ার আগে ভাল ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল যে কোন ত্রুটি নেই এবং রিক্সাওয়ালাকে কোন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নি। সে জীবনে প্রথম গাড়িতে উঠলো। এখন এই গাড়ির দূর্ঘটনা ঘটবে এটা যে কেউ নিঃসন্দেহে বলে দিতে পারবে। এখন প্রশ্ন এর জন্য দায়ী কে? গাড়ি নাকি চালক? উত্তর আপনাদের জানা। এই ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক গুলোর অবস্থাও এই রকম। তারা হঠাৎ করে ইসলামের একটা বিধান বুঝতে চায় তাও আবার ওদের মতোই ইসলামবিদ্বেষীর কাছে থেকে, ফলাফল ইসলামকেই ভুল মনে করে। ইউরোপ, আমেরিকাতে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লোক ইসলামের সৌন্দর্য্য দেখে মুসলিম হচ্ছে। তারা আপনার চেয়ে আধুনিক, প্রগতিশীল। এরা জেনে, পড়াশুনা করে, বুঝেই ইসলাম গ্রহণ করছে। ইসলামে যদি সন্ত্রাসবাদ থাকতো তাহলে এতো বিপুল পরিমানে লোক প্রতিনিয়ত ইসলাম গ্রহণ করতো না। বাস্তবতা এটাই। কয়েকদিন আগে পশ্চিমাদেরই এক পরিসংখ্যানে বলেছে, আগামী ৫০বছর পর পৃথিবীতে মুসলিমরাই হবে সংখ্যা গরিষ্ঠ, ইসলামই করবে রাজত্ব। আপনি পারলে ঠেকান।

এ আমার কেমন রোযা?

এ আমার কেমন রোযা?
দেখুন, এমনি ১১মাসে যে গুনাহ করবেন আর রমজানের গুনাহের মধ্যে পার্থক্য আছে। রমজানের গুনাহের ফলে রোযা দূর্বল এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ভেঙেও যেতে পারে। কিন্তু অন্যান্য মাসে তা হয় না। সংযমের মাস সংযম করি।
* রোযা রেখেও যায় নিন বাদ মিথ্যা বলা, এ আমার কেমন রোযা
* রোযা রেখেও বলিনি কথা গালি ছাড়া, এ আমার কেমন রোযা
* রোযা রেখেও চোখ আটকায় না পর নারী দেখা ছাড়া, এ আমার কেমন রোযা
* রোযা রেখেও দেয় নি বাদ গান শোনা, এ আমার কেমন রোযা
* রোযা রেখেও সময় ব্যয় করি সিনেমা দেখা, এ আমার কেমন রোযা
* রোযা রেখেও খারাপ ব্যবহার হয় আমার দ্বারা, এ আমার কেমন রোযা
* রোযা রেখেও ওয়াক্ত যায় ফরয নামায ছাড়া, এ আমার কেমন রোযা
* রোযা রেখেও ভুলে থাকা যে আমি রোযা, এ আমার কেমন রোযা

এখনই সময় বদলানোর, বদলে যাই।

Collected - #কৃষিবিদ বিয়ে করলে কী কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

কৃষিবিদ বিয়ে করলে কী কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
★বিয়ে নিয়ে মেয়েদের চিন্তার শেষ নেই। কাকে বিয়ে করবেন এ নিয়ে চলে নানা হিসাব-নিকাশ। ইঞ্জিনিয়ার না ডাক্তার ছেলে মেয়েদের পছন্দ এ নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। তবে আমি বলব, কৃষিবিদদের কথা একবার ভেবে দেখুন। কৃষিবিদ বিয়ে করলে কী কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে :
১. কৃষিবিদদের সাথে ঝগড়া করে আপনি অপার শান্তি লাভ করবেন। এরা প্রতি উত্তর দিবে না। কারণ এক কান
দিয়ে লেকচার ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করতে এরা বিশেষভাবে পারদর্শী।
২. কৃষিবিদদের কমপ্রোমাইজে অভ্যস্ত। কাল ক্লাস টেস্ট? ওকে! কুইজ আছে? বিশা ল প্রাক্টিকেল লেখা? নো প্রবলেম!
তাই বিয়ের পর আপনি যদি বলেন, আজকে আমার মামাতো বোনের শ্বশুড়ের ভাগনের বড় ভাইয়ের প্রতিবেশির ছেলের সুন্নতে খৎনার দাওয়াত; এরা সানন্দে মেনে নিবে এবং শত ক্লান্ত হলেও আপনার সাথে বের হবে।
৩.কৃষিবিদরা কখনোই আপনার রান্নার খুঁত ধরবে না। বেচারাগুলো হল এবং ক্যাফেটেরিয়ার সুস্বাদু (!) খাবার
খেয়ে অভ্যস্ত। আপনার হাতের রান্না যে খেতে পাচ্ছে এই-ই ঢের!
৪. স্বভাবতই এরা কঠিন হিসাবের মানুষ। কয়টা ক্লাস মিস দিলে অ্যাটেন্ডেন্স ৭০% এর উপরে থাকবে, শুরু করে ফেইল ঠেকাতে আর কত মার্কসের প্রয়োজন, এমন জটিল জটিল হিসাব কষে তারা দিন পার করে।
তাই মাসিক ইনকাম যাই হোক না কেন, সংসার চালাতে আপনার কোনো সমস্যা হবে না! হিসাবটা যে ঠিকই থাকছে!
৫. এরা কিঞ্চিৎ স্নেহের কাঙাল। সারাজীবন স্যারদের কাছ থেকে ‘অপদার্থ, গাধা -গরু -ছাগল, কিচ্ছু পারো না, সব থেকে বেয়াদব ব্যাচ….’ শুনে অভ্যস্ত। তাই দুয়েকটি ভালোবাসার কথা শুনলেই এদের অবস্থা প্রভুভক্তের মতো হয়ে যায়!
৬. সর্বোপরি, কৃষিবিদরা সর্বংসহা। যতোই প্যারা দেন, এরা নিতে পারে। ১৮০ -৯০ ক্রেডিটের নরক যন্ত্রণা সহ্য করে বলে এরা সবই হাসিমুখে সহ্য করতে পারবে

                         কাছে আসার গল্প-০৪

 
গ্রীষ্মের সময়, বেলা ১১টা। প্রচন্ড গরম, আকাশ পরিষ্কার। কোথাও কোন মেঘের চিহ্ন নেই। অথচ এ অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের উপর মেঘের মতো কি যেন দেখা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে বিকট আকারে শব্দ হলো, তারপরই মেঘমালায় এলাকা ছেয়ে গেছে। এ অঞ্চলটার নাম গাজা। হ্যাঁ, এটা ফিলিস্তিনে। এখানে এগুলো মেঘমালা নয়, কিছুক্ষণ আগে দুইটা যুদ্ধবিমান দুই দু গুণে চারটা বোমা নিক্ষেপ করে গেছে। বিকট শব্দে তিনটা বিল্ডিং ভেঙে পড়েছে। উসমান নামের ২৫ বছর বয়সের যুবক চিৎকার করে ডাকছে। বিল্ডিং এর নিচে চাপা পড়া যতজনকে সম্ভব উদ্ধার করতে হবে। বেশ কিছু যুবক ও মধ্য বয়সী লোক এগিয়ে এসেছে। উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। উদ্ধারের জন্য আলাদা কোন যন্ত্রপাতি নেই, যে যেভাবে পারছে সাধ্য মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিন দিক থেকে উদ্ধার চলছে। প্রথমে এক মধ্য বয়সী লোক উদ্ধার হলো, শরীর তার সিমেন্ট, বালু দিয়ে সাদা হয়ে আছে। উসমান কাজ করছে উত্তর-পূর্ব কোণে। ওখানে ছাদের ভাঙা অংশের একটু ফাঁক দিয়ে দুই জনকে দেখা যাচ্ছে। একজন সাহায্য চাচ্ছে, আরেক জন সম্ভবত মৃত। অনেক চেষ্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু এই অংশটা একটুও নাড়াতে পারলো না। উপায় খুঁজে পাচ্ছে না কেউ।হঠাৎ উসমানের বন্ধু হাশিম কোথা থেকে বড় হাতুড়ি নিয়ে আসলো। উসমান হাতুড়ি নিজে নিয়ে একটু পাশে ভাঙা শুরু করলো। চারটা বাড়ি দিতেই নিচে থেকে একজন চিৎকার করে উঠলো। এক মহিলা বলছে তার বাচ্চার গায়ে এসে পড়ছে ছাদটা। জিজ্ঞেস করা হলো, বাচ্চাটা বেঁচে আছে কিনা? জবাবে মহিলা না বলল। তারপরও সে তার বাচ্চার গায়ে আচড় লাগতে দিবে না। কথা শুনে সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। এমন ভালবাসা মায়ের পক্ষেই সম্ভব। সবার চোখে অশ্রু কেউ আর সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু উপায় নেই মহিলাকে ও বাঁচাতে হবে আরও যারা আটকা পড়েছে তাদেরও। অবশেষে উসমান আবার হাতুড়ি চালানো শুরু করলো, আর ঐ পাশ থেকে মহিলার আর্তনাদ। মহিলা বারবার বলছিল, আমাকে এখানেই থাকতে দাও, তারপরও আমার কলিজার টুকরাকে আঘাত করো না। কিছুক্ষণ পরে দু'জনকে উদ্ধার করা হলো। বাচ্চাটাকে যখন বের করে যখন উসমান কোলে নেয় বাচ্চার পুরো শরীর সাদা কিন্তু মাঝখানে থেতলানো। বাচ্চার মা বের হওয়া মাত্র বাচ্চাকে কোলে নিয়ে চিৎকার শুরু করে দিলো। সেই এক ভয়ানক গগনবিদারী চিৎকার। যার শব্দ আশেপাশের পরিবেশকেও অশ্রু ঝরাতে বাধ্য করছে। উসমানের চোখে পানি, এরকম দৃশ্য সে আগে দেখে নি। উসমান, সে অন্য জর্ডানে দশ বছর ধরে আছে পড়াশুনার জন্য। দেশে মাঝে মাঝে আসতো বাবা-মার সাথে দেখা করতে। কিন্তু এবার এসে সে আর ফিরে যেতে পারলো না। তারপর
গতমাস থেকে এরকম হামলা শুরু হয়েছে। ঐমাসের শুরুতে ইসরায়লী সৈন্য গাজার কাছাকাছি অঞ্চল দখল করেছে, এখন তাদের মনোযগ গাজার প্রতি। হামলা শুরুর ৩ দিন আগে উসমান বাসায় ছুটিতে। বাবা-মার সাথে দেখা করতে। ছয় মাস পর ছেলেকে পেয়ে তার বাবা-মা অনেক খুশি ছিল। হামলার দিন উসমান বাজারে যায়, রাতে তাদের খাওয়া-দাওয়ার বিশেষ আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। উসমান যখন অনেক দেখেশুনে খুশি মনে বাজার করছিল তখন বিকট শব্দে ৩টা যুদ্ধবিমান চোখের পলকে ৪/৫ টা বোমা ফেলে চলে যায়। উসমান তাকিয়ে দেখে তার বাসার ঐ দিক থেকেই ধোয়া উঠতে শুরু করছে। সে সব বাজার ফেলে দৌড় দেয়। যেয়ে দেখে সব শেষ, তার বাড়ির ধ্বংস স্তুপ দেখা যাচ্ছে। সে তার বাবা-মা কে খুজতে লাগলো। অনেক খুড়াখুড়ির পর পাওয়া গেল তার বাবা-মাকে। হাত-পা দেহ থেকে আলাদা হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। এদৃশ্য সে সহ্য করতে পারছিল না, বার বার অজ্ঞান হয়ে পরছিল। কিছু সময় পর তাদের শরীরের অংশ গুলো এক সাথে আনলো। কিভাবে সে লাশ ধুবে কিভাবে আর সে গুলো খাটিয়ায় রাখবে। ঝরঝর করে চোখ বেয়ে পানি পরছিল তার। এমুহূর্তে দুনিয়ার সবচেয়ে দুঃখী মানুষ সে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখে এদিক সেদিক লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কারো হাত নেই তো কারো পা, কেউ লাশ নিয়ে দৌরাচ্ছে তো কেউ আহত হয়ে কাতরাচ্ছে। ভয়ানক হৃদয় বিদারক এক পরিস্থিতি। এরপর সে তার বাবা-মার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করলো। সে আর জর্ডানে ফিরে যাবে না সিদ্ধান্ত নিলো। কার জন্য সে যাবে, তার নিজ পিতা-মাতাই শেষ, তার দেশ আজ কাফেরদের কবলে, সে কিভাবে ফিরে যাবে এসব ছেড়ে। আজ আবার এসব ভাবতে ছিল তখন তার বন্ধু হাশিম তার কাধে হাত দিয়ে তার জন্য আনা খাবার দিলো। হাশিম তার বাবা-মাকে হারিয়েছে সে যখন খুব ছোট। তারা থাকতো জেরুজালেমের কাছে। তারপর ওখান থেকে চলে আসে এখানে। উসমান ও হাশিম এখন একসাথে থাকে।
পরদিন সকাল ১০ টা তারা দূরে এক বাজারে এসেছে। কিছু কাজ করে টাকা আয় করে ফিরে যাবে। ভালোই আয় হয়েছে, এতে কয়েক দিন চলে যাবে। তারা যখন বাসা থেকে কয়েক মাইল দূর তখন ঐএলাকায় আবার ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান কয়েকটা বোমা ফেলে মুহূর্তের মধ্যে চলে যায়। তারা বাসায় না গিয়ে বিধ্বস্ত জায়গায় উদ্ধার করতে যায়। উসমান ও হাশিম অনেক চেষ্টা চালিয়ে উদ্ধার করছে লোকদের। একসময় উসমান ধ্বংস স্তুপের ভিতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় এক তরুনীকে উদ্ধার করে। সারাশরীর বালি, সিমেন্ট দিয়ে সাদা হয়ে আছে। মাথায় আর পায়ে আঘাত পেয়েছে, রক্ত ঝরছে সেখান থেকে। তাড়াতাড়ি সে তাকে স্ট্রেচারে করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেল। ডাক্তার দেখবে ঠিক এমন সময় মেয়েটির হুশ আসলো এবং সে যখন দেখলো এক পুরুষ ডাক্তার তাকে দেখবে সে চিৎকার করে উঠে বলল যে, তাকে যেন কোন মহিলা ডাক্তারই চিকিৎসা করে। উসমান পাশেই ছিল তখনো, সে খানিকটা অবাক হয়ে গেল যে, এমন সময় কেউ এমন করে? অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও মেয়ে যখন মানে না, উসমান তখন সারা হাসপাতাল খুজে এক মহিলা ডাক্তার খুজে নিয়ে আসলো। তখনই মেয়েটি চিকিৎসা করতে দিলো। উসমানের রাগ হলো এ অবস্থাতে। সে আবার উদ্ধার করতে চলে গেল। তারপর
উসমান বাসায় এসে আজ ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা চিন্তা করতে লাগলো যে, মেয়েটা কেন এরকম জেদ করলো, ওর কি মাথায় সমস্যা হয়েছে নাকি অন্য কিছু। উসমান এমনিতে যুবক তার উপর আবার মেয়েটিও যুবতী, তো স্বাভাবিক ভাবেই আকর্ষনটা বয়সের কারণেই। রাতে আর উসমানের ভালভাবে ঘুম হলো না। বন্ধু হাশিমকেও ঘটনা এখনো জানায় নি। পরদিন সকালে উঠে উসমান ও তার বন্ধু কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। পথিমধ্যে সেই হাসপাতাল পরলো যেখানে সে গতকাল মেয়েটিকে রেখে এসেছিল। উসমান ভাবলো মেয়েটার একটু খোজ নেওয়া যাক আর তা ছাড়া গতকালের আচরণের ব্যাপারেও জিজ্ঞেস করবে ভেবে নিলো। বন্ধু হাশিমকে একটু পরে কাজে যাবে বলে উসমান বাজার থেকে কিছু ফল কিনে হাসপাতালে ঢুকে গেল। হাসপাতাল মানুষের ভীড়ে পা ফেলানো মুশকিল। লাশগুলো পাশাপাশি না বরং স্তুপ আকারে একটার উপর আরেকটা, এভাবে রাখা আছে। রক্তের গন্ধে স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়া দুষ্কর। কত শত ছোট ছেলে-মেয়ে শরীরের এখানে সেখানে ব্যান্ডেজ লেগে ব্যথায় চিৎকার করছে। অনেক ভীড় ঠেলে সে মেয়ের কাছে পৌছায়। বলে, উসমান: আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন? মেয়ে: ওয়ালাইকুম সালাম, আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভাল। আপনি কে? ( বিরক্তি ভাব নিয়ে) উসমান: চেনেন নি, তাই তো। মেয়ে: ওহ, হ্যাঁ। কাল আপনিই তো ডাক্তার এনে দিলেন। উসমান: শুধু কি ডাক্তার? কাল ধ্বংস স্তুপ থেকে হাসপাতাল পর্যন্তও আমিই এনেছিলাম। মেয়ে: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম বদলা দান করুক। উসমান: আপনার অবস্থা কি এখন? মেয়ে: তেমন কিছু না, কয়েকটা সেলাই পড়েছে, আর ব্যথা পেয়েছি এই যা। আমার বাবা-মার কি অবস্থা একটু জানাবেন? এখানকার কেউ বলতে পারলো না। উসমান: আচ্ছা দেখছি। তার আগে বলেন কাল আপনি ওভাবে আচরণ করছিলেন কেন? মেয়ে: আসলে আমার বাবা একজন আলেম। আমাদের পরিবারের সবাই পর্দা মেনে চলে। পরপুরুষের হাত তো দূরে তাদের সামনেও আমরা যাই না। উসমান: ওহ, আচ্ছা।(অবাক হয়ে)। আপনার আর কিছু লাগবে? মেয়ে: না, শুধু খোজটা নিয়ে জানান। উসমান: আর কিছু লাগলে বলবেন, টাকা না হয় পরে ফেরত দিয়েন। মেয়ে: আচ্ছা, তাহলে নিকাবসহ বোরকার ব্যবস্থা করলে ভাল হয়। এখানে সবাই তো পরপুরুষ। উসমান: ঠিক আছে।( অবাক হয়ে) উসমান বের হয়ে ভাবে একোন যুগের মেয়ে, যে এভাবে পর্দা মানে। সে তো খাবার, ওষুধ চাইতে পারতো। উসমান ভাবছে এরকম ধার্মিক মেয়েদের কথা সে শুনেছে কিন্তু দেখেনি। উসমান যেখানে পড়াশুনা করে, সেখানে দেশ বিদেশের অনেকে পড়াশুনা করে। অধিকাংশ মুসলিম হলেও তাদের আচরণে পাশ্চাত্যের অনেক প্রভাব আছে। তাদের দেখে বোঝা মুশকিল কে কোন ধর্মের। উসমান প্রথমে তাদের বাড়ির আশেপাশে খবর নেয়, জানতে পারে মেয়ের বাবা-মা সবাই মারা গিয়েছে, লাশ হাসপাতালে আছে। উসমান হাসপাতালে যাওয়ার সময় মার্কেট থেকে বোরকা কিনে নেয়। হাসপাতালে যেয়ে মেয়েকে জানাতেই মেয়েটি কান্না শুরু করে দেয়। উসমান ভেবে পায় না কিভাবে সান্তনা দিবে, কারণ সে জানে বাবা-মা হারানোর কষ্ট। অনেক সময়পর মেয়েকে বলে যে, তাদের দাফন কাফনের ব্যবস্থা করতে হবে। বন্ধু হাশিমকে ফোন দেয়, সব ঠিক করার জন্য। ঐদিন সন্ধ্যায় লাশগুলোর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করে। তারপর
মেয়েটাকে হাসপাতালে রেখে সে দিনের মতো উসমান বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে আবার রাতের ঘুম হাওয়া। বার বার মেয়েটার অসহায়ত্বের কথা মনে আসছিল উসমানের। বন্ধু হাশিমকে বিষয়টা জানালো। হাশিম সাহায্য করার জন্য সমর্থন দিলো। পরদিন উসমান হাসপাতালে দেখা করতে যায়। মেয়েটা জানায় হাসপাতাল থেকে আজই চলে যেতে হবে, কারণ অনেক রোগীর ভীড়। তার চেয়ে গুরুতর আহত রোগীরা হাসপাতালের বারান্দায়, ছাদে আহতাবস্থা নিয়ে কাতরাচ্ছে। উসমান বলে, উসমান: আপনি কিছু মনে না করলে আমার বাসায় থাকতে পারেন। মেয়ে: আপনাকে কেন কষ্ট দিবো? উসমান: তাহলে কোথায় যাবেন? মেয়ে: এশহরের শেষে আমার আত্মীয় আছে। ওখানে যাবো। উসমান: এঅবস্থায় কিভাবে যাবেন, একটু সুস্থ হয়ে নিন আমি আপনাকে দিয়ে আসবো। মেয়ে: আপনি আর কত কষ্ট করবেন? তাছাড়া.... উসমান: আমি পরপুরুষ এই তো? আসলে আমি আপনাকে আমার দ্বীনি বোন হিসেবে উপকার করছি। আর আপনি এক আলেমের মেয়ে আপনার খোদমত করে আমি বরং তাকে খেদমত করার সৌভাগ্য হারাতে চাই না। মেয়ে: ঠিক আছে। তারপর মেয়েকে হাসপাতাল থেকে তার বাসায় নিয়ে যায়। বাসার সামনে যেয়ে অবাক হয়। বাসাটিতে বোমা হামলা হয়েছে। পাঁচতলা ভবন ভেঙে তিনতলা হয়ে আছে। ভবনটি ভিতরে ঢোকার জন্য সিঁড়ি নেই, আছে ছাদ থেকে ভেঙে পরা কিছু অংশ যা একটার পর একটা পরে স্তুপ হয়ে সিঁড়ির মতো হয়ে আছে। মেয়েটা যখন অবাক হয়ে দেখছিলো, তখন উসমান বলে উঠলো, উসমান: ভয় পাবার কিছু নেই থাকার ব্যবস্থা মোটামুটি ভাল আছে। আর ভেঙে পড়ার ভয় নেই, আমরা ভালভাবেই দেখেছি। আপনাকে একটু কষ্ট করতে হবে। মেয়ে: নাহ, সমস্যা নেই। আপনার নাম তোজানা হয় নি। উসমান: আমি উসমান। আপনি? মেয়ে: আমি লাবিবা। লাবিবা বিনতে নুমাইয়ের। উসমান লাবিবাকে থাকার ঘর দেখালো। ঘরটা মোটামুটি ভালোই আছে।বোমার আঘাত এখানে লাগে নি। ঘরের সামনে পিছনে কাঠ দিয়ে ছাদগুলোকে ধরে রাখা হয়েছে যা ভেঙে পরার আশংকা কম। ঘরের সামনেই শৌচাগারটটা ঠিক আছে আর রান্না ঘরটা অর্ধেক ভেঙে আছে, তবে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেখা যাচ্ছে। লাবিবা বলে উঠলো, লাবিবা: আপনি কোথায় থাকবেন? উসমান: আমি পাশেই ভাঙা একটা ঘর আছে ওখানে থাকবো। লাবিবা: আপনাকে কষ্ট দিয়েই যাচ্ছি। উসমান: হ্যাঁ, আপনি এসব বলেই কষ্ট দিচ্ছি। আমি আর হাশিম বাইরের এই ঘরটাতেই বেশি থাকি। এখান থেকে রাতে চাঁদের আলো দেখি আর নিজেদের অতীত নিয়ে আলোচনা করি। লাবিবা: ওহ। সুন্দর তো। উসমান: ঠিক আছে, আমাকে কাজে যেতে হবে। এরপর উসমান কাজে চলে যায়। রাতে তারা ফিরে আসে খাবার নিয়ে। যখন লাবিবাকে ডাক দেয় তখন বাহিরে থেকে শুনতে পায় মেয়েটা দোআ করছে সাথে কান্না করছে। ডাক শুনে কান্না কিছুটা থামে। দরজা খুলে, উসমান: ওহ। আপনার ইবাদতে সমস্যা করলাম মনে হয়। লাবিবা: না, শেষই করছি ঐসময়ে আপনি এসেছেন। উসমান: এই যে খাবার, আপনি খেয়ে নিন। লাবিবা: আপনারা খাবেন না? উসমান: আমরা খেয়ে নিয়েছি। খাবারের পর।লাবিবা বিদায় জানাতে এসে জিজ্ঞেস করে, লাবিাবা: আপনি ছোট থেকেই এখানে থাকেন? উসমান: জন্ম এখানে কিন্তু পড়াশুনার জন্য জর্দানে থাকতাম। লাবিবা এখন কি করবেন, জিজ্ঞেস করলে উসমান তার ঘটনা পর্যাক্রমে বলতে থাকে। আর বলে এখানেই থেকে যাবে আজীবন। লাবিবা:এখানে মসজিদ কোথায়? উসমান: মসজিদ তো বোমার আঘাতে ভেঙে গেছে, আর একটা মসজিদ এখান থেকে খানিকটা দূরে হয়। লাবিবা: আপনারা নামায কোথায় পড়েন? উসমান: আসলে ঠিকভাবে পড়া হয় না।( লজ্জিত কন্ঠে) লাবিবা: আহা! নামায না পড়লে এতো কষ্ট করে লাভ কি? আপনাদের আর ইহুদির মধ্যে পার্থক্য কি থাকলো? উসমান:....(চুপ) লাবিবা: আপনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন এ ঋণ তো শোধ হবার নয়। আমি আপনাকে দ্বীনি বোন হিসেবে বলবো যে নামায শুরু করেন। আমার আব্বাজানকে দেখেছি অনেক কঠিন অবস্থাতেও নামাযের ব্যাপারে তিনি কঠোর ছিলেন। উসমান: ইনশাল্লাহ্, চেষ্টা করবো। লাবিবা: আল্লাহ্‌ আপনার সহায় হোন। পরদিন সকালে উঠে উসমান ও হাশিম নামায পড়ে কাজে চলে যায়। এরপর
এরপর রাতে কাজ হতে ফিরে যথারীতি লাবিবাকে ডাক দিয়ে খাবার হাতে তুলে দেয়। খাবার শেষে লাবিবা বিদায় নিতে আসলে উসমান বলে, উসমান: এখন কেমন শরীর আপনার? লাবিবা: সেটাই আপনাকে জানাতে এসেছি। আমি মোটামুটি সুস্থ। কাল চলে যেতে চাই। যাওয়ার কথা শুনতেই উসমানের বুকটা ধক করে উঠলো। এমন তো হওয়ার কথা না। যার যাওয়া সে তো যাবেই। নিজেকে সামলে বলল, উসমান: ওহ। ঠিক আছে আপনাকে দিয়ে আসবো। আর ভালোই হলো কাল থেকে আমিও অন্য কাজে যাচ্ছি, ফেরা না ফেরার ঠিক থাকবে না। লাবিবা: আচ্ছা। কি রকম কাজ? উসমান: আল্লাহ্‌'র রাস্তায় যুদ্ধ করতে যাচ্ছি। পূর্বদিক থেকে ইসরায়েল বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে, কাল থেকে আমরা বাধা দিবো। লাবিবা: তো আপনাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে কে? উসমান: কে আবার? আমরা নিজেরাই। লাবিবা: এটা যা করছেন তা আল্লাহ্‌'র জন্য না, এটা আপনারা নিজেদের পরিবারের প্রতিশোধের জন্য। উসমান: তা কেন হবে? লাবিবা: তা নয়তো কি? যাদের দলে নেতৃত্ব কোন হক্বের পথের আলেম দেয় না। আপনারা নামায পাঁচ ওয়াক্ত ঠিক ভাবে পরেন না, মুখে দাঁড়ি নেই, পরনের কাপড়ও সুন্নত অনুযায়ী না। যেখানে নিজের উপর যুদ্ধ করতে পারেন নি যেখানে ইসরায়েলের উপর কিভাবে যুদ্ধ করবেন? ভেবে দেখেছেন? উসমান: আসলে..... লাবিবা: যদি আল্লাহ্‌'র জন্যই যুদ্ধ হতো তাহলে শুধু বাধা না বরং ইসরায়েলদের এই পবিত্র ভূমি থেমে বিতাড়িত করার ইচ্ছা রাখতেন। যেখানে মুসলিমদের প্রথম কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস আজ ইসরায়েলদের দখলে, যেখানে শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে লোকজনকে হত্যা, নির্যাতন করা হয় সেখানে শুধু নিজের প্রতিশোধের কথা কখনোই ভাবতেন না। উসমান:..... (চুপ হয়ে) লাবিবা: আমি আলেমের ঘরের মেয়ে আমার বড় ভাই গতবছর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি কোন কাল্পনিক কথা বলি না। আপনারা রাত গান শুনে, তাশ খেলে কাটিয়ে দেন আমার জানা আছে। এভাবে যুদ্ধ হয়? আল্লাহ্'র সাহায্য পাওয়া ছাড়া ইতিহাস বলে কোন মুসলিম জিততে পারে নি।কয়েকটা ইট, পাথর আর আগুন মারলেই কি ওরা পিছু হটবে? যুদ্ধ হবে? কাকে ঠকাচ্ছেন? একটু বসে ঠান্ডা মাথায় ভাবুন, আমি গেলাম ঘুমাতে। উসমান যেন বাকহীন হয়ে গেছে। এক পাও নড়তে পারছে না। চোখের পাতা যেন বন্ধ হওয়া ভুলে গেছে। কথাগুলো যেন রেডিওর মতো বারবার কানে বাজছে। একটা কথাও ফেলার নয়। সে ভাবছে, একেমন মুসলিম সে যে, আল্লাহ্‌ কে ডাকা ভুলে গেছে। অথচ সাহায্যকারী একমাত্র তিনিই। সে সিদ্ধান্ত নিলো এভাবে সে ময়দানে যাবে না, পূর্ণপ্রস্তুতি নিয়েই সে যাবে। এরপর ভাবছে লাবিবা কাল চলে যাবে। কেমন এক মায়া জন্মেছে তার প্রতি। তার প্রত্যেক কথা তাকে ভাবিয়ে তোলে। একয়েক দিনে তার অনেক পরিবর্তন মেয়েটি করেছে। ইসলাম সমন্ধে জ্ঞান মেয়েটার গভীর। এখন যে ভাবে পথ দেখালো সারাজীবন যদি পথ দেখাতো। পরিবার হারার পর সে মানসিক ভাবে অশান্তিতে ছিল এমেয়ে যেন তার সেই শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছিল। এখন সে যদি চলে যায় সে আবার অসহায় হয়ে পরবে। কিন্তু তাকে আটকে রাখাও তো যাবে না। তার মতো ছন্নছাড়া লোককে কেন বিয়ে করবে? ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে পরেছে।ফযরের সময় উঠে নামায পরে আল্লাহ্‌'র কাছে সাহায্য চাইলো। পরে সকাল হলো লাবিবাকে নিয়ে রওনা হলো। পথিমধ্যে অনেকবার বলতে চাইলো তার মনের কথা, কিন্তু অজানা বাধা তাকে আটকে দিচ্ছিলো। একসময় লাবিবার আত্মীয়র বাসা এসে গেল। লাবিবা: এসে গেছি। আপনাকে আল্লাহ্‌ উত্তম প্রতিদান দান করুক। আপনার টাকা আমি জোগাতে পারলেই দিয়ে আসবো। আল্লাহ্'র উপর ভরসা করেই সিদ্ধান্ত নিবেন। আসি। আসসালামু আলাইকুম। উসমান: আপনার যখন প্রয়োজন হবে আমাকে স্মরণ করবেন, ইনশাল্লাহ সাহায্য করবো। ঠিক আছে। ওয়ালাইকুম সালাম। উসমানের মনে হচ্ছে কি যেন বড় জিনিস সে হারিয়ে ফেলছে। দম আটকে আসছে, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। এরকম কষ্ট সে আগে কখনো অনুভূত হয় নি তার। পরিবার মারা গেলে কষ্ট হয়েছে।কিন্তু তা তো মৃত মানুষের জন্য, জীবিত মানুষের জন্য এরকম কষ্ট এই প্রথম। তারপর
ঐদিনের পর থেকে উসমান ও তার বন্ধু হাশিমকে তাদের বাড়িতে দেখা যায় নি। অপরদিকে লাবিবারও বার বার উসমানের কথা মনে হতে লাগলো যে, কত সহজেই ছেলেটা নিঃস্বার্থ ভাবে তাকে সাহায্য করে গেল, না ছিল পরিচিতি না ছিল টাকা ফেরত দেওয়ার কোন নিশ্চয়তা। উপরন্ত তার নিজেরই টাকার অভাব। দ্বীন মানার আগ্রহ ও আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধা যেন এক অপার বৈশিষ্ট্য হোক না সে এখন মানছে না, কিন্তু বুঝালেই সে বুঝবে তা সে দেখেছে। কোন তর্ক ছাড়াই উসমান তার সব কথা শুনতো। নাহ! এরকম কেন হচ্ছে লাবিবার। এক অপরিচিত পুরুষকে নিয়ে কেন ভাবছে সে? হয়তো আর কোনদিন দেখাও হবে না তার। এদিকে অনেক বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে তার জন্য কিন্তু সে রাজী হয় না। আবার তার আত্নীয়রাও তাকে বেশিদিন রাখতে চাচ্ছে না। এক এতীম অসহায় নারীর দ্বায়িত্ব কে বা নিতে চায়। ফলাফল কিছুদিন পর লাবিবাকে বের হয়ে যেতে বলে। সেও বের হয়ে যায়। এরপর লাবিবারও কোন খোঁজ নাই।
দীর্ঘ ৩ মাস পর উসমান লাবিবার সেই আত্নীয়র বাসায় যায়, অনেক সাহস নিয়ে দরজায় কড়া নাড়ে, এই দিকে মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নেয় সে। দরজা খুলে এগিয়ে আসে এক মহিলা।।লাবিবার কথা জিজ্ঞেস করলে জানায় সে ২ মাস আগে চলে গেছে। কোথায় গেছে মহিলাটি জানে না। হতাশ হয়ে উসমান সেখান থেকে ফিরে আসে। এখানে সে কোথায় খুঁজবে তাকে এ ধ্বংস স্তূপে ভেবে পায় না। হাশিমকে জানালে মুখের শান্তনা ছাড়া কিছুই পায় না। দুই বন্ধু আবার ফিরে যায় তাদের পুরনো বাসায়। ২ দিন যাওয়ার পর শুনতে পায় তাদের পাশের এলাকাতে আবার ইসরায়েল বাহিনী বোমা হামলা শুরু করেছে। তারা দৌড়ে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে, এবার তারা আগের তুলনায় বেশি দক্ষ, সাহসী এবং পরিশ্রমী। কয়েকজন জীবিত উদ্ধারের পর এক শিশুকে উদ্ধার করলো। শিশুটিকে দেখার পর সবার চোখে পানি, কেউ কেউ চিৎকার শুরু করে। কার সন্তান কে নিবে, কারণ তাকে চেনা যাচ্ছে না, যাবেই বা কি করে শিশুটির মাথা বোমার আঘাতে উড়ে গেছে। আহ! কি মর্মান্তিক দৃশ্য। এক লোক পরনের কাপড় দেখে চিনে ফেলে তার সন্তান। বুকে নিয়ে সে কি কান্না। কান্নার শব্দে আকাশ-বাতাস মনে হয় দুমড়ে পরছে। আরেক জন শিশু উদ্ধার হয়েছে যার রক্তক্ষরণ হচ্ছে কিন্তু নেওয়ার মতো কেউ নেই হয়তো তার বাবা-মা মারা গেছে। উসমান নিজেই নিয়ে ছুটে চলল হাসপাতালের দিকে। এটা সেই হাসপাতাল যেখানে সে লাবিবাকে এনেছিল ৩ মাস আগে। শিশু বিভাগে যেতেই নার্সরা সব এগিয়ে এসেছে চিকিৎসার জন্য। পিছন থেকে একজনের আওয়াজ শুনে উসমানের বুকে ধক করে উঠলো। পিছনে ঘুরে দেখে সেই লাবিবা, মুখে নিকাব দিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছে শিশুটির জন্য। উসমানের যেন খুশির আর শেষ নেই। দেখে এখানেও মেয়েটা সবাইকে হুকুম করছে, বুঝিয়ে দিচ্ছে। লাবিবা উসমানকে চিনতে পারে নি। অবশ্য না চেনারও কারণ আছে।ডাক্তার আসলে ডাক্তারকে সহযোগিতা করছে লাবিবা।উসমান একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ ডাক্তার বলল বি পজেটিভ রক্তলাগবে, নার্সরা বলল, এমুহূর্তে এগ্রুপের রক্ত নেই। এরপর
রক্তের গ্রুপ শোনার পর উসমান বলে উঠলো যে, তারও একই গ্রুপ। এতক্ষণে লাবিবা তার দিকে তাকালো, কিন্তু বুঝে উঠলো না। উসমান যখন রক্ত দেওয়া শুরু করলো, তখন একপর্যায়ে লাবিবা এসে রক্তের প্রবাহ দেখতে লাগলো। জিজ্ঞেস করলো, লাবিবা: আপনার নাম কি? উসমান: নামে আর কি আছে, পুরো মানুষই যখন সামনে। লাবিবা: কিছু বললেন? উসমান: নাহ! পরিচয় খুঁজছি পাইলে জানাবো( মুখে রহস্যময় হাসি) উসমানের রহস্যময় কথা শুনে লাবিবা উসমানকে আপাদমস্তক দেখে নিলো যে, গালে সুন্দর দাঁড়ি পরনে সুন্দর কাল পাঞ্জাবী তার উপর কালচে রঙের কোটি আর মাথায় কাল পাগড়ি আফগানদের মতো বেধে রেখেছে। চেহারায় যেন প্রশান্তির এক নূর চকচক করছে। লাবিবার এখন বুঝতে বাকি নেই এ যে সেই উসমান। লাবিবার চোখের কিনারায় পানি এসে গেছে, যে কোন মুহূর্তে বাধ ভেঙে যাবে। লাবিবা কিছু বলতে যাবে সে মুহূর্তে উসমান বলে উঠলো, উসমান: যোহরের সময় হয়েছে নামাযে যেতে হবে। লাবিবা: এইমাত্র রক্ত দিলেন একটু আরাম করে যান। উসমান: কেউ একজন নামাযের গুরুত্ব বুঝিয়েছিল তারপর থেকে আর ফাঁকি দেয় নি। (মুখে রহস্যময় হাসি) লাবিবা: সেই একজন আপনার জন্য অপেক্ষা করবে। উসমান: আসবো, তার জন্যেই এতদূর আসা। লাবিবার যেন খুশির সীমানা অতিক্রম করে যাচ্ছে। কখন দেখা হবে সে অপেক্ষায় সে চেয়ে থাকলো। দুপুর গড়িয়ে বিকাল, তারপর সন্ধ্যা উসমানের কোন খবর নেই। লাবিবার অনেক রাগ হলো, সে হাসপাতালের গেটে আসতেই দেখে উসমান দাঁড়িয়ে আছে। কাছে আসতেই লাবিবা বলে উঠলো, লাবিবা: এত দেরি? উসমান: সেই দুপুর থেকেই তো এখানে। লাবিবা: ভিতরে আসেন নি কেন? উসমান: আপনার দ্বায়িত্ব অবহেলা হতো, তাই। লাবিবা: আপনি অনেক দ্বায়িত্ববান হয়েছেন। উসমান: হুম। অনেক মূল্যবান কিছুকে দেখে শুনে রাখতে দ্বায়িত্ববান হতে হবে। লাবিবা: আপনি এতোদিন কোথায় ছিলেন? জানেন প্রত্যেক সপ্তাহে আপনার বাসায় যেতাম আপনার টাকা দিতে কিন্তু বারবার খালি ফিরে আসতাম। উসমান: যে পথ দেখে দিয়ে চলে গেলেন সেই পথেই হাঁটতে শিখতে গিয়েছিলাম। লাবিবা: মাশাল্লাহ্। আল্লাহ্‌ আপনাকে কবুল করুক। উসমান: আরেকটা বিষয়ে আমি কবুল চাচ্ছিলাম। লাবিবা: কোন বিষয়ে? ( লজ্জায় মাথা নিচু করে) উসমান: যেভাবে আপনি আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, জীবনের বাকিটুকু সময় আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবেন? লাবিবা:..... (মাথা নিচু) উসমান: কিছু তো জবাব দেন। লাবিবা: মেয়েরা কি সব বলে... কিছু বুঝে নিতে হয়।( মুচকি হেঁসে) উসমান: আলহামদুলিল্লাহ্‌। চলেন আজই বিয়ে করতে চাই, আপনার যদি মত থাকে। লাবিবা:.... (মাথা ঝুকিয়ে ইশারা করলো) উসমান: কিন্তু আপনাকে মোহরানা দেয়ার মতো তেমন কিছু নেই। লাবিবা: আমি সবসময় একজন মুজাহিদকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতাম, যা এখন আপনার বর্তমান অবস্থা। আমার আর কিছু চাই না, তাছাড়া আপনি আগেই অনেক কিছু দিয়েছেন তা না হয় মোহরানা ধরে নিলাম। উসমান: আল্লাহ্‌ আপনার সব নেক আশা কবুল করুক। তারপর উসমান হাশিমকে ডেকে কাছের এক স্থানীয় মসজিদে যেয়ে বিয়ে সম্পন্ন করে। বিয়ে শেষে এলাকার লোকজনের ভিতর খেজুর ছিটিয়ে দেয়। তারপর
এরপর আর কি? বিয়ে তো হয়েই গেল। আরো গল্প পড়বেন? ঠিক আছে। এরপর বিয়ের প্রথম রাত। কেমন এক সাদামাটা বিবাহ, নেই কোন আয়োজন, নেই কোন তথাকথিত অনুষ্ঠান, নেই কোন হই হুল্লোড়, নেই টাকা পয়সার কোন ঝামেলা। অথচ বিবাহতে বরকত হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই খুশি। প্রথম রাত যেহেতু তাই একটু বিশেষ আয়োজন থাকেই। তাদের দুজনের ইচ্ছা তারা তাদের যে ঘরটা আধা ভাঙা সেটাতে চাঁদ দেখতে দেখতে গল্প করে কাটাবে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত যে, সে দিন পূর্ণিমার রাত। আলাপ চলছে স্বামী-স্ত্রীর, স্বামী: আসুন, শুকরিয়া নামায আদায় করি। স্ত্রী: আগে আমার একটা শর্ত পূরণ করতে হবে। স্বামী: কি রকম? (কিছুটা ভয় পেয়ে) স্ত্রী: আপনি থেকে তুমিতে আসতে হবে (মুচকি হেসে) স্বামী: আসো। অতঃপর নামায শেষে দুজনে হাত তুলে আল্লাহ্'র কাছে।দোআ শুরু করলো। দোআ তে উসমান কেঁদে চোখ ভিজে যাচ্ছে, বারবার সে শুকরিয়া আদায় করছে যে, তাকে এত কিছু দিয়েছে আল্লাহ্, অথচ কিছুদিন পূর্বে সে হতাশায় দিন পার করতো। এদিকে লাবিবার অবস্থাও একই। মুনাজাত শেষে উসমান পাগড়ির কাপড় দিয়ে লাবিবার চোখ মুছে দিলো, লাবিবাও তার জামা দিয়ে উসমানের চোখ মুছে দিলো। এবার দু'জনের মুখেই প্রশান্তির হাসি। আলাপ শুরু হলো, স্বামী: রাতের এই নিরবতায় যখন পিনপতন নীরবতা, তখন পাশে আপনজনের উপস্থিতি যেন অন্ধকারকেও রঙিন তুলেছে। স্ত্রী: আসলে এভাবে প্রশান্তি এর আগে মনে হয় নি। বাবা চলে যাওয়ার পর সবসময় মনে হতো আজ কি হবে? কালকেই বা কি ভাবে কাটাবো? আজ মনে হচ্ছে কাল যা হবার হবে, আমার আল্লাহ্‌ আছে তুমি আছো। উসমান: তোমার কি চাওয়ার আছে বল, কিছুই দিতে পারলাম না। বেশি কি দিতে পারবো তাও জানি না, তবে আপ্রাণ চেষ্টা করবো তোমাকে খুশি করার। স্ত্রী: আমার অনেক গুলো মুজাহিদ সন্তান দরকার। (লজ্জায় মুখ লুকিয়ে) স্বামী: হ্যাঁ, অবশ্যই এই পবিত্র ভূমিকে এই জালিম কাফেরদের হাত থেকে রক্ষা করতেই হবে। আমি না পারি আমার সন্তানরা যেন মুক্ত করতে পারে। এমন মুহূর্তে তাদের মাথার উপর দিয়ে দুটো বিমান শা শা শব্দে উড়ে গেল আর দূর থেকে বোমার আওয়াজ পাওয়া গেল। কিছুক্ষণ পর কার যেন পায়ের দৌড়ে আসার শব্দ। উসমান বের হয়ে দেখে।তার বন্ধু হাশিম এসে হাপাচ্ছে। হাশিম বলল যে, উত্তরে ইসরায়েল বাহিনী এগিয়ে আসছে তাদের আটকাতে হবে। উসমান বলল যে, পেট্রোল বোমা প্রস্তুত করতে। লাবিবাকে বলল, স্বামী: শুনছো? আমাকে এখনই যেতে হবে। স্ত্রী: এখনই? (অভিমান করে) স্বামী: এভাবে বলো না। বলো তাড়াতাড়ি যাও। শোন তুমি একজন মুজাহিদের স্ত্রী, তুমি আমাদের বিজয়ের জন্য দুআ করবা। স্ত্রী: মাফ করে দাও, আসলে আবেগে পরে গিয়েছিলাম। যাও, আল্লাহ্ তোমার সহায় হউক। আসসালামু আলাইকুম। স্বামী: ভালো থেকো, ধৈর্য্য ধরো। ওয়ালাইকুম সালাম। উসমান ও হাশিম বিদায় নিলো। পরদিনও কোন খবর নেই। লাবিবা অনেকের কাছে শুনেছে অনেক ভয়ানক যুদ্ধ হচ্ছে। ইসরায়েল বাহিনী এগিয়ে যেতে পারছে না। লাবিবা শুনে অনেক খুশি কিন্তু মনে উসমানের জন্য চিন্তাও হচ্ছে। তার পরদিন ভোর বেলা কে যেন দরজায় কড়া নাড়ে, জিজ্ঞেস করলে উসমান খুলতে বলে। লাবিবা উসমানকে দেখে তার বুকে পরে কান্না শুরু করলে উসমান বলে, স্বামী: তোমার এভাবে কাঁদলে চলবে না। তোমাকে শক্ত হতে হবে। আমি ফিরে নাও আসতে পারতাম।তোমার আমাকে আল্লাহ্‌'র রাস্তায় কুরবানি করার মানসিকতা রাখতে হবে। অসহায় শিশু, মানুষদের হত্যা করছে আর আমরা আরামে সুখের সংসার করতে পারি না। স্ত্রী: মাফ করে দাও শত চেষ্টা করেও মনকে আটকাতে পারি নি। আচ্ছা, ঐদিকের কি খবর। স্বামী: খবর ভালো। ওরা এগিয়ে যেতে পারে নি বরং পিছন ফিরতে শুরু করার পর যখন দেখছে অনেক ক্ষতি তাদের হয়েছে তখন যুদ্ধ বিরতি চুক্তি করলো। স্ত্রী: আলহামদুলিল্লাহ্‌, এতো অনেক ভালো খবর। স্বামী: তা বটে, কিন্তু ওরা চুক্তি ভঙ্গ করবে আমরা তাও জানি, এজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। যাক আমরা কিছুদিন একসাথে কাটাতে পারবো। শুরু হলো তাদের সুখের সংসার। সকালে উসমান কাজে যায় রাতে ফিরে আসে। ভালোই চলছিল, হঠাৎ একদিন উসমান বলল যে, স্বামী: শুনছো? স্ত্রী: হ্যাঁ গো শুনছি। তোমার কথা শোনার জন্যই সারাক্ষণ কান সচেতন থাকে। স্বামী: খুশির সংবাদ, আমাকে ময়দানে যেতে হবে। স্ত্রী: আলহামদুলিল্লাহ্‌ ( চোখে পানি) স্বামী: কান্না করো না, আরে তুমিই তো আমার প্রেরণা তোমার জন্যই আজ এ পথে। স্ত্রী: না এ তো খুশির কান্না। স্বামী: শোন পাগলি, ভালো ভাবে বিদায় দাও। শোন কখনো পিছনে তাকাবে না, আমার সন্তানগুলোকে সাহসী বানাবে, বায়তুল মোকাদ্দস জয় করতে হবে। ইশ! যদি তাদের দেখে যেতে পারতাম। আর আমি ফিরে না আসলে ভয় নেই, তবুও দেখা হবে জান্নাতে। আল্লাহ্‌'র কাছে তোমাকেই চাইবো। স্ত্রী: আল্লাহ্‌ আমাদের কবুল করুক। উসমান চলে যায়। ৩ মাস পর উসমানের লাশ আসে লাবিবার কাছে। এ যেন সাধারণ লাশ না। তিন দিন আগে মারা গেলেও একটু পচন ধরে নি। না, কোন বরফেও রাখা ছিল না। শহীদ তো একেই বলে চেহারায় হাস্যোজ্জল ভাব যেন এখনই কথা বলবে। লাবিবা কেঁদে উঠে এবং পেটে হাত রেখে বলে তোর বাবা তো জান্নাতের যাত্রী হয়ে গেল। হয়তো জান্নাতে তাদের দেখা হবে....

                        কাছে আসার গল্প-০৩

ভোর থেকেই আকাশ কাদঁছে কারণ কাল মেঘ তাকে ঢেকে রেখেছে। চারদিকের পরিবেশ অনেক ঠান্ডা। ঘুমের জন্য উপযুক্ত সময়।কিন্তু কি করা,যেতে তো হবেই, প্রথম ক্লাস বলে কথা। ভার্সিটির বাসে করে যাওয়া যাবে না। নতুনদের নাকি যাওয়া নিষেধ। এদিকে অটো রিক্সা গুলোও দেখা যাচ্ছে না। নতুন ছাত্রী হওয়াতে লেডিস হলে জায়গা নাই, যা দেশের বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর সাধারণ চিত্র। হঠাৎ এক অটো রিক্সার আগমন। কিন্তু রাস্তার অপর পাশে একটা ছেলের ঐদিক থেকে আসার জন্য ছেলেটি আগে ডাক দিয়েছে অটোকে। এই দিক মেয়েটিও ডাকা শুরু করলো। ছেলেটির কাছে অটো যেয়ে থামলো। মেয়েটি আবার হতাশ এযেন প্রচন্ড গরমে পানি পান করতে গিয়ে পানির গ্লাস পরে যাওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু একি রিক্সাটি ঐপাশে থেকে এপাশে পার হয়ে আসলো। রিক্সাওয়ালা বলল যে, আপনার জন্য আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। মেয়েটি খুশি হয়ে ধন্যবাদ দিবে কিন্তু সেটার কোন উপায় নেই, একে তো বৃষ্টি তারপর রাস্তার ওপার। যাই হোক ক্লাসের দেরি হয়ে যাবে দেখে মেয়ে রওনা দিল। ক্লাসে যেয়ে মেয়েটির ভালোই লাগছে। নতুন ক্লাস সবার সাথে শিক্ষক পরিচিত হচ্ছে, সবার ভাল লাগছে। ইতিমধ্যে ২০মিনিট পার হয়ে গেছে, স্যার বিভিন্ন বিষয়ে পরিচিত করাচ্ছে এমন সময় এক ছেলের আগমন। সবার চোখ সামনের দরজার দিকে, এক কাক ভেজা ছেলে দাঁড়িয়ে অনুমতি চাইছে ক্লাসে ঢোকার জন্য। কাপর থেকে পানি টুপ টুপ করে পড়ছে। সাধারণ পোষাক- শার্ট,প্যান্ট। কিন্তু প্যান্টটা পায়ের গোড়ালি থেকে এক ইঞ্চি উপরে। থুতনিতে ছোট ছোট দাঁড়ি, মনে হয় দাঁড়ি ঠিকভাবে ওঠেই নি। স্যার অনুমতি দিলে সে ভেতরে ঢুকে একদম শেষে বসে পড়লো। সবার পরিচয় জানা শেষ শুধু ছেলেটাই বাকি, তাই তাকে দাড়িয়ে পরিচয় দিতে বলল। সে জানালো তার নাম ওমর মুখতার বাসা শাহ জালালের দেশ সিলেটে। স্যার জিজ্ঞেস করলো ওমর মুখতার কে জানো? সে বলল যে, "হ্যাঁ, ইতালি বিদ্রোহের এক মুসলিম নেতা যে, গর্ব ভরে মৃত্যুদন্ড মেনে নিয়েছিল। পড়াশুনা কোথায় করেছে জানতে চাইলে সে জানালো, প্রথমে কওমী মাদ্রাসা থেকে হাফেজী পাশ করে তারপর স্কুলে ভর্তি হয়েছিল। মেয়েটি এটুকু শোনার পর একটু চমকেই উঠলো যে, ছেলেটি মাদ্রাসা থেকে পড়েছে, হাফেজ হয়েছে এ বিষয়টি তাকে ভাবাই নি কারণ সে জানে না হাফেজ কিভাবে হয়। ছেলেটিকে আরেক বার দেখে নিল যে ছেলেটি ইসলামধর্ম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়েছে। প্রথম দিন এইভাবেই পরিচয় পর্বেই কেটে গেল।
তারপর কিছুদিন এভাবেই চলছে। এরই মধ্যে এক স্যার ক্লাস নেওয়ার সময় যে মুসলিম, হিন্দু বাদে অন্য ধর্মের কেউ আছে কিনা। তখন মেয়েটি দাড়ায় এবং নাম বলে রেশমী। ছেলেটি তখন কৌতুহল নিয়ে প্রথমবার মেয়েটির দিকে তাকায়। এর কিছুদিন পর তাদের অনুষদের পরিচিতি অনুষ্ঠান(Orientation Program) হয়। মেয়েটি অনুষ্ঠান দেখতে যায়। অনুষ্ঠান শেষে অডিটোরিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ চেয়ারের সাথে পা লেগে পড়ে যায়। উঠে কাপড় পরিষ্কার করতে বেসিনে যায়। ফিরে আসতে একটু দেরি হওয়াতে দেখে তার বান্ধবীগুলো সবাই চলে গেছে। তখন সে পড়ল বিপদে, ৯টা বাজে এতো রাতে সে একা যাবে কিভাবে। তেমন কোন বড় আপুও পরিচিত হয় নি তার যে লেডিস হলে থাকবে। খুব দুঃশ্চিন্তায় সময় কাটছে, এ সময় দেখে রাস্তার অপর পাশে অটো রিক্সা ডাকছে যাওয়ার জন্য, ভিতরে দেখে সেই হাফেজ ছেলেটি। সে ভয় পায়, ইতোপূর্বে তার গীর্জার পাদ্রীর কাছে শুনেছে যে মুসলিমরা ভাল হয় না। তারা মেয়েদের দেখে সুযোগ নিতে চায়। কিন্তু উপায় তো দেখছে না, পরিচিত বলতে সেই ছেলেটাই। যা হবার দেখা যাবে বলে অটোতে উঠতে গেল। তাকে দেখে ছেলেটা নেমে সামনে বসতে যাবে ঠিক তখনই আরেক জন সামনে উঠে গেল। সেও কোন উপায় না পেয়ে পিছনে তার বামপাশে বসে এতো চেপে থাকলো যে তাদের দুজনের মাঝে মনে হয় অদৃশ্য কেউ বসে আছে। অটো চলতে শুরু করলো আর মেয়েটা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে তার উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করলো। অনেকক্ষণ লক্ষ্য করে মেয়েটা অবাক হয়ে গেল। সে ভাবলো, সাধারণত কাউকে কাছে থেকে অনেকক্ষণ লক্ষ্য করলে বিষয়টা অন্যজন বুঝতে পারে। কিন্তু এছেলে তো ফিরেও তাকালো না, তার মতো যুবতী সুন্দরী মেয়ে যে কোন ছেলের পাশে বসলে তারা ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকে আর কথা বলার চেষ্টা করে এর আগে সে এগুলো বিষয় উপলদ্ধি করেছে। এছেলে একেবারে ব্যতিক্রম, গন্তব্য এসে গেল তবুও একটি কথাও বলল না, আপন মনে সে মুখ দিয়ে সারা রাস্তা আস্তে আস্তে কি যেন পড়ছিল।অটো থেকে নেমে দুজনে যার যার ভাড়া দিয়ে দিলো। রাস্তা থেকে একটু দূরে মেস হওয়াতে মেয়ে যেতে ভয় পেল, এদিকে আবার সন্ধ্যার পর লোকজন কম হয়ে যায়। ছেলেটিকে ভাল মনে হলো বিধায় সে তার কাছে সাহায্য চাইবে ভাবলো। মেয়ে: এই যে শুনুন, আমার মেসটা একটু দূরে রাতও অনেক, একটু এগিয়ে দিলে অনেক উপকার হতো। ছেলে: (একটু ভেবে) ঠিক আছে। মেয়ে আগে আগে ছেলে পিছে পিছে। মেসের সামনে যেয়ে দরজা দিয়ে ঢুকতেই মনে পড়লো ছেলেটাকে ধন্যবাদ দেওয়ার কথা। পিছনে তাকাতেই দেখে ছেলেটি নিঃশব্দে হেঁটে যাচ্ছে। কাছে গিয়ে মেয়েটি বলল, মেয়ে: এই যে, আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দিবো। ছেলে: না ঠিক আছে। আমি মুসলিম হিসেবে একজন বিপদগ্রস্থের সাহায্য করেছি শুধু। মেয়ে: তারপরও আমার জন্য অনেক কষ্ট করলেন। ছেলে: নাহ! এটা আমি আমার আল্লাহ্‌'র জন্য করেছি। মেয়ে: আমি এর প্রতিদান কিভাবে যে দিবো? ছেলে: প্রতিদান আমি আল্লাহ্‌'র কাছে থেকে নিবো। ভালো কাজের প্রতিদান তিনি অবশ্যই দিয়ে থাকেন। মেয়ে: ঠিক আছে। ধন্যবাদ।
এরপর রুমে এসে মেয়ের চোখের ঘুম উধাও। ছেলের কথাগুলো তার মনের গভীরে গেঁথে গেছে। সৃষ্টিকর্তার উপর কিভাবে মানুষ এতোটা বিশ্বাস করতে পারে মেয়েটা ভেবে পায় না। ছেলেটার কথার যে সত্যতা আছে তা বলার ভাবভঙ্গির মধ্যে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। তার মনে জাগলো সেদিন বৃষ্টির সময় হয়তো এই ছেলেই সাহায্য করেছিল। বিছানার এপাশ ওপাশ হচ্ছে কিন্তু মাথাতে তার কথাগুলো ভেসে আসছে। আবার তার সাথে কথা বলার ইচ্ছা হচ্ছে। পরদিন ক্লাসের ফাকে।ছেলেটির কাছে যেয়ে জিজ্ঞেস করলো, মেয়ে: হ্যালো, ভাল আছো? ছেলে: (কিছুটা চমকে উঠে) হ্যাঁ, ভালো। মেয়ে: পরিচয় হই, আমি রেশমী ছেলে: আমি ওমর মুখতার মেয়ে: তুমি নাকি হাফেজ? এর মানে কি? ছেলে: হ্যাঁ, আমাদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন শরীফ যে মুখস্থ করে তাদের হাফেজ বলে। মেয়ে: পুরোটাই মুখস্থ? (আশ্চার্য হয়ে) ছেলে: হ্যাঁ, এটা শুধু কুরআনের ক্ষেত্রেই সম্ভব। পৃথিবীতে এমন কোন লোক দেখাতে পারবে না যে, কোন বই পুরোটাই মুখস্থ করতে পারে। মেয়ে: বিষয়টা কোনদিন ভাবি নি তো।আচ্ছা, ক্লাসের প্রথম দিন কি তুমিই বৃষ্টির মধ্যে আমার দিকে অটো রিক্সা পাঠিয়েছিলে? ছেলে: মনে হয়। মেয়ে: তুমিও তো আসতে পারতে, অযথা কেন বৃষ্টিতে ভিজতে গেছ? ছেলে: একটা মেয়ে বৃষ্টিতে দাড়িয়ে থাকবে আর আমি চলে যাবো বিষয়টা ভালো লাগে নি। আর আমি মেয়েদের সাথে যাতায়াত করি না। মেয়ে: সেদিন অটোতে যাওয়ার সময় তুমি কি যেন পড়ছিলে? ছেলে: ওহ! দোআ পড়ছিলাম। মেয়ে: কেন? ছেলে: সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করার জন্য। মেয়ে: আমি তোমার ধর্ম সমন্ধে জানতে চাই। আমি এর আগে মুসলমানদের সম্পর্কে যা শুনেছি তার থেকে তুমি ব্যতিক্রম। ছেলে: এটা তো আমার জন্য অনেক বড় আমল যে আমি তোমাকে ইসলাম সমন্ধে বলতে পারবো। ঠিক আছে আমি তোমাকে কাল কিছু বই দিবো। মেয়ে: ঠিক আছে।
এরপর রুমে এসে মেয়ের চোখের ঘুম উধাও। ছেলের কথাগুলো তার মনের গভীরে গেঁথে গেছে। সৃষ্টিকর্তার উপর কিভাবে মানুষ এতোটা বিশ্বাস করতে পারে মেয়েটা ভেবে পায় না। ছেলেটার কথার যে সত্যতা আছে তা বলার ভাবভঙ্গির মধ্যে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। তার মনে জাগলো সেদিন বৃষ্টির সময় হয়তো এই ছেলেই সাহায্য করেছিল। বিছানার এপাশ ওপাশ হচ্ছে কিন্তু মাথাতে তার কথাগুলো ভেসে আসছে। আবার তার সাথে কথা বলার ইচ্ছা হচ্ছে। পরদিন ক্লাসের ফাকে।ছেলেটির কাছে যেয়ে জিজ্ঞেস করলো, মেয়ে: হ্যালো, ভাল আছো? ছেলে: (কিছুটা চমকে উঠে) হ্যাঁ, ভালো। মেয়ে: পরিচয় হই, আমি রেশমী ছেলে: আমি ওমর মুখতার মেয়ে: তুমি নাকি হাফেজ? এর মানে কি? ছেলে: হ্যাঁ, আমাদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন শরীফ যে মুখস্থ করে তাদের হাফেজ বলে। মেয়ে: পুরোটাই মুখস্থ? (আশ্চার্য হয়ে) ছেলে: হ্যাঁ, এটা শুধু কুরআনের ক্ষেত্রেই সম্ভব। পৃথিবীতে এমন কোন লোক দেখাতে পারবে না যে, কোন বই পুরোটাই মুখস্থ করতে পারে। মেয়ে: বিষয়টা কোনদিন ভাবি নি তো।আচ্ছা, ক্লাসের প্রথম দিন কি তুমিই বৃষ্টির মধ্যে আমার দিকে অটো রিক্সা পাঠিয়েছিলে? ছেলে: মনে হয়। মেয়ে: তুমিও তো আসতে পারতে, অযথা কেন বৃষ্টিতে ভিজতে গেছ? ছেলে: একটা মেয়ে বৃষ্টিতে দাড়িয়ে থাকবে আর আমি চলে যাবো বিষয়টা ভালো লাগে নি। আর আমি মেয়েদের সাথে যাতায়াত করি না। মেয়ে: সেদিন অটোতে যাওয়ার সময় তুমি কি যেন পড়ছিলে? ছেলে: ওহ! দোআ পড়ছিলাম। মেয়ে: কেন? ছেলে: সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করার জন্য। মেয়ে: আমি তোমার ধর্ম সমন্ধে জানতে চাই। আমি এর আগে মুসলমানদের সম্পর্কে যা শুনেছি তার থেকে তুমি ব্যতিক্রম। ছেলে: এটা তো আমার জন্য অনেক বড় আমল যে আমি তোমাকে ইসলাম সমন্ধে বলতে পারবো। ঠিক আছে আমি তোমাকে কাল কিছু বই দিবো। মেয়ে: ঠিক আছে।
পরদিন ছেলেটি মেয়ের জন্য দুটি বই নিয়ে আসে। ছেলে: এই যে তোমার জন্য দুটি বই এনেছি। একটি মুফতি যুবায়ের আহমেদের লেখা "আলকুরআনে যীশু ও খৃস্টধর্ম" ও আরেকটি ড.মরিস বুকাইলির লেখা "বাইবেল,কুরআন ও বিজ্ঞান" ইনি আবার মুসলিম হয়েছিলেন। প্রাথমিক অবস্থায় এগুলো পড়, ভালো লাগলে আরও এনে দিবো। মেয়ে: ধন্যবাদ। কত দিতে হবে বইয়ের দাম? ছেলে: নাহ! বইয়ের দাম নিবো না। এর বিনিময় তো আমি আল্লাহ্‌'র কাছে নিবো। মেয়ে: আমি আগে শুনেছি ইসলামধর্ম নাকি ভূয়া কারণ তারা যীশুকে মানে না। ছেলে: কি বলো। আমরা তো তোমাদের চাইতে যীশুকে বেশী মানি। আমাদের পবিত্র কুরআনে সূরা মরিয়ম নামে আলাদা অধ্যায় আছে। যেটা তোমার বাইবেলেও নাই। মেয়ে: কিন্তু তোমরা যীশুর ক্রাইস্ট মানো না। ছেলে: আচ্ছা তুমি এমনি যুক্তিতে বুঝতে চেষ্টা কর, এক সৃষ্টিকর্তা কিভাবে তার পুত্রের হত্যা হতে দেখে কিছুই করতে পারলো না। আর ট্রিনিটি তত্ত্ব তোমাদের ধর্মগুরুরাও ঠিক মতো বোঝে না। মেয়ে: আসলে আমি ধর্ম নিয়ে কোনদিন ভাবি নি। তোমার সাথে সাক্ষাতের পর থেকে আমাকে বিষয়টা ভাবিয়ে তুলেছে। ছেলে: ঠিক আছে বই দুটো ভালো ভাবে পড়ে আমাকে জানাইও। মেয়ে: ঠিক আছে।
এরপর ছেলেটি বাসায় যেয়ে চিন্তা করতে লাগলো যে একজন বিধর্মী মেয়ে শুধু হাফেজ হওয়াতে আমাকে ধার্মিক মনে করলো, তাহলে বাহিরের সুন্নতগুলো আদায় করলে তাকে আরও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব হতো। সে নিজের উপর আফসোস করতে লাগলো, "ইশ! যদি পোশকটা আমার সুন্নতি হতো, আমার চলাফেরা যদি সুন্নতি হতো, তাহলে আরও দশজনকে দাওয়াত দেয়া সহজ হতো। এজন্যই বোধহয় সুন্নতগুলোর এতো দাম। নবী(স) দাওয়াতের জন্য কত কষ্ট, নির্যাতন সহ্য করেছিল আর আমি সামান্য সুন্নতই আদায় করতে পারবো না? আমাকে পারতেই হবে। মেয়েটা সত্য খোঁজার কত চেষ্টা করছে, আর আমি সত্য ধর্ম পেয়েও অবহেলায় জীবন পার করছি।" এরপর সে চিন্তা করলো তার যেহেতু জ্ঞান কম, এজন্য একজন ভালো আলেমের কাছে যেতে হবে। মুফতি যুবায়ের আহমেদ এবিষয়ে অনেক ভালো একজন আলেম, কিন্তু তার কাছে যাওয়া একটু কঠিন। এজন্য সে স্থানীয় কওমী মাদ্রাসার মুহাদ্দিসের কাছে গিয়ে বিষয়টা খোলামেলা আলোচনা করলো। আলেম তাকে অনেক পরামর্শ নিলো যে, তাকে খুশি মনে ইসলাম জানতে দিতে হবে, তাড়াহুরা করা যাবে না কারণ সে মেয়ে মানুষ আর বেশি বেশি দুআ করতে হবে তার জন্য। এরপর ছেলেটা তার জন্য বেশি বেশি দুআ শুরু করলো এবং নিজে সুন্নতের জন্য পাবন্দি করলো। এরপর থেকে সে ক্লাসে টুপি ও পাঞ্জাবী পরে যাওয়া শুরু করলো। একদিন তার বন্ধুরা ক্লাসে বসে সেই খৃস্টান মেয়েকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করছিল তখন সে বলল, ছেলে: তোরা মেয়েটিকে নিয়ে কেন খারাপ কথা বলতেছিস? ১ম বন্ধু: মেয়েটা তো খৃস্টান ছেলে: খৃস্টান হয়েছে তো কি হয়েছে? মেয়ে তো তারও তো ইজ্জত আব্রুর আছে। ২য় বন্ধু: সব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাস কেন? ছেলে: দেখ আমার তোর ধর্ম কখনো অনুমতি দেয় না যে, মেয়ে জাতিকে নিয়ে অসম্মান করা, সে আত্মীয় হোক অথবা বিধর্মী হোক। এরপর বন্ধুরা থেমে যায়। কিন্তু এখানে একটা ঘটনা ঘটে যায়। মেয়েটা ছেলের পিছনে দাড়িয়ে সব শুনে চলে যায়, ছেলের প্রতি সম্মান আরও বেড়ে যায়। পরদিন ছেলেটা ক্লাসে বসে ছিল এমন সময় মেয়েটা এসে বলল, মেয়ে: আসসালামু আলাইকুম। ছেলে:( চমকে উঠে) ওয়ালাইকুম। মেয়ে: তোমরা এভাবেই সালাম দাও না?(হেসে) ছেলে: হ্যাঁ(হতভম্ব হয়ে) মেয়ে: তোমার দেয়া বই দুটো যতই পড়েছি ততোই অবাক হয়েছি। কুরআন এতটা নির্ভুল কিভাবে হয়, অথচ আমাদের বাইবেলের অনেক সংশোধন, সংযোজন হয়েছে। ছেলে: কুরআন পৃথিবীর বুকে এমন এক কিতাব যার শুরুতেই বলা হয়েছে যে, এ কিতাবে কোন সন্দেহ নেই। মেয়ে: যীশুর ব্যাপারেও অনেক সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ দেয়া আছে যা বাইবেলে নেই। আমাদেরকে আমাদের পাদ্রীরা ভুল বলেছে। আমি এই প্রশ্নের উত্তর চাইবো তাদের কাছে থেকে। ছেলে: তারা বেঁচে থাকা পর্যন্ত সে সবের উত্তর দিতে পারবে না। মেয়ে: আমি আমার বাবা-মাকেও বলবো। ছেলে: সাবধানে বলো এবং যুক্তি সহকারে। মেয়ে: তুমি হয়তো জানো না যে, আমি ও আমার পরিবার ধর্মকর্ম থেকে অনেক দূরে। আসলে আমি ধর্মের প্রতি টান কখনো অনুভব করি নি যতটা এখন করছি। আমি কাল বাসায় যাবো এবং এসব বিষয়ের একটা বিহিত করবো। ছেলে: ঠিক আছে। অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাইবে যাতে তোমার পথ সহজ হয়। মেয়ে: (অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে) ঠিক আছে। মেয়েটার চোখ যেন অনেক কিছু বলতে চাচ্ছিল কিন্তু পারলো না।
এরপর ছেলেটা খৃস্টান মিশনারিজদের অপতৎপরতা নিয়ে খুঁজতে গিয়ে অনেক ভয়ঙ্কর তথ্য পেল। সে দুঃশ্চিন্তায় পড়লো মেয়েটাকে নিয়ে যে, কি করছে, কেমন আছে, বিপদে পড়লো, নাকি হাল ছেড়ে দিলো। অথচ মেয়েটার সাথে তার কোন সম্পর্কও নাই, তার উপর অন্য ধর্মের। ধর্মান্তরিত হলেও কি বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব? এসমাজ তার নিয়মের বাহিরে যেতে দিবে? গত এক সপ্তাহে তাদের দুজনের কোন যোগাযোগ হয় নি। ছেলেটি নিয়মিত মেয়েটির হেদায়েতের জন্য দুআ করে যাচ্ছে। তারপর একদিন ছেলেটি ক্লাসে বসে অপলক দৃষ্টিতে বাহিরে তাকিয়ে আছে, হঠাৎ সেই কন্ঠের সালাম, মেয়ে: আসসালামু আলাইকুম। ছেলে: ওয়ালাইকুম সা.... (বলতে যেয়ে থেমে গেল) সে দেখলো এক বোরকা পরিহিত মেয়ে দাড়িয়ে আছে যার কন্ঠ সেই মেয়েটির মতো, মেয়ে: কি, আমাকে চেনা যাচ্ছে? ছেলে: হ্যা মানে, না মানে.....(হতভম্ব হয়ে) মেয়ে: হ্যা, আমিই রেশমী। গত একসপ্তাহ আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমি নিজেকে চিন্তে পেরেছি। আমি আমার রবের দেখা পেয়েছি। ছেলে: এরচেয়ে খুশির ব্যাপার আর কি হতে পারে যে, এক সৃষ্টি তার স্রষ্টাককে পেয়েছে। কি ঘটলো এ কদিনে একটু বলো, তোমার জন্য আমার অনেক চিন্তা হচ্ছিল। মেয়ে: তুমি আমার চিন্তা করেছো?(খুশি হয়ে) শোন তাহলে, আমি বাসায় গিয়ে যা জানতে পারলাম তা আমি কোনদিন কল্পনাও করতে পারি নি। আমার দাদা মুসলিম ছিল। তিনি খৃস্টানদের কবলে পড়ে, খৃস্টান মিশনারিজরা তাকে ঋণ দেয় এবং সময়ের আগেই তা চেয়ে বসে। ঋণের পরিমান বেশি ছিল বলে দাদার পক্ষে দেয়া সম্ভব হলো না, সময় পর্যন্তও অপেক্ষা করলো না আর বলছিল যে, পথ একটাই যে তার দাদা যদি খৃস্টান হয় তাহলে ঋণ শুধু মাফই না উপরোন্ত আরও টাকা দেয়া হবে। সে সময় তাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না। ছেলে: আমিও এই রকম অনেক ঘটনা জানতে পেরেছি। মেয়ে: আমার বাবা বলল যে, আমরা যে খৃস্টান পাড়ায় থাকি তা আগে ছিল না, আমার বাবা যখন ছোট তখন থেকে এপাড়ার লোকজন খৃস্টান হওয়া শুরু করে। আমার বাবাও মুসলমান হতে চাইতো আগে থেকেই কিন্তু অন্য কোথাও যাওয়া আর মাকে বিয়ে করার পর আর সুযোগ পায় নি।আমার আগ্রহ দেখে বাবা-মা দুজনেও সাহস পাচ্ছে।কিন্তু তাদের ভয় ঘটনা জানাজানি হলে বিপদ হতে পারে। ছেলে: তুমি পাদ্রী মানে ফাদারের কাছে জিজ্ঞেস করো নি? মেয়ে: ফাদারকে পাই নি, কিন্তু আমার ওখানকার এক বান্ধবী মিশনারিজদের সাথে কাজ করে, তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। সে কোন উত্তর দিতে পারে বরং সে ইসলাম জানতে আগ্রহী হয়, আর আমি তাকে তোমার দেয়া বই দুটি দিয়ে এসেছি। সে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে কয়েকদিনের মধ্যেই ২৫-৩০জন মুসলমানকে খৃস্টান বানানোর জন্য কাজ করছে, ঢাকা থেকে ফাদার আসলেই কাজ সম্পন্ন করবে। সে এও জানালো তাদের এই মিশনারিজের কাজের টাকা ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আসে। ছেলে: ব্যাপারগুলো বেশ ভয়ানক। এরপর ক্লাসে স্যার চলে আসলে তারা আর ঐদিন কথা বলতে পারে না।
ছেলেটি সেই দিনই তার আলেমের কাছে গেল এবং পরামর্শ করলো বিষয়টা নিয়ে। পরদিন ক্লাস শেষে মেয়ের সাথে দেখা হলো, মেয়ে: আসসলামু আলাইকুম। ছেলে: ওয়ালাইকুম। মেয়ে: মুসলিম হতে গেলে কি করতে হয়? ছেলে: আমি জানতাম তুমি এই প্রশ্ন করবে তাই আগেই ব্যবস্থা করে রেখেছি। চল আমার সাথে। মেয়ে নিশ্চিন্ত, যে নিয়ে যাচ্ছে তাকে সে নিজের চাইতেও বেশি বিশ্বাস করে। ছেলে মেয়েটাকে সরাসরি আলেমের কাছে নিয়ে যায়। আলেম তাকে বলে যে, তুমি তো আগেই মুসলিম হয়েছ যখন তোমার বিশ্বাস আল্লাহ্‌ ও তার নবী(স) এর প্রতি এনেছিলে। এরপর মেয়ে কলেমা পড়ে মুসলিম হয়ে গেল। কিন্তু আলেম তাকে তার মুসলিম হওয়ার বিষয়টি কাউকে প্রকাশ করতে নিষেধ করলো। মেয়ে তো হতবাক, কারণ সে সাহস নিয়েই একাজ করছে যাতে দুনিয়ার মানুষদের মোকাবেলা করতে পারে। তখন আলেম বলল, আলেম: আমরা চাচ্ছি যে, যে সব সহজ সরল মানুষদের ধোকা দিয়ে মিশনারিজরা খৃস্টান বানাতে চাচ্ছে সে সব লোকদের বাঁচাতে। মেয়ে: আমরা তাহলে প্রশাসনকে জানাতে পারি। আলেম: জানাবো তো বটেই। কিন্তু আমরা চাচ্ছি প্রমাণসহ হাতে নাতে ধরতে। আগে ধরলে ওরা মিথ্যা বলতে পারে। মেয়ে: বলুন আমাকে কি করতে হবে, ইসলামের খেদমতে প্রাণ দিতেও প্রস্তুত। আলেম:মাশাল্লাহ। আল্লাহ্‌ তোমাকে কবুল করুক মা। আজই ইসলামের ছায়াতলে আসলে আর আজই তোমাকে কঠিন কাজ দেয়া হচ্ছে, আসলে এসব আমাদেরই ব্যর্থতা যে মুসলিম দেশে আজ মুসলিমরাই ষড়যন্ত্রের শিকার। তোমাকে একটু গুপ্তচর হতে হবে। মেয়ে: এতো আমার সৌভাগ্য যে আমি কিছু করতে পারবো। আমাকে বুঝিয়ে দিন। আলেম: তুমি আজই তোমার বাসায় চলে যাও এবং ওখানে তোমার বান্ধবীর সাথে যোগাযোগ করে দেখ যে, তারা কবে অনুষ্ঠানটি করতে চাচ্ছে। তুমি কখনো বলো না যে তুমি মুসলিম হয়েছ, এমনকি তোমার বাবা-মাকেও না। এদিকে আমরাও প্রশাসনকে জানিয়ে রাখবো। তুমি খবর দেয়া মাত্রই আমরা হাজির হবো। মেয়ে: ঠিক আছে, আমি পরবো ইনশাল্লাহ্ আলেম: কিন্তু ধরা পরলে বিপদ হতে পারে, তাই সাবধানে থেকো। মেয়ে: সমস্যা নাই, আল্লাহ্‌ আমার সাথে আছে। আলেম: যাও, ফিআমানিল্লাহ্ এরপর ছেলেটি মেয়েকে নিয়ে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এগিয়ে দেয় এবং বলে, ছেলে: কোন ভয় করবে না, আল্লাহ্ তোমার সাথে আছে। তোমাকে এত বিপদে ফেলতে আমার মোটেই ভাল লাগছে না, আমার অনেক চিন্তা হচ্ছে। মেয়ে: চিন্তা করো না, আল্লাহ্‌ সব ভালোই করবেন। ছেলে: হ্যাঁ, ভয় পাবে না, আমি তোমার কোন ক্ষতি হতে দিবো না। মেয়ে: তুমি আমার জন্য ভেবেছো এটাই আমার কাছে অনেক বড়। আসি, আসসালামু আলাইকুম ছেলে: ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্ মেয়ে: এর আগেও তোমাকে সালাম দিয়েছি কখনো তো এত বড় জবাব পাই নি। ছেলে: এর আগে তুমি ছিলে খৃস্টান তাই। মেয়ের চোখে পানি ছলচল করছে, এমন অবস্থায় বিদায় নিচ্ছে। মেয়ে দেখছে ছেলেটা একবারও চোখ তুলে তাকায় নি, তাকাবেই বা কেন, তাদের ভিতর কোন সম্পর্ক যে নেই। মেয়ের বারবার মনে হচ্ছে এমন যদি কোন দিন আসতো যখন ছেলেটা তার চোখে চোখ রেখে কথা বলে যাবে আর চোখগুলো পলক ফেলতে ভুলে যাবে। ভাবতে থাকে মেয়ের মন আর চলতে থাকে গাড়ির চাকা। ছেলেটিও নিজের বাসায় চলে গেল এবং বাবা-মার সামনে মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরলো। তার বাবা-মাও খুশি ছেলের কাজে। ছেলেটি তাদের সামনে মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। বাবা-মা প্রথমে রাজি হয় নি। পরে ছেলে বলল যে, একটা মেয়ে মুসলিম হতে কি পরিমান কষ্ট, সাহস করেছে, তার তুলনায় আমরা ইসলামের জন্য কি করি? তার মোটামোটি বাবা-মা ধার্মিক হওয়ার কারণে বিষয়টা বুঝে নেয় ওও মেনে নেয়। ছেলে বিষয়টা মেয়েকে জানায় না। এদিকে মেয়েটা পরিকল্পনা মতো তার বান্ধবীর সাথে কথা বলে কখন কি হবে শুনে নেয় ও বিভিন্ন দিক নজর রাখতে থাকে। কিন্তু মিশনারিজদের এক লোক আবার দুই মেয়ের একসাথে ঘোরাঘুরি লক্ষ্য করে।পরে লোকটা রেশমীর বান্ধবীর বাসায় যেয়ে খুঁজে সেই বই দুটো পায়। যখন জিজ্ঞেস করে কে দিয়েছে, প্রথমে মেয়েটা অস্বীকার করে পরে বিভিন্ন নির্যাতন শুরু করলে বলে দেয় রেশমীর নাম। লোকটি তার দলবল নিয়ে রেশমীর বাড়িতে হানা দেয়। রেশমীকে বের করে এনে বন্দি করে রাখে। তারা রেশমীর ব্যাপারে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যে, হয় পাচার করে দিবে না হয় গুম করে হত্যা করবে। কিন্তু আগামী পরশু অনুষ্ঠান হবে বিধায় তাকে বন্দি অবস্থায় রাখে। এদিকে দুইদিন পার হয়ে গেলেও ফোন আসে না বিধায় ছেলেটিও দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেল। সে ভেবে অস্থির যে, মেয়েটার ক্ষতি হলো কি না। আরো চিন্তা হচ্ছে যে, তাড়াহুরাতে মেয়েকে ফোন নম্বর দেয়ও নি, তার ফোন নম্বর নেয়ও নি। ছেলেটি নামাজে দাড়িয়ে গেল এবং শেষে দোআ করতে লাগলো।
এদিকে রেশমীকে বন্দি করে রাখা হয়েছে তার এলাকা থেকে একটু দূরে। রেশমীর বান্ধবী বিভিন্ন ছলে মিশনারিজদের কাছে থেকে রেশমীর ঠিকানা জেনে নেয়। তারপর সে ওখানে পৌঁছে দেখে ঘরটা তালা দেয়া। তখন সে জানালা খুঁজে সেখানে টোকা দেয়। রেশমী ভিতরে কান্না করে করে দুআ করতেছিল, সে শব্দ শুনে জানালার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলে তার বান্ধবী জবাব দেয়। তখন রেশমী একটা মোবাইল দিতে বলে, তার বান্ধবী মোবাইল দিলে সে ছেলেটাকে ফোন দেয়।ফোন এক বার বাজতেই ছেলেটা ফোন ধরে, ছেলে: তোমার কিছু হয় নি তো? তুমি কোথায়? মেয়ে: আমার ফোনের আশাতেই ছিলা? আমি ধরা পরে গেছি। ছেলে: আজ ২দিন যাবত ফোনটা হাতে নিয়ে বসে আছি যাতে ফোনে আমাকে পেতে তোমার সমস্যা না হয়। তুমি এখন কোথায়? আমরা সবাই প্রস্তুত, তুমি শুধু জায়গার নাম বলো। মেয়ে: আমার কথা পরে, আজই বিকেল ৪ টায় তাদের অনুষ্ঠান আমাদের পাড়ার গীর্জাতেই হবে। তুমি পুলিশসহ চলে এসো। ছেলে: তা না হয় বুঝলাম, কিন্তু তুমি কোথায়? আমার তোমাকে দরকার আগে। মেয়ে: আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না, ওদের ধরার পর আমার বান্ধবী তোমাকে বলে দিবে আমাকে কোথায় আনা হয়েছে। আর কথা বলতে পারবো না কেউ এসে যেতে পারে, ভালো থেকো। ছেলে: থামো। শোন। রেশমী!! ফোন কেটে গেছে। ছেলে আর এক মুহূর্তও দেরি করলো না। সে প্রশাসন ও কয়েকজন আলেম নিয়ে রওনা দিলো। প্রশাসন যেয়ে তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলল ও প্রতারণার সত্যতা পেল। সেই মুসলিম লোকগুলোকে তওবা করানো হলো এবং এলাকায় জানিয়ে দেওয়া হলো যে, খৃস্টান মিশনারিজদের ধরা হয়েছ আপনারা চাইলেই সবাই মুসলিম হতে পারেন। তখন সবাই মুসলিম হয়ে গেল। এদিকে ছেলে কয়েকজন পুলিশসহ রেশমীর বান্ধবীকে নিয়ে রেশমীর বন্দিশালার দিকে রওনা দেয়। পুলিশ তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে রেশমীকে অচেতন অবস্থায় পায়। ঐমুহূর্তেই তাকে হাসপাতাল নেওয়া হলে জানা যায় কয়েকদিন না খাওয়ার কারণে সে অজ্ঞান হয়েছিল। জ্ঞান ফিরলে তার বাবা-মাকে সামনে দেখতে পায়। তারা মেয়েকে সম্পূর্ণ ঘটনা বলে এবং সাথে এটাও বলে তাদের পাড়ার নতুন নাম হয়েছে মুসলিম পাড়া। মেয়েটির চোখ ভিজে ওঠে এবং ঠোঁট 'আলহাদুলিল্লাহ' বলে ওঠে।মেয়ে বারবার দরজার দিকে তাকায়, যেন কারও আসার অপেক্ষা করছে। মেয়ে তার মাকে ছেলের কথা জিজ্ঞাস করলে বলে যে, তাকে রেখে জরুরী কাজে বাহিরে গেছে। পরদিনও যখন ছেলে আসলো না, তখন ভাবতে লাগলো যে আর হয়তো দেখা হবে না তাদের। একজন নওমুসলিমকে হয়তো সে ও তার সমাজ মেনে নিবে না। চোখ জোড়া দিয়ে পানি গড়িয়ে গড়িয়ে পরে বালিশ ভিজতে শুরু হলো।
তারপরের দিন মেয়েকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়। পাড়ায় ঢুকতেই মেয়ে দেখে পাড়ার চিত্রই পাল্টে গেছে। চারদিকে বানারে সাজানো, যেন কোন উৎসব চলছে। আজ পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল, সংবর্ধনা ও গজল পরিবেশন হবে। মেয়ে তার বাসায় যেয়ে দেখে আরও এলাহী কান্ড, যেন কোন বিয়ের বাড়ি। বাচ্চারা খেলাধূলা করছে মহিলারা রান্নায় ব্যস্ত, বড়রা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এদিক থেকে সেদিক ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু তার যেন কিছুই ভাল লাগছে না। একদিক খুশি যে সবাই ইসলামের ছায়াতলে এসেছে, অপরদিকে ছেলেটার কথা ভাবছে যে একবারও তাকে দেখতে আসলো না। তার মা তাকে ঘরে যেয়ে আরাম করতে বলল আরও বলল একঘন্টা পর তৈরী হতে মেহমান আসবে। একঘন্টা পর বাহিরে গাড়ির শব্দ শোনা গেল ও বাচ্চারা"বর আসছে, বর আসছে" বলে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিয়েছে। মেয়ে ভাবছে আজ কিসের বিয়ে, এলাকায় তো মাহফিল। এমন সময় রেশমীর মা এসে বলল যে, বর এসে গেছে প্রস্তুত হয়ে নে। সে আরও একবার চমকে উঠল আর বলল যে, চেনে না জানে না এমন কাউকে বিয়ে করবে না, তারপর সে এখন মুসলিম। তার মা বলল যে, পাত্র পছন্দ হবে। মেয়ে নাছড়বান্দা, সে কোন ভাবেই বিয়ে করবে না। এরকম চেচামেচি শুনে ওমর রেশমীর ঘরে প্রবেশ করলো এবং তাকে দেখেই রেশমী আরও একবার চমকে উঠল। এই চমকে ওঠা আগের তুলনায় অনেক বেশি, সে একদিকে যেমন খুশি তাকে দেখে আরেক দিকে অনেক অভিমান নিয়ে বলল, মেয়ে: তুমি! এখানে কেন, কিভাবে আসলে? কি দেখতে আসছো বেঁচে আছি কিনা? ছেলে: উত্তেজিত হচ্ছো কেন? আর আমার বিয়েতে আমি আসবো না তো কি আমার ক্লাসের স্যার আসবে? মেয়ে: তোমার বিয়ে? কার সাথে?(উৎকন্ঠনিত গলায়) ছেলে: যার বাসায় এসেছি। মেয়ে: এটা তো আমার.... (লজ্জা পেয়ে, মাথা নিচু করে) ছেলে: কি, পাত্র পছন্দ হয়েছে? নাকি চলে যাবো? (মুচকি হেসে) মেয়ে:...... লজ্জায় মাথা তুলতে পারলো না। এরপর বিয়ে সম্পন্ন হলো। আসল ঘটনা হলো ওমর রেশমীকে হাসপাতালে দিয়ে আসার পর পুলিশের কাছে গিয়ে সব কাজ শেষ করেছিল। তারপর হাসপাতালে যেয়ে রেশমীর বাবা-মার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং তারাও খুশি মনে রাজী হয়ে যায়। তারপর দুজনের বাবা-মা বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করলে ওমর তার আলেমের পরামর্শে ঐদিনই মাহফিলের আয়োজন করে যাতে এলাকার লোকজনের ভিতরের ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত হয় এবং তাদের করণীয় কি বুঝতে পারে। শেষে তাদের হাতে এলাকাতে নতুন মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। ওয়াজ মাহফিলের শেষে ওমর ও রেশমী, স্বামী-স্ত্রী দুজনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাদের সাহসিকতার সাথে খৃস্টানদের প্রতারণাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার ঘটনা সবার সামনে তুলে ধরা হয়। সাথে সাথে তাদের বিয়েরও এলান করা হয় এবং খেজুর ছিটিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের প্রথম রাত্রি!!! রেশমীকে সাময়িক ভাবে ওমরের বাসায় আনা হয়েছে। ওমরের পড়াশুনা শেষ হলে একবারে তুলে আনা হবে শর্তে বিবাহ হয়। সব মেহমান চলে গেলে ওমর তার ঘরে ঢোকে যেখানে রেশমী তার জন্যে বধু সেজে বসে আছে। ঢোকার শুরুতেই সালাম দিয়ে ঢোকে, স্বামী: আসসলামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ্। স্ত্রী: ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্। স্ত্রী এসে স্বামীকে পায়ে সালাম করতে ধরলে স্বামী তার হাত ধরে ফেলে এবং বলে, স্বামী: তোমার স্থান পায়ে নয়, তুমি আমার রাজ্যের রাণী। আমার সব কিছুতে তোমারও সমপরিমান অধিকার আছে। এই নাও তোমার মোহরানা। স্ত্রী: মোহরানা কি? আর এতগুলো টাকা! স্বামী: ইসলামে স্ত্রী স্বামীর কাছে থেকে কিছু অর্থ পেয়ে থাকে যার মালিক শুধু সে নিজেই। স্ত্রী: আল্লাহ্ আমাকে কতগুলো নিয়ামত দিয়েছে। আচ্ছা আগে বলো হাসপাতালে আমাকে দেখতে যাও নি কেন? তোমার আসায় কত পথ চেয়ে ছিলাম। স্বামী: আমি গিয়েছিলাম তখন তুমি ঘুমিয়েছিলে। আর এসব আয়োজন করে তোমাকে চমকে দেয়াটাও আমার উদ্দেশ্য ছিল। স্ত্রী: ওরে পাজি। আর আমি ভাবছিলাম তোমার সাথে হয়তো আমার আর দেখা হবে না। স্বামী: আসো আমরা আগে এই রাতের সু্ন্নত হিসেবে নামায পড়ে নেই। নামায শেষে, স্বামী: তোমাকে একটা বিষয় জিজ্ঞাসা করার ছিল। মানে.... থাক। স্ত্রী: কি, যে আমি ভার্সিটিতে যাবো কি না? তুমি চাইলেও আমি আর ওখানে যাবো না। আমি আমার মতো মেয়েদের ইসলামের দাওয়াত দিয়ে যাবো। ভার্সিটিতে গিয়েছিলাম দুনিয়ার ভবিষ্যত গড়তে, এখন আমার ভবিষ্যত তো জান্নাত। স্বামী: মাশাআল্লাহ। এতটুকু সময়ে তোমাকে আল্লাহ্ অনেক বেশি ইসলামের বুঝ দিয়েছেন। চাও আমার কাছে তোমার কি চাওয়ার আছে। স্ত্রী: আমি জানি তুমি হাফেজ, আজ এই পবিত্র রাতে তোমার মুখে আল্লাহ্'র সেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত শুনাও যার শুধু কয়েকটা আয়াতের ব্যাখ্যাই আমাকে এতদূর এনেছে। স্বামী: তাহলে তোমাকে সেই সূরা শুনাবো যা আল্লাহ্‌ স্বয়ং নিজে জান্নাতবাসীদের শুনাবে। এরপর স্বামী সুন্দর কণ্ঠে সূরা আর-রহমান তেলাওয়াত করা শুরু করলো এবং স্ত্রী স্বামীর ঘাড়ে মাথা দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুনতে লাগলো।

Sunday, August 28, 2016

                        কাছে আসার গল্প-০২


গল্পের নায়ক HSC পাশ করে অনেক কষ্টে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়ার সুযোগ পায়। তার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে সে অনেক খুশি। পড়ার বিষয় যদিও প্রাণিবিদ্যা, তারপরও সে খুশি। কারণ স্কুল,কলেজে জীববিজ্ঞান বিষয়ের প্রতি সে বরাবরই ভাল ছিল, তাই ফর্ম পূরণে বিষয় পছন্দ সে ভাবেই করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর সবার মতো তারও মনে সাধ জাগলো যে, সে প্রম করবে। কিন্তু প্রেম কি হাতের মোয়া যে, চাইলেই করা যায়? কারও চেহারা সুন্দর তো কাজ কর্মে বান্দর, কারও চেহারা কালো তো আচরণে ভালো। এই দু'টোর সমন্বয় করা বড়ো মুশকিল। বন্ধুরা সবাই কাউকে না কাউকে জুটায়া ফেলছে। কিন্তু তার তো মেয়েই পছন্দ হয় না। দু'একটা পছন্দ হয়, সেগুলো আবার বড় আপু। আর অন্য বিভাগের গুলো পছন্দ হলে সে আবার আর দশ জনের মতো ছ্যাঁবলা না যে, আগে যেয়ে কথা বলবে। তার কলেজ বন্ধু গুলো সব চুটিয়ে প্রম করে যাচ্ছে, আর সে এখনও খুঁজেই যাচ্ছে। প্রতিদিন হতাশা নিয়ে ক্লাসে যায় আর আসে। কোনই উন্নতি,অগ্রগতি হয় না। মনে মনে ভাবে এটা কোন জীবন হলো, তার হ্যাবলা,ক্যাবলারা একটা জুটায়া ফেলছে আর সে শুধু তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকে। সে ভাবে সারা দুনিয়াতে এত সব মেয়ে শুধু আমার ভাগ্যেই জোটে না?
এরপর সে মেস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হলে থাকার ব্যবস্থা করে। এখানে আসার পর দেখলো কিছু ভাই মুখ ভরা সুন্দর দাঁড়ি নিয়ে মাথায় টুপি গায়ে পাঞ্জাবী দিয়ে কত সুন্দর ভাবে চলাফেরা করে। যেখানে সবাই নায়কের মতো চলাফেরা করে সেখানে এরা কিভাবে হুজুরদের মতো হয়ে আছে। একদিন সে রিক্সাতে চড়ে যাচ্ছিল হঠাৎ এক বাস এসে তার রিক্সাতে আঘাত করে। ঐ রিক্সাওয়ালা ওখানেই মারা যায় কিন্তু সে ছিটকে পরে সামান্য হাত কাঁটে। এই রকম দূর্ঘটনা থেকে বেঁচে সে সৃষ্টিকর্তার প্রতি তার আনুগত্য বেড়ে গেল। সে চিন্তা করলো স্রষ্টার দয়া ছাড়া তার বাঁচা সম্ভব ছিল না। সে ভাবলো আসলেই তো ধর্ম কর্মও তো করা উচিত। তাছাড়া মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতেও আলাদা পরিবেশে যাওয়া দরকার। এরপর পরীক্ষা দিয়ে গ্রীষ্মের ছুটিতে আল্লাহ্‌'র রাস্তায় ১০দিন সময় দিয়ে ফিরলো। মনের ভিতর অসাধারণ পরিবর্তন। নিজেই ভাবতে লাগলো তার অনেক পরিবর্তন দরকার, অন্ধকার থেকে আলোর আসা দরকার। তার সবকিছু পরিবর্তন হওয়া শুরু করলো সে নিয়মত নামায পড়া শুরু করলো, দাঁড়ি রাখা শুরু করলো পোশাকআশাক হুজুরদের মতো পরা শুরু করলো। কিভাবে যে এসবের প্রতি তার ভালবাসা শুরু হলো তা সে নিজেও জানে না। সবই ঠিক ছিল কিন্তু তার প্রেম করার কি হবে? সে জানলো ও দেখলো যে,প্রচলিত ভালবাসা গুলোর পদ্ধতি তার বিবেক ও ধর্ম প্রশ্রয় দেয় না। তাহলে উপায়?
ক্লাসে যখন যায়, দেখে বন্ধুদের সাথে ক্লাসের মেয়েদের বন্ধুত্বের নামে নোংরা খুনসুটি। ক্লাস থেকে বের হলে ক্যাম্পাসের আশে পাশে, আড়ালে নিভৃতিতে কত শত ছেলে মেয়ে তাদের অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে চলেছে। facebook এ ঢুকলে কত জন তাদের গড়া অবৈধ সম্পর্কের প্রমাণ ছবির মাধ্যমে সবার সামনে মেলে ধরছে, কত জন বুক ফুলে timeline এ In a relationship লিখে বন্ধুদের Like, congregation পেয়ে চলেছে। রাত লাগলেই হলের ছেলেদের বারান্দায়, ছাদে, মাঠে গিয়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রেম আলাপ চালাচ্ছে call, video callএর মাধ্যমে। এ অবস্থায় নিজেকে তার বড় অসহায় মনে হত। এত ভীড়ের মাঝেও সে নিজেকে বড় একা পায়। এসব কারও কাছে বলতেও পারে না। নির্দয় সমাজ এসব বুঝবেও না। তার মনের অব্যক্ত কথাগুলো মনেই থেকে যায়। অনেক ভাবে যে, বাসায় বলবে তার সমস্যাগুলো কিন্তু কেউ বুঝবে কি? বাসা পাশের জেলায় হওয়ায় প্রায় বাসায় যায়, অনুশীলন করে বলে দিবে কিন্তু পারে না। লজ্জাবশত কারণে আর পেরে ওঠা হয় না।অবস্থা এমন যে, বুক ফাটে কিন্তু মুখ ফাটে না।এরপর সে স্রষ্টার শরণাপন্ন হয়। রাতে তাহাজ্জুদ নামাযের পরিমান বেড়ে দিয়ে আল্লাহ্‌'র কাছে সাহায্য চায়। ফলাফল অনেক সাহস নিয়ে বাবা মার সামনে দাঁড়ায়। ছেলে: আম্মা আমি একটা মেয়েকে পালিয়ে এনে বিয়ে করেছি। মা: কি?!?!?! তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে?? ছেলে: আগে পুরোটা শোনো। মা:আর কি শোনার বাকি আছে?? শেষ আামার সব স্বপ্ন তুই শেষ করে দিলি। ছেলে: আমি বলতেছি, যদি আমি এই রকম কোন কাজ করে আসতাম তোমার কি ভাল লাগতো?? অবশ্যই না। মা: তার মানে তুই করিস নি। যাক বাঁচলাম। ছেলে: আমি যেখানে থাকি সেখানে ছেলে মেয়েদের অবাধ মেলামেশা হয়। যার ফল তোমরা পত্রিকা গুলোতে প্রায়ই দেখতে পাচ্ছ। আমি তো এরকম কিছু চাচ্ছি না। বিয়ে যখন একদিন করাই লাগবে, তাহলে আগে করলে সমস্যা কি? আমি তো এটাও বলছি না যে আমার মেয়ে পছন্দ করা আছে। মেয়ে তোমরাই পছন্দ করে নিও, শুধু একটু ধার্মিক হলেই চলবে। মা: এই বয়সে বিয়ে? লোকে বলবে কি? ছেলে: এই বয়সে একটা ছেলে প্রেম করতে পারলে বিয়ে কেন করতে পারবে না? আর লোক, কোন লোকের কথা বলছো, যারা প্রেম নামের অবৈধ সম্পর্ক গুলোকে ছেলেমানুষি মনে করে, যারা তাদের সন্তানদের সাথে নিয়ে অসামাজিক নাটক, সিনেমা দেখে, তারা? আমি চিন্তা করি শুধু তোমাদের, তোমরা কি ভাববে?তোমাদের অনুমতি ছাড়া আমি কোন কিছুই করবো না।
তারপর তার মা কিছু না বলেই অন্য ঘরে চলে যায়। সেও পরদিন তার হলে ফিরে যায়। ভেবে ছিল প্রেম তো বিয়ের আগে সম্ভব না, তাই আগের প্রেমটাই যদি বিয়ের পর করা যেত, কতই না ভালো হতো। কিন্তু এটা হওয়া যতটা কঠিন তার চেয়ে আটলান্টিক পাড়ি দেয়া সহজ হবে হয়ত। পানির ট্যাংক ভর্তি আফসোস থেকে প্রতিদিন এক গ্লাস করে আফসোস নিত আর দিন পার করতে শুরু করলো। এভাবে প্রায় এক মাস পর সব আফসোস ফুরিয়ে গেল। হয়ত স্রষ্টা তার জন্য অনেক বেশী কিছুই রেখে দিয়েছে। হঠাৎ বাসায় থেকে ফোন আসলো যে, এই সপ্তাহেই বাসায় যেতে হবে। যেতে চাচ্ছে না তার মন, তবুও যেতে হবে। কারণ আদেশ করেছে তার মা, যার মাধ্যমে দুনিয়ার মুখ দেখা। বাধ্য ছেলের ন্যায় চলল বাড়ির পথে আর ভাবতে লাগলো বাবা মার সাথে কিভাবে কথা বলবে। গতবার যে ঘটনা ঘটিয়েছে তাতে তো মনে হয় ভাল কিছুর আশা করা যায়। বাড়িতে যেয়ে দেখে সেই অবস্থা মেহমান দিয়ে পরিপূর্ণ। খোঁজ করে জানতে পারলো বাসায় দাওয়াত দেওয়া হয়েছে সবার। কিন্তু উপলক্ষ কি বোঝা গেল না। বাঙালীরা আবার উপলক্ষ ছাড়া কিছুই করে না। যাই হোক পরদিন ফযর পর মসজিদ থেকে আসতেই শুনলো তারা নাকি কোথায় দাওয়াত খেতে যাবে। যোহর পর মসজিদ থেকে বাসায় আসতেই তার ছোট খালা একখানা সুন্দর পাঞ্জাবী হাতে ধরে দিয়ে বলল প্রস্তুত হয়ে নে। ভাবখানা এমন যে তাকে কুরবানির পশুর মতো জবাই দিবে একটু পর। যাই হোক পাঞ্জাবী পরে বের হতেই দেখে বাসার সামনে ইয়া লম্বা ছোট একটা কার গাড়ি অপেক্ষা করছে। সে ভাবলো আর কি কি যে সামনে আসবে তা তো উপরওয়ালাই ভাল জানে। ওয়ে তেরি, গাড়িতে বসার পর সবাই দেখি তার দিকে তাকায় আর মুচকি হাসে। সে ভাবলো তাকে কি জোকারের মতো লাগছে নাকি পাগলা গারদে পাঠানোর জন্য নির্বাচন করা হয়েছে? সে তো পুরাই মাননীয় স্পিকার হয়ে গেল। এবার তাদের গন্তব্য স্থলে পৌঁছাল। জায়গাটা পরিচিত মনে হচ্ছে তার। ছোট থাকতে এসেছিল, দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাসা। সবাই দেখি তাকে দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। সে অনুমান করলো যে নিশ্চয়ই বড় কিছু হতে চলেছে। বাড়ির ভিতরে ঢোকার পর তার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে, কারও বিয়ে হতে চলছে। কাজী তার বিশাল হাজিরা খাতা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে ভাবলো কার বিয়ে হতে পারে। কোন মেয়ের? আরে ধুর মেয়ে বিয়ে করতে কি ছেলের বাসায় যায়? তার সাথে ছেলে বলতে কেউ নেই সব তো বুড়া, যেমন- তার বাবা, ফুফা,চাচা,দাদা। তাদের তো আর সম্ভব না। কারণ আমার পরিবারের সব মহিলারা "লেডি হিটলােরর" মতো, বিয়ে করলে খুন নিশ্চিত। বাকি থাকলো সে নিজে। প্রশ্নের উত্তর পেল যখন কাজী বর হিসেবে তার নাম জানতে চাইলো। সে ভাবলো তাহলে তাকেই কুরবানির পশু বানানো হয়েছে? এই পশু হওয়ার অপেক্ষায় সে কতদিন বসে ছিল। আহা! আজই সেই মহেন্দ্রক্ষণ। সে খুশিতে লাফ দিতে চাইলো বুর্জ খলিফা বিল্ডিং এর উপর থেকে কিন্তু এটা করলে বিয়ে কয়েক দিন পিছিয়ে যাবে ভেবে চুপ থাকলো। এরপর নাম লেখা শেষে বিয়ের জন্য কবুল বলার জন্য তাকে বলতেই সে উত্তেজিত হয়ে একবারেই তিন কবুল একসাথে বলে ফেলল। আর সবাই হাসতে হাসতে শেষ। সে তো লজ্জাই লাল, সবুজ, বেগুনি রঙ ধারণ করলো। যাই হোক বিয়ে শেষে খাওয়া দাওয়া হলো। এরপর তার বউকে এনে তার পাশে বসানো হলো। আর তখনই সবাই কবুল,কবুল, কবুল বলে হাসি শুরু করলো। সে তো লজ্জায় এবার সাদা রঙ হয়ে গেল। কালো রঙ ধারণ করলো তখন,যখন আড় চোখে দেখলো তার বউও হাসতেছে। আর কোথায় যায় এখন নিজেকে সে নিউক্লিয়ার বোমা মারতে চাইলো। সে রাগ হলো এতো উত্তেজিত হওয়া তার ঠিক হয় নি। তার বউকে ঠিক মতো দেখতেও পেল না। তার বাবা বলে উঠলো তার শ্বশুরকে যে, বিয়াই সাহেব থাকেন আপনার মেয়েকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকলাম। সে বুঝলো যে তার শর্ত অনুযায়ী চাকরী পেলে বউকে আনা হবে। এরপর তারা বাসায় চলে আসলো, আর পুরো রাস্তা তাকে কবুল শুনতে হলো। বাসায় এসে ভাবলো ধুর এটা কোন বিয়ে হলো তার বউকেই সে দেখলো না। আর মেজাজ খারাপ হলো যখন মনে পড়লো বউয়ের ফোন নম্বরটা পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। তখন রাগে নিজেকে কষে একটা চড় মারলো, আর বালিশে মাথা গুজে দিয়ে কবুল বলতে লাগলো।
পরদিন ফযর নামায শেষে দোআ করলো যে, হে মহান প্রতিপালক মনের ইচ্ছা পূরণ করে দিছো তো দিছো, পুরা দেও নি কেন? বাড়ি এসে চুপচাপ মনমরা হয়ে বসে আছে। এই সময় তার বড় বোনের ঘরে প্রবেশ। ঢুকেই জানতে চাইলো কেমন আছে কবুল সাহেব। মেজাজ তার আবার একবার খারাপ হয়ে গেল। বোন বলল যে মন খারাপ করিস না, তোর জন্য এমন এক জিনিস আছে যা তোর মন এক মুহূর্তেই খুশিতে লাফ দিয়ে উঠবে। ভাইয়ের ফোনটা নিয়ে কিছু একটা লিখে দিয়ে বলল যে, এই নে তোর মনের মানুষের ফোন নম্বর। সে তো দেখেই খুশিতে আটখানা। কি বলে যে বোনকে ধন্যবাদ দিবে তার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। বোন আরও বলল যে, মেয়েটি আগে থেকেই ঠিক করেছিল কোন দাঁড়ি ওয়ালাকেই বিয়ে করবে। তাই তার প্রস্তাব আসতেই আর দ্বিতীয় বার ভাবে নি। ছেলেটি সাথে সাথে সিজদাহে পরে গিয়ে তার রবের শুকরিয়া আদায় করলো। এখন ফোন নম্বর তো পাইছে কিন্তু ফোন দিয়ে কি বলবে তা আর ভেবে পাচ্ছে না। ফোন হাতে নিয়ে call দিতে গেলেই হাত কাঁপাকাপি শুরু হয়ে যায়। এভাবে রাত এসে গেল। এবার অনেক সাহস সঞ্চয় করে ফোন দিল।এইদিকে বুকের ভিতর হৃদপিণ্ড ১০০/২০০ বেগে লাফানো শুরু করলো। এই গেল, গেল অবস্থা। অবশেষে ফোন ধরে ওপাশ থেকে মিষ্টি কণ্ঠে ভেসে আসলো, স্ত্রী: আসসালামু আলাইকুম। স্বামী: ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি সালাউদ্দিন বলছি। স্ত্রী: আমি জানি। আমার ফোনে আপনার নম্বর আগে থেকেই ছিল। স্বামী: কিভাবে? আমি তো আজ প্রথম ফোন দিলাম। স্ত্রী :কাল আপু নম্বর দিয়ে গিয়েছে। আর বলেও দিছে আপনার পক্ষে নম্বর নেওয়া সম্ভব না। কারণ আপনি নাকি ভীতুর ডিম। আপনি কেমন আছেন? স্বামী: (মনে মনে"প্রথম দিনেই বোল্ড করলো?") আলহামদুলিল্লাহ্‌, ভাল। আপনি? (ভাব নিয়ে) স্ত্রী: আলহামদুলিল্লাহ্‌, স্রষ্টা তো ভালোই রাখছে কিন্তু আপনি না। স্বামী: কেন? কেন?? কি গোস্তাখি হয়েছে? (উত্তেজিত কণ্ঠ) স্ত্রী: এই যে সকাল থেকে আপনার ফোনের অপেক্ষায় থেকে এতক্ষনে আপনার সময় হলো। স্বামী: (আরও একবার বোল্ড হয়ে) আমি খুবই দুঃখিত। আসলে ফোন দেওয়ার সাহসই পাচ্ছিলাম না। স্ত্রী: আপু ঠিকই বলেছিল যে আপনি ভীতুর ডিম। ডিমটিও মুরগির না উটপাখির। স্বামী: তো এই উটপাখির ডিমকে ক্ষমা করা যায় না?(করুন সুরে) স্ত্রী: এক শর্তে। স্বামী: কি শর্ত? সব পূরণ হবে ইনশাল্লাহ। স্ত্রী: দিনে পাঁচ বার ফোন দিতে হবে। স্বামী: শুধু পাঁচ!!পাঁচ হাজার বার বললেও রাজী ছিলাম। স্ত্রী: হা হা। এখন রাখি পরে কথা হবে। আসসালামু আলাইকুম। স্বামী: ওয়ালাইকুম সালাম। ফোন রেখে কেমন এক শান্তি লাগছে তার।এই রকম অনুভূতির জন্যই তো তার এতদিনের অপেক্ষা ছিল। পুরুষ বাইরে যতই শক্তিশালী, সাহসী হোক, সে চায় কেউ এভাবে তার খেয়াল রাখবে, তার কথার উপর কেউ মান অভিমান করবে, কেউ তার উপর অধিকার খাটাবে। কথা বলার পর তো দেখার ইচ্ছা হাজার গুণ বেড়ে গেল তার, কিন্তু উপায়?
নাহ! এভাবে আর বসে থাকা যায় না।যে কোন মূল্যেই হোক দেখা তো করতেই হবে। তাই বোনের সরণাপন্ন হলো। বোনকে ছয়-নয় বুঝিয়ে রাজী করালো। ঠিক হলো বোন মেয়েকে বের করবে আর খালার বাসায় দেখা করবে। খালাকে বুঝিয়ে আগেই প্রস্তুত হয়ে সে অপেক্ষা করছে। ধুর সময় কেন কাটে না, পরীক্ষার হলে তো উসাইন বোল্টের গতিতে যায়, আর আজ এক মিনিট এক ঘন্টার মতো লাগছে তার। অবশেষে দুই বোরকাওয়ালি আসলো। চোখ দেখে একজনকে চেনা গেল, সে তার বোন আর একজন কে? নিশ্চয়ই তার বুকের বাম পাশের কিছু অংশই হবে। ছেলের কাছে আসতেই মেয়ে আবেগপূর্ণ কণ্ঠে সালাম জানালো। এরপর খালার সাথে কথা বলে দু'জনকে একই ঘরে পাঠানো হলো। সামনাসামনি দু'জন বসে আছে। কারো মুখে কোন কথা নেই। এই দিকে ছেলে ঘেমে অস্থির, কি দিয়ে শুরু করবে তার কুলকিনারা পাচ্ছে না। তারপর স্বামী : আপনার আসতে সমস্যা হয় নি তো? স্ত্রী: না। আপনার? স্বামী: না। আবার কিছুক্ষণ নিরবতা। মেয়ে তখনো নিকাব খুলে নি। দু'জনের চোখ অবনত। ছেলে চিন্তা করতেছে নিকাব কিভাবে খুলানো যায়?ছেলে পকেট থেকে চকলেট বের করে, স্বামী: আপনার নাকি চকলেট পছন্দ? এই নিন। স্ত্রী: জাযাকাল্লাহ (ধন্যবাদ) স্বামী: খেয়ে দেখেন অনেক ভাল। স্ত্রী: পরে খাবো। স্বামী: তাহলে অন্য কিছু খাবেন? পানি খাবেন? তৃষ্ণা পেয়েছে মনে হয়। স্ত্রী: নাহ, ঠিক আছে। স্বামী: ওহ। আচ্ছা। (হতাশ হয়ে) ছেলে ভাবছে বুদ্ধিটা তো কাজে দিলো না। আবার নিরবতা। এইবার নিরবতা ভেঙে মেয়ে বলল, স্ত্রী: আপনে আসলেই উটপাখির ডিম পরিমান ভীতু, বললেই হয় আমাকে দেখতে চাচ্ছেন। স্বামী: না মানে, ইয়ে। এরপর মেয়ে নিকাব খুললো। ছেলে দেখা মাত্র মূর্তিমান হয়ে গেছে। ২-৩ মিনিট পর, স্ত্রী: আমি কি চলে যাবো? স্বামী: আলহামদুলিল্লাহ। মাশাল্লাহ। আমার একসাথে তিনবার কবুল বলা স্বার্থক। স্রষ্টা আসলেই আসলেই অনেক সুন্দর করে বানিয়েছে। স্ত্রী: (লজ্জা পেয়ে) আজ আমি উঠি। আর হ্যাঁ, চকলেট আমি মোটেও পছন্দ করি না, তবে আপনার দেওয়া চকলেট বাদে। স্বামী: ওহ। আপনার জন্য হাদিয়া( gift) আছে। এই নিন। আমার মা এই বোরকা দুটো দিয়েছে। স্ত্রী: জাযাকাল্লাহ খায়ের। আমি জানি এটা আপনিই এনেছেন। আর এইটা আপনার পছন্দের হালুয়া। আমার মা পাঠিয়েছে। স্বামী: হালুয়া!! জাযাকাল্লাহ। হালুয়া ছাড়া তো আমার চলেই না। স্ত্রী: শুধু শুধু মিথ্যা বলেন কেন? হালুয়া তো আপনি খান না। স্বামী: মিথ্যা তো তুমি বলেছ। হালুয়া টা তুমিই বানিয়েছ। আর এটাও জানি হালুয়া তুমি অনেক ভাল বানতে পারো। আজ থেকে তোমার হাতের হালুয়াই আমার পছন্দনীয় খবার হবে। অতপর দুজন চলে গেল তাদের বাসায়। ছেলের তো রাতের ঘুম উধাও। বারবার শুধু সেই চেহারাটাই ভেসে আাসছে। কিভাবে একজনের সাথে আর একজনের চিন্তা ধারাগুলো এত মিল হতে পারে, তা হয়ত এক উপরওয়ালা ছাড়া কেউ জানে না।পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেল ছেলে। যেয়ে ক্লাসে তো আর মন বসে না। বারবার দেখতে ইচ্ছা করছে। তবে কি সে প্রেমে পরে গেল? বন্ধুদের থেকে শুনলো প্রেমে পরলে কি হয়। হ্যাঁ, সব লক্ষণগুলোই তো মিলে গেল। কিন্তু কিভাবে বলবে? এরমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের কারণে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা হলো।
পরদিন সে ঝড়ের বেগে বাসায় চলে গেল। কিন্তু দেখা করবে কিভাবে ৩ দিন আগেই তো খালার বাসায় দেখা করেছিল। প্রতিদিন গেলে তো সমস্যা হবে, তাই বিকল্প কিছু ভাবা দরকার। সে ভেবে দেখলো মেয়ের কলেজে যেয়ে তো দেখা করা যায়। যেই ভাবা সেই কাজ, ফোন দিয়ে শুনলো সে কলেজেই আছে। কিন্তু মেয়েকে জানালো না। বাসা থেকে বের হলো গুরুত্বপূ্র্ণ কাজ আছে বলে। এটাই স্বাভাবিক যে, একজন প্রেমিকের তার প্রমিকার সাথে দেখা করার চেয়ে গুরুত্বপূূর্ণ কাজ আর কি হতে পারে। ছেলে দাঁড়িয়ে আছে একপাশে, অপরপাশে মহিলা কলেজের প্রবেশদ্বার। তার খুব লজ্জা লাগছে যে, তার পাশে অনেক ছেলেই অপেক্ষা করছে তার মধ্যে সে আবার দাঁড়িওয়ালা হুজুর। ব্যাপারটা কেমন যেন লাগছে। পরক্ষণে তার মনে হলো সে তো তার বিবাহিত বউকেই দেখতে আসছে, বৈধ সম্পর্ক তাই সে মনে মনে খুশিই হলো। তার মনে পরে গেল কলেজে থাকতে তার বন্ধুরা তাদের প্রেমিকার জন্য এভাবেই বিভিন্ন স্কুল, কলেজের সামনে চোখে অদৃশ্য দূরবীক্ষণ যন্ত্র লাগিয়ে অপেক্ষা করতো।এই অনুভূতিটা বেশ ভালোই উপভোগ করছে সে। সময় তো অনেক হয়ে গেল, এখনও ছুটি হয় না? আজকে কি একবারে পিএইচডি করাবে নাকি। আবার ছুটির সময়টাও শুনা হয় নি। শুনবেই বা কেমন করে, যদি জানতে চায় কেন, উত্তর তো তার কাছে ছিল না। এই যে বের হচ্ছে এক এক করে। পাশের ছেলে গুলো কি খুশি হইছে রে। একজন আরেজনকে বলছে, মামা দেখ ঐ যে তোর টা।কিন্তু তার প্রিয় মানুষটা কোথায়? এতগুলো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া তো মুশকিল। সে তো বোরকা পর, কিন্তু বোরকা তো অনেকেই পড়েছে। সে অবশ্য আরেকটা বুদ্ধি আগেই করে রেখেছে, যে বোরকা দুটি হাদিয়া(gift) হিসেবে দিয়ে ছিল সে তাতে আলাদা সোনালী রঙের সীমানা দিতে বলেছিল যাতে করে ভীড়ের ভিতর তার মানুষটাকে অনায়াসেই চিন্তে পারে। এখন ভয় এটা যে, যদি না পরে আসে? আসবে অবশ্যই সে ঐটা পরেই আসবে বলে, তার মনকে শান্তনা দিচ্ছে। ঐ যে দেখা গেছে, হ্যাঁ ঐ বোরকাটা। ছেলেটির দিকে একবার তাকালো কিন্তু বুঝতে পারে নি মনে হয়। একি ওখানেই তার বান্ধবিকে রিক্সা নিয়ে চলে গেল। এইটা কোন কাজ। এতক্ষণ অপেক্ষা করে ফলাফল শূন্য। তবে এইটা ভাল যে দেখতে তো পারেছে, বুঝতে তো পারেছে সে ভাল আছে। এখন তো তার গুরু দ্বায়িত্ব হয়ে যায় যে তার মানুষটা যেন ঠিকভাবে বাসায় পৌঁছাতে পারে। তাই সে রিক্সার পিছনে পিছনে আর একটা রিক্সা নিয়ে গেল। তার বাসায় ঢুকতে দেখে সেও বাসায় ফিরলো। এরপর ২য় দিন গেল, একই অবস্থা আজও শুধু দেখেই গেল। এভাবে কত দিন?? এরপর দিন সে কিছু একটা করেই ফেলবে। কিন্তু পরদিন তার যাইতে দেরি হয়ে যায়। যেয়ে দেখে কলেজ ছুটি হয়ে গেছে।
রাস্তার ওপাশে দাঁড়িয়ে থেকে ভাবছে গেটের দিকে আর কতই তাকিয়ে থাকি তার তাকিয়ে থাকাতে কি আর চলে যাওয়া মানুষ ফিরে আসে? হঠাৎ রিক্সার পাশে থেকে মেয়ে কণ্ঠে কেউ একজন বলে উঠলো একটু চাপুন বসতে হবে। সে মনে করলো কারর এতো সাহস যে তার অনুমতি না নিয়ে রিক্সায় উঠতে চায়? তাকিয়ে দেখে সে চমকিয়ে উঠলো, আরে এ তো আর কেউ না তারই মনের মানুষ। স্ত্রী: এতক্ষণ কেউ দেরি করে? বান্ধবিকে বিদায় দিয়ে একলা মেয়ে মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলাম কত ভয়ে, আপনার কি সেই খেয়াল আছে? স্বামী: না মানে। (ভয়ে এখনও কাঁপছে) স্ত্রী: হয়েছে আর বলতে হবে না। আমি জানতাম আজও আপনি কথা বলার সাহস পাবেন না। তাই নিজেই এসেছিলাম। আর আপনি আজই দেরি করলেন? স্বামী: আসলে রাতে ঘুম কম হয়েছে তো তাই ফযর পড়ে ঘুমিয়েছিলাম আর উঠতে দেরি হয়ে গেল। স্ত্রী: কেন কম ঘুমিয়েছেন? স্বামী: থাক ওসব। পরে বলবো। তা আপনি জানতেন আমি আসি এখানে? স্ত্রী: বাহ! জানবো না কেন? মহিলা কলেজের সামনে একজন হুজুর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে, এটা কি কোন নজর এড়ানো ব্যাপার? প্রথম দিন আপনাকে দেখার পরই আপুকে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হয়েছি। ২য় দিনে ভাবেছিলাম আপনি ঐপাশে আসবেন, কিন্তু আপনি উটপাখির ডিম পরিমান ভীতু এটা আবারও প্রমাণ করলেন। আজ আর এভাবে আপনাকে দাঁড় করিয়ে রাখা ভাল হবে না ভেবে এখানে এসেছিলাম। স্বামী: কি করবো বলেন, অনুমতি তো দেয় নি কেউ। স্ত্রী: সব অনুমতি কি দিতে হয়? কিছুটা বুঝে নিতে হয়। স্বামী: আমি আসলে এ লাইনে কাঁচা তো, তাই। স্ত্রী: কিছু জিনিস অবশ্য কাঁচাও ভাল(মুচকি হেঁসে)। স্বামী: হতে পারে। স্ত্রী: আর শুনুন, কাল থেকে আর কলেজের সামনে।আসবেন না। স্বামী: ঠিক আছে(হতাশ হয়ে) স্ত্রী: কারণ জানতে চাইবেন না? স্বামী: আপনার হয়তো খারাপ লাগে? স্ত্রী: হলো না। আমি চাই না আপনি অন্য কারো দিকে তাকিয়ে থাকুন। স্বামী: আমি কেন অন্যকে দেখবো? আমার দেখার তো একজন আছে। স্ত্রী: আপনাকে আমাকে খুঁজতে গিয়ে ভুলবশত অন্যের দিকে তাকাতে হয়। এই ভুলটাও আমি হতে দিবো না। স্বামী: তাহলে দেখার ব্যবস্থা একটা করে দাও। স্ত্রী: কলেজ থেকে বাসায় যাওয়া পথে আমার এক বান্ধবির বাসা পরে। আমি বাসায় বলবো যে আমি বান্ধবির বাসায় যাবো। আমি যাবো ঠিকই কিন্তু ঢুকবো না। স্বামী: ঠিক আছে আমি বুঝে গেছি। এই তো আপনার বাসা এসে গেছে। স্ত্রী: আমার বাসা আর আপনার কিছু না? (অভিমান করে) স্বামী: ওহ, আমার শ্বশুরালয়। বললামই তো আমি এই লাইনে কাঁচা। স্ত্রী: আসেন বাসায়। স্বামী: না এভাবে না। একটা ব্যাপার আছে না? কি মনে করবে আমার শ্বশুর মশাই। স্ত্রী: ঠিক আছে। আমি আসি। আসসালামুআলাইকুম। স্বামী: ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। এরপর ছেলেটা তার বাসায় চলে গেল পরদিন আসার জন্য।
পরদিন ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে সেই জায়গাতে তারই প্রিয়জনের অপেক্ষায়। আজ সে বেশি উত্তেজিত কারণ তাদের আজ প্রথম ঘোরাঘুরি ( Dating)। অতপর তার মনের মানুষের আগমন। ছেলেটি মেয়েটার দিকে একটা বই এগিয়ে দিল যা সুন্দর গোলাপি কাগজ দিয়ে মুড়ানো।মেয়েটি খুলে দেখলো মাওলানা হেমায়েত উদ্দিনের লেখা"আহকামুন নিসা" বই। এই রকম বই সে খুঁজছিল কিছুদিন হলো। মেয়েটিও ব্যাগ থেকে একটা ছোট প্যাকেট বের করে দিল। ছেলেটি খুলে দেখলো গাঢ় সবুজ রঙের একটা তুর্কি টুপি। সে সাথে সাথে মাথার টুপিটা খুলে পকেটে রেখে ঐ টুপিটা পড়ে নিল। দুজনে একসাথে বলে উঠলো "জাযাকাল্লাহ খায়ের"(ধন্যবাদ)। এরপর একটা রিক্সা নিয়ে দুজনে শহরের রাস্তাগুলোর দৈর্ঘ্য মাপা শুরু করলো মনের ফিতা দিয়ে। তারা জানে এই ফিতা কখনো শেষ হবার নয়। সূর্য মাথার ঠিক উপর থেকে কিছুটা হেলে পড়ছে, মানে যোহরের সময় হয়ে গেছে। শহরের যে মসজিদে মহিলাদের নামায পড়ার জায়গা আছে সেখানে রিক্সা থামলো। তাদের কাছে সময়টা দ্রুতগতিতে পার হচ্ছে। নামায আদায় করারর পর, স্বামী: চলেন কোথাও বসা যাক। দুপুর হয়ে গেছে খেয়ে নেওয়া হোক। স্ত্রী: কিন্তু ওখানে সবার সামনে যে আমাকে নিকাব খুলতে হবে। স্বামী: দেখেন এইটা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। আপনার পর্দা লঙ্ঘন হোক এটা আমি বেঁচে থাকতে মেনে নিবো না। এই চেহারা অনেক দাম।দেখার অধিকার শুধু আমার। ছেলেটি মেয়ের চোখে তাকিয়ে দেখছে তার চোখে তৃপ্তির প্রতিচ্ছবি। এরপর দুজনে একটা রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে সবচেয়ে কোণার টেবিলে যেয়ে বসলো। মেয়েকে উল্টো দিকে বসালো যাতে করে গেট থেকে কেউ আসলেও না দেখতে পারে।রেস্তোরাঁর পরিচারককে(waiter) ডেকে কিছু খাবার নিয়ে আসালো আর বলল যে তাকে না ডাকা পর্যন্ত যেন এদিকে না আসে। মেয়েটি খেয়ে চলছে আর ছেলে তা দেখে চলছে। স্ত্রী: আপনি খাবেন না? স্বামী: এই একটা সময়ই তোমাকে একটু দেখার সুযোগ পেয়েছি। এখন খাওয়ার চেয়ে আমার কাছে তোমাকে দেখা সবচেয়ে জরুরী কাজ। খাবার তো পেট ভরাবে কিন্তু তোমায় দেখলে যে আমার মনটা ভরবে। স্ত্রী : আমি এখানেই আছি আপনি খেয়ে নিন।(লজ্জায় মাথা নিচু করে) এরপর ছেলেটি খাওয়া শুরু করলো।কিছুক্ষণ পর দেখে এবার মেয়েটি খাওয়া বন্ধ করে তাকিয়ে আছে। ছেলেটি বুঝতে পেরে বলল, স্বামী: কি দেখ? খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে। স্ত্রী: জানেন আমার আব্বার পরে এই প্রথম কাউকে খাওয়া দেখতেছি।আমার মানে মেয়েদের এটা অনেক ভাল লাগে যে তাদের স্বামী খাবে আর তারা চেয়ে দেখবে। স্বামী: আমার একটা ইচ্ছা আছে যে, আপনি বাসায় আসলে দুজনে একই প্লেটে খাবো। তাবলীগে অনেক খেয়েছি, কিন্তু নিজের পরিবারের সাথে ইচ্ছাটা পূরণ হয়ে ওঠেনি কখনো। স্ত্রী: আমি রাজী(খুব খুশি হয়ে)।এই সুন্নতটা আমারও পালন করার অনেক দিনের ইচ্ছা। তাদের খাওয়া শেষ হওয়ার পর তারা রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে পাশের পার্কে হাঁটতে যায়। তপ্ত দুপুরে সবাই যখন ক্লান্ত, তখন তারা কথা বলার এত শক্তি কোথায় থেকে পাচ্ছে তা তো উপরওয়ালাই জানে। ছেলে ভাবছে ভালবাসা যতক্ষণ মুখ দ্বারা প্রকাশ না হবে ততক্ষণ সে শান্তি পাবে না। এ যেমন গলার কাঁটা না নিচে যাচ্ছে আর না উপরে আসছে মাঝখানে থেকেই ব্যথা দিচ্ছে। আর এ সময়টাও ভাল, সেও তার সামনে আছে, এর চেয়ে ভাল সুযোগ আর কি হতে পারে?
মনের কথা বলবে ভাবতেই ছেলেটি ঘেমে অস্থির। তার ঘামতে থাকা দেখে মেয়েটি বলে, স্ত্রী: কি ব্যাপার, আপনি ঘামছেন কেন? স্বামী: ওহ! একটু গরম লাগেছে তো তাই। স্ত্রী: কোথায়? আমার তো কিছুই মনে হচ্ছে না। স্বামী: মনে যখন আগুন লাগে তা কি অন্য কেউ দেখে? ( আস্তে বলল) স্ত্রী: কিছু বললেন? স্বামী: হ্যাঁ। এই চোখে তাকান। চোখের ভাষা কি বোঝা যায়? স্ত্রী: সব ভাষা চোখে থাকতে নেই। স্বামী: তাহলে শুনুন আমি আর পারছি না। এই আপনা আপনি ডাক আর ভাল লাগছে না।(দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে) কবে তুমিতে আসবো এ চিন্তায় সবসময় মাথা ভার হয়ে থাকে। তোমাকে দেখার পর থেকে তোমাকে আবার দেখার চিন্তাতে অস্থির থাকি। তোমার একটু আওয়াজ শোনার জন্য কান সব সময় সচেতন থাকে। কোন দিন কাউকে প্রেমের প্রস্তাব দেই নি, শুধু তোমাকেই দিবো বলে।বিয়ের আগে প্রেম করার দূর্ভাগ্য হয় নি বলে বিয়ের পর প্রেম করার সৌভাগ্য চেয়েছিলাম। আমার মনে হয় তোমাকেই আমি সব সময় চেয়েছিলাম বলে এতদিনের এ প্রতিক্ষা। শুধু এ জীবনেই না, জান্নাতে তোমার সাথে থাকতে চাই। তুমি কি রাজী আছো? স্ত্রী:(নি:শব্দে কেঁদে চলছে) স্বামী: কাঁদো কেন? আমার কি কোথাও ভুল হয়েছে? স্ত্রী: তুমি আসলেই কাঁচা। আর এতদিনেও আমাকে বুঝতে পারো নি? স্বামী: আমি এ লাইনে কম বুঝি। স্ত্রী: এই রকম কাঁচা লোককেই আমি স্রষ্টার কাছে সব সময় চেয়েছিলাম। জানো তোমার এই অপেক্ষা করা, ভীতু ভীতু ভাব আমি খুব উপভোগ করি। তোমার বার বার আসা, তোমার চলে যাওয়ার পর আমাকে সব সময় শান্তি দেয়। আমিও চেয়েছিলাম সমাজের তথাকথিত প্রেম না করে বিয়ের পর প্রেম করবো নিজের মতো করে। আমি রাজী তোমার সাথে জান্নাতে যেতে। স্বামী:(হাঁটু গেড়ে বসে) ও আমার বোরকাওয়ালি আমি তোমাকে ভালবাসি। স্ত্রী: ও আমার দাঁড়িওয়ালা আমিও তোমাকে ভালবাসি। স্বামী: তোমার একটু হাত ধরি? কারও হাত ধরিনি আগে। স্ত্রী : আমি কি ধরেছি আগে। হাত তো তোমারই জন্য এতদিন হেফাজত করেছি। এরপর দুজন দুজনার হাত ধরে বাকি সময়টা পার করে দেয়। সেদিনের মতো তারা চলে, তবে এ চলে যাওয়া ফিরে আসার জন্য। তারা প্রায়ই দেখা করতে থাকে আর রাতে তাদের কথার ফুল ফুটতে থাকে। তারা ইবাদতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে থাকে। যেমন-তাহাজ্জুদ নাময কে বেশি পড়তে পারে, কুরআান তেলাওয়াত কে বেশি করতে পারে ইত্যাদি। একদিন মেয়ের বাসায়, বাবা: মা, এদিকে শুনে যা মেয়ে: জী, বাবা বাবা: তোর আজ থেকে একা বাইরে যাওয়া বন্ধ। মেয়ে: কেন বাবা, কি হয়েছে?(উদ্বিগ্ন হয়ে) বাবা: এত কষ্ট করার কি দরকার, জামাইকে বলিস তোকে বাসায় থেকে নিয়ে যেতে(হেঁসে বলে)। তোরা কি ভেবেছিস আমি জানি না? বাবা হলে সব জানতে হয়। মেয়ে লজ্জা পেয়ে ঘরে দ্রুত চলে যায়। পরদিন ছেলের বাসায়, মা: সালাউদ্দিন। ছেলে: জী, মা। মা: তুই বৌমাকে নিয়ে ঘুরতে টুরতে নিয়ে যাস তো নাকি? তোর বয়সের ছেলে মেয়ে প্রেমের নামে কত কি করে বেড়াচ্ছে। একটু আধটু নিয়ে যাবি মেয়েটাকে। ছেলে: ঠিক আছে চেষ্টা করবো।(খুব খুশি হয়ে) ঐ দিন রাতে, স্বামী:আসসলামু আলাইকুম, বোরকাওয়ালি আছে? স্ত্রী: ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। জী দাঁড়িওয়ালা, আছে। স্বামী: আজ মা তো তোমাকে নিয়ে ঘুরতে বলল। স্ত্রী: আর বাবা তোমাকে এখন থেকে বাসায় এসে আমাকে নিয়ে যেতে বলেছে। স্বামী: কেন ,কি বুঝতে পারছে নাকি? স্ত্রী: হ্যাঁ, কেন ভয় পাও? স্বামী: না, ভয়ে ডরে না বীর। হিন্দিতে একটা কথা আছে, "যাব পেয়ার কিয়া তো ডার না ক্যায়া" স্ত্রী: কালকের অপেক্ষায় থাকলাম। আসসালামু আলাইকুম। স্বামী: ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। পরদিন ছেলে তার শ্বশুর বাড়ি যেয়ে সবার সাথে কুশলাদিন বিনিময় করে। তার শ্বাশুরি তার মেয়ের ঘরের দিকে দেখিয়ে যেতে বলে। সে ঘরে ঢোকার পর মেয়েকে দেখে আবার ঘর থেকে বের হয়ে যায়। স্ত্রী: আরে আরে কোথায় যাও? স্বামী: আপনি কে? আমি কি ভুল ঘরে ঢুকলাম নাকি? স্ত্রী: কেন? আমাকে কি চেনা যাচ্ছে না? স্বামী: সত্যি আমি মুগ্ধ। আমার বিবি এত সুন্দর! স্ত্রী: যাও। মিথ্যা বলছো। স্বামী:সত্যি। তোমার সৌন্দর্য্যের কাছে পূর্ণিমার চাঁদও ম্লান, তোমার পবিত্রতার কাছে শত ফুলের পবিত্রতাও তুচ্ছ। স্ত্রী: জানো, আগে শুধু নিজের জন্য সাজতাম। আজ প্রথম কারো জন্য সাজলাম। স্বামী: বাহিরে যাওয়া বাদ। স্ত্রী: কেন? স্বামী: বাহিরে গেলে এই সৌন্দর্য কি উপভোগ করা যাবে? চলো তোমাদের ছাদে যাই। স্ত্রী: যেখানে নিয়ে যাবে সেখানেই রাজী। অতপর দুজন ছাদে। স্বামী: আসলেই তোমাকে বিয়ে করার পর থেকে আমার বাকি অর্ধেক দ্বীন পূরণ হয়েছে। তোমার সাথে থাকলে, তোমাকে দেখলে, তোমার সাথে কথা বললে যে শান্তি অনুভব করি তা হয়ত আমাদের সমাজের তথাকথিত প্রেম যেসব যুবক যুবতী করে তারা সে শান্তি পায় না। স্ত্রী: হারাম(অবৈধ) সম্পর্ক, বস্তু গুলো এমনই। স্রষ্টার লাখো কোটি শুকরিয়া যে তিনি আমাদেরকে এসব থেকে হেফাজত করেছেন। স্বামী: আলহামদুলিল্লাহ্‌। এখন পড়াশোনা করেও মজা পাই, কারণ জানি পড়া না শেষ হলে তোমার সাথে কথা বলা যাবে না। আল্লাহ্‌ হয়তো এভাবেই দুজনকে মিলিয়ে দেয় যারা আল্লাহ্'র জন্য অবৈধ মিলন থেকে বিরত থাকে। স্ত্রী: আল্লাহ্‌ আসলেই তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেন যারা শুধু তাঁর কাছেই সাহায্য চায়। আলহামদুলিল্লাহ্‌। অত:পর কিছুদিন ছেলেটি অনার্স শেষ করে আল্লাহ্'র বরকতে ভাল একটা চাকরিও পেয়ে যায় এবং মেয়েটিকে বাকি জীবনের জন্য তার কাছে নিয়ে আসে।

One

অনেক ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। খেয়ে দেয়ে আবার ক্লান্তও হয়ে যায়। যার কিছু হয়তো ভাল, আবার কিছু হয়তো কালো। তেমনি আজ একটা বিষয় মাথায় আসলো।...