Saturday, April 4, 2020

One

অনেক ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। খেয়ে দেয়ে আবার ক্লান্তও হয়ে যায়। যার কিছু হয়তো ভাল, আবার কিছু হয়তো কালো। তেমনি আজ একটা বিষয় মাথায় আসলো।
বিষয়টা হলো আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌ পাকের 'আল্লাহ্‌' শব্দের বানান নিয়ে। বেশি ভাষা নিয়ে আমার এই চিন্তা গবেষণা হয় নি। মাত্র তিনটি ভাষা নিয়ে। আরবি, বাংলা এবং ইংরেজি নিয়ে।
*আরবিতে 'আল্লাহ্‌' শব্দ লিখতে প্রথমে (আলিফ) হরফটি আসে যা আরবি বর্ণমালার একবারে প্রথম শব্দ।
*বাংলাতে 'আল্লাহ্‌' শব্দ লিখতে প্রথমে যে অক্ষর 'অ' বা 'আ-কার' যোগ করে 'আ' যাই বলেন এটিও বাংলা বর্ণমালার প্রথম দুটি শব্দের মধ্যেই পড়ে।
*ইংরেজীতে 'Allah' শব্দ লিখতেও প্রথম যে অক্ষর 'A' আসে এটিও ইংরেজী বর্ণমালার একবারে শুরুর অক্ষর।

হয়তো এসব নিয়ে আগেও কেউ লিখেছে, আমি জানি না। আবার এটি প্রকাশের দ্বারাও কুরআন, হাদীসের কোন নির্দেশনাও প্রমাণ হয় বলে জানা নেই। তবে বিষয়টি আমার কাছে ভাল লাগার ছিল।

Naribad

কাছে আসার গল্পের পরের গল্প "স্ক্যান্ডেল"
সামাজিক মাধ্যমগুলোতে কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন সেলিব্রিটিদের স্ক্যান্ডেল প্রকাশ পায়। এরপর শুরু হয় সমালোচনা। এরপর আবার সবাই ভুলে যায়, আসে নতুন ক্লিপ। এভাবেই চলছে। কিন্তু কেউ কখনো ভেবে দেখেছেন, এর পিছনে কারণ কি? কেন এরকম হয়?
আমরা যারা বিবাহ নামক বৈধ পথের দিকে যুবসমাজকে আকৃষ্ট করছি, তখন একদল সুশীলসমাজের মানুষ "কাছে আসার গল্প" প্রমোট করছে। অথচ এই গল্পের নাটকগুলোর নায়ক-নায়িকাই সত্যিকার অর্থে তাদের আসল জীবনে কারও কাছে আসতে পারে নি। কখনো প্রতারণা, কখনো লুকিয়ে বিয়ে, কখনো ডিভোর্স, কখনো পরকিয়া, কখনো স্ক্যান্ডেল বা কখনো গর্ভপাত।
আসল কথা হলো আল্লাহ তা'আলা যে নিয়ম মানুষদের জন্যে দিয়েছে, তাতেই রয়েছে রহমত ও বরকত, সুখ ও শান্তি। এ নিয়ম যদি কোন অমুসলিমও ইসলাম না মেনে পালন করে, তাহলে তারাও দুনিয়াতে সুখ, শান্তি লাভ করবে। কারণ এই আল্লাহর মনোনীত দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থাই মানুষদের জন্যে চূড়ান্ত ও সর্বোচ্চ উপকারী। আপনার আশেপাশের মানুষদের সচেতন করুন অশ্লীলতা ও এর ভয়াবহতা নিয়ে।

 কবি মাসীহুর রহমান বলেছেন,
বাস্তবতা খুব নিষ্ঠুর, সময় খুব অল্প
গন্তব্যে যেতে হবে, থাকবে দৃঢ় সংকল্প

শিক্ষিত হওয়া, ক্যারিয়ার গড়া, ভাল চাকরী পাওয়া, ভাল পদোন্নতি হওয়া এসব করতে করতে কখন ৩০ পার হয়ে যায়, মেয়েটা টেরই পায় না। এরপর যখন বিয়ের জন্যে চেষ্টা করে, তখন স্ট্যাটাস মিলাতে যেতে আরও কয়েক বছর পার হয়। শেষ বেলায় বিয়ে তো কিন্তু ..... আরও এগিয়ে যাও... ধুর!!! কি সব সংসার, টংসার, চুলায় যাক সব

পর্দার উপর পর্দা পরে গেছে
কথা তো ছিল এক আল্লাহর হুকুমের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবো, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথে নিঃসঙ্কোচ অনুসরণ করবো। কিন্তু আজ আমাদের এ কি হাল! ধর্ষণ হলে এক দল বলে পর্দা করে নি। আরেক দল বলে পর্দা করেও তো ধর্ষণ হয়। তাহলে পর্দা বলতে কি শুধু ধর্ষণ আটকানোর জন্যে কাপড় পেঁচিয়ে রাখা। আহা! মুসলমান। জীবনের এত বেলা গড়িয়ে গেল, তোমরা পর্দা কাকে বলে এবং কিভাবে করতে হয় সেটাও জানো নি। তোমার এত শত ডিগ্রী, এত উঁচু উঁচু পদ দিয়ে কি হবে যদি আল্লাহ জিজ্ঞেস করে পর্দা সমন্ধে কি শিখেছিলে দুনিয়ায়? অবাক লাগে শিক্ষিত শ্রেণীরা যখন পর্দা নিয়ে যা তা বলে। আবার কেউ কেউ এক টুকরো কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে রেখে পর্দা করার গর্ববোধ করে। সবশেষে, তোমাদের সব শেষই হয়ে যাবে। তখন কি করবে? তোমার ইসলাম শেখার উপর যে পর্দা পড়েছে, সেটা কবে দূর করবে?

গত কয়েকদিনের ঘটনার পর পত্রিকা ও ফেসবুক পাড়ায় এখন আলোচনা এই একটি মাত্র বিষয়ে। বাঙালি এ হুজুগে, জিনিস একটা পেলে হয় নেমে পড়ে তার পিছনে। ধর্ষন ও এর প্রতিরোধ নিয়ে একেক জনের বিশ্লেষণ দেখে না হেসে পারা যায় না। যে যার মতো ইচ্ছা বলে যাচ্ছে। কোন ভিত্তিতে বলতেছে, সেটা আদ্যো ঠিক হবে কিনা প্রয়োগের ক্ষেত্রে, সেসব নিয়ে চিন্তা নাই। শুধু নিজের বিবেকে বলতেছে, তাই মত প্রকাশ করে যাচ্ছে। বিষয়টা যদি আপনাদের কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তাহলে সেটা নিয়ে ভালভাবে জানুন। কেন এই ডিজিটাল বাংলাদেশে এই ধর্ষনের মাত্রা বেড়ে গেল। কেন ১১ বছরের বালক থেকে শুরু করে সব বয়সের পুরুষ ধর্ষনের আসামী হচ্ছে। সিস্টেমের কোন একটা সমস্যা তো আছে। সেটা বের করুন।

সদ্য কিশোর বয়সে পা দেয়া আমাদের ছোটদের বাঁচাই। তারা বাঁচলে সমাজটা সুন্দর হবে। লজ্জা করে লাভ নাই, আপনার আজকের লজ্জা কাল এই কিশোরদের অপরাধে ঠেলে দিবে। এই রকম লজ্জা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর

ওয়াজে হুজুররা বলে পর্দার আড়ালে মা-বোনেরা। এখন এই সমস্ত মেয়েদের দেখলে বলা লাগে "পর্দা আড়ালে ভয়ংকর নারীবাদীরা"।
আল্লাহ ই ভাল জানেন, কি উদ্দেশ্যে এরা বোরকা, নিকাব পরে। ভিতরে তো একেক জন ভয়ংকর নারীবাদী। যে কেউ এদের ধার্মিক ভেবে ভুল করে বসবে। আমি নিজে মেয়েটির ফেসবুক আইডিতে ঢুকে দেখেছিলাম। কৌতুহল ছিল যে, কিভাবে বোরকার আড়ালে মেয়েটা নারীবাদীর মতো কথা বলে। প্রমাণ সামনে, বর্তমান একজন আধুনিক মনস্ক মেয়েদের মতোই সে। গান শোনে রক ব্যান্ডের, সেটা আবার শেয়ারও করে। ওহ, হাউ কিউট নিকাবওয়ালি তুমি। শুধু অভিনয় করে বোরকা, নিকাব গায়ে জড়ায়ে চলে। তাই মানুষ প্রথমেই ভুল বোঝে।
এসবের থেকে একটা জিনিস বুঝে নেয়া উচিত, ব্যহিক লেবাস ভাল হলেই তার ব্যাপারে শতভাগ ভাল ধারনা করা উচিত নয়।

বাল্যবিবাহ বন্ধ করবেন ভাল কথা। আপনাদের বাল্য বয়স তো ১৮ পর্যন্ত। কিন্তু এই বয়স পর্যন্ত বাল্য প্রেম, বাল্য যৌনমিলন কেন ঠেকাচ্ছেন না? কেন পলিথিন মোড়ানো শিশু ডাস্টবিনে পাওয়া যায়? কেন ধর্ষণ বাড়ছে? কেন ইন্টারনেটে বাল্য যৌনমিলনের ভিডিওতে সয়লাব, যেখানে স্বেচ্ছায় তারা ভিডিও ধারণ করেছে? অসুখ হইছে ক্যান্সার রোগে, আপনি প্যারাসিটামল জোর খাওয়াচ্ছেন, আর বলছেন এটা জ্বর। ফলাফল সবার সামনে...

ধর্ষণের মতো অপরাধ নিয়ে যখন সবাই সোচ্চার, তখন কেন এই সব অবৈধ সম্পর্কের অপরাধ নিয়ে সোচ্চার হবেন না? এটা স্বীকার করা যায় যে, ধর্ষণ অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটা অপরাধ। কিন্তু এসব ডাস্টবিনে পড়ে থাকা শিশুকে কি বলবেন? এই শিশুদের কি হত্যা করা হচ্ছে না? এই রকম ঘটনাও তো কম না। এখন অহরহ হচ্ছে, শহরের চিপাচাপার ক্লিনিকগুলোতে খোঁজ নিলেই খবর বেড়িয়ে আসবে। প্রেমের নামে অবৈধ সম্পর্কের বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে চারিদিক। কোথায় যাবেন, কি দেখবেন? অশ্লীলতা যেন এক মহামারী। পত্রিকা, বিলবোর্ড, টিভি, ফোন এমন কোথায় নাই যে, এসব প্রমোট করা হয় না। ফল যখন প্রেমিকাকে ধর্ষণ করা তখন সবাই নিন্দা জানায়, ফাঁসি চায়। কিন্তু এসব শিশু যারা দুনিয়াতে আসার আগেই বা আসার সাথে সাথেই মেরে ফেলে দেয়া হচ্ছে ডাস্টবিনে বা ছাদ থেকে নিচে, তখন কেন সেসব বাবা মার ফাঁসি চাওয়া হয় না? কবি এখানেই নিরব। খুব বেশি দেরি নেই, যখন আপনার আপন কেউ এসবের মধ্যে পড়বে। তাই সময় থাকতেই সচেতন হোন। অশ্লীলতার চিহ্নটুকুও মুছে ফেলুন এবং মানুষদের সচেতন করুন।

হাসো, হাসাও!
দেশের এক জাতীয় দৈনিকের কিশোর ম্যাগাজিনে ছেপে এসেছে। প্রতি সপ্তাহেই কিশোর কিশোরীদের উদ্দেশ্যে ছাপানো হয়। এই "হাসো, হাসাও" লেখার চারিদিকে ছয়টা ছেলেমেয়ে গোল করে মাঠে শুয়ে আছে মুখে ক্লোজআপ হাসি নিয়ে। ফ্রি মিক্সিং প্রমোট করা যাকে বলে। পাতায় পাতায় কিশোরকিশোরীদের হাস্যোজ্জল চেহারা। দেখে মনে কত পবিত্র মুখ, কত পবিত্র তাদের মন! অথচ গত কয়েকদিন আগেই এক কিশোরীর লাশ মুখ থুবড়ে চট্টগ্রামে সমুদ্রের পাশে পড়েছিল। কোথায় গেল তখন হাস্যোজ্জল মুখ, কোথায় তোমাদের জাস্ট ফ্রেন্ডরা, কোথায় বন্ধু-আড্ডা-গান।।
তো লেখছিলাম "হাসো হাসাও" নিয়ে, হাসি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের লেখা। বিভিন্ন ব্যাখ্যা, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উপকারিতা। ইরেশ জাকের নামের এক অভিনেতা, সে নাকি খুব কমেডি করে। সে বলেছে, হাসানোর জন্য নাকি ব্যাপক পড়াশোনা আর চর্চা করে। যাক, খুবই ভাল কথা। শেষের দিকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের কিছু মানুষের হাসি নিয়ে উক্তি তুলে ধরেছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌, একজনও মুসলিম না।
তাহলে কি হাসা নিষেধ। ইসলাম কি হাসারর অনুমতি দেয় না! আহ, এরা কত বর্বর! আসলে বিষয়টা এমন না। ইসলাম হাসার বিপক্ষে না, মনুষ্য সুলভ আচরণকে ইসলাম মোটেই নিষেধ করে না। বরং ইসলাম বলে প্রত্যেকটা কাজের সীমারেখা করে দিয়েছে। এই সীমারেখা পার করলে মানুষের জীবনে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যাবে। দুনিয়ার মহামানব নবী মুহাম্মাদ (সা) ও পরিবার পরিজন, সাহাবীদের নিয়ে কৌতুক-মজা করতেন। তবে সেটা অবশ্যই সহনীয় পরিমানে। তিনিও কখনো কখনো হেসে দিতেন। তবে নবী সা. বলেছেন, আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে কম হাসতে আর বেশি কাঁদতে।
আচ্ছা, একজন মানুষ যে কিনা যে কোন মুহূর্তে মারা যেতে পারে, সে কিভাবে পাগলের মতো হাসতে পারে বা হাসি নিয়ে গবেষণা করতে পারে! তার মাথায় চিন্তা থাকবে মৃত্যুর পরেই তার সওয়াল জওয়াব শুরু হবে, তখন জবাব না দিতে পারলে তখন থেকেই কবরের আযাব শুরু হয়ে যাবে। এই চিন্তা মথায় থাকলে কি কমেডি শো দেখা সম্ভব! অথচ কমেডি শো, নাটক, সিনেমার প্রচুর দর্শক। আসলে যাদের জীবনে শান্তি নেই, তারাই খোঁজে কমেডি ধাচের উপরকণের।

দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়
রাস্তা ধারে ধারে বিলবোর্ডে, ডিভাইডারের ল্যাম্পপোস্টগুলোতে আরও যে কত জায়গায় এখন শুধু একটাই বিজ্ঞাপন। প্রচারণায় কি পরিমান টাকা ঢালে এরা চিন্তার বাহিরে।
তোমার যা কিছু এতদিন গোপন ছিল, সবকিছু দেখাও আর কয়েক টাকা আয় করো। এ যেন নষ্ট পল্লীর আধুনিক রুপ। ওখানে তাও একজনকে দেখায়, তাও আবার বন্ধ ঘরে। এখানে তো গোটা দুনিয়ার সামনে। এসব কি বলেন? ছি! ছি!!
ওহ, আমরা বললে ছি, ছি। কিন্তু টিভিতে ঠিকই হা করে পুরো ***** উপভোগ করো অন্তরে চোখের মাধ্যমে। তখন তো ছি, ছি মনে হয় না নিজের উপর।
আমার বুঝে আসে না, একজন মেয়ে তার শরীরের কিছু খোলা কিছু ঢাকা ভাজ দেখাবে আর দর্শক তাকে সম্মান করবে, এটা কিভাবে সম্ভব!!
মিডিয়া জগতের ভেতরের খবর কমবেশি সবাই জানে, তবুও কেন বিবেকবান মানুষ এসবের প্রতি ঝোকে?
কারণ তো অনেক। তবে এসবের মূলে আছে, দুনিয়ার আকর্ষণ আর আখিরাত সমন্ধে ভুলে থাকা। আপনি কখনও চিন্তা করেছেন, কাল যদি আপনার মৃত্যু হবে আপনি আগে থেকে জেনে যান তাহলে মানুষ কখনো এরকম কাজ করতে পারবে? বাঁচার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না, কিন্তু মরার নিশ্চয়তা সবাই দিবে। দুনিয়ার কোন মানুষই বেঁচে থাকবে না, তবুও বেঁচে থাকার জন্য এতকিছু।

তথাকথিত নারী স্বাধীনতার আসল চেহারা এরকমই। তারপরও আমরা বুঝি না। একজন নারীর শিক্ষিত হওয়াকে শুধু পুরুষদের সাথে প্রতিযোগীতা করা কেন বুঝায়? একজন নারীকে সাবলম্বি হওয়া মানে কেন পুরুষদের সাথে কাজ করা বুঝায়? এই 'কেন' এর উত্তরগুলো এরকমই হয়।

কেউ একজন লাইক দেয়াতে বিষয়টা চোখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্যাতন? আধুনিক সভ্যতার দাবিদারের অঞ্চলে এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে না। গেলাম নিউজের ভিতরে, একি! এতো অবাক কান্ড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতায় তাদেরই সহকর্মীরা এই কাজ করতো। বাহ! তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কি হয়েছে জানেন? বরখাস্ত করেছেন একজনকে, আর সর্বনিম্ন শাস্তি হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে, মানে সতর্ক করা হয়েছে।
বিচারের মান দেখুন সভ্যতার জনকদের। ধর্ষণের শাস্তি বরখাস্ত! তাদের দেশে মা-বোনদের ইজ্জতের দাম নাই। তারাই আমাদের দেশের মা-বোনদের ন্যায় বিচারের জন্য উঠেপড়ে লাগে।
সাংবাদিকদের ধন্যবাদ না দিলে হয় না। তারা অপরাধীর ছবি না দিয়ে নির্যাতিতার ছবি দিয়েছে। এমন ভাব এটা দেখে অপরাধীরা লজ্জায় মরে যাচ্ছে। আসলেই বর্তমান সাংবাদিকতার লেভেল দেখলে তাজ্জব বনে যেতে হয়। এই কয়েক সপ্তাহ আগে বগুড়ায় নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিতার ছবি কতবার ছাপানো হলো, অন্যদিকে সেই ধর্ষকের ছবি কতবার ছাপানো হলো, মনে করুন তো? যাই হোক, আসুন আমরা সভ্য আমেরিকার অসভ্য আচরণের খবর ফাঁস হওয়ার অপেক্ষা করি।


আজ এক আত্নীয়ের কাছে গিয়েছিলাম কুশলাদি জিজ্ঞেস করার জন্য। তখন দেখি পাশে এক টেলিভিশনে মহিলাদের ক্রিকেট খেলা দেখাচ্ছে। ছেলেদের মতো করে শক্তির পারদর্শীতা দেখিয়ে একজন বল করছে এবং অপর পাশে আরেক জন ব্যাটের দ্বারা সেই বলকে সীমানা পার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দর্শক মন ভরে দেখে যাচ্ছে। বাহ! কি চমৎকার নারী স্বাধীনতা! পুরুষের মতো খেলতে পারলেই যেন স্বাধীনতা পেয়ে গেল।
এই ছবিটি কাল দেখেছি। বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে। খুব আগাচ্ছে। আগে শুনতাম ক্যাম্পাসে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু খেলা খেলতে মেয়েরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও আসতো। হঠাৎ বাহিরে খাওয়ার জন্য গেলে জার্সি পরা মহিয়সী নারীদের দেখাও মিলতো। এরই ধারাবাহিকতায় ফুটবল চলে আসবে। আসাটাই স্বাভাবিক মনে হয়। যেখানে বিশ্ব মহিলা ক্রিকেট, ফুটবল কাপ হচ্ছে, সেখানে আমাদরে মেয়েরা খেলা চালিয়ে যাবে না তা মেনে নেয়া যায় না। আমাদের চেতনার কি হবে তাহলে! বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তো এজন্যই।
আজ হিজাব পরে ক্রিকেট খেলছে, কাল খুলে খেলবে, তারপর হাফ প্যান্ট পরেও খেলবে। বিশ্বের অন্য দেশের সাথে তাল মেলাতে হবে না!
এতো তাল মেলানোর পরেও ধর্ষণ, নির্যাতনের পরিসংখ্যান আগের বছরগুলোকে পার করে চলে যাচ্ছে। যারা এসবে যাচ্ছে তারা আরও বেশি ভুক্তভুগী। একবারও কি ভেবে দেখবেন না, কি লাভ হলো এই স্বাধীনতা অর্জন করে? কেন একজন করলেই আমাকে করতে হবে? আমার নিজের কি বিবেক, বুদ্ধি নেই? ...

আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন গ্রামীনফোন এবং আর টিভি মিলে সমকামীর মতো নিকৃষ্ট বিষয়ে নাটক বানিয়ে প্রচার করেছে। চিন্তা করুন পৃথিবীর অর্ধেক মানুষও যদি শুধু সম্মতি হয় সমাকামীতার বৈধতার জন্য, তাহলে ৫০বছর পরে হয়তো মানুষের অস্তিত্বও খুজে পাওয়া যাবে না। আপনারই ঘরে হয়তো তখন কোন সমকামী জন্মাবে আপনি টেরই পাবেন না।
একজন স্বামী যখন স্ত্রী বাদে অন্য নারীর দিকে বদনজরে তাকায় তখন তা হয় বিশ্বাসঘাতকতা। কিন্তু নারীকে ভাল লাগা এটা প্রাকৃতিক। কারণ পুরুষ তো নারীকেই পছন্দ করবে। কিন্তু অন্য নারীর প্রতি আকর্ষণকে যদি বৈধতা দেয়া হয় তাহলে পৃথিবীর কোন নারীকেই সে তার নজর থেকে বাদ দিবে না। এর ভয়বহতা চিন্তা করুন।
এটাতো গেল স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য হয়েও তার ভয়াবহতা। কিন্তু এই সমকামীতা? পুরুষ হয়ে পুরুষকে, মহিলা হয়ে মহিলাকে পছন্দ করবে? এর চেয়ে জঘণ্য মানসিকতা আর কি হতে পারে। আমাদের সবারই তো একই লিঙ্গের বন্ধু আছে যাদের জীবন দিয়ে ভালবাসি। কিন্তু তাই বলে কি তাকে দিয়ে দৈহিক চাহিদা মেটাতে হবে?
একজন পুরুষের জীবনে তার স্ত্রী এবং একজন নারীর জীবনে তার স্বামীর অভাব অন্য কোন মানুষ দ্বারাই মেটানো সম্ভব না। এমনকি ঐ স্বামী/স্ত্রী যদি অজ্ঞান হয়ে থাকে, তারপরও। আসলে এই সমকামীতার দিকে যারা ঝোকে তারা তাদের হালাল জীবনসঙ্গীর থেকে হয়তো শান্তি পায় নি বা পাওয়ার আশাও রাখে না, তাই বিকল্প রাস্তা খুজে নেয়। কিন্তু বিকল্প রাস্তা যে তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত করে ফেলবে সেটা বুঝেও বোঝে না।
এখন আপনার করণীয় কি? আপনি আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন এই নোংরা আবর্জনা থেকে। খেয়াল রাখুন কেউ যেন, সম্মতিসূচক কোন দয়া না দেখায়। আজ অবহেলা করবেন তো কাল আপনার ঘরেই এই আবর্জনা জমে যাবে, তখন আর কিছু করতে পারবেন না। ধর্মীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দিন। কোন ধর্মেই হয়তো এর বৈধতা নেই। গ্রামীনফোন ও আর টিভিতে পারলে অনলাইনে প্রতিবাদ করুন। এদের আজ ছাড় দিলে কাল আরও বেশি প্রচার করবে।

বিশ্ব নারী দিবস - ২
আমরা কি পেলাম?
এই যে নারী স্বাধীনতা নিয়ে কত শত পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, আন্দোলন, মিছিল, প্রাণ বিসর্জন ইত্যাদি হয়েছে, হচ্ছে, হবে, এতে কি ফল পেলাম আমরা। সামান্য একটু পরিসংখ্যান দেখি।
* বরাবরের মতো এবারও নারী স্বাধীনতার অভয়আশ্রম, প্রজননকেন্দ্র, উর্বরভূমি যাই বলি না কেন, আমেরিকা আবার সবচেয়ে ধর্ষণ বেশি হওয়া দেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
* প্রতিবেশি প্রগতীশীল দেশ ভারত, এবার ৪র্থ অবস্থান নিয়ে হয়তো আফসোস করছে। ভবিষ্যতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রচেষ্টা খবরে দেখে আমরা আশাবাদি। তবে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠদেশ যেখানে আংশিক শরীয়া আইন চলে সেগুলোর নামম, লিস্টে শেষেও নেই।
* বাংলাদেশেও ধর্ষণের হার দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।
* প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, আর্মি যেটাই বলি না কেন, শুধু বাংলাদেশেই ৩০শতাংশ মহিলা পুলিশ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। শতকরা ভাগ কম বেশি হতে পারে। কয়েক মাস আগের রিপোর্ট দেখতে পারেন। আর আমেরিকাতে এর শতকরা ভাগ যথাযথ আরও বেশি।
*প্রগতিশীল নারী মডেল, নায়িকাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। পত্রিকা পড়লে বোঝার কথা।
* তালাকের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক বেড়ে চলেছে। ফলাফল সন্তানরা খারাপ মনোভাব নিয়ে বেড়ে চলেছে। শুধু ঢাকাতে একমাসে কয়েক হাজার তালাক হয়েছে। পরিসংখ্যানটা মনে নাই।
* প্রগতিশীল দেশগুলোতে বিবাহ কমে গেছে। ফলাফল, জারজ সন্তান যাকে তারা ভালবাসার প্রতীক বলে, এর পরিমানও বেড়েই চলেছে।
* টিভি, চ্যানেলের নাটক, সিনেমাতে শুধুমাত্র নায়িকাদের উলঙ্গপানা বেড়েই চলেছে। কে কার চেয়ে বেশি উলঙ্গ হতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলছে সর্বত্র। এটাকে তারা সাহসী চরিত্রের অভিনয় বলে থাকে।
* শোনা যায়, ওয়েবসাইটে কুকর্মের ভিডিও সংখ্যাও নাকি বেড়ে চলেছে। ফলাফল, আত্মহত্যা বেড়ে চলেছে।
তাই বলে কি নারীরা ঘরে বন্দী হয়ে থাকবে?কোথাও যেতে পারবে না? নিজের স্বাদ-আল্লাদ বলে কিছু থাকবে না?
আমি কখনও নারীকে পরাধীন করে রাখার পক্ষে নই। তবে হ্যাঁ, তাকে এমন জায়গায়, এমন পরিবেশে স্বাধীনতার স্বাদ দিতে পক্ষপাতী করি যেখানে কেউ তার অসম্মান করবে না। এসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা অন্য একদিন হবে।
তবে নারী স্বাধীনতা বা সমঅধিকার না হয়ে, ইসলামে নারীকে যে অধিকার দিয়েছে সেই অধিকার নিশ্চিতকরণের পক্ষে আমি। এক বুযুর্গ বলেছিলেন, সৎ নারীর প্রকৃত মর্যাদা যদি পুরুষ জানতো, তাহলে তারাই নারী হওয়ার আবেদন করতো।

বিশ্ব নারী দিবস - ১
দুইদিন হলো দুইটা বিজ্ঞাপন দেখলাম ফেসবুকে। যেখানে নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। তখন ব্যাপারটা বুঝতেছিলাম না যে, কেন হঠাৎ করে নারীদের প্রতি এত দরদ উথলে উঠেছে। আজ পত্রিকা খুলে বুঝলাম আজ নারী দিবস।
বিশ্ব পুরুষ দিবস জানি কবে? আছে কি? মনে হয় নাই। যারা সারা বছর নারীদের সম্মান দেয় না, তারাই ঘটা করে দিন ঠিক করে নারীদের সম্মান দেয়। আমাদের চোখে আমাদের মা, বোন, স্ত্রী, মেয়ে এবং এর বাহিরে যারা আছে সবাই সম্মানিত। রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে মন্ত্রী সবাই সম্মানিত। হ্যাঁ, কিছু কাজ কর্মের জন্য অনেক নারীকে খারাপ চোখে দেখা হয়। এটা তো পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
অনেকেই হুজুরদের বলে তেঁতুল হুজুর। কারণ তারা নারীদের তেঁতুলের সাথে তুলনা করে, রাস্তা ঘাটের হিংস্র মানুষদের থেকে হেফাজত করতে চায়। এটাই তাদের দোষ। আমি বলি, ঐ তেঁতুল হুজুরদেরই শিক্ষক, ছাত্ররা কয়টা নারী ধর্ষণ করেছে আর আমাদের সুশীল সমাজের শিক্ষক, ছাত্ররা কয়টা ধর্ষণ করেছে। হিসাব সহজ। আজও স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির শিক্ষক, ছাত্ররা কি না করে তাদের ছাত্রী, সহপাঠিনী, সহকর্মীর সাথে তা কম বেশি সবারই জানা। অন্তত আমি নিজে এরকম অনেক ঘটনা জেনেছি, শুনেছি এবং প্রমাণও পেয়েছি। নিজের চোখেও অনেক কিছু দেখেছি। চোখ থাকতেও অন্ধ হবেন না।
আমার ঘরের নারীরা আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী মানুষ। তাদেরকে অন্য মানুষের কথায় অসম্মানিত করবো না। আসুন বুঝতে শিখি ভাবতে শিখি।

কয়েকদিন পরপর কিছু সুশীল সমাজের দাবিদারগুলো বিয়ের বয়স নিয়ে উঠে পরে লাগে। বয়স বাড়াতে হবে, অমুক করতে হবে তমুক করতে হবে। ওদের ক্ষমতা থাকলে বিয়েই বন্ধ করে দিতো। তারপর পাশ্চাত্যের অসভ্য জাতির মতো অফিসে, নাইট ক্লাবে, পার্কে, পথে-ঘাটে কুকুর-বিড়ালের মতো তাদের কামনা মিটাতো। যে বিষয়ে প্রধাননমন্ত্রীর সুপুত্র জয় বিয়ের বয়স নিয়ে লাফালাফির বিপক্ষে, সেখানে এসবের লাফালাফির টাইম আছে??
এখানে তিনটা ছবি দিয়েছি, সুশীল সমাজের পত্রিকার দুটো ছবি আছে। এক ছবিতে ১৮এর নীচে বাচ্চা হওয়ার সময় মৃতের সংখ্যা দেয়া আছে, এমন ভাব যেন ১৮এর পরে বাচ্চা হতে গেলে কেউ মরেই না। পরের ছবিতে পশ্চিমার এক ১২বছরের মেয়ে সুস্থ ভাবে সন্তান জন্ম দেয় যেখানে সন্তানের পিতার ১৩ বছর বয়স, অথচ আমাদের মেয়েরা নাকি আঠারোতেও বাচ্চা জন্মাতে অপারগ। সমস্যা হচ্ছে আমাদের এখানে ১৮এর পরেও অনেক মেয়ে মা হতে যেয়ে মারা যায়। এর কারণ অপুষ্টি, অশিক্ষা, ভুল চিকিৎসা অর্থাৎ জোর পূর্বক সিজার করা। হ্যাঁ, খবর নিয়েই বলছি। এ দেশের মতো পৃথিবীর কোন দেশেই এতো সিজার করে বাচ্চা জন্মায় না। সামান্য টাকার জন্য দেয় ইনজেকশন মেরে, তখন সিজার ছাড়া উপায় নেই। হ্যাঁ, মানছি গ্রামে অনেক সময় খুব ছোট বয়সে বিয়ে দেয়। এটা তাদের মেয়েদের সমন্ধে খারাপ ধারনার জন্য। তার মানে এই না যে ২০বছর হলেও আপনি বিয়ে দিবেন না।
আমাদের সমাজের মেয়েরা এখনো অনেক রক্ষণশীল, সে গ্রামের হোক অথবা ঢাকার। দেখেন না মিডিয়ার নায়িকাগুলোর অনেকে বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেয়। এখন বিয়ে করে সব মেয়ে ঘরমুখী হলে সুশীলদের সাথে রাস্তায় রাত কাটাবে কারা?? কারা মডেলিং এর নামে দেহ দেখিয়ে বিনোদন দিবে, কারা অলি-গলির ফাস্ট ফুডের দোকানে ভিড় জমাবে, কারা লিটনের ফ্ল্যাটে ভাড়া করবে??? ব্যবসার বিরাট ক্ষতি বোঝেন না??
আচ্ছা বিয়ে কি শুধু সন্তান উৎপাদনের মাধ্যম?? বিয়ে ছাড়া সন্তান জন্ম নেয় না??? তাহলে শেষের ছবিতে এসব সদ্য জন্মানো শিশু কেন ডাস্টবিনে পড়ে থাকে??? কেন প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে গর্ভাপাতের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে??? খোজ রাখেন?? না রাখলে বুঝে নিয়েন আপনার আশেপাশেও অনেকে কিশোর বয়সে পা রাখছে??? কে বাঁচাবে তাকে জঘন্য কাজ গুলো না করা থেকে?? আপনি তো তাকে ধর্মীয় শিক্ষা দেন নি, যে সে আল্লাহ্‌ র ভয়ে গোপনেও পাপ থেকে বিরত থাকবে। কেমনে ঠেকাবেন তাকে??? ডিজিটাল যুগে গোপনে পাপ করা কি যে সহজ তা নিজেও জানেন। উপায় একটাই যখনই কোন খারাপ কিছুর আভাস পাবেন, বিয়ে দিয়ে দেন। সে যে বয়সেই হোক। সব ঠিক চলবে পড়াশুনা নিজের বাড়িতে থাকা শুধু বিয়ে হয়ে থাকলো। ভাল লাগছে না যাও, তোমার বর/বউ এর সাথে দেখা করে/কথা বলে এসো। সমস্যা কি?? এতে পছন্দের পাত্র/পাত্রীও পাওয়া যায়। যাই হোক, ছবি গুলো দেখে চিন্তা করুন কি ঘটছে, আর কি ঘটা উচিত???


ছবিটি নিজেই তুলেছিলাম এক জাতীয় দৈনিক থেকে মাস খানেক আগে। পোস্ট দিবো দিবো করে সময় হয়ে উঠলো না। আবার কয়েকদিন আগে ফেসবুকে এক খবরে দেখে লিখার ইচ্ছা জাগলো। বিবিসি এর গত বছরের জরিপের ফল। এই সেই নাদিয়া যিনি ব্রিটেনের রাণীর জন্য তার জন্মদিনে কেক বানিয়েছিলেন। হিজাব পরে নারী স্বাধীনতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। মিডিয়া এনিয়ে বেশ স্বরব ছিল। ফলাফল কি হলো?? বর্তমান ভারতের স্বনামধন্য নায়িকা যে কিনা পূর্বে নীল জগতের মধ্যমণি ছিল, তার সাথে তুলনা করলো। শুধুই কি তুলনা?? সেই নায়িকার নামই উপরে লেখা হলো, অথচ মুসলিম নারী স্বাধীনতার মডেলকে নীচে নামিয়ে দেয়া হলো। এতে কি সম্মান বাড়লো না কমলো??? এক সম্ভ্রান্ত মহিলার সাথে সমাজের নিকৃষ্ট মহিলার তুলনা। মুসলিমরা নিরব তাকিয়ে রয়। এতো উদরতা দেখানোর পরও তাকে এক অনুষ্ঠানে অপমান করা হলো মুসলিম হওয়ার কারণে অথবা নিগ্রো হওয়ার কারণে। হ্যাঁ, তার পাশে বসতে অস্বীকৃতি জানায় এক মেয়ে, একটা নিউজের পেজে দেখেছিলাম। হায়রে!!! সেকুলার দেশ!!! অসম্প্রদায়িক দেশ। এই বর্ণবাদকে কেন্দ্র করে সাদারা আর কালোরা সংঘর্ষ লেগেই রাখে, একটু খবর রাখলেই টের পাবেন। যাই হোক, নাদিয়ার মতো চিন্তাশীল মা-বোনদের অনুরোধ জানাবো যে, কাউকে আদর্শ অথবা অনুসরণ করার আগে ভেবে দেখবেন, কেন তাকে অনুসরণ করবেন?? আসলেই কি সে অনুসরণযোগ্য?? হিজাব পরিধান করলেই পর্দা হয়ে গেল?? এখন আপনি ইহুদী-খৃস্টনদের মতো যা খুশি তাই করতে পারবেন??? ইসলাম আপনাকে সেই অনুমতি দেয়??? কাকে খুশি করার এতো প্রয়াস আপনার??? নিজের আত্মাকে??? সে তো শয়তানের কথায় উঠা বসা করে, নাকি সমাজকে, যে সমাজ এক মুহূর্তেই এক পতিতার সাথে তুলনা করে??? ভেবে দেখেন, আবেদন রইলো।

শুক্রবারের সকাল,
দিনটি শুরু হলেই মনের ভিতর কেমন কেমন যেন শুরু হয়। যেন কোনদিনের তুলনায় এদিনটিতে একটু বেশিই ভাল থাকতে মন চায়। কিন্তু কি চাইলেই সব পাওয়া যায় রে ভাই?? সকালে নাস্তা শেষে যখন দেশের একটা জাতীয় দৈনিক পত্রিকা হাতে নিলাম, হয়ে গেল সকালটা বরবাদ। প্রথম পেজের নিচের অংশতে দেশের এক নারী মডেল হিসেবে পরিচিত বোন, এক অশ্লীল ভঙ্গিতে আবেদনময়ী হাসি দেয়া তার ছবি ঝুলানো হয়েছে। যাহ! বিজ্ঞাপনটা কি এটাই তো মনে নাই। বিজ্ঞাপনেরর নাম দেখার জন্য আবার পত্রিকা খুলবো না। আমি বুঝি না এসব নারীই সমাজে মডেল নামে কিভাবে পরিচিত হতে পারে। মডেল মানে যাকে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করা হবে। কিন্তু আদ্যো কি তারা অনুসরণ যোগ্য?? যাক এসব পরে আলাপ হবে। আমি বলছিলাম মানে লেখছিলাম, প্রথম পেজেই কি এসব দিতেই হবে? মানলাম যে অনেক লোক এই ছবি খানা দেখে পণ্য নেয়ার জন্য আগ্রহী হবে। কিন্তু সবাই কি এধরনের ছবি আশা করে? পৃথিবীর সব মানুষকে একই পাল্লায় মাপা ঠিক হবে? এসব যে শুধু আজই দিয়েছে তা নয়, কিংবা শুধু যে পত্রিকাতে সীমাবদ্ধ তাও নয়। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই আজ এই অবস্থা। সামান্য একটা পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য নারীকে ছোট কাপড় পরিয়ে অর্ধ উলঙ্গ করে বিজ্ঞাপন দেয়ার মানেটা কি?? সেও তো কারো বোন, কারো মেয়ে, কারো হবু স্ত্রী, হবু মা। তাকে এভাবে নির্লজ্জ বানালো কে? আপনি কল্পনা করুন আপনার আপন কাউকে স্টেজে নিয়ে গোসল করার বাথটাবে ডুবিয়ে থাকা অবস্থায় সবাই দেখে উপভোগ করছে, আর আপনি খুশি হচ্ছেন। কেমন লাগবে? অথচ অন্য কেউ করছে পরোক্ষভাবে টেলিভিশন বা পত্রিকায় তখন ঠিকই তো উপভোগ করছেন।
যাই হোক, অন্য কথা লেখতে বসেছিলাম, লিখে ফেললাম অন্য কিছু। আসুন সচেতন হই।


সাম্প্রতিক মডেল-২
আরও লেখতে মন চাচ্ছে। ক্যামেরার সামনে দু একটা অঙ্গি ভঙ্গি দিয়ে দুনিয়া জিততে চায়, তারা জানে না মানুষ তাদের কি নজরে দেখে। মডেলরা তাদের খোলা বাহু, বুক, পিঠ,পায়ে কম কাপড় পরে। কিভাবে যে মানুষ তাকে সম্মানের চোখে দেখে? তার শরীরের খোলা অংশ দেখে একজন পুরুষ কিভাবে সম্মান দেয় তা সবাই জানে। আগে যখন ভারতের চলচ্চিত্রের পুরষ্কারের অনুষ্ঠানগুলো দেখতাম, সেখানে নারীকে সম্মান দেওয়ার নামে তার অভিনিত চলচ্চিত্রে কত অশ্লীল পোষাক পরে দর্শকের হৃদয় জয় করেছে এর জন্য পুরষ্কার দিতো। দর্শকের হৃদয় কেমন হয় যখন একজন নারীকে ছোট পোষাকে দেখে তা তার চোখই বলে দেয়। জীবন চলে যায় সময়ের গতিতে, এত কিছু চাই এই ছোট জীবনে যেমন- টাকা, বাড়ি, গাড়ি, সম্মান ইত্যাদি। কখনো কি মনে হয় না যে আমি যে এক ধর্মের মানুষ, সেই ধর্মটা নিয়ে একটু চিন্তা করে দেখি। হয়তো তাদের কাছে চিন্তা করার দাওয়াত কেউ দেয় না, আবার দিলেও তারা অন্য ভাবে দেখে। সবাই এরকম না, উদাহরণ নাজনীন আক্তার হ্যাপি। আহা! কি সাহসী মেয়ে সে। এই সময়ের মেয়েদের জন্য সে উজ্জল দৃষ্টান্ত। তার লেখা স্ট্যাটাস দেখে আমি অবাক না হয়ে পারি না। এই মেয়ে কিছুদিন আগে দুনিয়া নিয়ে, রুবেল নিয়ে পরে থাকতো, আর আজ সে ঐসব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। তার সাথে Add হওয়ার দরকার পরে নি। এমনিতেই অনেকে তার লেখা like দেয় আমার তালিকার অনেকে। এক ঈমানী শক্তিতেই সে তার পূর্বের চাকচিক্যময় জীবনকে দূরে ঠেলে ইসলামের রঙে নিজেকে রাঙিয়েছে। এতেও কি ঐসব নারীরা দাওয়াত পায় নি?? পেয়েছে, কিছু দাওয়াত মুখে নয় কাজে হয়ে যায়। ওরা ভাবছে সে বোকা, সে সব হারালো। সে কি পাইছে তা তোমরা বুঝবে না। তোমরা যাও র‍্যাম্পে হাঁটো, আত্নহত্যা করো। আর তোমরা সেই ছবি আর ভিডিওগুলোতে Like দিয়ে বেড়াও, যাও।


সাম্প্রতিক মডেল-১
লেখতে চাচ্ছিলাম একটা লেখছি আরেকটা। বিষয়টা গরম গরম তাই লেখলাম। বাঙালিরা গরম গরম সব কিছুর প্রতি ঝোক বেশি, সে খাবার হোক আর সাম্প্রতিক ঘটনা হোক একই রকম আগ্রহ দেখা যায়। ঘটনা হলো গতকাল এক বিজ্ঞাপনের মডেল/ নতুন প্রজন্মের মডেল আত্মহত্যা করার আগে Video Upload করে গেছে। মৃতব্যক্তির সমন্ধে খারাপ কথা বলা উচিত নয়। আল্লাহ্‌ তাকে মাফ করুক। আসলে আমার উদ্দেশ্য ঐসব মডেলদের প্রতি যারা নিজেদের কাজ নিয়ে গর্ব করে এবং ঐসব লোকদের প্রতি যারা তাদের অনুসরন করে। আমি কৌতুহল নিয়ে মডেলটার Facebook ID তে ঢুকেছি, দেখেছি তার সংক্ষিপ্ত জীবনের অর্জন। আহ! কত শত ঢং করে, ছোট-বড় কাপড় পরে ছবি গুলো তুলছে। কখনো সাধারণ দৃষ্টিতে কখনো অশ্লীল দৃষ্টিতে তার অনুভূতি গুলো সবার সামনে তুলে ধরেছে যা আমার চোখ দেখতে গিয়ে বার বার কেঁপে উঠেছে। অবাক বিষয় যে, তার প্রিয় সেই মানুষটির Facebook ID চেষ্টা করেও খুঁজে পাই নি, যার জন্য তার এ অবস্থা। হয়তো Deactivate করেছে। আমি তো এখনো তার নাম দেখে বুঝতে পারলাম না ছেলেটা হিন্দু না মুসলমান। সে যাই হোক, কথা হলো এ অবস্থা শুধু এই মডেলের না তথাকথিত নারী স্বাধীনতা নিয়ে যারা বাইরে কাজ করছে বেশির ভাগেরই একই অবস্থা। আজ থেকে প্রায় ১০-১২ বছর আগে তিন্নি নামের এক মডেলের আত্মহত্যা কি হত্যার খবর প্রথম শুনেছিলাম। এদের জীবনযাপন ভাবলে গা ঘিনঘিন করে ওঠে। কয়েকদিন আগে শুনলাম এক Tv Reporter মেয়ে নাকি চতুর্থ বার বিয়ে করেছে। এই মিডিয়া জগতে এসে কত নারীর জীবন, সংসার সব নষ্ট হয়েছে তা একটু পরিসংখ্যান করলেই টের পাবেন। বলবেন যে ছেলে করলে কোন সমস্যা নাই, মেয়ে করলেই দোষ? আপনি নিজের মা-বোনকে একবার ঐজায়গায় ভাবুন। এগুলো বললেই তো দোষ সব হুজুরদের। দেখেন গুনাহ কখনো আপনার জীবনকে সুখী করবে না, হ্যা সাময়িক আনন্দ দিবে। কিন্তু আপনার আত্মা তৃপ্তি পাবে না। এই মডেলটিও কারও বোন কারও মেয়ে। তার পরিবার এখন কি অবস্থায় আছে তা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানে। ইশ! কতই না আশা ছিল ছোট থেকে এই হবে ঐ হবে, আর আজ লাশ হয়ে গেল। জীবনটা অনেক ছোট এর মূল্য বোঝার জন্য। আসুন আমার আশে পাশের মানুষদের এসব থেকে দূরে থাকার নসিহত করি এবং নিজেরা সকল মডেলদের Page গুলো Unlike করি। আমাদের প্রিয়জনদেরকে তাদের সাথে তুলনা না করি।


ভেজাল/ফরমালিন হাঁসি
আপনি কখনো বিজ্ঞাপন ফলকের (Billboard) মেয়েগুলোর বাঁকা ঠোঁটের হাঁসি দেখেছেন? দেখারই কথা। এসব আমাদের চোখে পরার জন্যই তো রাস্তার মোড়ে মোড়ে, বড় দালানগুলোর ছাদে ছাদে ঝুলানো হয়।তাদের হাঁসিগুলো দেখে আপনি ভাবেন যে আপনার কাছের মানুষটি যদি ঐভাবে হাসতো কতই না ভালো লাগতো। আহা! কতই না সুন্দর সেই হাঁসি, সেই প্রাণ জুড়ানো হাঁসি। বিশ্বাস করুন এই হাঁসিগুলোর মধ্যে ১% সত্যতা নাই, ভেজাল সম্পূর্ণটাই ফরমালিনের ভেজাল। এই হাঁসি তারা টাকার বিনিময়ের, কৃত্রিমভাবে তাদের অনুভূতিগুলোকে বানিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আপনাকে আনন্দ দেয়ার। আর আপনিও সেই নকল,ভেজাল হাঁসি দেখে গুলগুলা।শুধু কি বিজ্ঞাপন ফলক, নাহ! পত্রিকা, পোস্টার, টিভি, ইন্টারনেট সর্বত্র এইসব ভেজাল বিনোদন দিয়ে ভরা। এই সব দেখে কি আপনার, নিজের বাসায় অপেক্ষা করা মানুষটির কথা ভাবেন? যখন আপনি ঘরে প্রবেশ করলে সেই মানুষটি যে হাঁসি দেয় সেটার মর্ম বুঝবেন? বাবা-মা'র কাছে গিয়ে তাদের সাথে গল্প করলে যে হাঁসি তারা দেয় সেটার সত্যতা, ছোটদের জন্য চকলেট নিয়ে গেলে তাদের হাঁসির পবিত্রতা, অনেক দিন পর বন্ধু আপনাকে দেখলে বুকে জড়িয়ে নিয়েয়ে যে হাঁসি দেয় সেই আসল হাঁসির মূল্য আপনি বুঝবেন না। তাদের হাঁসিগুলো টাকায় কেনা নয়, তাদের হাঁসি আপনার প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকাশ করে। আহা! কত নির্ভেজাল, কত বিশুদ্ধ। আর আমরা এসব বাদ দিয়ে হাঁসির জন্য, বিনোদনের জন্য মিরাক্কেল দেখি, কৌতুকের নাটক, চলচ্চিত্র দেখি। না দেখেই কি উপায় আছে! আমরা ডিজিটাল হচ্ছি, তাই হাঁসিটাও ডিজিটাল। সারাদিন ভেজাল খাওয়ার মতো ভেজাল হাঁসি, বিনোদন আমাদের প্রকৃত অনুভূতি গুলো থেকে লক্ষ, কোটি মাইল দূরে রাখছে। আসুন দূরত্ব কমাই, হাসি ফরমালিন মুক্ত প্রকৃত হাঁসি।

তনু ও তার মতো বোনেরা
এখানে দুই গুনাহ/জঘন্য কাজ/অপরাধ হয়েছে। এক ধর্ষণ, দুই নৃশংসভাবে হত্যা। ভেবে দেখুন মানুষ কতটা নির্দয় হলে এরকম হতে পারে। এসবের জন্য অনেকাংশে আমরাই দায়ী। আমরাই আইটেম গান নিয়ে পরে থাকি, অশ্লীল সিনেমা দেখি,আমরাই তো কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ভরে ভরে পর্ন ছবি, ভিডিও রেখে দেই, আমাদেরই আশেপাশে বিজ্ঞাপনের নামে বিলবোর্ড,পোস্টার গুলোতে মডেল গুলোর বাকা দেহের আকর্ষনীয় চেহারার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি। আমাদের সমাজেই পুরাতন ধর্ষকরা যখন শাস্তি না পেয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় তখনই নতুন ধর্ষকের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা নিয়ে সমাজের পরিত্যক্ত কিছু লোকেরা বলছে যে, হিজাব পরেও মেয়েদের রক্ষা নাই। আমার মনে হয় এই আপু হয়তো পূর্ণ হিজাবের ব্যাপারে জানতে পারি নি। ইসলামে এই রকম হিজাবের কথা বলা নাই। ইসলাম শুধু হিজাবই না, ইসলাম বলে একজন মেয়ে বাহিরে বের হবে এমন মাহরাম(যার সাথে বিবাহ নিষধ) ব্যক্তির সাথে, যে এই মেয়েটির জান,ইজ্জত রক্ষার্থে নিজের জীবন পর্যন্ত দিতে পারে। ইসলাম বলে মেয়ে পর্দা করে বের হবে এবং যেসব ব্যক্তি(পুরুষ/মহিলা) নির্যাতন, ধর্ষন, যেনা, পরকিয়া করবে তাকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। আমাদের একদল শুধু পর্দার কথা বলে আরেক দল শুধু শাস্তির কথা বলে। এই দুটোর সমন্বয় করতে কেউ করতে বলে না। আমরা উন্নত দেশের সাথে নিজেদের তুলনা করি। ওদের দেশে বেশির ভাগ ধর্ষনের মামলা থানায় গ্রহণই করে না। ওখানে ১৪-১৫বয়স হওয়ার আগেই বেশির ভাগ যৌন নির্যাতন/ধর্ষনের শিকার হয় তাও আবার নিকট আত্মীয় ও বন্ধুদের দ্বারা। এর পরের পরিসংখ্যানগুলো আরও ভয়াবহ। ওগুলো ইচ্ছা করে মনে রাখি না, বিষয়টা ভাবতেই খারাপ লাগে। ইন্টারনেটে ২টা ক্লিক মারলেই পাবেন। আমি ভাবছি শুধু তনুকে নিয়েই এতো লাফালাফি কেন? দেশে তো প্রতিনিয়ত ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। যাই হোক জনগন যদি এটাকে কেন্দ্র করেই সচেতন হয় তবে সেটাই বা খারাপ কিসের। আসুন আজ এখন থেকেই নিজের ঘর থেকে ধর্ষনের রাস্তা বন্ধ করি। খারাপ কিছু দেখা, শোনা, করা থেকে নিজে বিরত রাখি অন্যকে রাখার চেষ্টা করি।

আপনি যদি রাস্তার সব নারীর দিকে তাকিয়ে থাকেন, তাহলে কিভাবে আপনার ঘরের নারীকে ভাল লাগবে??
কারণ কারও চেহারা ভাল তো কারও চুল, কারও চোখ তো কারও নাক,,, আর বেশি দূর যাব না। স্রষ্টা তাদের সৃষ্টিই করেছে এভাবে। আপনার ঘর সুখের হবে কিভাবে? ভাবুন একজন নিজে না খেয়ে শুধুই আপনার জন্য, আপনার আসার পথের পানে চেয়ে থাকে। তাতে কতোই না ভালবাসা লুকিয়ে থাকে, সেটার কথা চিন্তা করুন। ভাল লাগবে। একটু চিন্তা করুন,
" আপনার আলমারিতে যে সব জিনিস থাকে তা কোন কাজে আসে না শুধু প্রদর্শনই হয়, কিন্তু রান্নাঘরে যে সব জিনিস থাকে তা ছাড়া আপনি চলতেই পারবেন না।"
এবার হিসাব মিলাতে থাকুন।

মানুষ বনাম জানোয়ার
আমাদের আশেপাশে তাকালে দেখা যায়, অনেক জীবিত, মৃত প্রাণী,উদ্ভিদ,জড় বস্তুদের সাথে আমরা বসবাস করি। এর মধ্যে মানুষই সর্বোচ্চ ক্ষমতাধারী,বুদ্ধি সম্পন্ন প্রাণী। কারণ মানুষ চিন্তাশীল, সব সময় নতুন কিছু খোঁজা ও আবিষ্কারের কাজে ব্যস্ত থাকে।
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের মধ্য অনেক মিল আছে। যেমন- দু'জনেরই ক্ষুধা লাগে, দু'জনেরই বাসস্থানের দরকার হয়(ব্যতিক্রম আছে), দু'জনেরই ক্লান্তি আসে, ঘুমের প্রয়োজন হয়, মল-মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হয়।
কিন্তু
মানুষ বেশীর ভাগ সময় খাবার প্রক্রিয়ারর মাধ্যমে খায়, উন্নত মানের বাসস্থানে থাকে এসব প্রাণীরা করতে পারে না।
কিন্তু
অনেক মানুষ উপরের দু'টো ঠিক করলেও কয়েকটা বিষয়ে জানোয়ারের সাথে নিজেদের মিল রাখতে চায়। যেমন- স্রষ্টা প্রাণীদের লজ্জা নিবারণের জন্য গায়ের লোম বড় দিয়েছে, কিন্তু মানুষের সেই লোম নাই, তারা কাপড় পরে লজ্জা নিবারণ করে।এরপরও অনেক মানুষ জানোয়ারের সাথে মিল রাখতে প্রতিনিয়ত কাপড় খোলার প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে। প্রাণীরা তাদের মল-মূত্র ত্যাগ করে যেখানে সেখানে খোলা জায়গায়, দাঁড়ানো অবস্থায়।তাদের পরে পরিষ্কার হওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মানুষ সাধারণত গোপনে উপযোগী পরিবেশে, বসা অবস্থায় করে। এখানেও অনেক মানুষ জানোয়ারের মতো যেখান সেখানে, দাঁড়িয়ে, পরিষ্কার না হয়ে থেকে যায়। হ্যাঁ ইউরোপ, আমেরিকা সহ অনেক উন্নত দেশে উন্নত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তারা বেশির ভাগ এই কাজ করে। আমরাও ওদের সাথে মিল রাখতে জানোয়ার হওয়ার জন্য চেষ্টার ত্রুটি করি না। আসুন একবার মানুষ হই।
বি:দ্র: যেখানে মানুষকে প্রাণী বানিয়েছি, সেখানেই জানোয়ার লিখেছি। আমি জানি জানোয়ার কোন সময় প্রয়োগ করা হয়।


     

 
 
 

আমার_নবী_৩

মানুষ জন্মের পর থেকেই অনুকরণ প্রিয় । প্রথমেই সে মা-বাবার অনুকরণ করা থেকে শুরু করে । এরপর আত্মীয়-স্বজন , প্রতিবেশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের অন্যান্য মানুষদেরও অনুকরণ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে । আবার কোন কোন অনুকরণীয় ব্যাক্তির অনুকরণ জীবনের পথ চলায় সফলতা বয়ে আনে, আবার কারও অনুকরণে জীবনে দুঃখ বয়ে আনে । সবসময় মাথায় চলে কারও মতো হতে অথবা কাউকে ছাড়িয়ে যেতে । তাহলে এই অনুকরণ বা অনুসরণের মাপকাঠি কি ? কাকে নিশ্চিন্তভাবে অনুসরণ করলে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতের জীবনে ভালভাবে থাকা যাবে ? এই উত্তর একমাত্র সেই বলতে পারবে যিনি আমাকে-আপনাকে সহ পুরো সৃষ্টিজগতের সৃষ্টিকর্তা , মহান রাব্বুল আলামিন। তিনিই যুগে যুগে তাঁর বান্দাদের সঠিক পথে চলার জন্য নবী-রাসুলদের আদর্শ হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন । সেই ধারাবাহিকতায় শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা) এর আগমন ।
বিশ্ব মানবতা যখন ধুকে ধুকে মরছিল, সাধারণ নাগরিক ও গরীব শ্রেণী যখন নির্যাতিত, নিষ্পেষিত জীবন-যাপন করছিল। শাসক ও ধনীশ্রেণীদের ভোগ-বিলাস ও অপরাধ প্রবণতা চূড়ান্তত সীমায় পৌঁছেছিল। তখন পুরো সৃষ্টিজগত আলোকিত করে, রহমত ও বরকত নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হলেন মানবতার মুক্তির দূত সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি এসে মানবতাকে নতুন জীবন দান করলেন, দুনিয়ার নকশাই পরিবর্তন করে দিলেন। দুনিয়া নিজেকে চিনলো নতুন আরেক রুপে, যে রুপ পবিত্র ও শান্তি নিশ্চিত করে।
মানুষের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে একজন মানুষ কতটা ভাল হতে পারে, তার সর্বোচ্চ স্তরে তিনি পৌঁছে দেখিয়েছেন। যদি শুধু দয়ালু গুণটা নিয়ে আলোচনা করি তারপরও পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা যাবে । এখানে কয়েকটা ঘটনা উল্লেখ করি।
মাক্কী জীবনে যখন তায়েফে দাওয়াতের জন্য গমন করলেন, তখন তায়েফবাসী দাওয়াত গ্রহণ করলোই না, উল্টো উনাকে রক্তাক্ত করলেন। এরপর যখন জীব্রিল (আ) আগমন করলেন এবং তায়েফবাসীর শাস্তি দেয়ার অনুমতি চাইলেন, তখন তিনি(সা) অনুমতি তো দিলেনই না, উল্টো তাদের জন্য হেদায়েতের জন্য দুয়া করলেন।
আবার মক্কা থেকে যখন মদীনায় কুরাইশদের ভয়াবহ নির্যাতন থেকে বেঁচে কঠিন বিপদ পারি দিয়ে এসে প্রথম যে ভাষণ দিলেন, সেটাতে না কোন আক্ষেপ ছিল, না ছিল হতাশা।
খায়বারের যুদ্ধের সময় যখন ইহুদী মহিলা তাকে(সা) বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করতে চাইলেন, ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি(সা) ক্ষমা করে দেন ।
মক্কা বিজয়ের পর তাঁর সবচেয়ে ঘোরতর শত্রুগুলোকে শুধু এজন্য ক্ষমা করে দেন যে, তারা ইসলাম কবুল করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম ক্ষমার দৃষ্টান্ত একটিও নেই।
আসুন নবী(সা)কে জানি, নিজের আদর্শকে চিনি । নবী (সা) এর সীরাত বেশি বেশি পাঠ করি ।

Friday, November 22, 2019

Prio Nobi

সৃষ্টিকুল যেন সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে এই মাসের সেই সময়ের অপেক্ষায় ছিল। মানবতার সর্বোচ্চ প্রকাশ তাঁর দ্বারাই হয়েছে। আপনার আমার সাথে যার হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরের সম্পর্ক। আচ্ছা, কখনো কি জানতে ইচ্ছা করে না মানুষটা পুরো জীবন সমন্ধে? যিনি দেখায়ে গেল আলোর পথ, অন্ধকারের ভাগাড় থেকে মানবতাকে হাত ধরে তুলে এনে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছালেন। তিনিই তো আরবের জাহেল লোকগুলোকে পৃথিবী বিখ্যাত বানালেন, না জ্ঞান-বিজ্ঞান দিয়ে, আর না নতুন কোন আবিষ্কার দিয়ে। তাঁদের শেখালেন মানবতার কৌশল, সেখালেন কি করে স্রষ্টার সন্তুষ্টিতে সৃষ্টি বদলায়।
পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলো পড়তে যেয়ে কতজনেরই না জীবনী পড়া হয়ে গেল, শুধু আমার আপনার হৃদয়ের মানুষটারই জীবনীই বাদ পড়ে গেল? বড় অমানবকি হয়ে গেল না ব্যাপারটা? এখনো সময় শেষ হয় নি। এই পবিত্র মাসে রবিউল আউয়াল উদযাপন করতে, ঈদ' ঈদ না চিৎকার দিয়ে, যার জন্য এই উৎসব, তাঁকেই ভাল করে চিনি। বাস্তব জীবনেও কাউকে ভালবাসতে গেলে ভালবাসার মানুষটির ভাল লাগা না লাগা, সব রকম আবদার আমরা মাথা পেতে নিই। অথচ প্রাণপ্রিয় মানুষটিকে ভালবাসার বেলায় কেন এত কার্পণ্য?

যদি বলা হয় ইতিহাস কি ও কেন প্রয়োজন৷ এটা কি শুধু কিছু গল্প-কাহিনী, যা শুধু বিনোদন দিবে? নাকি শিশুদের ঘুম পাড়িয়ে দেয়ার মাধ্যম? নাকি একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনের উপকারি মাধ্যম? নাকি একটা জাতি গঠনের কার্যকরি চেতনা?
ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গেলে বলা যায়, ইতিহাস পাঠে পাঠক তার জাতির ঐতিহ্য ও অতীতের গৌরবজনক অধ্যায়গুলো সম্পর্কে জানতে পারে। পাঠকের সাহস বৃদ্ধি পায়। জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্তর থেকে দুশ্চিন্তা ও চিন্তাক্লিষ্টতা দূর হয়ে যায়। সত্য চেনার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মতো অন্তর্দৃষ্টি ও মনোবল বৃদ্ধি পায়। পাঠক সে জাতির অতীত কর্ণধার ও নায়কদের উন্নত চরিত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়। জাতির কোন বিপদসময় সে পিছপা হয় না, বরং আত্মবিশ্বাসে পূর্ণ থেকে সমস্যার মোকাবেলা করে।
আলহামদুলিল্লাহ। পৃথিবীর জাতি সমূহের মধ্যে মুসলমানই একমাত্র জাতি, যার রয়েছে সর্বাধিক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য। মুসলমানদের পূর্বে পৃথিবীর অন্য কোন জাতির সৌভাগ্য হয়নি যে, ইতিহাসকে একটা সঠিক ভিত্তির উের রীতিমত একটা শাস্ত্ররুপে দাঁড় করাবে। অন্যান্য জাতির কেউই তাদের পূর্বপুরুষদের সঠিক ইতিহাস রচনায় সমর্থ হয় নি। মুসলমানগণ যেভাবে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে কুরআন ও হাদীসকে বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণ করে এসেছে। তাঁরা ঠিক পরবর্তীতে ইতিহাসও সংরক্ষণ করে আসছে। ইতিহাসের ঘটনা বর্ণনা ও সংরক্ষণের যে পদ্ধতি তৈরী করেছে, ইতিহাসের অন্য কোন জাতির মধ্যে এরকম নযীর আর নেই। আর না কেয়ামত পর্যন্ত আসবে।

সৃষ্টিকুল যেন সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে এই মাসের সেই সময়ের অপেক্ষায় ছিল। মানবতার সর্বোচ্চ প্রকাশ তাঁর দ্বারাই হয়েছে। আপনার আমার সাথে যার হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরের সম্পর্ক। আচ্ছা, কখনো কি জানতে ইচ্ছা করে না মানুষটা পুরো জীবন সমন্ধে? যিনি দেখায়ে গেল আলোর পথ, অন্ধকারের ভাগাড় থেকে মানবতাকে হাত ধরে তুলে এনে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছালেন। তিনিই তো আরবের জাহেল লোকগুলোকে পৃথিবী বিখ্যাত বানালেন, না জ্ঞান-বিজ্ঞান দিয়ে, আর না নতুন কোন আবিষ্কার দিয়ে। তাঁদের শেখালেন মানবতার কৌশল, সেখালেন কি করে স্রষ্টার সন্তুষ্টিতে সৃষ্টি বদলায়।
পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলো পড়তে যেয়ে কতজনেরই না জীবনী পড়া হয়ে গেল, শুধু আমার আপনার হৃদয়ের মানুষটারই জীবনীই বাদ পড়ে গেল? বড় অমানবকি হয়ে গেল না ব্যাপারটা? এখনো সময় শেষ হয় নি। এই পবিত্র মাসে রবিউল আউয়াল উদযাপন করতে, ঈদ' ঈদ না চিৎকার দিয়ে, যার জন্য এই উৎসব, তাঁকেই ভাল করে চিনি। বাস্তব জীবনেও কাউকে ভালবাসতে গেলে ভালবাসার মানুষটির ভাল লাগা না লাগা, সব রকম আবদার আমরা মাথা পেতে নিই। অথচ প্রাণপ্রিয় মানুষটিকে ভালবাসার বেলায় কেন এত কার্পণ্য?

Collected- সীরাত পাঠের উদ্দেশ্য

রামাজান বুতি | মুনশী নাঈম :
‘সীরাত’ শব্দটা বহুল ব্যবহৃত এবং আলোচিত হলেও ‘ফিকহুস সীরাত’ শব্দটা ততটা আলোচিত নয়। কিন্তু একজন সীরাত পাঠকের শব্দ দুটো সম্পর্কে অবগত থাকা সবচে বেশি প্রয়োজন। ‘সীরাত’ এবং ‘ফিকহুস সীরাত’ দুটো এক জিনিস নয়। দুটোর মাঝে বিস্তর একটা ফারাক আছে। সেই ফারাকটাই স্পষ্ট করছি।
‘সীরাত’ হলো একজন মানুষের জীবন বা কোনো ঘটনার সাধারণ ধারাবাহিক বর্ণনা। এখানে জন্ম, মৃত্যু,  বাল্যকাল, যৌবনকাল, শিক্ষা-দীক্ষা ইত্যাদীর সরল বর্ণনা থাকে। এই হিসেবে সীরাত হলো হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুরো জীবনের সরল বিবরণ। কাল এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা ও যোগসূত্র থাকুক কিংবা না থাকুক।
‘ফিকহুস সীরাত’ হলো একটা জীবনকে সামগ্রিকভাবে দেখা। মানে জীবনের প্রতিটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র তৈরী করা। গভীরভাবে নিরীক্ষার মাধ্যমে তার সম্পূর্ণ জীবনকে একটা কার্যকারণসূত্রে ব্যাখ্যা করা। এই হিসেবে ‘ফিকহুস সীরাত’ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুরো জীবনকে শুধু ইতিহাস হিসেবে না পড়ে বরং ইতিহাস পাঠের ভেতর দিয়ে তার জীবনের নীরিক্ষা ও তত্ত্বায়নের মাধ্যমে একটি ঘটনার সাথে আরেকটি ঘটনার যোগসূত্র এবং প্রাসঙ্গিকতা তৈরী করা। শুধু ইতিহাস নয়, ইতিহাসের যাত্রার সাথে কোরআন হাদীস মিলিয়ে বর্তমানের সঙ্গে একটা সেতুবন্ধন তৈরী করে দেয়া।
সীরাতের তুলনায় ফিকহুস সীরাত নিয়ে কাজ কম হয়েছে। কিন্তু যতটুকু কাজ হয়েছে এরমধ্যে বিখ্যাত সিরিয়ার লেখক রমজান বুতির লেখা ‘ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ’। গ্রন্থটির শুরুতে সীরাত পাঠের পদ্ধতি নিয়ে নাতিদীর্ঘ একটি আলোচনা আছে। আলোচনার কিয়দাংশ তুলে ধরছি।
সীরাত পাঠের উদ্দেশ্য
সীরাত পাঠের উদ্দেশ্য কেবল ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ কিংবা নবী জীবনের চমৎকার সব গল্প পড়া নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে তার পূর্ণাঙ্গ জীবনটাকে দেখা। শুধু ঘটনা পরম্পরা নয়, এই পরম্পরা থেকে প্রকৃত ইসলামের রূপটাকে অনুধাবন করা। সামগ্রিক জীবনকে নীরিক্ষা করার উদ্দেশ্যে সীরাত লিখতে গিয়ে কয়েকটি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
১. জীবন ও পরিবেশের আলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যক্তিত্বকে বুঝা। যেন নিজের ভেতরে বিশ্বাস জন্মে—তিনি নিছক কোনো নেতা কিংবা বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী ছিলেন না, যে নেতৃত্ব ও প্রতিভার যোগ্যতায় তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে বরণীয় হয়েছেন। বরং সবকিছুর পূর্বে তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত রাসূল; ওহি এবং বিশেষ শক্তির বলে তিনি তাকে সুউচ্চে তুলে ধরেছেন।
২. জীবনের সর্বক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেন সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে মানুষের সামনে ফুটে উঠে। তাহলে তারা তাকে আদর্শ হিসেবে নিতে পারবে। এই আদর্শকে আকড়ে ধরে পথ চলতে পারবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ সর্বোত্তম আদর্শই খুঁজে বেড়ায়। তাই আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘রাসূলের মধ্যেই রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।’ (সূরা আহযাব: ২৩/২১)
৩. সীরাত পাঠ কোরআন বুঝতে এবং তার নিগূঢ় রহস্য উদঘাটন করতে সাহায্য করে। কেননা কোরআনের বহু আয়াতের ব্যাখ্যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে হয়ে থাকে।
৪. সীরাত পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলমান আকিদা, আহকাম এবং আখলাকসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করবে। কারণ এতে সন্দেহ নেই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন হলো ইসলামের সকল মূলনীতির সর্বোত্তম প্রকাশিত রূপ।
৫. সীরাত পাঠের মাধ্যমে ইসলামের  দাঈগণ তালীম-তারবিয়াতের জীবন্ত উপমা লাভ করবেন। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দাওয়াতের প্রচারে সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করেছেন।
এই সব উদ্দেশ্যগুলোই সফলভাবে অর্জিত হবে সীরাত পাঠের মাধ্যমে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে মানবিক এবং সামাজিক সকল শাখার সুন্দর সম্মিলন ঘটেছে। তাই সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্যই তার জীবনীতে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।
সীরাত লেখার শুরু
সীরাতকে কেন্দ্র করেই মুসলিম ঐতিহাসিকগণ সর্বপ্রথম ইতিহাস রচনা শুরু করেন। তারপর ধারাবাহিকভাবে পরবর্তি যুগের ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করা হয়। এমনকি ইসলামপূর্ব যুগের ইতিহাসও সীরাতকে কেন্দ্র করেই লেখা হয়েছে। যেমন জাহেলী আর ইসলামী যুগ পার্থক্যের মানদন্ডই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মকাল। মোটকথা, সীরাতুন্নবী শুধু আরব উপদ্বীপই নয় বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
হাদীসের কিতাব লেখার পরেই শুরু হয়েছে সীরাত লেখার কাজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেঁচে থাকতেই শুরু হয়েছিল হাদীস লেখার কাজ। যদিও সাহাবিরা সবসময়ই সীরাতের আলোচনা করতেন, কিন্তু সীরাত লেখার কাজ শুরু হয়েছে আরও অনেক পরে। ব্যাপকভাবে সীরাত লেখার প্রতি সর্বপ্রথম গুরুত্ব দিয়েছেন উরওয়া ইবনে যুবায়ের (মৃ:৯২ হি.)। এরপর আবান বিন উসমান (মৃ: ১০৫ হি.)। এরপর ওহাব বিন মুনাব্বিহ (মৃ:১১০ হি.) এরপর শুরাহবীল ইবনে সাদ (মৃ: ১২৩ হি.) এরপর ইবনে শিহাব যুহরী ( মৃ: ১২৪ হি.)। সীরাতের ইতিহাসে এরাই অগ্রজ আমাদের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো এদের কোনো সীরাতগ্রন্থ আমাদের পাছে পৌঁছেনি। তবে তাদের মধ্য থেকে ওহাব ইবনে মুনাব্বিহের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন কিছু বক্তব্য আল্লামা তাবারি রহ. বর্ণনা করেছেন।
এরপর যারা সীরাত লিখেছেন, তাদের মধ্যে সবচে অগ্রজ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (মৃ: ১৫২ হি.)।
এইসব সীরাত গ্রন্থ লেখার তথ্য-উৎস ছিলো তিনটি। ১. কোরআন ২. হাদীস ৩. ঐসব রাবি, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের প্রতি ব্যাপকভাবে গুরুত্ব দিতেন, তাদের বর্ণনা।
সীরাত লেখার ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতি ছিলো—হাদীস শাস্ত্রের মতো সনদ ও মতন এর শুদ্ধতা যাচাই করে নিয়মনীতির আলোকে গবেষণা করা। রিজালশাস্ত্রের অনুসরণ করা। কিন্তু এই নিয়মনীতির ওপর ভিত্তি করে নতুন আহকাম বের করা, বর্তমান সমস্যা সমাধানে ফলাফল বের করার সাথে ইতিহাসের কোনো সংযোগ নেই। এটা স্বতন্ত্র একটা কাজ। সীরাতে নববির ঘটনাবলীর ওপর ভিত্তি করে আকিদা এবং আচার-আচরণের অনেক আহকাম উদ্ভাবিত হয়েছে।
কীভাবে সীরাত পাঠ করবো
উনিশ শতকে এসে ইতিহাস রচনার বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়। এরমধ্যে অন্যতম হলো লেখকের চিন্তা, ধর্ম, রাজনৈতিক মতবাদ অনুযায়ী ইতিহাস লেখা। ঐতিহাসিক তত্ত্বকে বাদ দিয়ে লেখক নিজের চিন্তা ও মতামতের আলোকে ইতিহাস সাজান। ইতিহাস লেখার এই ভয়ংকর আঙ্গিকে শুরু হয় সীরাত লেখার চল। এই ধরনের সীরাতে নবুওয়ত, রিসালাত, ওহি ইত্যাদী বিশেষণের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় সাহসী, রাষ্ট্রনায়ক ইত্যাদি বিশেষণ। অথচ কোনো মুসলমানের জন্যই উচিৎ নয়, রাসূলকে শুধু সাহসী কিংবা রাষ্ট্রনায়ক ভাবা। কেননা এইসব শক্তি ও মহত্বের একমাত্র উৎস হলো রিসালাত এবং নবুওয়ত। এই শাখার আলোচনা বাদ দিয়ে অন্যকিছু নিয়ে আলোচনা করা অনর্থক। মনগড়া বিশ্লেষণে লেখা সীরাতের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হুসাইন হাইকালের লেখা ‘হায়াতে মুহাম্মদ’। লেখক গ্রন্থের ভূমিকায় স্পষ্ট করে লিখেছেন, ‘আমি এখানে হাদীস-সীরাতগ্রন্থের বরাতে বর্ণিত কোনো কথা গ্রহণ করিনি। বরং বৈজ্ঞানিক  পদ্ধতিতে সীরাতের বিশ্লেষণকে প্রাধান্য দিয়েছি।’
নবুওয়ত লাভের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের কাছে এসে সর্বপ্রথম নিজেকে নবী বলে পরিচয় দিয়েছেন। এরপর মানুষ বলে পরিচয় দিয়ে বলেছেন, আমার যত মহত্ত্ব, তা ওই নবুওয়তের কারণেই। পূর্ববর্তী নবীগণ যে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, আমিও সেই দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। আল্লাহ আমাকে দাওয়াতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন।
সুতরাং তার সীরাত যখন পাঠ করবো, একজন রাসূলের সীরাত হিসেবেই তাকে পাঠ করব।
সীরাত অধয়নের সঠিক পদ্ধতি এটাই যে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সকল দিক অধয়ন করবো; তাঁর জন্ম ও জন্মকাল, ব্যক্তিগত-পারিবারিক-সামাজিক-রাজনৈতিক জীবন, স্বভাব-চরিত্র, শত্রু-মিত্রের সাথে তাঁর আচরণ,দুনিয়া ও দুনিয়ার ভোগ-বিলাশের প্রতি তাঁর মনোভাব ইত্যাদি। এই অধ্যয়ন হতে হবে সনদ ও মতন এর শুদ্ধতা যাচাইয়ের শাস্ত্রীয় মূলনীতির আলোকে এবং সত্য-ন্যায়ের সন্ধানে। তবে শুধু গবেষণার জন্য গবেষণা নয়; বরং এই অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হব যে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য নবী ছিলেন। তিনি নিজের মনগড়া কোন শরিয়ত নিয়ে আসেননি; বরং আল্লাহপ্রদত্ত শরিয়ত পূর্ণাঙ্গরূপে মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছেন। এবং এর মাধ্যমে এই শরিয়ত পালনে আমাদের দায়বদ্ধতা অনুধাবন করতে পারব।
রমজান বুতির ‘ফিকহুস সীরাতে’র মুগ্ধ পাঠক ছিলেন মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহিমাহুল্লাহ। তিনি কিতাবটি পড়তেন আর কাঁদতেন। একবার শেষ করে আরেকবার, আরেকবার শেষ করে আরেকবার; তবুও যেন তাঁর আশ মিটত না। তামিম রায়হানের কাছ থেকে বইটি পাওয়ার পর আনন্দে আটখানা হয়ে গিয়েছিলেন। প্রায়ই তিনি বলতেন, আরবে এমন সীরাতগ্রন্থ লেখার আলেম আছে, আমি জানতামই না। কী আজিব লেখা লিখেছেন উনি।
এই সীরাত-গ্রন্থটি পড়ে এতটাই অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন ফজলুল হক আমিনী রাহিমাহুল্লাহ, সঙ্গে সঙ্গে তিনি রমজান বুতির কাছে একটি চিঠিও লিখে ফেললেন। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, আমি আপনাকে আমার অন্তর থেকে মুরুব্বি হিসেবে গ্রহণ করে ফেলেছি। আপনার কিতাব আমার অনেকদিনের জমে থাকা প্রশ্নের উত্তর খুলে দিয়েছে।
জীবনের শেষ দিনগুলোতে রমজান বুতির ফিকহুস সীরাতের সাথে মিলিয়ে ‘মাআরিফুস সীরাত’ নামে আরবিতে নবীজীবনী লিখতে শুরু করেছিলেন মুফতি ফজলুল হক আমিনী রাহিমাহুল্লাহ। কী ঘোর, কী মুগ্ধতা তাকে ছুঁয়ে গিয়েছিল, এতেই প্রমাণ হয়।

Tuesday, July 30, 2019

ছাড়ব না এ হাত তোমার

রাস্তায় যাতয়াতের সময় অনেক কিছুই চোখে পড়ে। আশাপাশের মানুষের ব্যস্ততা, যানবাহনের গতি। কেউ দ্রুততার সাথে যায়, কেউবা শ্লথ গতিতে। কেউ যায় গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজে, কেউবা "আরে গেলেই হলো" এরকম কোন কাজে। এর ফাঁকে যে বিষয়টা এড়িয়ে যায়, সেটি হলো প্রত্যেকের অনুভূতি। ঠিক কোন এক মুহূর্তে রাস্তায় দেখা, মানুষদের কথা মনে করুন তো। হয়তো কেউ খুব আনন্দের সাথে কোথাও যাচ্ছে, হয়তো বাসা থেকে বের হওয়ার স্বামী/স্ত্রীর কোন রোমান্টিক ঘটনা ঘটে গেছে আর তার রেশ এখনো কাটেই নি। কেউ বা খুব কষ্টে আছে, কাছের কোন মানুষের থেকে হয়তো দুঃখ পেয়েছে। কেউ বা খুব টেনশনে, ভাবছে আজকে কামাই বেশি না হলে হয়তো প্রয়োজনীয় জিনিসটা কেনা হবে না বা অফিসের প্রেজেন্টেশনটা কেমন হবে আজ? ইত্যাদি ইত্যাদি।
কয়েকদিন আগে একটা দৃশ্য চোখে ধরা পড়লো। এক বৃদ্ধ, বেশ বয়স হয়েছে, দাঁড়ি পেকে সাদা থেকে হলুদ লালচে ভাব ধরে গেছে, গায়ের চামড়া যথেষ্ট ঢিল হয়ে গেছে। বয়স্ক পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে( বয়স্ক পাঞ্জাবী বলতে খেয়াল করবেন, বেশির ভাগ বৃদ্ধরা টরে কাপড়ের সাদা/ছাই/খয়েরী রঙের একবারে সাধারণ পাঞ্জাবী পড়তে দেখা যায়) রাস্তা পার হচ্ছে। রাস্তা পার হতেই পারে, এটা আবার বলার কি আছে? আগে পুরাটা শুনবেন তো নাকি? সে পার হচ্ছে ডান হাতে এক ব্যাগ নিয়ে আর অপর হাতে? জ্বী, বাম হাতে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর হাত। বৃদ্ধারও যথেষ্ট বয়স, বয়স্ক বোরকা পরে(থাক আর বর্ণনা দিলাম না, বুঝে নিয়েন) চেহারায় কিছুটা আতংক নিয়ে তাঁর জীবনসঙ্গী বুড়োর হাতটা যথেষ্ট ভরসার সাথে ধরে আছে।
আমি তাকিয়ে তাকিয়ে তাদের পার হওয়ার দৃশ্যটা দেখছিলাম। বৃদ্ধ বেশ সচেতন হয়েই রাস্তাড গাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বয়স হয়ে গেছে তো, চাইলেই কি আর মস্তিষ্ক আগের মতো, শরীর আগের মতো কাজ করবে? একটু পার হতেই এক রিক্সা জোরে তার সামনে দিয়ে চলে গেল, অল্পের জন্য সংঘর্ষ হয় নি। ভয়ে দুজন আবার দুই কদম পিছে চলে গেল। তারপর আবার চেষ্টা শুরু। বৃদ্ধা হয়তো জানে যে তাঁর প্রিয়তম বুড়োটার বয়স হয়ে গেছে, তাকে রাস্তায় সামলানো বেশ কষ্টই হয়ে যাবে। কিন্তু তারপরও যার সাথে ৪০-৫০ বছর পার করে দিলাম, তার সঙ্গ কিভাবে ছাড়ে। কতটা পথ দুজনে একসাথে পারি দিয়েছে। যৌবনে পেয়েছে তাকে, আজ জীবনের শেষের দিকে। কতশত ঘটনা, হাসি, কান্না এই দুজনের। কত বড় বড় বিপদে দুজন দুজনকে আগলে রেখেছে সবসময়। মান-অভিমানের পর প্রেমের গভীরতা কত যে বৃদ্ধি পেয়েছে! আর শেষ সময়ে এসে তাঁকে ছেড়ে দিব! এ হতেই পারে না, জান যায় একসাথে যাক। বুড়োটাকে ছেড়ে বাকি জীবন কাটবেই বা কেমনে! আল্লাহ্‌ যেন তুলে নেয় একসাথে, আবার জান্নাতে রেখেও দেয় একসাথে।
ওহ, আমি যে কখন তাদের পার করে চলে এসেছি মনেই নাই। ভাবনার জগতে ডুব দিলে যা হয় আর কি।

Tuesday, April 9, 2019

Collected - তালাক সম্পর্কিত কিছু ভুলত্রুটি : মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

এ সংখ্যায় শুধু এ বিষয়ে আলোচনা করাই মুনাসিব মনে হল। একটি কথা তো বারবার লেখা হয়েছে, ওলামা-মাশায়েখও আলোচনা করে থাকেন যে, অতীব প্রয়োজন (যা শরীয়তে ওজর বলে গণ্য) ছাড়া স্বামীর জন্য যেমন তালাক দেওয়া জায়েয নয় তেমনি স্ত্রীর জন্যও তালাক চাওয়া দুরস্ত নয়। তালাকের পথ খোলা রাখা হয়েছে শুধু অতীব প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য। বর্তমান সমাজে, বিশেষ করে আমাদের এতদাঞ্চলে কোনো পরিবারে তালাকের ঘটনা যে কত ফাসাদ-বিশৃঙ্খলা, জুলুম-অত্যাচার এবং ঝগড়া-বিবাদের কারণ হয় তা আর বলে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। তালাক প্রদানের ক্ষমতাকে শরীয়তের নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে আল্লাহর বিধানের সাথে বালখিল্যতার শামিল।
এজন্য কেউ দাম্পত্য জীবনে পা রাখার চেষ্টা করলে তার অপরিহার্য কর্তব্য হবে, বিয়ের আগেই দাম্পত্য জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় মাসআলাগুলোর সাথে তালাকের বিধানসমূহ জেনে নেওয়া।
তালাক অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। কেউ এই ক্ষমতার অপব্যবহার করলে কিংবা ভুল পন্থায় তা প্রয়োগ করলে সে একদিকে যেমন গুনাহগার হবে অন্যদিকে তালাকও কার্যকর হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি বিবেচক স্বামীর দায়িত্ব হল, তালাকের শব্দ কিংবা এর সমার্থক কোনো শব্দ মুখে উচ্চারণ করা থেকে সতর্কতার সাথে বিরত থাকা।
অবশ্য অতীব প্রয়োজনে তালাক প্রদানে বাধ্য হলে স্ত্রীর পবিত্র অবস্থায় শুধু এক তালাক দিয়ে ক্ষান্ত হওয়া উচিত। এভাবে বলবে যে, ‘তোমাকে তালাক দিলাম।’ তালাকের সাথে ‘বায়েন’ শব্দ কিংবা ৩ সংখ্যা ব্যবহার করবে না। কেউ ‘বায়েন’ শব্দ বলে ফেললে (চাই তা এক বা দুই তালাক হোক না কেন) নতুন করে শরীয়তসম্মত পন্থায় বিবাহ দোহরানো ছাড়া স্ত্রীর সাথে পুনরায় মিলনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
অনুরূপভাবে তিন তালাক দিয়ে ফেললে-একই মজলিসে পৃথক পৃথকভাবে তিন তালাক দেওয়া হোক কিংবা একই শব্দে তিন তালাক দেওয়া হোক- যেমন বলল, তোমাকে তিন তালাক দিলাম। অথবা আগে কখনো দুই তালাক দিয়েছিল আর এখন শুধু এক তালাক দিল। সর্বমোট তিন তালাক দেওয়া হল। যেকোনো উপায়ে তিন তালাক দেওয়া হলে বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় শুধু মৌখিকভাবে স্ত্রীকে বিবাহে ফিরিয়ে আনার যেমন কোনো সুযোগ থাকে না তেমনি নতুন করে বিবাহ দোহরানোর মাধ্যমেও ফিরিয়ে নেওয়ার পথ খোলা থাকে না।
একসাথে তিন তালাক দেওয়া কিংবা বিভিন্ন সময় তালাক দিতে দিতে তিন পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া একটি জঘণ্য অপরাধ ও ঘৃণিত কাজ। আল্লাহ তাআলা এর শাস্তি হিসেবে এই বিধান দিয়েছেন যে, তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পুনরায় একসাথে বসবাস করতে চাইলে স্ত্রীর ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর অন্যত্র তার বিয়ে হওয়া এবং সে স্বামীর সাথে তার মিলন হওয়া অপরিহার্য। এরপর কোনো কারণে সে তালাকপ্রাপ্তা হলে কিংবা স্বামীর মৃত্যু হলে ইদ্দত পালনের পর এরা দুজন পরস্পর সম্মত হলে নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।
এজন্য শরীয়ত আগেই সাবধান করে দিয়েছে যে, প্রথমত তালাকের কথা
চিন্তাও করবে না। তবে অতীব প্রয়োজনে কখনো তালাক প্রদানের প্রয়োজন হলে শুধু সাদামাটা তালাক দাও, শুধু এক তালাক। যেন উভয়ের জন্যই নতুন করে চিন্তা-ভাবনার সুযোগ থাকে এবং পুনরায় ফিরে আসার পথ খোলা থাকে। এরপর আবারো কোনো সমস্যা দেখা দিলে এভাবেই শুধু এক তালাক দিবে। এখনও ফিরে আসার পথ খোলা থাকবে।
কিন্তু এরপর যদি আবার কখনো শুধু এক তালাকই দেওয়া হয় এবং সব মিলে তিন তালাক হয়ে যায় এ অবস্থায় আর তাকে ফিরিয়ে আনারও সুযোগ থাকবে না, নতুন করে বিয়ে করার বৈধতাও বাকি থাকবে না।
আজকাল স্বামী-স্ত্রী তালাকের বিধান জানা ও সে অনুযায়ী আমল করার পরিবর্তে নিজেদের মনে এমনসব ভুল ও বানোয়াট মাসআলা স্থির করে রাখে যে, আল্লাহ মাফ করুন।
১. তিন তালাক ছাড়া কি তালাক হয় না
যেমন, কেউ মনে করে যে, শুধু এক বা দুই তালাক দেওয়ার দ্বারা তো তালাকই হয় না। তালাকের জন্য একসাথে তিন তালাক দেওয়াকে তারা অপরিহার্য মনে করে।
মনে রাখবেন, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তালাক দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি হল, শুধু এক তালাক দেওয়া। পরবর্তীতে আবারও প্রয়োজন হলে শুধু এক তালাকই দিবে। এরচেয়ে বেশি দিবে না। কিন্তু তিন তালাক দিয়ে ফেললে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল রাখার সকল পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
একই মজলিসে কিংবা একই শব্দে তিন তালাক দেওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ। কিন্তু কেউ এমনটি করলে তালাক কার্যকর হবে এবং তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যাবে।
২. তালাকের সাথে কি বায়েন শব্দ ব্যবহার করা জরুরি
অনেকে মনে করে, শুধু তালাক বললে তালাক হয় না; বরং তালাকের সাথে ‘বায়েন’ শব্দও যোগ করা অত্যাবশ্যক।
এটিও ভুল ধারণা। শুধু তালাক শব্দ দ্বারাই তালাক হয়ে যায়। এর সাথে ‘বায়েন’ শব্দ যোগ করার কোনো প্রয়োজন নেই। উপরন্তু এ শব্দের সংযোজন নাজায়েয। তবে কেউ যদি এক তালাক বায়েন বা দুই তালাক বায়েন দেয় তবে সে মৌখিকভাবে রুজু করার (পুনরায় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার) পথ বন্ধ করে দিল। এখন শুধু একটি পথই খোলা আছে। আর তা হল, নতুনভাবে শরীয়তসম্মত পন্থায় বিবাহ দোহরানো। অথচ শুধু তালাক বললে এক তালাক বা দুই তালাক পর্যন্ত মৌখিক রুজুর পথ খোলা থাকে। এজন্য স্বামীর উচিত, যত উত্তেজিতই হোক না কেন, কোনো অবস্থাতেই যেন তিন তালাক না দেয়। এমনকি তা কখনো মুখেও না আনে। অথচ অনেকে তো তিন তালাক দেওয়ার পরও পৃথকভাবে ‘বায়েন’ শব্দ যোগ করেন। যেন সব কটি তালাক দেওয়ার পরও তার মন ভরল না। না হলে তিন তালাক দেওয়ার পর আর কী বাকি থাকে যে, ‘বায়েন’ শব্দ বলতে হবে?!
মনে রাখবেন, তিন তালাক দেওয়াই এক গুনাহ, এরপর ‘বায়েন’ শব্দ যোগ করে সে আরো বেশি গুনাহগার হল।
৩. একসাথে তিন তালাক দিলে কি তালাক হয় না
অনেকে এই ভুল ধারণাও প্রচার করে রেখেছে যে, একসাথে তিন তালাক দেওয়া হলে তালাক হয় না কিংবা শুধু এক তালাক হয়।
এটিও একটি মারাত্মক ভুল। একসাথে তিন তালাক দেওয়া জায়েয না হলেও কেউ যদি এই নাজায়েয কাজ করে তাহলে তার স্ত্রীর উপর তিন তালাক ঠিকই পতিত হয়। এক্ষেত্রে তার মৌখিকভাবে রুজু করার অধিকার অবশিষ্ট থাকে না। এমনকি নতুন করে বিবাহ দোহরিয়ে নেওয়ার দ্বারাও তারা একে অপরের জন্য হালাল হতে পারে না। তাই সকল স্বামীরই কর্তব্য, প্রথম থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। মুখ দিয়ে কখনো তিন তালাক কিংবা তালাক, তালাক, তালাক শব্দ উচ্চারণ না করা। আর আগেই দুই তালাক দিয়ে থাকলে এখন আর তৃতীয় তালাকের চিন্তাও না করা।
৪. গর্ভাবস্থায় তালাক দিলে কি তালাক পতিত হয় না
অনেকে এই মাসআলা বানিয়ে রেখেছে যে, গর্ভাবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হলে তা কার্যকর হয় না। এটিও সম্পূর্ণ অবাস্তব কথা। গর্ভাবস্থায় হোক বা অন্য যেকোনো অবস্থাই হোক তালাক দেওয়া হলে তা পতিত হয়ে যায়। এজন্য সঠিক মাসআলা শেখা সকলের দায়িত্ব। অজ্ঞতার ধোকায় থাকার কারণে হারাম কখনো হালাল হতে পারে না।
৫. তালাক পতিত হওয়ার জন্য কি সাক্ষীর উপস্থিতি জরুরি
অনেকের ধারণা, স্বামী তালাকের সময় কোনো সাক্ষী না রাখলে তালাক পতিত হয় না। আগেরটার মতো এটাও মানুষের মনগড়া মাসআলা। কোন মূর্খ এই কথা বলেছে জানা নেই। সাক্ষীর প্রয়োজন তো হয় বিবাহের সময়। তালাক পতিত হওয়ার জন্য এক বা একাধিক কোনো সাক্ষীরই প্রয়োজন নেই। স্বামী যদি রাতের অন্ধকারে একা একা বসে তালাক দেয় তাহলেও তালাক হয়ে যায়।
৬. রাগের অবস্থায় তালাক দিলে কি তালাক হয় না
তালাক তো দেওয়াই হয় রাগ হয়ে। কয়জন আছে, শান্তভাবে তালাক দেয়? আসলে তো এমনই হওয়া উচিত ছিল যে, যদি বাস্তবসম্মত ও অনিবার্য প্রয়োজনে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয় তাহলে বড়দের সঙ্গে পরামর্শ করে একে অন্যের কল্যাণকামী হয়ে বুঝে-শুনে, সঠিক মাসআলা জেনে নিয়ে মাসআলা অনুযায়ী তালাক প্রদানের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
কিন্তু আফসোস! অধিকাংশ মানুষ মাসআলা জানার চেষ্টাও করে না, আর না তাদের মধ্যে এই সুবুদ্ধি আছে যে, বড়দের সাথে পরামর্শ করবে, চিন্তা-ভাবনা করবে। নিজের ইচ্ছাবিরোধী কোনো কিছু পেলেই রাগের বশে তালাক দিয়ে ফেলে। আর তা এক বা দুইটি নয়; এক নিঃশ্বাসে তিন তালাক।
যখন রাগ প্রশমিত হয় তখন অনুতপ্ত হয় এবং বিভিন্ন ধরনের কথা বানাতে থাকে। বলে, আমি রাগের মাথায় বলে ফেলেছি, তালাক দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। এসব লোকের জেনে রাখা উচিত যে, তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়তের কোনো প্রয়োজন নেই। এটা কোনো ইবাদত নয় যে, এর জন্য নিয়ত করতে হবে। নিয়ত থাক বা না থাক সর্বাবস্থায় তালাক শব্দ বলে ফেললে বা কাগজে লিখে দিলেই তালাক হয়ে যায়। তেমনিভাবে রাগের অবস্থায় তালাক দিলেও তালাক হয়ে যায়, এমনকি হাস্যরস বা ঠাট্টাচ্ছলে তালাক দিলেও তা পতিত হয়ে যায়।
অবশ্য কেউ যদি প্রচন্ড রেগে যায় ও রাগের ফলে বেহুঁশ হয়ে পড়ে আর এ অবস্থায় সে কী বলেছে তার কিছুই মনে না থাকে তাহলে ঐ অবস্থার তালাক কার্যকর হবে না।
শেষকথা এই যে, দাম্পত্য জীবন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনেক বড় ও বিশেষ একটি নেয়ামত। স্বামী-স্ত্রী সকলের কর্তব্য, এই নেয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং একে অপরের সকল অধিকার আদায় করা। স্ত্রীর জন্য উচিত নয়, কথায় কথায় স্বামীর কাছে তালাক চাওয়া। আবার স্বামীর জন্যও জায়েয নয় আল্লাহ তাআলার দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করা।
বিয়ে, তালাক ও দাম্পত্য জীবনের সকল বিধান ও মাসআলা শিক্ষা করা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য জরুরি। বিশেষ করে স্বামীর কর্তব্য হল, তালাকের মাসআলা ও এর পরিণতি সম্পর্কে অবগত না হয়ে মুখে কখনো তালাক শব্দ উচ্চারণ না করা। আর যদি কোনো কারণে তালাক দেয় এবং এমনভাবে দেয় যে, এখন আর তাদের একসাথে থাকা শরীয়তে বৈধ নয় তাহলে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত। বিভিন্ন টাল-বাহানা, অজুহাতের আশ্রয় নিয়ে কিংবা ভুল কথার উপর ভিত্তি করে অথবা মূল ঘটনা গোপন রেখে একসাথে বাস না করা উচিত। বিয়ে শুধু একটি সময়ের বিষয় নয়, সারা জীবনের বিষয়।
বাস্তবেই যদি তালাক হয়ে যায় এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় এরপরও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে বাস করে তাহলে তা হবে কবীরা গুনাহ এবং উভয়েই যেন ব্যভিচারের গুনাহয় লিপ্ত।
আল্লাহ তাআলা সকলকে হেফাযত করুন এবং তাকওয়া ও পবিত্রতা দান করুন। আমীন।

One

অনেক ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। খেয়ে দেয়ে আবার ক্লান্তও হয়ে যায়। যার কিছু হয়তো ভাল, আবার কিছু হয়তো কালো। তেমনি আজ একটা বিষয় মাথায় আসলো।...