সামাজিক মাধ্যমগুলোতে কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন সেলিব্রিটিদের স্ক্যান্ডেল প্রকাশ পায়। এরপর শুরু হয় সমালোচনা। এরপর আবার সবাই ভুলে যায়, আসে নতুন ক্লিপ। এভাবেই চলছে। কিন্তু কেউ কখনো ভেবে দেখেছেন, এর পিছনে কারণ কি? কেন এরকম হয়?
আমরা যারা বিবাহ নামক বৈধ পথের দিকে যুবসমাজকে আকৃষ্ট করছি, তখন একদল সুশীলসমাজের মানুষ "কাছে আসার গল্প" প্রমোট করছে। অথচ এই গল্পের নাটকগুলোর নায়ক-নায়িকাই সত্যিকার অর্থে তাদের আসল জীবনে কারও কাছে আসতে পারে নি। কখনো প্রতারণা, কখনো লুকিয়ে বিয়ে, কখনো ডিভোর্স, কখনো পরকিয়া, কখনো স্ক্যান্ডেল বা কখনো গর্ভপাত।
আসল কথা হলো আল্লাহ তা'আলা যে নিয়ম মানুষদের জন্যে দিয়েছে, তাতেই রয়েছে
রহমত ও বরকত, সুখ ও শান্তি। এ নিয়ম যদি কোন অমুসলিমও ইসলাম না মেনে পালন
করে, তাহলে তারাও দুনিয়াতে সুখ, শান্তি লাভ করবে। কারণ এই আল্লাহর মনোনীত
দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থাই মানুষদের জন্যে চূড়ান্ত ও সর্বোচ্চ উপকারী। আপনার
আশেপাশের মানুষদের সচেতন করুন অশ্লীলতা ও এর ভয়াবহতা নিয়ে।
কবি মাসীহুর রহমান বলেছেন,
বাস্তবতা খুব নিষ্ঠুর, সময় খুব অল্প
গন্তব্যে যেতে হবে, থাকবে দৃঢ় সংকল্প
শিক্ষিত হওয়া, ক্যারিয়ার গড়া, ভাল চাকরী পাওয়া, ভাল পদোন্নতি হওয়া এসব করতে করতে কখন ৩০ পার হয়ে যায়, মেয়েটা টেরই পায় না। এরপর যখন বিয়ের জন্যে চেষ্টা করে, তখন স্ট্যাটাস মিলাতে যেতে আরও কয়েক বছর পার হয়। শেষ বেলায় বিয়ে তো কিন্তু ..... আরও এগিয়ে যাও... ধুর!!! কি সব সংসার, টংসার, চুলায় যাক সব
কবি মাসীহুর রহমান বলেছেন,
বাস্তবতা খুব নিষ্ঠুর, সময় খুব অল্প
গন্তব্যে যেতে হবে, থাকবে দৃঢ় সংকল্প
শিক্ষিত হওয়া, ক্যারিয়ার গড়া, ভাল চাকরী পাওয়া, ভাল পদোন্নতি হওয়া এসব করতে করতে কখন ৩০ পার হয়ে যায়, মেয়েটা টেরই পায় না। এরপর যখন বিয়ের জন্যে চেষ্টা করে, তখন স্ট্যাটাস মিলাতে যেতে আরও কয়েক বছর পার হয়। শেষ বেলায় বিয়ে তো কিন্তু ..... আরও এগিয়ে যাও... ধুর!!! কি সব সংসার, টংসার, চুলায় যাক সব
পর্দার উপর পর্দা পরে গেছে
কথা তো ছিল এক আল্লাহর হুকুমের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবো, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথে নিঃসঙ্কোচ অনুসরণ করবো। কিন্তু আজ আমাদের এ কি হাল! ধর্ষণ হলে এক দল বলে পর্দা করে নি। আরেক দল বলে পর্দা করেও তো ধর্ষণ হয়। তাহলে পর্দা বলতে কি শুধু ধর্ষণ আটকানোর জন্যে কাপড় পেঁচিয়ে রাখা। আহা! মুসলমান। জীবনের এত বেলা গড়িয়ে গেল, তোমরা পর্দা কাকে বলে এবং কিভাবে করতে হয় সেটাও জানো নি। তোমার এত শত ডিগ্রী, এত উঁচু উঁচু পদ দিয়ে কি হবে যদি আল্লাহ জিজ্ঞেস করে পর্দা সমন্ধে কি শিখেছিলে দুনিয়ায়? অবাক লাগে শিক্ষিত শ্রেণীরা যখন পর্দা নিয়ে যা তা বলে। আবার কেউ কেউ এক টুকরো কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে রেখে পর্দা করার গর্ববোধ করে। সবশেষে, তোমাদের সব শেষই হয়ে যাবে। তখন কি করবে? তোমার ইসলাম শেখার উপর যে পর্দা পড়েছে, সেটা কবে দূর করবে?
গত কয়েকদিনের ঘটনার পর পত্রিকা ও ফেসবুক পাড়ায় এখন আলোচনা এই একটি মাত্র বিষয়ে। বাঙালি এ হুজুগে, জিনিস একটা পেলে হয় নেমে পড়ে তার পিছনে। ধর্ষন ও এর প্রতিরোধ নিয়ে একেক জনের বিশ্লেষণ দেখে না হেসে পারা যায় না। যে যার মতো ইচ্ছা বলে যাচ্ছে। কোন ভিত্তিতে বলতেছে, সেটা আদ্যো ঠিক হবে কিনা প্রয়োগের ক্ষেত্রে, সেসব নিয়ে চিন্তা নাই। শুধু নিজের বিবেকে বলতেছে, তাই মত প্রকাশ করে যাচ্ছে। বিষয়টা যদি আপনাদের কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তাহলে সেটা নিয়ে ভালভাবে জানুন। কেন এই ডিজিটাল বাংলাদেশে এই ধর্ষনের মাত্রা বেড়ে গেল। কেন ১১ বছরের বালক থেকে শুরু করে সব বয়সের পুরুষ ধর্ষনের আসামী হচ্ছে। সিস্টেমের কোন একটা সমস্যা তো আছে। সেটা বের করুন।
সদ্য কিশোর বয়সে পা দেয়া আমাদের ছোটদের বাঁচাই। তারা বাঁচলে সমাজটা সুন্দর হবে। লজ্জা করে লাভ নাই, আপনার আজকের লজ্জা কাল এই কিশোরদের অপরাধে ঠেলে দিবে। এই রকম লজ্জা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর
দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়
রাস্তা ধারে ধারে বিলবোর্ডে, ডিভাইডারের ল্যাম্পপোস্টগুলোতে আরও যে কত জায়গায় এখন শুধু একটাই বিজ্ঞাপন। প্রচারণায় কি পরিমান টাকা ঢালে এরা চিন্তার বাহিরে।
তোমার যা কিছু এতদিন গোপন ছিল, সবকিছু দেখাও আর কয়েক টাকা আয় করো। এ যেন নষ্ট পল্লীর আধুনিক রুপ। ওখানে তাও একজনকে দেখায়, তাও আবার বন্ধ ঘরে। এখানে তো গোটা দুনিয়ার সামনে। এসব কি বলেন? ছি! ছি!!
আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন গ্রামীনফোন এবং আর টিভি মিলে সমকামীর মতো নিকৃষ্ট বিষয়ে নাটক বানিয়ে প্রচার করেছে। চিন্তা করুন পৃথিবীর অর্ধেক মানুষও যদি শুধু সম্মতি হয় সমাকামীতার বৈধতার জন্য, তাহলে ৫০বছর পরে হয়তো মানুষের অস্তিত্বও খুজে পাওয়া যাবে না। আপনারই ঘরে হয়তো তখন কোন সমকামী জন্মাবে আপনি টেরই পাবেন না।
একজন স্বামী যখন স্ত্রী বাদে অন্য নারীর দিকে বদনজরে তাকায় তখন তা হয় বিশ্বাসঘাতকতা। কিন্তু নারীকে ভাল লাগা এটা প্রাকৃতিক। কারণ পুরুষ তো নারীকেই পছন্দ করবে। কিন্তু অন্য নারীর প্রতি আকর্ষণকে যদি বৈধতা দেয়া হয় তাহলে পৃথিবীর কোন নারীকেই সে তার নজর থেকে বাদ দিবে না। এর ভয়বহতা চিন্তা করুন।
কথা তো ছিল এক আল্লাহর হুকুমের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবো, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথে নিঃসঙ্কোচ অনুসরণ করবো। কিন্তু আজ আমাদের এ কি হাল! ধর্ষণ হলে এক দল বলে পর্দা করে নি। আরেক দল বলে পর্দা করেও তো ধর্ষণ হয়। তাহলে পর্দা বলতে কি শুধু ধর্ষণ আটকানোর জন্যে কাপড় পেঁচিয়ে রাখা। আহা! মুসলমান। জীবনের এত বেলা গড়িয়ে গেল, তোমরা পর্দা কাকে বলে এবং কিভাবে করতে হয় সেটাও জানো নি। তোমার এত শত ডিগ্রী, এত উঁচু উঁচু পদ দিয়ে কি হবে যদি আল্লাহ জিজ্ঞেস করে পর্দা সমন্ধে কি শিখেছিলে দুনিয়ায়? অবাক লাগে শিক্ষিত শ্রেণীরা যখন পর্দা নিয়ে যা তা বলে। আবার কেউ কেউ এক টুকরো কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে রেখে পর্দা করার গর্ববোধ করে। সবশেষে, তোমাদের সব শেষই হয়ে যাবে। তখন কি করবে? তোমার ইসলাম শেখার উপর যে পর্দা পড়েছে, সেটা কবে দূর করবে?
গত কয়েকদিনের ঘটনার পর পত্রিকা ও ফেসবুক পাড়ায় এখন আলোচনা এই একটি মাত্র বিষয়ে। বাঙালি এ হুজুগে, জিনিস একটা পেলে হয় নেমে পড়ে তার পিছনে। ধর্ষন ও এর প্রতিরোধ নিয়ে একেক জনের বিশ্লেষণ দেখে না হেসে পারা যায় না। যে যার মতো ইচ্ছা বলে যাচ্ছে। কোন ভিত্তিতে বলতেছে, সেটা আদ্যো ঠিক হবে কিনা প্রয়োগের ক্ষেত্রে, সেসব নিয়ে চিন্তা নাই। শুধু নিজের বিবেকে বলতেছে, তাই মত প্রকাশ করে যাচ্ছে। বিষয়টা যদি আপনাদের কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তাহলে সেটা নিয়ে ভালভাবে জানুন। কেন এই ডিজিটাল বাংলাদেশে এই ধর্ষনের মাত্রা বেড়ে গেল। কেন ১১ বছরের বালক থেকে শুরু করে সব বয়সের পুরুষ ধর্ষনের আসামী হচ্ছে। সিস্টেমের কোন একটা সমস্যা তো আছে। সেটা বের করুন।
সদ্য কিশোর বয়সে পা দেয়া আমাদের ছোটদের বাঁচাই। তারা বাঁচলে সমাজটা সুন্দর হবে। লজ্জা করে লাভ নাই, আপনার আজকের লজ্জা কাল এই কিশোরদের অপরাধে ঠেলে দিবে। এই রকম লজ্জা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর
ওয়াজে হুজুররা বলে পর্দার আড়ালে মা-বোনেরা। এখন এই সমস্ত মেয়েদের দেখলে বলা লাগে "পর্দা আড়ালে ভয়ংকর নারীবাদীরা"।
আল্লাহ ই ভাল জানেন, কি উদ্দেশ্যে এরা বোরকা, নিকাব পরে। ভিতরে তো একেক জন ভয়ংকর নারীবাদী। যে কেউ এদের ধার্মিক ভেবে ভুল করে বসবে। আমি নিজে মেয়েটির ফেসবুক আইডিতে ঢুকে দেখেছিলাম। কৌতুহল ছিল যে, কিভাবে বোরকার আড়ালে মেয়েটা নারীবাদীর মতো কথা বলে। প্রমাণ সামনে, বর্তমান একজন আধুনিক মনস্ক মেয়েদের মতোই সে। গান শোনে রক ব্যান্ডের, সেটা আবার শেয়ারও করে। ওহ, হাউ কিউট নিকাবওয়ালি তুমি। শুধু অভিনয় করে বোরকা, নিকাব গায়ে জড়ায়ে চলে। তাই মানুষ প্রথমেই ভুল বোঝে।
এসবের থেকে একটা জিনিস বুঝে নেয়া উচিত, ব্যহিক লেবাস ভাল হলেই তার ব্যাপারে শতভাগ ভাল ধারনা করা উচিত নয়।
বাল্যবিবাহ বন্ধ করবেন ভাল কথা। আপনাদের বাল্য বয়স তো ১৮ পর্যন্ত। কিন্তু এই বয়স পর্যন্ত বাল্য প্রেম, বাল্য যৌনমিলন কেন ঠেকাচ্ছেন না? কেন পলিথিন মোড়ানো শিশু ডাস্টবিনে পাওয়া যায়? কেন ধর্ষণ বাড়ছে? কেন ইন্টারনেটে বাল্য যৌনমিলনের ভিডিওতে সয়লাব, যেখানে স্বেচ্ছায় তারা ভিডিও ধারণ করেছে? অসুখ হইছে ক্যান্সার রোগে, আপনি প্যারাসিটামল জোর খাওয়াচ্ছেন, আর বলছেন এটা জ্বর। ফলাফল সবার সামনে...
ধর্ষণের মতো অপরাধ নিয়ে যখন সবাই সোচ্চার, তখন কেন এই সব অবৈধ সম্পর্কের অপরাধ নিয়ে সোচ্চার হবেন না? এটা স্বীকার করা যায় যে, ধর্ষণ অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটা অপরাধ। কিন্তু এসব ডাস্টবিনে পড়ে থাকা শিশুকে কি বলবেন? এই শিশুদের কি হত্যা করা হচ্ছে না? এই রকম ঘটনাও তো কম না। এখন অহরহ হচ্ছে, শহরের চিপাচাপার ক্লিনিকগুলোতে খোঁজ নিলেই খবর বেড়িয়ে আসবে। প্রেমের নামে অবৈধ সম্পর্কের বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে চারিদিক। কোথায় যাবেন, কি দেখবেন? অশ্লীলতা যেন এক মহামারী। পত্রিকা, বিলবোর্ড, টিভি, ফোন এমন কোথায় নাই যে, এসব প্রমোট করা হয় না। ফল যখন প্রেমিকাকে ধর্ষণ করা তখন সবাই নিন্দা জানায়, ফাঁসি চায়। কিন্তু এসব শিশু যারা দুনিয়াতে আসার আগেই বা আসার সাথে সাথেই মেরে ফেলে দেয়া হচ্ছে ডাস্টবিনে বা ছাদ থেকে নিচে, তখন কেন সেসব বাবা মার ফাঁসি চাওয়া হয় না? কবি এখানেই নিরব। খুব বেশি দেরি নেই, যখন আপনার আপন কেউ এসবের মধ্যে পড়বে। তাই সময় থাকতেই সচেতন হোন। অশ্লীলতার চিহ্নটুকুও মুছে ফেলুন এবং মানুষদের সচেতন করুন।
হাসো, হাসাও!
দেশের এক জাতীয় দৈনিকের কিশোর ম্যাগাজিনে ছেপে এসেছে। প্রতি সপ্তাহেই কিশোর কিশোরীদের উদ্দেশ্যে ছাপানো হয়। এই "হাসো, হাসাও" লেখার চারিদিকে ছয়টা ছেলেমেয়ে গোল করে মাঠে শুয়ে আছে মুখে ক্লোজআপ হাসি নিয়ে। ফ্রি মিক্সিং প্রমোট করা যাকে বলে। পাতায় পাতায় কিশোরকিশোরীদের হাস্যোজ্জল চেহারা। দেখে মনে কত পবিত্র মুখ, কত পবিত্র তাদের মন! অথচ গত কয়েকদিন আগেই এক কিশোরীর লাশ মুখ থুবড়ে চট্টগ্রামে সমুদ্রের পাশে পড়েছিল। কোথায় গেল তখন হাস্যোজ্জল মুখ, কোথায় তোমাদের জাস্ট ফ্রেন্ডরা, কোথায় বন্ধু-আড্ডা-গান।।
তো লেখছিলাম "হাসো হাসাও" নিয়ে, হাসি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের লেখা। বিভিন্ন ব্যাখ্যা, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উপকারিতা। ইরেশ জাকের নামের এক অভিনেতা, সে নাকি খুব কমেডি করে। সে বলেছে, হাসানোর জন্য নাকি ব্যাপক পড়াশোনা আর চর্চা করে। যাক, খুবই ভাল কথা। শেষের দিকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের কিছু মানুষের হাসি নিয়ে উক্তি তুলে ধরেছে। আলহামদুলিল্লাহ্, একজনও মুসলিম না।
তাহলে কি হাসা নিষেধ। ইসলাম কি হাসারর অনুমতি দেয় না! আহ, এরা কত বর্বর! আসলে বিষয়টা এমন না। ইসলাম হাসার বিপক্ষে না, মনুষ্য সুলভ আচরণকে ইসলাম মোটেই নিষেধ করে না। বরং ইসলাম বলে প্রত্যেকটা কাজের সীমারেখা করে দিয়েছে। এই সীমারেখা পার করলে মানুষের জীবনে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যাবে। দুনিয়ার মহামানব নবী মুহাম্মাদ (সা) ও পরিবার পরিজন, সাহাবীদের নিয়ে কৌতুক-মজা করতেন। তবে সেটা অবশ্যই সহনীয় পরিমানে। তিনিও কখনো কখনো হেসে দিতেন। তবে নবী সা. বলেছেন, আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে কম হাসতে আর বেশি কাঁদতে।
আচ্ছা, একজন মানুষ যে কিনা যে কোন মুহূর্তে মারা যেতে পারে, সে কিভাবে পাগলের মতো হাসতে পারে বা হাসি নিয়ে গবেষণা করতে পারে! তার মাথায় চিন্তা থাকবে মৃত্যুর পরেই তার সওয়াল জওয়াব শুরু হবে, তখন জবাব না দিতে পারলে তখন থেকেই কবরের আযাব শুরু হয়ে যাবে। এই চিন্তা মথায় থাকলে কি কমেডি শো দেখা সম্ভব! অথচ কমেডি শো, নাটক, সিনেমার প্রচুর দর্শক। আসলে যাদের জীবনে শান্তি নেই, তারাই খোঁজে কমেডি ধাচের উপরকণের।
আল্লাহ ই ভাল জানেন, কি উদ্দেশ্যে এরা বোরকা, নিকাব পরে। ভিতরে তো একেক জন ভয়ংকর নারীবাদী। যে কেউ এদের ধার্মিক ভেবে ভুল করে বসবে। আমি নিজে মেয়েটির ফেসবুক আইডিতে ঢুকে দেখেছিলাম। কৌতুহল ছিল যে, কিভাবে বোরকার আড়ালে মেয়েটা নারীবাদীর মতো কথা বলে। প্রমাণ সামনে, বর্তমান একজন আধুনিক মনস্ক মেয়েদের মতোই সে। গান শোনে রক ব্যান্ডের, সেটা আবার শেয়ারও করে। ওহ, হাউ কিউট নিকাবওয়ালি তুমি। শুধু অভিনয় করে বোরকা, নিকাব গায়ে জড়ায়ে চলে। তাই মানুষ প্রথমেই ভুল বোঝে।
এসবের থেকে একটা জিনিস বুঝে নেয়া উচিত, ব্যহিক লেবাস ভাল হলেই তার ব্যাপারে শতভাগ ভাল ধারনা করা উচিত নয়।
বাল্যবিবাহ বন্ধ করবেন ভাল কথা। আপনাদের বাল্য বয়স তো ১৮ পর্যন্ত। কিন্তু এই বয়স পর্যন্ত বাল্য প্রেম, বাল্য যৌনমিলন কেন ঠেকাচ্ছেন না? কেন পলিথিন মোড়ানো শিশু ডাস্টবিনে পাওয়া যায়? কেন ধর্ষণ বাড়ছে? কেন ইন্টারনেটে বাল্য যৌনমিলনের ভিডিওতে সয়লাব, যেখানে স্বেচ্ছায় তারা ভিডিও ধারণ করেছে? অসুখ হইছে ক্যান্সার রোগে, আপনি প্যারাসিটামল জোর খাওয়াচ্ছেন, আর বলছেন এটা জ্বর। ফলাফল সবার সামনে...
ধর্ষণের মতো অপরাধ নিয়ে যখন সবাই সোচ্চার, তখন কেন এই সব অবৈধ সম্পর্কের অপরাধ নিয়ে সোচ্চার হবেন না? এটা স্বীকার করা যায় যে, ধর্ষণ অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটা অপরাধ। কিন্তু এসব ডাস্টবিনে পড়ে থাকা শিশুকে কি বলবেন? এই শিশুদের কি হত্যা করা হচ্ছে না? এই রকম ঘটনাও তো কম না। এখন অহরহ হচ্ছে, শহরের চিপাচাপার ক্লিনিকগুলোতে খোঁজ নিলেই খবর বেড়িয়ে আসবে। প্রেমের নামে অবৈধ সম্পর্কের বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে চারিদিক। কোথায় যাবেন, কি দেখবেন? অশ্লীলতা যেন এক মহামারী। পত্রিকা, বিলবোর্ড, টিভি, ফোন এমন কোথায় নাই যে, এসব প্রমোট করা হয় না। ফল যখন প্রেমিকাকে ধর্ষণ করা তখন সবাই নিন্দা জানায়, ফাঁসি চায়। কিন্তু এসব শিশু যারা দুনিয়াতে আসার আগেই বা আসার সাথে সাথেই মেরে ফেলে দেয়া হচ্ছে ডাস্টবিনে বা ছাদ থেকে নিচে, তখন কেন সেসব বাবা মার ফাঁসি চাওয়া হয় না? কবি এখানেই নিরব। খুব বেশি দেরি নেই, যখন আপনার আপন কেউ এসবের মধ্যে পড়বে। তাই সময় থাকতেই সচেতন হোন। অশ্লীলতার চিহ্নটুকুও মুছে ফেলুন এবং মানুষদের সচেতন করুন।
হাসো, হাসাও!
দেশের এক জাতীয় দৈনিকের কিশোর ম্যাগাজিনে ছেপে এসেছে। প্রতি সপ্তাহেই কিশোর কিশোরীদের উদ্দেশ্যে ছাপানো হয়। এই "হাসো, হাসাও" লেখার চারিদিকে ছয়টা ছেলেমেয়ে গোল করে মাঠে শুয়ে আছে মুখে ক্লোজআপ হাসি নিয়ে। ফ্রি মিক্সিং প্রমোট করা যাকে বলে। পাতায় পাতায় কিশোরকিশোরীদের হাস্যোজ্জল চেহারা। দেখে মনে কত পবিত্র মুখ, কত পবিত্র তাদের মন! অথচ গত কয়েকদিন আগেই এক কিশোরীর লাশ মুখ থুবড়ে চট্টগ্রামে সমুদ্রের পাশে পড়েছিল। কোথায় গেল তখন হাস্যোজ্জল মুখ, কোথায় তোমাদের জাস্ট ফ্রেন্ডরা, কোথায় বন্ধু-আড্ডা-গান।।
তো লেখছিলাম "হাসো হাসাও" নিয়ে, হাসি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের লেখা। বিভিন্ন ব্যাখ্যা, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উপকারিতা। ইরেশ জাকের নামের এক অভিনেতা, সে নাকি খুব কমেডি করে। সে বলেছে, হাসানোর জন্য নাকি ব্যাপক পড়াশোনা আর চর্চা করে। যাক, খুবই ভাল কথা। শেষের দিকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের কিছু মানুষের হাসি নিয়ে উক্তি তুলে ধরেছে। আলহামদুলিল্লাহ্, একজনও মুসলিম না।
তাহলে কি হাসা নিষেধ। ইসলাম কি হাসারর অনুমতি দেয় না! আহ, এরা কত বর্বর! আসলে বিষয়টা এমন না। ইসলাম হাসার বিপক্ষে না, মনুষ্য সুলভ আচরণকে ইসলাম মোটেই নিষেধ করে না। বরং ইসলাম বলে প্রত্যেকটা কাজের সীমারেখা করে দিয়েছে। এই সীমারেখা পার করলে মানুষের জীবনে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যাবে। দুনিয়ার মহামানব নবী মুহাম্মাদ (সা) ও পরিবার পরিজন, সাহাবীদের নিয়ে কৌতুক-মজা করতেন। তবে সেটা অবশ্যই সহনীয় পরিমানে। তিনিও কখনো কখনো হেসে দিতেন। তবে নবী সা. বলেছেন, আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে কম হাসতে আর বেশি কাঁদতে।
আচ্ছা, একজন মানুষ যে কিনা যে কোন মুহূর্তে মারা যেতে পারে, সে কিভাবে পাগলের মতো হাসতে পারে বা হাসি নিয়ে গবেষণা করতে পারে! তার মাথায় চিন্তা থাকবে মৃত্যুর পরেই তার সওয়াল জওয়াব শুরু হবে, তখন জবাব না দিতে পারলে তখন থেকেই কবরের আযাব শুরু হয়ে যাবে। এই চিন্তা মথায় থাকলে কি কমেডি শো দেখা সম্ভব! অথচ কমেডি শো, নাটক, সিনেমার প্রচুর দর্শক। আসলে যাদের জীবনে শান্তি নেই, তারাই খোঁজে কমেডি ধাচের উপরকণের।
দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়
রাস্তা ধারে ধারে বিলবোর্ডে, ডিভাইডারের ল্যাম্পপোস্টগুলোতে আরও যে কত জায়গায় এখন শুধু একটাই বিজ্ঞাপন। প্রচারণায় কি পরিমান টাকা ঢালে এরা চিন্তার বাহিরে।
তোমার যা কিছু এতদিন গোপন ছিল, সবকিছু দেখাও আর কয়েক টাকা আয় করো। এ যেন নষ্ট পল্লীর আধুনিক রুপ। ওখানে তাও একজনকে দেখায়, তাও আবার বন্ধ ঘরে। এখানে তো গোটা দুনিয়ার সামনে। এসব কি বলেন? ছি! ছি!!
ওহ, আমরা বললে ছি, ছি। কিন্তু টিভিতে ঠিকই হা করে পুরো ***** উপভোগ করো অন্তরে চোখের মাধ্যমে। তখন তো ছি, ছি মনে হয় না নিজের উপর।
আমার বুঝে আসে না, একজন মেয়ে তার শরীরের কিছু খোলা কিছু ঢাকা ভাজ দেখাবে আর দর্শক তাকে সম্মান করবে, এটা কিভাবে সম্ভব!!
মিডিয়া জগতের ভেতরের খবর কমবেশি সবাই জানে, তবুও কেন বিবেকবান মানুষ এসবের প্রতি ঝোকে?
কারণ তো অনেক। তবে এসবের মূলে আছে, দুনিয়ার আকর্ষণ আর আখিরাত সমন্ধে ভুলে থাকা। আপনি কখনও চিন্তা করেছেন, কাল যদি আপনার মৃত্যু হবে আপনি আগে থেকে জেনে যান তাহলে মানুষ কখনো এরকম কাজ করতে পারবে? বাঁচার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না, কিন্তু মরার নিশ্চয়তা সবাই দিবে। দুনিয়ার কোন মানুষই বেঁচে থাকবে না, তবুও বেঁচে থাকার জন্য এতকিছু।
তথাকথিত নারী স্বাধীনতার আসল চেহারা এরকমই। তারপরও আমরা বুঝি না। একজন নারীর শিক্ষিত হওয়াকে শুধু পুরুষদের সাথে প্রতিযোগীতা করা কেন বুঝায়? একজন নারীকে সাবলম্বি হওয়া মানে কেন পুরুষদের সাথে কাজ করা বুঝায়? এই 'কেন' এর উত্তরগুলো এরকমই হয়।
কেউ একজন লাইক দেয়াতে বিষয়টা চোখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্যাতন? আধুনিক সভ্যতার দাবিদারের অঞ্চলে এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে না। গেলাম নিউজের ভিতরে, একি! এতো অবাক কান্ড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতায় তাদেরই সহকর্মীরা এই কাজ করতো। বাহ! তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কি হয়েছে জানেন? বরখাস্ত করেছেন একজনকে, আর সর্বনিম্ন শাস্তি হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে, মানে সতর্ক করা হয়েছে।
বিচারের মান দেখুন সভ্যতার জনকদের। ধর্ষণের শাস্তি বরখাস্ত! তাদের দেশে মা-বোনদের ইজ্জতের দাম নাই। তারাই আমাদের দেশের মা-বোনদের ন্যায় বিচারের জন্য উঠেপড়ে লাগে।
সাংবাদিকদের ধন্যবাদ না দিলে হয় না। তারা অপরাধীর ছবি না দিয়ে নির্যাতিতার ছবি দিয়েছে। এমন ভাব এটা দেখে অপরাধীরা লজ্জায় মরে যাচ্ছে। আসলেই বর্তমান সাংবাদিকতার লেভেল দেখলে তাজ্জব বনে যেতে হয়। এই কয়েক সপ্তাহ আগে বগুড়ায় নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিতার ছবি কতবার ছাপানো হলো, অন্যদিকে সেই ধর্ষকের ছবি কতবার ছাপানো হলো, মনে করুন তো? যাই হোক, আসুন আমরা সভ্য আমেরিকার অসভ্য আচরণের খবর ফাঁস হওয়ার অপেক্ষা করি।
আজ এক আত্নীয়ের কাছে গিয়েছিলাম কুশলাদি জিজ্ঞেস করার জন্য। তখন দেখি পাশে এক টেলিভিশনে মহিলাদের ক্রিকেট খেলা দেখাচ্ছে। ছেলেদের মতো করে শক্তির পারদর্শীতা দেখিয়ে একজন বল করছে এবং অপর পাশে আরেক জন ব্যাটের দ্বারা সেই বলকে সীমানা পার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দর্শক মন ভরে দেখে যাচ্ছে। বাহ! কি চমৎকার নারী স্বাধীনতা! পুরুষের মতো খেলতে পারলেই যেন স্বাধীনতা পেয়ে গেল।
এই ছবিটি কাল দেখেছি। বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে। খুব আগাচ্ছে। আগে শুনতাম ক্যাম্পাসে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু খেলা খেলতে মেয়েরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও আসতো। হঠাৎ বাহিরে খাওয়ার জন্য গেলে জার্সি পরা মহিয়সী নারীদের দেখাও মিলতো। এরই ধারাবাহিকতায় ফুটবল চলে আসবে। আসাটাই স্বাভাবিক মনে হয়। যেখানে বিশ্ব মহিলা ক্রিকেট, ফুটবল কাপ হচ্ছে, সেখানে আমাদরে মেয়েরা খেলা চালিয়ে যাবে না তা মেনে নেয়া যায় না। আমাদের চেতনার কি হবে তাহলে! বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তো এজন্যই।
আজ হিজাব পরে ক্রিকেট খেলছে, কাল খুলে খেলবে, তারপর হাফ প্যান্ট পরেও খেলবে। বিশ্বের অন্য দেশের সাথে তাল মেলাতে হবে না!
এতো তাল মেলানোর পরেও ধর্ষণ, নির্যাতনের পরিসংখ্যান আগের বছরগুলোকে পার করে চলে যাচ্ছে। যারা এসবে যাচ্ছে তারা আরও বেশি ভুক্তভুগী। একবারও কি ভেবে দেখবেন না, কি লাভ হলো এই স্বাধীনতা অর্জন করে? কেন একজন করলেই আমাকে করতে হবে? আমার নিজের কি বিবেক, বুদ্ধি নেই? ...
আমার বুঝে আসে না, একজন মেয়ে তার শরীরের কিছু খোলা কিছু ঢাকা ভাজ দেখাবে আর দর্শক তাকে সম্মান করবে, এটা কিভাবে সম্ভব!!
মিডিয়া জগতের ভেতরের খবর কমবেশি সবাই জানে, তবুও কেন বিবেকবান মানুষ এসবের প্রতি ঝোকে?
কারণ তো অনেক। তবে এসবের মূলে আছে, দুনিয়ার আকর্ষণ আর আখিরাত সমন্ধে ভুলে থাকা। আপনি কখনও চিন্তা করেছেন, কাল যদি আপনার মৃত্যু হবে আপনি আগে থেকে জেনে যান তাহলে মানুষ কখনো এরকম কাজ করতে পারবে? বাঁচার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না, কিন্তু মরার নিশ্চয়তা সবাই দিবে। দুনিয়ার কোন মানুষই বেঁচে থাকবে না, তবুও বেঁচে থাকার জন্য এতকিছু।
তথাকথিত নারী স্বাধীনতার আসল চেহারা এরকমই। তারপরও আমরা বুঝি না। একজন নারীর শিক্ষিত হওয়াকে শুধু পুরুষদের সাথে প্রতিযোগীতা করা কেন বুঝায়? একজন নারীকে সাবলম্বি হওয়া মানে কেন পুরুষদের সাথে কাজ করা বুঝায়? এই 'কেন' এর উত্তরগুলো এরকমই হয়।
কেউ একজন লাইক দেয়াতে বিষয়টা চোখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্যাতন? আধুনিক সভ্যতার দাবিদারের অঞ্চলে এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে না। গেলাম নিউজের ভিতরে, একি! এতো অবাক কান্ড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতায় তাদেরই সহকর্মীরা এই কাজ করতো। বাহ! তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কি হয়েছে জানেন? বরখাস্ত করেছেন একজনকে, আর সর্বনিম্ন শাস্তি হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে, মানে সতর্ক করা হয়েছে।
বিচারের মান দেখুন সভ্যতার জনকদের। ধর্ষণের শাস্তি বরখাস্ত! তাদের দেশে মা-বোনদের ইজ্জতের দাম নাই। তারাই আমাদের দেশের মা-বোনদের ন্যায় বিচারের জন্য উঠেপড়ে লাগে।
সাংবাদিকদের ধন্যবাদ না দিলে হয় না। তারা অপরাধীর ছবি না দিয়ে নির্যাতিতার ছবি দিয়েছে। এমন ভাব এটা দেখে অপরাধীরা লজ্জায় মরে যাচ্ছে। আসলেই বর্তমান সাংবাদিকতার লেভেল দেখলে তাজ্জব বনে যেতে হয়। এই কয়েক সপ্তাহ আগে বগুড়ায় নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিতার ছবি কতবার ছাপানো হলো, অন্যদিকে সেই ধর্ষকের ছবি কতবার ছাপানো হলো, মনে করুন তো? যাই হোক, আসুন আমরা সভ্য আমেরিকার অসভ্য আচরণের খবর ফাঁস হওয়ার অপেক্ষা করি।
আজ এক আত্নীয়ের কাছে গিয়েছিলাম কুশলাদি জিজ্ঞেস করার জন্য। তখন দেখি পাশে এক টেলিভিশনে মহিলাদের ক্রিকেট খেলা দেখাচ্ছে। ছেলেদের মতো করে শক্তির পারদর্শীতা দেখিয়ে একজন বল করছে এবং অপর পাশে আরেক জন ব্যাটের দ্বারা সেই বলকে সীমানা পার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দর্শক মন ভরে দেখে যাচ্ছে। বাহ! কি চমৎকার নারী স্বাধীনতা! পুরুষের মতো খেলতে পারলেই যেন স্বাধীনতা পেয়ে গেল।
এই ছবিটি কাল দেখেছি। বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে। খুব আগাচ্ছে। আগে শুনতাম ক্যাম্পাসে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু খেলা খেলতে মেয়েরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও আসতো। হঠাৎ বাহিরে খাওয়ার জন্য গেলে জার্সি পরা মহিয়সী নারীদের দেখাও মিলতো। এরই ধারাবাহিকতায় ফুটবল চলে আসবে। আসাটাই স্বাভাবিক মনে হয়। যেখানে বিশ্ব মহিলা ক্রিকেট, ফুটবল কাপ হচ্ছে, সেখানে আমাদরে মেয়েরা খেলা চালিয়ে যাবে না তা মেনে নেয়া যায় না। আমাদের চেতনার কি হবে তাহলে! বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তো এজন্যই।
আজ হিজাব পরে ক্রিকেট খেলছে, কাল খুলে খেলবে, তারপর হাফ প্যান্ট পরেও খেলবে। বিশ্বের অন্য দেশের সাথে তাল মেলাতে হবে না!
এতো তাল মেলানোর পরেও ধর্ষণ, নির্যাতনের পরিসংখ্যান আগের বছরগুলোকে পার করে চলে যাচ্ছে। যারা এসবে যাচ্ছে তারা আরও বেশি ভুক্তভুগী। একবারও কি ভেবে দেখবেন না, কি লাভ হলো এই স্বাধীনতা অর্জন করে? কেন একজন করলেই আমাকে করতে হবে? আমার নিজের কি বিবেক, বুদ্ধি নেই? ...
আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন গ্রামীনফোন এবং আর টিভি মিলে সমকামীর মতো নিকৃষ্ট বিষয়ে নাটক বানিয়ে প্রচার করেছে। চিন্তা করুন পৃথিবীর অর্ধেক মানুষও যদি শুধু সম্মতি হয় সমাকামীতার বৈধতার জন্য, তাহলে ৫০বছর পরে হয়তো মানুষের অস্তিত্বও খুজে পাওয়া যাবে না। আপনারই ঘরে হয়তো তখন কোন সমকামী জন্মাবে আপনি টেরই পাবেন না।
একজন স্বামী যখন স্ত্রী বাদে অন্য নারীর দিকে বদনজরে তাকায় তখন তা হয় বিশ্বাসঘাতকতা। কিন্তু নারীকে ভাল লাগা এটা প্রাকৃতিক। কারণ পুরুষ তো নারীকেই পছন্দ করবে। কিন্তু অন্য নারীর প্রতি আকর্ষণকে যদি বৈধতা দেয়া হয় তাহলে পৃথিবীর কোন নারীকেই সে তার নজর থেকে বাদ দিবে না। এর ভয়বহতা চিন্তা করুন।
এটাতো গেল স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য হয়েও তার ভয়াবহতা। কিন্তু এই সমকামীতা?
পুরুষ হয়ে পুরুষকে, মহিলা হয়ে মহিলাকে পছন্দ করবে? এর চেয়ে জঘণ্য মানসিকতা
আর কি হতে পারে। আমাদের সবারই তো একই লিঙ্গের বন্ধু আছে যাদের জীবন দিয়ে
ভালবাসি। কিন্তু তাই বলে কি তাকে দিয়ে দৈহিক চাহিদা মেটাতে হবে?
একজন পুরুষের জীবনে তার স্ত্রী এবং একজন নারীর জীবনে তার স্বামীর অভাব অন্য কোন মানুষ দ্বারাই মেটানো সম্ভব না। এমনকি ঐ স্বামী/স্ত্রী যদি অজ্ঞান হয়ে থাকে, তারপরও। আসলে এই সমকামীতার দিকে যারা ঝোকে তারা তাদের হালাল জীবনসঙ্গীর থেকে হয়তো শান্তি পায় নি বা পাওয়ার আশাও রাখে না, তাই বিকল্প রাস্তা খুজে নেয়। কিন্তু বিকল্প রাস্তা যে তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত করে ফেলবে সেটা বুঝেও বোঝে না।
এখন আপনার করণীয় কি? আপনি আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন এই নোংরা আবর্জনা থেকে। খেয়াল রাখুন কেউ যেন, সম্মতিসূচক কোন দয়া না দেখায়। আজ অবহেলা করবেন তো কাল আপনার ঘরেই এই আবর্জনা জমে যাবে, তখন আর কিছু করতে পারবেন না। ধর্মীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দিন। কোন ধর্মেই হয়তো এর বৈধতা নেই। গ্রামীনফোন ও আর টিভিতে পারলে অনলাইনে প্রতিবাদ করুন। এদের আজ ছাড় দিলে কাল আরও বেশি প্রচার করবে।
বিশ্ব নারী দিবস - ২
আমরা কি পেলাম?
এই যে নারী স্বাধীনতা নিয়ে কত শত পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, আন্দোলন, মিছিল, প্রাণ বিসর্জন ইত্যাদি হয়েছে, হচ্ছে, হবে, এতে কি ফল পেলাম আমরা। সামান্য একটু পরিসংখ্যান দেখি।
একজন পুরুষের জীবনে তার স্ত্রী এবং একজন নারীর জীবনে তার স্বামীর অভাব অন্য কোন মানুষ দ্বারাই মেটানো সম্ভব না। এমনকি ঐ স্বামী/স্ত্রী যদি অজ্ঞান হয়ে থাকে, তারপরও। আসলে এই সমকামীতার দিকে যারা ঝোকে তারা তাদের হালাল জীবনসঙ্গীর থেকে হয়তো শান্তি পায় নি বা পাওয়ার আশাও রাখে না, তাই বিকল্প রাস্তা খুজে নেয়। কিন্তু বিকল্প রাস্তা যে তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত করে ফেলবে সেটা বুঝেও বোঝে না।
এখন আপনার করণীয় কি? আপনি আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন এই নোংরা আবর্জনা থেকে। খেয়াল রাখুন কেউ যেন, সম্মতিসূচক কোন দয়া না দেখায়। আজ অবহেলা করবেন তো কাল আপনার ঘরেই এই আবর্জনা জমে যাবে, তখন আর কিছু করতে পারবেন না। ধর্মীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দিন। কোন ধর্মেই হয়তো এর বৈধতা নেই। গ্রামীনফোন ও আর টিভিতে পারলে অনলাইনে প্রতিবাদ করুন। এদের আজ ছাড় দিলে কাল আরও বেশি প্রচার করবে।
বিশ্ব নারী দিবস - ২
আমরা কি পেলাম?
এই যে নারী স্বাধীনতা নিয়ে কত শত পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, আন্দোলন, মিছিল, প্রাণ বিসর্জন ইত্যাদি হয়েছে, হচ্ছে, হবে, এতে কি ফল পেলাম আমরা। সামান্য একটু পরিসংখ্যান দেখি।
* বরাবরের মতো এবারও নারী স্বাধীনতার অভয়আশ্রম, প্রজননকেন্দ্র, উর্বরভূমি
যাই বলি না কেন, আমেরিকা আবার সবচেয়ে ধর্ষণ বেশি হওয়া দেশের মধ্যে
চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
* প্রতিবেশি প্রগতীশীল দেশ ভারত, এবার ৪র্থ অবস্থান নিয়ে হয়তো আফসোস করছে। ভবিষ্যতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রচেষ্টা খবরে দেখে আমরা আশাবাদি। তবে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠদেশ যেখানে আংশিক শরীয়া আইন চলে সেগুলোর নামম, লিস্টে শেষেও নেই।
* বাংলাদেশেও ধর্ষণের হার দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।
* প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, আর্মি যেটাই বলি না কেন, শুধু বাংলাদেশেই ৩০শতাংশ মহিলা পুলিশ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। শতকরা ভাগ কম বেশি হতে পারে। কয়েক মাস আগের রিপোর্ট দেখতে পারেন। আর আমেরিকাতে এর শতকরা ভাগ যথাযথ আরও বেশি।
*প্রগতিশীল নারী মডেল, নায়িকাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। পত্রিকা পড়লে বোঝার কথা।
* তালাকের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক বেড়ে চলেছে। ফলাফল সন্তানরা খারাপ মনোভাব নিয়ে বেড়ে চলেছে। শুধু ঢাকাতে একমাসে কয়েক হাজার তালাক হয়েছে। পরিসংখ্যানটা মনে নাই।
* প্রগতিশীল দেশগুলোতে বিবাহ কমে গেছে। ফলাফল, জারজ সন্তান যাকে তারা ভালবাসার প্রতীক বলে, এর পরিমানও বেড়েই চলেছে।
* টিভি, চ্যানেলের নাটক, সিনেমাতে শুধুমাত্র নায়িকাদের উলঙ্গপানা বেড়েই চলেছে। কে কার চেয়ে বেশি উলঙ্গ হতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলছে সর্বত্র। এটাকে তারা সাহসী চরিত্রের অভিনয় বলে থাকে।
* শোনা যায়, ওয়েবসাইটে কুকর্মের ভিডিও সংখ্যাও নাকি বেড়ে চলেছে। ফলাফল, আত্মহত্যা বেড়ে চলেছে।
তাই বলে কি নারীরা ঘরে বন্দী হয়ে থাকবে?কোথাও যেতে পারবে না? নিজের স্বাদ-আল্লাদ বলে কিছু থাকবে না?
আমি কখনও নারীকে পরাধীন করে রাখার পক্ষে নই। তবে হ্যাঁ, তাকে এমন জায়গায়, এমন পরিবেশে স্বাধীনতার স্বাদ দিতে পক্ষপাতী করি যেখানে কেউ তার অসম্মান করবে না। এসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা অন্য একদিন হবে।
তবে নারী স্বাধীনতা বা সমঅধিকার না হয়ে, ইসলামে নারীকে যে অধিকার দিয়েছে সেই অধিকার নিশ্চিতকরণের পক্ষে আমি। এক বুযুর্গ বলেছিলেন, সৎ নারীর প্রকৃত মর্যাদা যদি পুরুষ জানতো, তাহলে তারাই নারী হওয়ার আবেদন করতো।
বিশ্ব নারী দিবস - ১
দুইদিন হলো দুইটা বিজ্ঞাপন দেখলাম ফেসবুকে। যেখানে নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। তখন ব্যাপারটা বুঝতেছিলাম না যে, কেন হঠাৎ করে নারীদের প্রতি এত দরদ উথলে উঠেছে। আজ পত্রিকা খুলে বুঝলাম আজ নারী দিবস।
বিশ্ব পুরুষ দিবস জানি কবে? আছে কি? মনে হয় নাই। যারা সারা বছর নারীদের সম্মান দেয় না, তারাই ঘটা করে দিন ঠিক করে নারীদের সম্মান দেয়। আমাদের চোখে আমাদের মা, বোন, স্ত্রী, মেয়ে এবং এর বাহিরে যারা আছে সবাই সম্মানিত। রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে মন্ত্রী সবাই সম্মানিত। হ্যাঁ, কিছু কাজ কর্মের জন্য অনেক নারীকে খারাপ চোখে দেখা হয়। এটা তো পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
* প্রতিবেশি প্রগতীশীল দেশ ভারত, এবার ৪র্থ অবস্থান নিয়ে হয়তো আফসোস করছে। ভবিষ্যতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রচেষ্টা খবরে দেখে আমরা আশাবাদি। তবে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠদেশ যেখানে আংশিক শরীয়া আইন চলে সেগুলোর নামম, লিস্টে শেষেও নেই।
* বাংলাদেশেও ধর্ষণের হার দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।
* প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, আর্মি যেটাই বলি না কেন, শুধু বাংলাদেশেই ৩০শতাংশ মহিলা পুলিশ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। শতকরা ভাগ কম বেশি হতে পারে। কয়েক মাস আগের রিপোর্ট দেখতে পারেন। আর আমেরিকাতে এর শতকরা ভাগ যথাযথ আরও বেশি।
*প্রগতিশীল নারী মডেল, নায়িকাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। পত্রিকা পড়লে বোঝার কথা।
* তালাকের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক বেড়ে চলেছে। ফলাফল সন্তানরা খারাপ মনোভাব নিয়ে বেড়ে চলেছে। শুধু ঢাকাতে একমাসে কয়েক হাজার তালাক হয়েছে। পরিসংখ্যানটা মনে নাই।
* প্রগতিশীল দেশগুলোতে বিবাহ কমে গেছে। ফলাফল, জারজ সন্তান যাকে তারা ভালবাসার প্রতীক বলে, এর পরিমানও বেড়েই চলেছে।
* টিভি, চ্যানেলের নাটক, সিনেমাতে শুধুমাত্র নায়িকাদের উলঙ্গপানা বেড়েই চলেছে। কে কার চেয়ে বেশি উলঙ্গ হতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলছে সর্বত্র। এটাকে তারা সাহসী চরিত্রের অভিনয় বলে থাকে।
* শোনা যায়, ওয়েবসাইটে কুকর্মের ভিডিও সংখ্যাও নাকি বেড়ে চলেছে। ফলাফল, আত্মহত্যা বেড়ে চলেছে।
তাই বলে কি নারীরা ঘরে বন্দী হয়ে থাকবে?কোথাও যেতে পারবে না? নিজের স্বাদ-আল্লাদ বলে কিছু থাকবে না?
আমি কখনও নারীকে পরাধীন করে রাখার পক্ষে নই। তবে হ্যাঁ, তাকে এমন জায়গায়, এমন পরিবেশে স্বাধীনতার স্বাদ দিতে পক্ষপাতী করি যেখানে কেউ তার অসম্মান করবে না। এসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা অন্য একদিন হবে।
তবে নারী স্বাধীনতা বা সমঅধিকার না হয়ে, ইসলামে নারীকে যে অধিকার দিয়েছে সেই অধিকার নিশ্চিতকরণের পক্ষে আমি। এক বুযুর্গ বলেছিলেন, সৎ নারীর প্রকৃত মর্যাদা যদি পুরুষ জানতো, তাহলে তারাই নারী হওয়ার আবেদন করতো।
বিশ্ব নারী দিবস - ১
দুইদিন হলো দুইটা বিজ্ঞাপন দেখলাম ফেসবুকে। যেখানে নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। তখন ব্যাপারটা বুঝতেছিলাম না যে, কেন হঠাৎ করে নারীদের প্রতি এত দরদ উথলে উঠেছে। আজ পত্রিকা খুলে বুঝলাম আজ নারী দিবস।
বিশ্ব পুরুষ দিবস জানি কবে? আছে কি? মনে হয় নাই। যারা সারা বছর নারীদের সম্মান দেয় না, তারাই ঘটা করে দিন ঠিক করে নারীদের সম্মান দেয়। আমাদের চোখে আমাদের মা, বোন, স্ত্রী, মেয়ে এবং এর বাহিরে যারা আছে সবাই সম্মানিত। রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে মন্ত্রী সবাই সম্মানিত। হ্যাঁ, কিছু কাজ কর্মের জন্য অনেক নারীকে খারাপ চোখে দেখা হয়। এটা তো পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
অনেকেই হুজুরদের বলে তেঁতুল হুজুর। কারণ তারা নারীদের তেঁতুলের সাথে তুলনা
করে, রাস্তা ঘাটের হিংস্র মানুষদের থেকে হেফাজত করতে চায়। এটাই তাদের দোষ।
আমি বলি, ঐ তেঁতুল হুজুরদেরই শিক্ষক, ছাত্ররা কয়টা নারী ধর্ষণ করেছে আর
আমাদের সুশীল সমাজের শিক্ষক, ছাত্ররা কয়টা ধর্ষণ করেছে। হিসাব সহজ। আজও
স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির শিক্ষক, ছাত্ররা কি না করে তাদের ছাত্রী, সহপাঠিনী,
সহকর্মীর সাথে তা কম বেশি সবারই জানা। অন্তত আমি নিজে এরকম অনেক ঘটনা
জেনেছি, শুনেছি এবং প্রমাণও পেয়েছি। নিজের চোখেও অনেক কিছু দেখেছি। চোখ
থাকতেও অন্ধ হবেন না।
আমার ঘরের নারীরা আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী মানুষ। তাদেরকে অন্য মানুষের কথায় অসম্মানিত করবো না। আসুন বুঝতে শিখি ভাবতে শিখি।
কয়েকদিন পরপর কিছু সুশীল সমাজের দাবিদারগুলো বিয়ের বয়স নিয়ে উঠে পরে লাগে। বয়স বাড়াতে হবে, অমুক করতে হবে তমুক করতে হবে। ওদের ক্ষমতা থাকলে বিয়েই বন্ধ করে দিতো। তারপর পাশ্চাত্যের অসভ্য জাতির মতো অফিসে, নাইট ক্লাবে, পার্কে, পথে-ঘাটে কুকুর-বিড়ালের মতো তাদের কামনা মিটাতো। যে বিষয়ে প্রধাননমন্ত্রীর সুপুত্র জয় বিয়ের বয়স নিয়ে লাফালাফির বিপক্ষে, সেখানে এসবের লাফালাফির টাইম আছে??
এখানে তিনটা ছবি দিয়েছি, সুশীল সমাজের পত্রিকার দুটো ছবি আছে। এক ছবিতে ১৮এর নীচে বাচ্চা হওয়ার সময় মৃতের সংখ্যা দেয়া আছে, এমন ভাব যেন ১৮এর পরে বাচ্চা হতে গেলে কেউ মরেই না। পরের ছবিতে পশ্চিমার এক ১২বছরের মেয়ে সুস্থ ভাবে সন্তান জন্ম দেয় যেখানে সন্তানের পিতার ১৩ বছর বয়স, অথচ আমাদের মেয়েরা নাকি আঠারোতেও বাচ্চা জন্মাতে অপারগ। সমস্যা হচ্ছে আমাদের এখানে ১৮এর পরেও অনেক মেয়ে মা হতে যেয়ে মারা যায়। এর কারণ অপুষ্টি, অশিক্ষা, ভুল চিকিৎসা অর্থাৎ জোর পূর্বক সিজার করা। হ্যাঁ, খবর নিয়েই বলছি। এ দেশের মতো পৃথিবীর কোন দেশেই এতো সিজার করে বাচ্চা জন্মায় না। সামান্য টাকার জন্য দেয় ইনজেকশন মেরে, তখন সিজার ছাড়া উপায় নেই। হ্যাঁ, মানছি গ্রামে অনেক সময় খুব ছোট বয়সে বিয়ে দেয়। এটা তাদের মেয়েদের সমন্ধে খারাপ ধারনার জন্য। তার মানে এই না যে ২০বছর হলেও আপনি বিয়ে দিবেন না।
আমাদের সমাজের মেয়েরা এখনো অনেক রক্ষণশীল, সে গ্রামের হোক অথবা ঢাকার। দেখেন না মিডিয়ার নায়িকাগুলোর অনেকে বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেয়। এখন বিয়ে করে সব মেয়ে ঘরমুখী হলে সুশীলদের সাথে রাস্তায় রাত কাটাবে কারা??
কারা মডেলিং এর নামে দেহ দেখিয়ে বিনোদন দিবে, কারা অলি-গলির ফাস্ট ফুডের
দোকানে ভিড় জমাবে, কারা লিটনের ফ্ল্যাটে ভাড়া করবে??? ব্যবসার বিরাট ক্ষতি
বোঝেন না??
আচ্ছা বিয়ে কি শুধু সন্তান উৎপাদনের মাধ্যম?? বিয়ে ছাড়া সন্তান জন্ম নেয় না??? তাহলে শেষের ছবিতে এসব সদ্য জন্মানো শিশু কেন ডাস্টবিনে পড়ে থাকে??? কেন প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে গর্ভাপাতের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে??? খোজ রাখেন?? না রাখলে বুঝে নিয়েন আপনার আশেপাশেও অনেকে কিশোর বয়সে পা রাখছে??? কে বাঁচাবে তাকে জঘন্য কাজ গুলো না করা থেকে?? আপনি তো তাকে ধর্মীয় শিক্ষা দেন নি, যে সে আল্লাহ্ র ভয়ে গোপনেও পাপ থেকে বিরত থাকবে। কেমনে ঠেকাবেন তাকে??? ডিজিটাল যুগে গোপনে পাপ করা কি যে সহজ তা নিজেও জানেন। উপায় একটাই যখনই কোন খারাপ কিছুর আভাস পাবেন, বিয়ে দিয়ে দেন। সে যে বয়সেই হোক। সব ঠিক চলবে পড়াশুনা নিজের বাড়িতে থাকা শুধু বিয়ে হয়ে থাকলো। ভাল লাগছে না যাও, তোমার বর/বউ এর সাথে দেখা করে/কথা বলে এসো। সমস্যা কি?? এতে পছন্দের পাত্র/পাত্রীও পাওয়া যায়। যাই হোক, ছবি গুলো দেখে চিন্তা করুন কি ঘটছে, আর কি ঘটা উচিত???
ছবিটি নিজেই তুলেছিলাম এক জাতীয় দৈনিক থেকে মাস খানেক আগে। পোস্ট দিবো দিবো করে সময় হয়ে উঠলো না। আবার কয়েকদিন আগে ফেসবুকে এক খবরে দেখে লিখার ইচ্ছা জাগলো। বিবিসি এর গত বছরের জরিপের ফল। এই সেই নাদিয়া যিনি ব্রিটেনের রাণীর জন্য তার জন্মদিনে কেক বানিয়েছিলেন। হিজাব পরে নারী স্বাধীনতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। মিডিয়া এনিয়ে বেশ স্বরব ছিল। ফলাফল কি হলো?? বর্তমান ভারতের স্বনামধন্য নায়িকা যে কিনা পূর্বে নীল জগতের মধ্যমণি ছিল, তার সাথে তুলনা করলো। শুধুই কি তুলনা?? সেই নায়িকার নামই উপরে লেখা হলো, অথচ মুসলিম নারী স্বাধীনতার মডেলকে নীচে নামিয়ে দেয়া হলো। এতে কি সম্মান বাড়লো না কমলো??? এক সম্ভ্রান্ত মহিলার সাথে সমাজের নিকৃষ্ট মহিলার তুলনা। মুসলিমরা নিরব তাকিয়ে রয়। এতো উদরতা দেখানোর পরও তাকে এক অনুষ্ঠানে অপমান করা হলো মুসলিম হওয়ার কারণে অথবা নিগ্রো হওয়ার কারণে। হ্যাঁ, তার পাশে বসতে অস্বীকৃতি জানায় এক মেয়ে, একটা নিউজের পেজে দেখেছিলাম। হায়রে!!! সেকুলার দেশ!!! অসম্প্রদায়িক দেশ। এই বর্ণবাদকে কেন্দ্র করে সাদারা আর কালোরা সংঘর্ষ লেগেই রাখে, একটু খবর রাখলেই টের পাবেন। যাই হোক, নাদিয়ার মতো চিন্তাশীল মা-বোনদের অনুরোধ জানাবো যে, কাউকে আদর্শ অথবা অনুসরণ করার আগে ভেবে দেখবেন, কেন তাকে অনুসরণ করবেন?? আসলেই কি সে অনুসরণযোগ্য?? হিজাব পরিধান করলেই পর্দা হয়ে গেল?? এখন আপনি ইহুদী-খৃস্টনদের মতো যা খুশি তাই করতে পারবেন??? ইসলাম আপনাকে সেই অনুমতি দেয়??? কাকে খুশি করার এতো প্রয়াস আপনার??? নিজের আত্মাকে??? সে তো শয়তানের কথায় উঠা বসা করে, নাকি সমাজকে, যে সমাজ এক মুহূর্তেই এক পতিতার সাথে তুলনা করে??? ভেবে দেখেন, আবেদন রইলো।
শুক্রবারের সকাল,
দিনটি শুরু হলেই মনের ভিতর কেমন কেমন যেন শুরু হয়। যেন কোনদিনের তুলনায় এদিনটিতে একটু বেশিই ভাল থাকতে মন চায়। কিন্তু কি চাইলেই সব পাওয়া যায় রে ভাই?? সকালে নাস্তা শেষে যখন দেশের একটা জাতীয় দৈনিক পত্রিকা হাতে নিলাম, হয়ে গেল সকালটা বরবাদ। প্রথম পেজের নিচের অংশতে দেশের এক নারী মডেল হিসেবে পরিচিত বোন, এক অশ্লীল ভঙ্গিতে আবেদনময়ী হাসি দেয়া তার ছবি ঝুলানো হয়েছে। যাহ! বিজ্ঞাপনটা কি এটাই তো মনে নাই। বিজ্ঞাপনেরর নাম দেখার জন্য আবার পত্রিকা খুলবো না। আমি বুঝি না এসব নারীই সমাজে মডেল নামে কিভাবে পরিচিত হতে পারে। মডেল মানে যাকে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করা হবে। কিন্তু আদ্যো কি তারা অনুসরণ যোগ্য?? যাক এসব পরে আলাপ হবে। আমি বলছিলাম মানে লেখছিলাম, প্রথম পেজেই কি এসব দিতেই হবে? মানলাম যে অনেক লোক এই ছবি খানা দেখে পণ্য নেয়ার জন্য আগ্রহী হবে। কিন্তু সবাই কি এধরনের ছবি আশা করে? পৃথিবীর সব মানুষকে একই পাল্লায় মাপা ঠিক হবে? এসব যে শুধু আজই দিয়েছে তা নয়, কিংবা শুধু যে পত্রিকাতে সীমাবদ্ধ তাও নয়। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই আজ এই অবস্থা। সামান্য একটা পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য নারীকে ছোট কাপড় পরিয়ে অর্ধ উলঙ্গ করে বিজ্ঞাপন দেয়ার মানেটা কি?? সেও তো কারো বোন, কারো মেয়ে, কারো হবু স্ত্রী, হবু মা। তাকে এভাবে নির্লজ্জ বানালো কে? আপনি কল্পনা করুন আপনার আপন কাউকে স্টেজে নিয়ে গোসল করার বাথটাবে ডুবিয়ে থাকা অবস্থায় সবাই দেখে উপভোগ করছে, আর আপনি খুশি হচ্ছেন। কেমন লাগবে? অথচ অন্য কেউ করছে পরোক্ষভাবে টেলিভিশন বা পত্রিকায় তখন ঠিকই তো উপভোগ করছেন।
যাই হোক, অন্য কথা লেখতে বসেছিলাম, লিখে ফেললাম অন্য কিছু। আসুন সচেতন হই।
সাম্প্রতিক মডেল-২
আরও লেখতে মন চাচ্ছে। ক্যামেরার সামনে দু একটা অঙ্গি ভঙ্গি দিয়ে দুনিয়া জিততে চায়, তারা জানে না মানুষ তাদের কি নজরে দেখে। মডেলরা তাদের খোলা বাহু, বুক, পিঠ,পায়ে কম কাপড় পরে। কিভাবে যে মানুষ তাকে সম্মানের চোখে দেখে? তার শরীরের খোলা অংশ দেখে একজন পুরুষ কিভাবে সম্মান দেয় তা সবাই জানে। আগে যখন ভারতের চলচ্চিত্রের পুরষ্কারের অনুষ্ঠানগুলো দেখতাম, সেখানে নারীকে সম্মান দেওয়ার নামে তার অভিনিত চলচ্চিত্রে কত অশ্লীল পোষাক পরে দর্শকের হৃদয় জয় করেছে এর জন্য পুরষ্কার দিতো। দর্শকের হৃদয় কেমন হয় যখন একজন নারীকে ছোট পোষাকে দেখে তা তার চোখই বলে দেয়। জীবন চলে যায় সময়ের গতিতে, এত কিছু চাই এই ছোট জীবনে যেমন- টাকা, বাড়ি, গাড়ি, সম্মান ইত্যাদি। কখনো কি মনে হয় না যে আমি যে এক ধর্মের মানুষ, সেই ধর্মটা নিয়ে একটু চিন্তা করে দেখি। হয়তো তাদের কাছে চিন্তা করার দাওয়াত কেউ দেয় না, আবার দিলেও তারা অন্য ভাবে দেখে। সবাই এরকম না, উদাহরণ নাজনীন আক্তার হ্যাপি। আহা! কি সাহসী মেয়ে সে। এই সময়ের মেয়েদের জন্য সে উজ্জল দৃষ্টান্ত। তার লেখা স্ট্যাটাস দেখে আমি অবাক না হয়ে পারি না। এই মেয়ে কিছুদিন আগে দুনিয়া নিয়ে, রুবেল নিয়ে পরে থাকতো, আর আজ সে ঐসব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। তার সাথে Add হওয়ার দরকার পরে নি। এমনিতেই অনেকে তার লেখা like দেয় আমার তালিকার অনেকে। এক ঈমানী শক্তিতেই সে তার পূর্বের চাকচিক্যময় জীবনকে দূরে ঠেলে ইসলামের রঙে নিজেকে রাঙিয়েছে। এতেও কি ঐসব নারীরা দাওয়াত পায় নি?? পেয়েছে, কিছু দাওয়াত মুখে নয় কাজে হয়ে যায়। ওরা ভাবছে সে বোকা, সে সব হারালো। সে কি পাইছে তা তোমরা বুঝবে না। তোমরা যাও র্যাম্পে হাঁটো, আত্নহত্যা করো। আর তোমরা সেই ছবি আর ভিডিওগুলোতে Like দিয়ে বেড়াও, যাও।
সাম্প্রতিক মডেল-১
লেখতে চাচ্ছিলাম একটা লেখছি আরেকটা। বিষয়টা গরম গরম তাই লেখলাম। বাঙালিরা গরম গরম সব কিছুর প্রতি ঝোক বেশি, সে খাবার হোক আর সাম্প্রতিক ঘটনা হোক একই রকম আগ্রহ দেখা যায়। ঘটনা হলো গতকাল এক বিজ্ঞাপনের মডেল/ নতুন প্রজন্মের মডেল আত্মহত্যা করার আগে Video Upload করে গেছে। মৃতব্যক্তির সমন্ধে খারাপ কথা বলা উচিত নয়। আল্লাহ্ তাকে মাফ করুক। আসলে আমার উদ্দেশ্য ঐসব মডেলদের প্রতি যারা নিজেদের কাজ নিয়ে গর্ব করে এবং ঐসব লোকদের প্রতি যারা তাদের অনুসরন করে। আমি কৌতুহল নিয়ে মডেলটার Facebook ID তে ঢুকেছি, দেখেছি তার সংক্ষিপ্ত জীবনের অর্জন। আহ! কত শত ঢং করে, ছোট-বড় কাপড় পরে ছবি গুলো তুলছে। কখনো সাধারণ দৃষ্টিতে কখনো অশ্লীল দৃষ্টিতে তার অনুভূতি গুলো সবার সামনে তুলে ধরেছে যা আমার চোখ দেখতে গিয়ে বার বার কেঁপে উঠেছে। অবাক বিষয় যে, তার প্রিয় সেই মানুষটির Facebook ID চেষ্টা করেও খুঁজে পাই নি, যার জন্য তার এ অবস্থা। হয়তো Deactivate করেছে। আমি তো এখনো তার নাম দেখে বুঝতে পারলাম না ছেলেটা হিন্দু না মুসলমান। সে যাই হোক, কথা হলো এ অবস্থা শুধু এই মডেলের না তথাকথিত নারী স্বাধীনতা নিয়ে যারা বাইরে কাজ করছে বেশির ভাগেরই একই অবস্থা। আজ থেকে প্রায় ১০-১২ বছর আগে তিন্নি নামের এক মডেলের আত্মহত্যা কি হত্যার খবর প্রথম শুনেছিলাম। এদের জীবনযাপন ভাবলে গা ঘিনঘিন করে ওঠে। কয়েকদিন আগে শুনলাম এক Tv Reporter মেয়ে নাকি চতুর্থ বার বিয়ে করেছে। এই মিডিয়া জগতে এসে কত নারীর জীবন, সংসার সব নষ্ট হয়েছে তা একটু পরিসংখ্যান করলেই টের পাবেন। বলবেন যে ছেলে করলে কোন সমস্যা নাই, মেয়ে করলেই দোষ? আপনি নিজের মা-বোনকে একবার ঐজায়গায় ভাবুন। এগুলো বললেই তো দোষ সব হুজুরদের। দেখেন গুনাহ কখনো আপনার জীবনকে সুখী করবে না, হ্যা সাময়িক আনন্দ দিবে। কিন্তু আপনার আত্মা তৃপ্তি পাবে না। এই মডেলটিও কারও বোন কারও মেয়ে। তার পরিবার এখন কি অবস্থায় আছে তা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানে। ইশ! কতই না আশা ছিল ছোট থেকে এই হবে ঐ হবে, আর আজ লাশ হয়ে গেল। জীবনটা অনেক ছোট এর মূল্য বোঝার জন্য। আসুন আমার আশে পাশের মানুষদের এসব থেকে দূরে থাকার নসিহত করি এবং নিজেরা সকল মডেলদের Page গুলো Unlike করি। আমাদের প্রিয়জনদেরকে তাদের সাথে তুলনা না করি।
ভেজাল/ফরমালিন হাঁসি
আপনি কখনো বিজ্ঞাপন ফলকের (Billboard) মেয়েগুলোর বাঁকা ঠোঁটের হাঁসি দেখেছেন? দেখারই কথা। এসব আমাদের চোখে পরার জন্যই তো রাস্তার মোড়ে মোড়ে, বড় দালানগুলোর ছাদে ছাদে ঝুলানো হয়।তাদের হাঁসিগুলো দেখে আপনি ভাবেন যে আপনার কাছের মানুষটি যদি ঐভাবে হাসতো কতই না ভালো লাগতো। আহা! কতই না সুন্দর সেই হাঁসি, সেই প্রাণ জুড়ানো হাঁসি। বিশ্বাস করুন এই হাঁসিগুলোর মধ্যে ১% সত্যতা নাই, ভেজাল সম্পূর্ণটাই ফরমালিনের ভেজাল। এই হাঁসি তারা টাকার বিনিময়ের, কৃত্রিমভাবে তাদের অনুভূতিগুলোকে বানিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আপনাকে আনন্দ দেয়ার। আর আপনিও সেই নকল,ভেজাল হাঁসি দেখে গুলগুলা।শুধু কি বিজ্ঞাপন ফলক, নাহ! পত্রিকা, পোস্টার, টিভি, ইন্টারনেট সর্বত্র এইসব ভেজাল বিনোদন দিয়ে ভরা। এই সব দেখে কি আপনার, নিজের বাসায় অপেক্ষা করা মানুষটির কথা ভাবেন? যখন আপনি ঘরে প্রবেশ করলে সেই মানুষটি যে হাঁসি দেয় সেটার মর্ম বুঝবেন? বাবা-মা'র কাছে গিয়ে তাদের সাথে গল্প করলে যে হাঁসি তারা দেয় সেটার সত্যতা, ছোটদের জন্য চকলেট নিয়ে গেলে তাদের হাঁসির পবিত্রতা, অনেক দিন পর বন্ধু আপনাকে দেখলে বুকে জড়িয়ে নিয়েয়ে যে হাঁসি দেয় সেই আসল হাঁসির মূল্য আপনি বুঝবেন না। তাদের হাঁসিগুলো টাকায় কেনা নয়, তাদের হাঁসি আপনার প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকাশ করে। আহা! কত নির্ভেজাল, কত বিশুদ্ধ। আর আমরা এসব বাদ দিয়ে হাঁসির জন্য, বিনোদনের জন্য মিরাক্কেল দেখি, কৌতুকের নাটক, চলচ্চিত্র দেখি। না দেখেই কি উপায় আছে! আমরা ডিজিটাল হচ্ছি, তাই হাঁসিটাও ডিজিটাল। সারাদিন ভেজাল খাওয়ার মতো ভেজাল হাঁসি, বিনোদন আমাদের প্রকৃত অনুভূতি গুলো থেকে লক্ষ, কোটি মাইল দূরে রাখছে। আসুন দূরত্ব কমাই, হাসি ফরমালিন মুক্ত প্রকৃত হাঁসি।
তনু ও তার মতো বোনেরা
এখানে দুই গুনাহ/জঘন্য কাজ/অপরাধ হয়েছে। এক ধর্ষণ, দুই নৃশংসভাবে হত্যা। ভেবে দেখুন মানুষ কতটা নির্দয় হলে এরকম হতে পারে। এসবের জন্য অনেকাংশে আমরাই দায়ী। আমরাই আইটেম গান নিয়ে পরে থাকি, অশ্লীল সিনেমা দেখি,আমরাই তো কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ভরে ভরে পর্ন ছবি, ভিডিও রেখে দেই, আমাদেরই আশেপাশে বিজ্ঞাপনের নামে বিলবোর্ড,পোস্টার গুলোতে মডেল গুলোর বাকা দেহের আকর্ষনীয় চেহারার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি। আমাদের সমাজেই পুরাতন ধর্ষকরা যখন শাস্তি না পেয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় তখনই নতুন ধর্ষকের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা নিয়ে সমাজের পরিত্যক্ত কিছু লোকেরা বলছে যে, হিজাব পরেও মেয়েদের রক্ষা নাই। আমার মনে হয় এই আপু হয়তো পূর্ণ হিজাবের ব্যাপারে জানতে পারি নি। ইসলামে এই রকম হিজাবের কথা বলা নাই। ইসলাম শুধু হিজাবই না, ইসলাম বলে একজন মেয়ে বাহিরে বের হবে এমন মাহরাম(যার সাথে বিবাহ নিষধ) ব্যক্তির সাথে, যে এই মেয়েটির জান,ইজ্জত রক্ষার্থে নিজের জীবন পর্যন্ত দিতে পারে। ইসলাম বলে মেয়ে পর্দা করে বের হবে এবং যেসব ব্যক্তি(পুরুষ/মহিলা) নির্যাতন, ধর্ষন, যেনা, পরকিয়া করবে তাকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। আমাদের একদল শুধু পর্দার কথা বলে আরেক দল শুধু শাস্তির কথা বলে। এই দুটোর সমন্বয় করতে কেউ করতে বলে না। আমরা উন্নত দেশের সাথে নিজেদের তুলনা করি। ওদের দেশে বেশির ভাগ ধর্ষনের মামলা থানায় গ্রহণই করে না। ওখানে ১৪-১৫বয়স হওয়ার আগেই বেশির ভাগ যৌন নির্যাতন/ধর্ষনের শিকার হয় তাও আবার নিকট আত্মীয় ও বন্ধুদের দ্বারা। এর পরের পরিসংখ্যানগুলো আরও ভয়াবহ। ওগুলো ইচ্ছা করে মনে রাখি না, বিষয়টা ভাবতেই খারাপ লাগে। ইন্টারনেটে ২টা ক্লিক মারলেই পাবেন। আমি ভাবছি শুধু তনুকে নিয়েই এতো লাফালাফি কেন? দেশে তো প্রতিনিয়ত ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। যাই হোক জনগন যদি এটাকে কেন্দ্র করেই সচেতন হয় তবে সেটাই বা খারাপ কিসের। আসুন আজ এখন থেকেই নিজের ঘর থেকে ধর্ষনের রাস্তা বন্ধ করি। খারাপ কিছু দেখা, শোনা, করা থেকে নিজে বিরত রাখি অন্যকে রাখার চেষ্টা করি।
আমার ঘরের নারীরা আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী মানুষ। তাদেরকে অন্য মানুষের কথায় অসম্মানিত করবো না। আসুন বুঝতে শিখি ভাবতে শিখি।
কয়েকদিন পরপর কিছু সুশীল সমাজের দাবিদারগুলো বিয়ের বয়স নিয়ে উঠে পরে লাগে। বয়স বাড়াতে হবে, অমুক করতে হবে তমুক করতে হবে। ওদের ক্ষমতা থাকলে বিয়েই বন্ধ করে দিতো। তারপর পাশ্চাত্যের অসভ্য জাতির মতো অফিসে, নাইট ক্লাবে, পার্কে, পথে-ঘাটে কুকুর-বিড়ালের মতো তাদের কামনা মিটাতো। যে বিষয়ে প্রধাননমন্ত্রীর সুপুত্র জয় বিয়ের বয়স নিয়ে লাফালাফির বিপক্ষে, সেখানে এসবের লাফালাফির টাইম আছে??
এখানে তিনটা ছবি দিয়েছি, সুশীল সমাজের পত্রিকার দুটো ছবি আছে। এক ছবিতে ১৮এর নীচে বাচ্চা হওয়ার সময় মৃতের সংখ্যা দেয়া আছে, এমন ভাব যেন ১৮এর পরে বাচ্চা হতে গেলে কেউ মরেই না। পরের ছবিতে পশ্চিমার এক ১২বছরের মেয়ে সুস্থ ভাবে সন্তান জন্ম দেয় যেখানে সন্তানের পিতার ১৩ বছর বয়স, অথচ আমাদের মেয়েরা নাকি আঠারোতেও বাচ্চা জন্মাতে অপারগ। সমস্যা হচ্ছে আমাদের এখানে ১৮এর পরেও অনেক মেয়ে মা হতে যেয়ে মারা যায়। এর কারণ অপুষ্টি, অশিক্ষা, ভুল চিকিৎসা অর্থাৎ জোর পূর্বক সিজার করা। হ্যাঁ, খবর নিয়েই বলছি। এ দেশের মতো পৃথিবীর কোন দেশেই এতো সিজার করে বাচ্চা জন্মায় না। সামান্য টাকার জন্য দেয় ইনজেকশন মেরে, তখন সিজার ছাড়া উপায় নেই। হ্যাঁ, মানছি গ্রামে অনেক সময় খুব ছোট বয়সে বিয়ে দেয়। এটা তাদের মেয়েদের সমন্ধে খারাপ ধারনার জন্য। তার মানে এই না যে ২০বছর হলেও আপনি বিয়ে দিবেন না।
আমাদের সমাজের মেয়েরা এখনো অনেক রক্ষণশীল, সে গ্রামের হোক অথবা ঢাকার। দেখেন না মিডিয়ার নায়িকাগুলোর অনেকে বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেয়। এখন বিয়ে করে সব মেয়ে ঘরমুখী হলে সুশীলদের সাথে রাস্তায় রাত কাটাবে কারা??
আচ্ছা বিয়ে কি শুধু সন্তান উৎপাদনের মাধ্যম?? বিয়ে ছাড়া সন্তান জন্ম নেয় না??? তাহলে শেষের ছবিতে এসব সদ্য জন্মানো শিশু কেন ডাস্টবিনে পড়ে থাকে??? কেন প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে গর্ভাপাতের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে??? খোজ রাখেন?? না রাখলে বুঝে নিয়েন আপনার আশেপাশেও অনেকে কিশোর বয়সে পা রাখছে??? কে বাঁচাবে তাকে জঘন্য কাজ গুলো না করা থেকে?? আপনি তো তাকে ধর্মীয় শিক্ষা দেন নি, যে সে আল্লাহ্ র ভয়ে গোপনেও পাপ থেকে বিরত থাকবে। কেমনে ঠেকাবেন তাকে??? ডিজিটাল যুগে গোপনে পাপ করা কি যে সহজ তা নিজেও জানেন। উপায় একটাই যখনই কোন খারাপ কিছুর আভাস পাবেন, বিয়ে দিয়ে দেন। সে যে বয়সেই হোক। সব ঠিক চলবে পড়াশুনা নিজের বাড়িতে থাকা শুধু বিয়ে হয়ে থাকলো। ভাল লাগছে না যাও, তোমার বর/বউ এর সাথে দেখা করে/কথা বলে এসো। সমস্যা কি?? এতে পছন্দের পাত্র/পাত্রীও পাওয়া যায়। যাই হোক, ছবি গুলো দেখে চিন্তা করুন কি ঘটছে, আর কি ঘটা উচিত???
ছবিটি নিজেই তুলেছিলাম এক জাতীয় দৈনিক থেকে মাস খানেক আগে। পোস্ট দিবো দিবো করে সময় হয়ে উঠলো না। আবার কয়েকদিন আগে ফেসবুকে এক খবরে দেখে লিখার ইচ্ছা জাগলো। বিবিসি এর গত বছরের জরিপের ফল। এই সেই নাদিয়া যিনি ব্রিটেনের রাণীর জন্য তার জন্মদিনে কেক বানিয়েছিলেন। হিজাব পরে নারী স্বাধীনতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। মিডিয়া এনিয়ে বেশ স্বরব ছিল। ফলাফল কি হলো?? বর্তমান ভারতের স্বনামধন্য নায়িকা যে কিনা পূর্বে নীল জগতের মধ্যমণি ছিল, তার সাথে তুলনা করলো। শুধুই কি তুলনা?? সেই নায়িকার নামই উপরে লেখা হলো, অথচ মুসলিম নারী স্বাধীনতার মডেলকে নীচে নামিয়ে দেয়া হলো। এতে কি সম্মান বাড়লো না কমলো??? এক সম্ভ্রান্ত মহিলার সাথে সমাজের নিকৃষ্ট মহিলার তুলনা। মুসলিমরা নিরব তাকিয়ে রয়। এতো উদরতা দেখানোর পরও তাকে এক অনুষ্ঠানে অপমান করা হলো মুসলিম হওয়ার কারণে অথবা নিগ্রো হওয়ার কারণে। হ্যাঁ, তার পাশে বসতে অস্বীকৃতি জানায় এক মেয়ে, একটা নিউজের পেজে দেখেছিলাম। হায়রে!!! সেকুলার দেশ!!! অসম্প্রদায়িক দেশ। এই বর্ণবাদকে কেন্দ্র করে সাদারা আর কালোরা সংঘর্ষ লেগেই রাখে, একটু খবর রাখলেই টের পাবেন। যাই হোক, নাদিয়ার মতো চিন্তাশীল মা-বোনদের অনুরোধ জানাবো যে, কাউকে আদর্শ অথবা অনুসরণ করার আগে ভেবে দেখবেন, কেন তাকে অনুসরণ করবেন?? আসলেই কি সে অনুসরণযোগ্য?? হিজাব পরিধান করলেই পর্দা হয়ে গেল?? এখন আপনি ইহুদী-খৃস্টনদের মতো যা খুশি তাই করতে পারবেন??? ইসলাম আপনাকে সেই অনুমতি দেয়??? কাকে খুশি করার এতো প্রয়াস আপনার??? নিজের আত্মাকে??? সে তো শয়তানের কথায় উঠা বসা করে, নাকি সমাজকে, যে সমাজ এক মুহূর্তেই এক পতিতার সাথে তুলনা করে??? ভেবে দেখেন, আবেদন রইলো।
শুক্রবারের সকাল,
দিনটি শুরু হলেই মনের ভিতর কেমন কেমন যেন শুরু হয়। যেন কোনদিনের তুলনায় এদিনটিতে একটু বেশিই ভাল থাকতে মন চায়। কিন্তু কি চাইলেই সব পাওয়া যায় রে ভাই?? সকালে নাস্তা শেষে যখন দেশের একটা জাতীয় দৈনিক পত্রিকা হাতে নিলাম, হয়ে গেল সকালটা বরবাদ। প্রথম পেজের নিচের অংশতে দেশের এক নারী মডেল হিসেবে পরিচিত বোন, এক অশ্লীল ভঙ্গিতে আবেদনময়ী হাসি দেয়া তার ছবি ঝুলানো হয়েছে। যাহ! বিজ্ঞাপনটা কি এটাই তো মনে নাই। বিজ্ঞাপনেরর নাম দেখার জন্য আবার পত্রিকা খুলবো না। আমি বুঝি না এসব নারীই সমাজে মডেল নামে কিভাবে পরিচিত হতে পারে। মডেল মানে যাকে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করা হবে। কিন্তু আদ্যো কি তারা অনুসরণ যোগ্য?? যাক এসব পরে আলাপ হবে। আমি বলছিলাম মানে লেখছিলাম, প্রথম পেজেই কি এসব দিতেই হবে? মানলাম যে অনেক লোক এই ছবি খানা দেখে পণ্য নেয়ার জন্য আগ্রহী হবে। কিন্তু সবাই কি এধরনের ছবি আশা করে? পৃথিবীর সব মানুষকে একই পাল্লায় মাপা ঠিক হবে? এসব যে শুধু আজই দিয়েছে তা নয়, কিংবা শুধু যে পত্রিকাতে সীমাবদ্ধ তাও নয়। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই আজ এই অবস্থা। সামান্য একটা পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য নারীকে ছোট কাপড় পরিয়ে অর্ধ উলঙ্গ করে বিজ্ঞাপন দেয়ার মানেটা কি?? সেও তো কারো বোন, কারো মেয়ে, কারো হবু স্ত্রী, হবু মা। তাকে এভাবে নির্লজ্জ বানালো কে? আপনি কল্পনা করুন আপনার আপন কাউকে স্টেজে নিয়ে গোসল করার বাথটাবে ডুবিয়ে থাকা অবস্থায় সবাই দেখে উপভোগ করছে, আর আপনি খুশি হচ্ছেন। কেমন লাগবে? অথচ অন্য কেউ করছে পরোক্ষভাবে টেলিভিশন বা পত্রিকায় তখন ঠিকই তো উপভোগ করছেন।
যাই হোক, অন্য কথা লেখতে বসেছিলাম, লিখে ফেললাম অন্য কিছু। আসুন সচেতন হই।
সাম্প্রতিক মডেল-২
আরও লেখতে মন চাচ্ছে। ক্যামেরার সামনে দু একটা অঙ্গি ভঙ্গি দিয়ে দুনিয়া জিততে চায়, তারা জানে না মানুষ তাদের কি নজরে দেখে। মডেলরা তাদের খোলা বাহু, বুক, পিঠ,পায়ে কম কাপড় পরে। কিভাবে যে মানুষ তাকে সম্মানের চোখে দেখে? তার শরীরের খোলা অংশ দেখে একজন পুরুষ কিভাবে সম্মান দেয় তা সবাই জানে। আগে যখন ভারতের চলচ্চিত্রের পুরষ্কারের অনুষ্ঠানগুলো দেখতাম, সেখানে নারীকে সম্মান দেওয়ার নামে তার অভিনিত চলচ্চিত্রে কত অশ্লীল পোষাক পরে দর্শকের হৃদয় জয় করেছে এর জন্য পুরষ্কার দিতো। দর্শকের হৃদয় কেমন হয় যখন একজন নারীকে ছোট পোষাকে দেখে তা তার চোখই বলে দেয়। জীবন চলে যায় সময়ের গতিতে, এত কিছু চাই এই ছোট জীবনে যেমন- টাকা, বাড়ি, গাড়ি, সম্মান ইত্যাদি। কখনো কি মনে হয় না যে আমি যে এক ধর্মের মানুষ, সেই ধর্মটা নিয়ে একটু চিন্তা করে দেখি। হয়তো তাদের কাছে চিন্তা করার দাওয়াত কেউ দেয় না, আবার দিলেও তারা অন্য ভাবে দেখে। সবাই এরকম না, উদাহরণ নাজনীন আক্তার হ্যাপি। আহা! কি সাহসী মেয়ে সে। এই সময়ের মেয়েদের জন্য সে উজ্জল দৃষ্টান্ত। তার লেখা স্ট্যাটাস দেখে আমি অবাক না হয়ে পারি না। এই মেয়ে কিছুদিন আগে দুনিয়া নিয়ে, রুবেল নিয়ে পরে থাকতো, আর আজ সে ঐসব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। তার সাথে Add হওয়ার দরকার পরে নি। এমনিতেই অনেকে তার লেখা like দেয় আমার তালিকার অনেকে। এক ঈমানী শক্তিতেই সে তার পূর্বের চাকচিক্যময় জীবনকে দূরে ঠেলে ইসলামের রঙে নিজেকে রাঙিয়েছে। এতেও কি ঐসব নারীরা দাওয়াত পায় নি?? পেয়েছে, কিছু দাওয়াত মুখে নয় কাজে হয়ে যায়। ওরা ভাবছে সে বোকা, সে সব হারালো। সে কি পাইছে তা তোমরা বুঝবে না। তোমরা যাও র্যাম্পে হাঁটো, আত্নহত্যা করো। আর তোমরা সেই ছবি আর ভিডিওগুলোতে Like দিয়ে বেড়াও, যাও।
সাম্প্রতিক মডেল-১
লেখতে চাচ্ছিলাম একটা লেখছি আরেকটা। বিষয়টা গরম গরম তাই লেখলাম। বাঙালিরা গরম গরম সব কিছুর প্রতি ঝোক বেশি, সে খাবার হোক আর সাম্প্রতিক ঘটনা হোক একই রকম আগ্রহ দেখা যায়। ঘটনা হলো গতকাল এক বিজ্ঞাপনের মডেল/ নতুন প্রজন্মের মডেল আত্মহত্যা করার আগে Video Upload করে গেছে। মৃতব্যক্তির সমন্ধে খারাপ কথা বলা উচিত নয়। আল্লাহ্ তাকে মাফ করুক। আসলে আমার উদ্দেশ্য ঐসব মডেলদের প্রতি যারা নিজেদের কাজ নিয়ে গর্ব করে এবং ঐসব লোকদের প্রতি যারা তাদের অনুসরন করে। আমি কৌতুহল নিয়ে মডেলটার Facebook ID তে ঢুকেছি, দেখেছি তার সংক্ষিপ্ত জীবনের অর্জন। আহ! কত শত ঢং করে, ছোট-বড় কাপড় পরে ছবি গুলো তুলছে। কখনো সাধারণ দৃষ্টিতে কখনো অশ্লীল দৃষ্টিতে তার অনুভূতি গুলো সবার সামনে তুলে ধরেছে যা আমার চোখ দেখতে গিয়ে বার বার কেঁপে উঠেছে। অবাক বিষয় যে, তার প্রিয় সেই মানুষটির Facebook ID চেষ্টা করেও খুঁজে পাই নি, যার জন্য তার এ অবস্থা। হয়তো Deactivate করেছে। আমি তো এখনো তার নাম দেখে বুঝতে পারলাম না ছেলেটা হিন্দু না মুসলমান। সে যাই হোক, কথা হলো এ অবস্থা শুধু এই মডেলের না তথাকথিত নারী স্বাধীনতা নিয়ে যারা বাইরে কাজ করছে বেশির ভাগেরই একই অবস্থা। আজ থেকে প্রায় ১০-১২ বছর আগে তিন্নি নামের এক মডেলের আত্মহত্যা কি হত্যার খবর প্রথম শুনেছিলাম। এদের জীবনযাপন ভাবলে গা ঘিনঘিন করে ওঠে। কয়েকদিন আগে শুনলাম এক Tv Reporter মেয়ে নাকি চতুর্থ বার বিয়ে করেছে। এই মিডিয়া জগতে এসে কত নারীর জীবন, সংসার সব নষ্ট হয়েছে তা একটু পরিসংখ্যান করলেই টের পাবেন। বলবেন যে ছেলে করলে কোন সমস্যা নাই, মেয়ে করলেই দোষ? আপনি নিজের মা-বোনকে একবার ঐজায়গায় ভাবুন। এগুলো বললেই তো দোষ সব হুজুরদের। দেখেন গুনাহ কখনো আপনার জীবনকে সুখী করবে না, হ্যা সাময়িক আনন্দ দিবে। কিন্তু আপনার আত্মা তৃপ্তি পাবে না। এই মডেলটিও কারও বোন কারও মেয়ে। তার পরিবার এখন কি অবস্থায় আছে তা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানে। ইশ! কতই না আশা ছিল ছোট থেকে এই হবে ঐ হবে, আর আজ লাশ হয়ে গেল। জীবনটা অনেক ছোট এর মূল্য বোঝার জন্য। আসুন আমার আশে পাশের মানুষদের এসব থেকে দূরে থাকার নসিহত করি এবং নিজেরা সকল মডেলদের Page গুলো Unlike করি। আমাদের প্রিয়জনদেরকে তাদের সাথে তুলনা না করি।
ভেজাল/ফরমালিন হাঁসি
আপনি কখনো বিজ্ঞাপন ফলকের (Billboard) মেয়েগুলোর বাঁকা ঠোঁটের হাঁসি দেখেছেন? দেখারই কথা। এসব আমাদের চোখে পরার জন্যই তো রাস্তার মোড়ে মোড়ে, বড় দালানগুলোর ছাদে ছাদে ঝুলানো হয়।তাদের হাঁসিগুলো দেখে আপনি ভাবেন যে আপনার কাছের মানুষটি যদি ঐভাবে হাসতো কতই না ভালো লাগতো। আহা! কতই না সুন্দর সেই হাঁসি, সেই প্রাণ জুড়ানো হাঁসি। বিশ্বাস করুন এই হাঁসিগুলোর মধ্যে ১% সত্যতা নাই, ভেজাল সম্পূর্ণটাই ফরমালিনের ভেজাল। এই হাঁসি তারা টাকার বিনিময়ের, কৃত্রিমভাবে তাদের অনুভূতিগুলোকে বানিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আপনাকে আনন্দ দেয়ার। আর আপনিও সেই নকল,ভেজাল হাঁসি দেখে গুলগুলা।শুধু কি বিজ্ঞাপন ফলক, নাহ! পত্রিকা, পোস্টার, টিভি, ইন্টারনেট সর্বত্র এইসব ভেজাল বিনোদন দিয়ে ভরা। এই সব দেখে কি আপনার, নিজের বাসায় অপেক্ষা করা মানুষটির কথা ভাবেন? যখন আপনি ঘরে প্রবেশ করলে সেই মানুষটি যে হাঁসি দেয় সেটার মর্ম বুঝবেন? বাবা-মা'র কাছে গিয়ে তাদের সাথে গল্প করলে যে হাঁসি তারা দেয় সেটার সত্যতা, ছোটদের জন্য চকলেট নিয়ে গেলে তাদের হাঁসির পবিত্রতা, অনেক দিন পর বন্ধু আপনাকে দেখলে বুকে জড়িয়ে নিয়েয়ে যে হাঁসি দেয় সেই আসল হাঁসির মূল্য আপনি বুঝবেন না। তাদের হাঁসিগুলো টাকায় কেনা নয়, তাদের হাঁসি আপনার প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকাশ করে। আহা! কত নির্ভেজাল, কত বিশুদ্ধ। আর আমরা এসব বাদ দিয়ে হাঁসির জন্য, বিনোদনের জন্য মিরাক্কেল দেখি, কৌতুকের নাটক, চলচ্চিত্র দেখি। না দেখেই কি উপায় আছে! আমরা ডিজিটাল হচ্ছি, তাই হাঁসিটাও ডিজিটাল। সারাদিন ভেজাল খাওয়ার মতো ভেজাল হাঁসি, বিনোদন আমাদের প্রকৃত অনুভূতি গুলো থেকে লক্ষ, কোটি মাইল দূরে রাখছে। আসুন দূরত্ব কমাই, হাসি ফরমালিন মুক্ত প্রকৃত হাঁসি।
তনু ও তার মতো বোনেরা
এখানে দুই গুনাহ/জঘন্য কাজ/অপরাধ হয়েছে। এক ধর্ষণ, দুই নৃশংসভাবে হত্যা। ভেবে দেখুন মানুষ কতটা নির্দয় হলে এরকম হতে পারে। এসবের জন্য অনেকাংশে আমরাই দায়ী। আমরাই আইটেম গান নিয়ে পরে থাকি, অশ্লীল সিনেমা দেখি,আমরাই তো কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ভরে ভরে পর্ন ছবি, ভিডিও রেখে দেই, আমাদেরই আশেপাশে বিজ্ঞাপনের নামে বিলবোর্ড,পোস্টার গুলোতে মডেল গুলোর বাকা দেহের আকর্ষনীয় চেহারার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি। আমাদের সমাজেই পুরাতন ধর্ষকরা যখন শাস্তি না পেয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় তখনই নতুন ধর্ষকের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা নিয়ে সমাজের পরিত্যক্ত কিছু লোকেরা বলছে যে, হিজাব পরেও মেয়েদের রক্ষা নাই। আমার মনে হয় এই আপু হয়তো পূর্ণ হিজাবের ব্যাপারে জানতে পারি নি। ইসলামে এই রকম হিজাবের কথা বলা নাই। ইসলাম শুধু হিজাবই না, ইসলাম বলে একজন মেয়ে বাহিরে বের হবে এমন মাহরাম(যার সাথে বিবাহ নিষধ) ব্যক্তির সাথে, যে এই মেয়েটির জান,ইজ্জত রক্ষার্থে নিজের জীবন পর্যন্ত দিতে পারে। ইসলাম বলে মেয়ে পর্দা করে বের হবে এবং যেসব ব্যক্তি(পুরুষ/মহিলা) নির্যাতন, ধর্ষন, যেনা, পরকিয়া করবে তাকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। আমাদের একদল শুধু পর্দার কথা বলে আরেক দল শুধু শাস্তির কথা বলে। এই দুটোর সমন্বয় করতে কেউ করতে বলে না। আমরা উন্নত দেশের সাথে নিজেদের তুলনা করি। ওদের দেশে বেশির ভাগ ধর্ষনের মামলা থানায় গ্রহণই করে না। ওখানে ১৪-১৫বয়স হওয়ার আগেই বেশির ভাগ যৌন নির্যাতন/ধর্ষনের শিকার হয় তাও আবার নিকট আত্মীয় ও বন্ধুদের দ্বারা। এর পরের পরিসংখ্যানগুলো আরও ভয়াবহ। ওগুলো ইচ্ছা করে মনে রাখি না, বিষয়টা ভাবতেই খারাপ লাগে। ইন্টারনেটে ২টা ক্লিক মারলেই পাবেন। আমি ভাবছি শুধু তনুকে নিয়েই এতো লাফালাফি কেন? দেশে তো প্রতিনিয়ত ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। যাই হোক জনগন যদি এটাকে কেন্দ্র করেই সচেতন হয় তবে সেটাই বা খারাপ কিসের। আসুন আজ এখন থেকেই নিজের ঘর থেকে ধর্ষনের রাস্তা বন্ধ করি। খারাপ কিছু দেখা, শোনা, করা থেকে নিজে বিরত রাখি অন্যকে রাখার চেষ্টা করি।
আপনি যদি রাস্তার সব নারীর দিকে তাকিয়ে থাকেন, তাহলে কিভাবে আপনার ঘরের নারীকে ভাল লাগবে??
কারণ কারও চেহারা ভাল তো কারও চুল, কারও চোখ তো কারও নাক,,, আর বেশি দূর যাব না। স্রষ্টা তাদের সৃষ্টিই করেছে এভাবে। আপনার ঘর সুখের হবে কিভাবে? ভাবুন একজন নিজে না খেয়ে শুধুই আপনার জন্য, আপনার আসার পথের পানে চেয়ে থাকে। তাতে কতোই না ভালবাসা লুকিয়ে থাকে, সেটার কথা চিন্তা করুন। ভাল লাগবে। একটু চিন্তা করুন,
" আপনার আলমারিতে যে সব জিনিস থাকে তা কোন কাজে আসে না শুধু প্রদর্শনই হয়, কিন্তু রান্নাঘরে যে সব জিনিস থাকে তা ছাড়া আপনি চলতেই পারবেন না।"
এবার হিসাব মিলাতে থাকুন।
মানুষ বনাম জানোয়ার
আমাদের আশেপাশে তাকালে দেখা যায়, অনেক জীবিত, মৃত প্রাণী,উদ্ভিদ,জড় বস্তুদের সাথে আমরা বসবাস করি। এর মধ্যে মানুষই সর্বোচ্চ ক্ষমতাধারী,বুদ্ধি সম্পন্ন প্রাণী। কারণ মানুষ চিন্তাশীল, সব সময় নতুন কিছু খোঁজা ও আবিষ্কারের কাজে ব্যস্ত থাকে।
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের মধ্য অনেক মিল আছে। যেমন- দু'জনেরই ক্ষুধা লাগে, দু'জনেরই বাসস্থানের দরকার হয়(ব্যতিক্রম আছে), দু'জনেরই ক্লান্তি আসে, ঘুমের প্রয়োজন হয়, মল-মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হয়।
কিন্তু
মানুষ বেশীর ভাগ সময় খাবার প্রক্রিয়ারর মাধ্যমে খায়, উন্নত মানের বাসস্থানে থাকে এসব প্রাণীরা করতে পারে না।
কিন্তু
অনেক মানুষ উপরের দু'টো ঠিক করলেও কয়েকটা বিষয়ে জানোয়ারের সাথে নিজেদের মিল রাখতে চায়। যেমন- স্রষ্টা প্রাণীদের লজ্জা নিবারণের জন্য গায়ের লোম বড় দিয়েছে, কিন্তু মানুষের সেই লোম নাই, তারা কাপড় পরে লজ্জা নিবারণ করে।এরপরও অনেক মানুষ জানোয়ারের সাথে মিল রাখতে প্রতিনিয়ত কাপড় খোলার প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে। প্রাণীরা তাদের মল-মূত্র ত্যাগ করে যেখানে সেখানে খোলা জায়গায়, দাঁড়ানো অবস্থায়।তাদের পরে পরিষ্কার হওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মানুষ সাধারণত গোপনে উপযোগী পরিবেশে, বসা অবস্থায় করে। এখানেও অনেক মানুষ জানোয়ারের মতো যেখান সেখানে, দাঁড়িয়ে, পরিষ্কার না হয়ে থেকে যায়। হ্যাঁ ইউরোপ, আমেরিকা সহ অনেক উন্নত দেশে উন্নত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তারা বেশির ভাগ এই কাজ করে। আমরাও ওদের সাথে মিল রাখতে জানোয়ার হওয়ার জন্য চেষ্টার ত্রুটি করি না। আসুন একবার মানুষ হই।
বি:দ্র: যেখানে মানুষকে প্রাণী বানিয়েছি, সেখানেই জানোয়ার লিখেছি। আমি জানি জানোয়ার কোন সময় প্রয়োগ করা হয়।
কারণ কারও চেহারা ভাল তো কারও চুল, কারও চোখ তো কারও নাক,,, আর বেশি দূর যাব না। স্রষ্টা তাদের সৃষ্টিই করেছে এভাবে। আপনার ঘর সুখের হবে কিভাবে? ভাবুন একজন নিজে না খেয়ে শুধুই আপনার জন্য, আপনার আসার পথের পানে চেয়ে থাকে। তাতে কতোই না ভালবাসা লুকিয়ে থাকে, সেটার কথা চিন্তা করুন। ভাল লাগবে। একটু চিন্তা করুন,
" আপনার আলমারিতে যে সব জিনিস থাকে তা কোন কাজে আসে না শুধু প্রদর্শনই হয়, কিন্তু রান্নাঘরে যে সব জিনিস থাকে তা ছাড়া আপনি চলতেই পারবেন না।"
এবার হিসাব মিলাতে থাকুন।
মানুষ বনাম জানোয়ার
আমাদের আশেপাশে তাকালে দেখা যায়, অনেক জীবিত, মৃত প্রাণী,উদ্ভিদ,জড় বস্তুদের সাথে আমরা বসবাস করি। এর মধ্যে মানুষই সর্বোচ্চ ক্ষমতাধারী,বুদ্ধি সম্পন্ন প্রাণী। কারণ মানুষ চিন্তাশীল, সব সময় নতুন কিছু খোঁজা ও আবিষ্কারের কাজে ব্যস্ত থাকে।
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের মধ্য অনেক মিল আছে। যেমন- দু'জনেরই ক্ষুধা লাগে, দু'জনেরই বাসস্থানের দরকার হয়(ব্যতিক্রম আছে), দু'জনেরই ক্লান্তি আসে, ঘুমের প্রয়োজন হয়, মল-মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হয়।
কিন্তু
মানুষ বেশীর ভাগ সময় খাবার প্রক্রিয়ারর মাধ্যমে খায়, উন্নত মানের বাসস্থানে থাকে এসব প্রাণীরা করতে পারে না।
কিন্তু
অনেক মানুষ উপরের দু'টো ঠিক করলেও কয়েকটা বিষয়ে জানোয়ারের সাথে নিজেদের মিল রাখতে চায়। যেমন- স্রষ্টা প্রাণীদের লজ্জা নিবারণের জন্য গায়ের লোম বড় দিয়েছে, কিন্তু মানুষের সেই লোম নাই, তারা কাপড় পরে লজ্জা নিবারণ করে।এরপরও অনেক মানুষ জানোয়ারের সাথে মিল রাখতে প্রতিনিয়ত কাপড় খোলার প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে। প্রাণীরা তাদের মল-মূত্র ত্যাগ করে যেখানে সেখানে খোলা জায়গায়, দাঁড়ানো অবস্থায়।তাদের পরে পরিষ্কার হওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মানুষ সাধারণত গোপনে উপযোগী পরিবেশে, বসা অবস্থায় করে। এখানেও অনেক মানুষ জানোয়ারের মতো যেখান সেখানে, দাঁড়িয়ে, পরিষ্কার না হয়ে থেকে যায়। হ্যাঁ ইউরোপ, আমেরিকা সহ অনেক উন্নত দেশে উন্নত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তারা বেশির ভাগ এই কাজ করে। আমরাও ওদের সাথে মিল রাখতে জানোয়ার হওয়ার জন্য চেষ্টার ত্রুটি করি না। আসুন একবার মানুষ হই।
বি:দ্র: যেখানে মানুষকে প্রাণী বানিয়েছি, সেখানেই জানোয়ার লিখেছি। আমি জানি জানোয়ার কোন সময় প্রয়োগ করা হয়।
No comments:
Post a Comment