মানুষ জন্মের পর থেকেই অনুকরণ প্রিয় । প্রথমেই সে মা-বাবার অনুকরণ করা
থেকে শুরু করে । এরপর আত্মীয়-স্বজন , প্রতিবেশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের
অন্যান্য মানুষদেরও অনুকরণ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে । আবার কোন কোন
অনুকরণীয় ব্যাক্তির অনুকরণ জীবনের পথ চলায় সফলতা বয়ে আনে, আবার কারও
অনুকরণে জীবনে দুঃখ বয়ে আনে । সবসময় মাথায় চলে কারও মতো হতে অথবা কাউকে
ছাড়িয়ে যেতে । তাহলে এই অনুকরণ বা অনুসরণের মাপকাঠি কি ? কাকে
নিশ্চিন্তভাবে অনুসরণ করলে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতের জীবনে ভালভাবে থাকা
যাবে ? এই উত্তর একমাত্র সেই বলতে পারবে
যিনি আমাকে-আপনাকে সহ পুরো সৃষ্টিজগতের সৃষ্টিকর্তা , মহান রাব্বুল আলামিন।
তিনিই যুগে যুগে তাঁর বান্দাদের সঠিক পথে চলার জন্য নবী-রাসুলদের আদর্শ
হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন । সেই ধারাবাহিকতায় শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা) এর
আগমন ।
বিশ্ব মানবতা
যখন ধুকে ধুকে মরছিল, সাধারণ নাগরিক ও গরীব শ্রেণী যখন নির্যাতিত,
নিষ্পেষিত জীবন-যাপন করছিল। শাসক ও ধনীশ্রেণীদের ভোগ-বিলাস ও অপরাধ প্রবণতা
চূড়ান্তত সীমায় পৌঁছেছিল। তখন পুরো সৃষ্টিজগত আলোকিত করে, রহমত ও বরকত
নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হলেন মানবতার মুক্তির দূত সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, হযরত
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি এসে মানবতাকে নতুন জীবন
দান করলেন, দুনিয়ার নকশাই পরিবর্তন করে দিলেন। দুনিয়া নিজেকে চিনলো নতুন
আরেক রুপে, যে রুপ পবিত্র ও শান্তি নিশ্চিত করে।
মানুষের জীবনের
প্রতিটি অধ্যায়ে একজন মানুষ কতটা ভাল হতে পারে, তার সর্বোচ্চ স্তরে তিনি
পৌঁছে দেখিয়েছেন। যদি শুধু দয়ালু গুণটা নিয়ে আলোচনা করি তারপরও পৃষ্ঠার পর
পৃষ্ঠা লেখা যাবে । এখানে কয়েকটা ঘটনা উল্লেখ করি।
মাক্কী জীবনে
যখন তায়েফে দাওয়াতের জন্য গমন করলেন, তখন তায়েফবাসী দাওয়াত গ্রহণ করলোই না,
উল্টো উনাকে রক্তাক্ত করলেন। এরপর যখন জীব্রিল (আ) আগমন করলেন এবং
তায়েফবাসীর শাস্তি দেয়ার অনুমতি চাইলেন, তখন তিনি(সা) অনুমতি তো দিলেনই না,
উল্টো তাদের জন্য হেদায়েতের জন্য দুয়া করলেন।
আবার মক্কা থেকে যখন
মদীনায় কুরাইশদের ভয়াবহ নির্যাতন থেকে বেঁচে কঠিন বিপদ পারি দিয়ে এসে প্রথম
যে ভাষণ দিলেন, সেটাতে না কোন আক্ষেপ ছিল, না ছিল হতাশা।
খায়বারের
যুদ্ধের সময় যখন ইহুদী মহিলা তাকে(সা) বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করতে চাইলেন,
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি(সা) ক্ষমা করে দেন ।
মক্কা বিজয়ের পর
তাঁর সবচেয়ে ঘোরতর শত্রুগুলোকে শুধু এজন্য ক্ষমা করে দেন যে, তারা ইসলাম
কবুল করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম ক্ষমার দৃষ্টান্ত একটিও নেই।
আসুন নবী(সা)কে জানি, নিজের আদর্শকে চিনি । নবী (সা) এর সীরাত বেশি বেশি পাঠ করি ।
Saturday, April 4, 2020
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
One
অনেক ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। খেয়ে দেয়ে আবার ক্লান্তও হয়ে যায়। যার কিছু হয়তো ভাল, আবার কিছু হয়তো কালো। তেমনি আজ একটা বিষয় মাথায় আসলো।...
-
মানুষ তার পরিবেশের কারণে প্রভাবিত হয়। একজন শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয়, এরপর থেকেই সে প্রতিনিয়ত বড় হয় ও শিখতে থাকে। শিখতে থাকে তার চারপাশে যা আছে ত...
-
কাছে আসার গল্প-০২ গল্পের নায়ক HSC পাশ করে অনেক কষ্টে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ...
-
কাছে আসার গল্প-০৩ ভোর থেকেই আকাশ কাদঁছে কারণ কাল মেঘ তাকে ঢেকে রেখেছে। চারদিকের পরিবেশ অনেক ঠান্ডা। ঘুমে...
No comments:
Post a Comment