Tuesday, January 24, 2017

আসল বন্ধু


'বন্ধু' কয়েকটা শব্দের সমষ্টি অথচ সম্পর্কের শুরু কখন শেষ কখন তা কেউ জানে না। 'বন্ধু' শব্দটি পড়ার পরই আপনার মস্তিষ্কের সার্চ বারে কয়েকটা মুখ, কিছু স্মৃতি আপনার মস্তিষ্ক থেকে সরাসরি আপনার মনে এসে কিছু ভাল লাগার অনুভূতি জাগ্রত করবে, ফলে আপনি ফিক করে হেসে দিবেন। কিছু স্মার্ট চেহারা, কিছু হাবাগোবা চেহারা ও কিছু বদমাইশ চেহারা ;-) এই চেহারাগুলোকে ঘিরে হাজারো স্মৃতি পাতার মতো মস্তিষ্কের বৃক্ষে সজ্জিত থাকে যা চাহিবা মাত্রই উহার স্মরণকারীকে হাসাতে পারে। এই সব চেহারার মানুষগুলো আপনাকে সব সময় বিভিন্ন উপনামে ডাকবে, আপনার ইজ্জতের বারোটা বাজাবে, কত শত জিনিস নিয়ে আপনাকে পঁচাবে এবং বিভিন্ন ভাবে খোটাও দিবে। কিন্তু তাদের সাথেই এক মুহূর্ত কথা না বললে পেটের ভাত হজম হবে না। কোন খুশির সংবাদ নিয়ে আসলে তা আরও দ্বিগুণ বেড়ে দেয়। দুঃখে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেয় এবং বিপদে সবসময় পাশে থাকে, এরই নাম তো বন্ধু।
ইহকালের জীবনে বন্ধু ছাড়া চলা খুব মুশকিল। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি মৃত্যুর পর আপনার বন্ধু কে হবে?? তখন বন্ধু ছাড়া কিভাবে চলবেন। বেঁচে থাকাকালীন বন্ধুগুলোই মৃত্যুর সাথে সাথে আপনার সঙ্গ ত্যাগ করবে। বন্ধুত্বের বন্ধন এখানেই শেষ। তাহলে কবরের ভয়াবহ জীবনে কে আপনাকে সাহায্য করবে??? সেই কঠিন মুহূর্তে আপনার বন্ধু হবে আপনার ভাল আমল- আপনার নামায, আপনার রোযা আপনার কুরআন। কবরে এসব কিছু নিজস্ব আকৃতি ধারণ করবে এবং কবরের আজাব কে আপনার বন্ধু বলে পরিচয় দিয়ে সেই বিপদ থেকে রক্ষা করবে। তাহলে আপনি কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করেছেন??? তাদের সাথেও যে বন্ধুত্ব করার সময়কাল জীবন পর্যন্ত।
হায়!! আপনি তো বেখবর, আপনি তো ইহকালের সুখের জন্য বন্ধু খুজেছেন কিন্তু পরকালের সুখের জন্য কাউকে খুজলেন না। আসুন সেই বন্ধু খুজি যে আপনাকে শুধু দুনিয়াতেই নয় পরকালের সুখেরও সন্ধান দেয়, সেই তো আসল বন্ধু



গতকাল শহরের কিশোর ছেলেদের চিরচেনা জায়গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভি এম স্কুল) সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। ভি এমের নাম চোখে পড়তেই অনেকের কিছু মধুর, কিছু ভয়ংকর, কিছু না প্রকাশ হওয়া অনুভূতির কথা মনে পড়ে যেতেই পারে তাতে আমার কি আসে যায় । যাই হোক স্কুলের ভিতর থেকে বিকট শব্দে হৈ হুল্লোড় শোনা যাচ্ছে। আমি একটু ভিতর থেকে ঘুরে আসলাম। হ্যাঁ, আপনি ভুল পড়েছেন আমি ভিতরে যাই নি ;-) স্কুলের ভিতর থেকে উপরের দিকে দুইটা আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। একটু পড়েই গানের আওয়াজ শোনা গেল বুঝতে আর বাকি রইলো না, ভিতরে কনসার্টের আয়োজন হয়েছে। ছেলের কণ্ঠে ধুম ধারাক্কা আওয়াজের তালে তালে কি সব গান চলছে। এমনিতেই এই স্কুলের সামনে গেলে বুকের ভিতর "জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো" শ্লোগান শুরু হয় ;-) কেন হয় তা জানি না। স্মৃতির পাতা উল্টে পাল্টে কোন ঘটনাই মনে পড়ে না, তারপরও কিছু থেকে যায় জিলা স্কুলের ছাত্র বলে কথা ;-)
যাই হোক অনুষ্ঠান হয়তো হচ্ছিলো বিদায় সংবর্ধনা না হলে মেধাবীদের সংবর্ধনা। যে কারণেই হোক আমরা এমন কেন যে, কোন কিছুর খুশি উদযাপন করার প্রয়োজন পড়লেই গানের আসর বসাই। কেন?? কোথায় পেলাম এসব?? সংবর্ধনায় গান, বিজয় দিবসে গান, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে গান, এমন কি ঈদ উদযাপনেও গান। হায় রে হায়!! আল্লাহ্‌ পাক কি এভাবে খুশি উদযাপন করতে বলেছেন??? আমরা খুশি উদযাপন করাও শিখি নি?? আর কবে শিখবো?? স্কুলে যারা আয়োজন করে তারা তো আমার শিক্ষকবৃন্দ তারাই যদি এসব শেখায় , তবে আমরা সঠিকটা পাবো কোথায়??? ঘাপলা আছে মামা!!
এ অবস্থা দূর করা সহজ নয়। আল্লাহ্‌ পাক বলেন, বান্দা খুশি হলে আমার শুকরিয়া আদায় কর এবং মাগফেরাত কামনা কর।।। উল্টো গুনাহ করার প্রতিযোগিতা করি।
আজকাল তো কারও কারও মৃত্যু দিবসেও গান হয়, দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য গান হয়, ইভ টিজিং প্রতিরোধেও গান হয়। হা হা হা। এই সব প্রেমের গানই ইভ টিজিং এর মতো ঘটনা গড়ায়, আর আমরা ওটা দমন করতে গানই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করি। হায়!! কতো নির্বোধ আমরা।। সমস্যার মূল এক জায়গায় সমাধান খুঁজি অন্য জায়গায়। হায়, আফসোস!!

No comments:

Post a Comment

One

অনেক ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। খেয়ে দেয়ে আবার ক্লান্তও হয়ে যায়। যার কিছু হয়তো ভাল, আবার কিছু হয়তো কালো। তেমনি আজ একটা বিষয় মাথায় আসলো।...