বাবা নেই। শুধু মা আছেন। বিয়ের বয়েস হয়ে
গেছে। গরীব দেখে কেউ বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। ভাঙচোরা ঘর। মা রাতদিন
আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানিয়ে যাচ্ছেন। মেয়েটার একটা গতি হোক। আল্লাহ মায়ের
কথা শুনলেন। পাশের বাড়ির এক যুবকের মনে দয়া হলো। নিজ থেকেই প্রস্তাব দিল।
মায়ের মনে শংকা দেখা দিল:
-বিয়েটা আমাদের অসহায় অবস্থার দিকে করছো না তো বাবা!
-জ্বি না। আমার বিয়ে করা প্রয়োজন। আপনার মেয়েটাও উপযুক্ত! বাড়ির কাছে ফুল
রেখে দূরের বাগানে কেন যাবো! তবে মিথ্যা বলবো না, বিয়েটা হলে আপনাদেরও একটু
সুসার হবে, এমন চিন্তাও মাথায় আছে বৈকি! কিন্তু সেটাই মূল কারণ নয়!
-ঠিক আছে বাবা! তোমাকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। তুমিও আমাদেরকে চেনো। চেনাজানা
কেউ প্রস্তাব দিলে ভরসা লাগে। কারন তারা তো সব জেনেশুনেই অগ্রসর হয়েছে। যদি
কিছু মনে না করো, আরেকটা কথা বলবো!
-জ্বি বলুন!
-আমাদের প্রতি দয়া করছো কি না, সেটা কেন জানতে চেয়েছি বলবো?
-অবশ্যই!
-বিয়েটা যদি করুণা বা দয়া দেখানোর জন্যে হয়, তাহলে সেটা আর বিয়ে থাকে না। রাজা-প্রজার সম্পর্ক হয়ে যায়। ব্যতিক্রমী মানুষও আছে।
.
বিয়ে হয়ে গেলো। মাকে ছেড়ে মেয়েটা স্বামীর ঘরে গিয়ে উঠলো। মায়ের সাথেও
প্রতিদিন দেখা হয়। কথা হয়। কয়েকটা বাড়িই তো মাঝে। প্রথম কয়েকটা দিন দেখতে
দেখতে কেটে গেলো। তারপর থেকে রঙ বদলাতে শুরু করলো। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে
খোঁটা দিতে শুরু করেলো। সে গরীব বলে। তাদের ছেলেকে আরো বড় ঘরে বিয়ে করাতে
পারতো। আরো ভালো মেয়ে পেতো। ছেলের মাথায় কী ভীমরতি ধরলো, সে কোথাকার
ফকিরনি একটাকে এনে ঘরে তুলেছে। শুরুতে আড়ালে আবডালেই এসব চলতো। নববধূ না
শোনার ভান করে থাকতো। আস্তে আস্তে আড় ভেঙে গেলো। তার সামনেই কথাবার্তা শুরু
হয়ে গেলো। এটুকুতেই থেমে থাকলো না। ঘরের মানুষগুলো স্বামীর কানও ভাঙাতে
শুরু করলো। মিছেমিছি অভিযোগ করতে শুরু করলো। প্রতিদিন শুনতে শুনতে কঠিন
মিথ্যাকেও সত্য বলে মনে হতে থাকে। স্বামী প্রথম প্রথম অবিশ্বাসভরে এসব
উড়িয়ে দিলেও, পরের দিকে তার মনেও খটকা দেখা দিল! তাইতো! কোনও কারন ছাড়া তো
এত এত অভিযোগ উত্থাপিত হতে পারে না।
.
শুরু হলো স্বামীর পক্ষ
থেকেও অভিযোগ। স্বামীর সমর্থন পেয়ে শ্বশুরবাড়ির অন্যরা এবার সীমাহীন লাই
পেয়ে গেলো। লাগামছাড়া হয়ে গেলো তাদের নির্যাতন। মুখ দিয়ে যা তা বলার
পাশাপাশি ঘরের সবকাজ তাকেই করতে দেয়া হলো। একটু উনিশ-বিশ হলেই আর রক্ষা
নেই। সারাদিন অমানুষিক কাজ করার পরও যদি অভিযোগের মাত্রাটা একটু কমতো!
মাঝেমাঝে মনে হয়, কাজ করাটাই তার দোষ! কারন সে কাজ করলে, তারা রাগ ঝাড়ার
সুযোগ পায় না! পুঞ্জীভূত রাগ অন্যভাবে প্রকাশ করে।
.
দুপুরের দিকে
হাতে তেমন কাজ থাকে না। পুরুষেরা যে যার কাজে। মহিলারা বিছানায় গড়াগড়ি দেয়।
এই ফাঁকে মেয়েটা একছুটে মায়ের কাছে যায়। সমস্ত কষ্ট মায়ের কাছে খুলে বলে।
বুকের ভার কিছুটা হলেও কমে। অসহায় বিধবা মা কিইবা করতে পারেন। মেয়েকে বোবা
কান্নামাখা স্বরে সান্ত¦না দেন। এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছে। কষ্টের মাত্রাও
বেড়ে চলছে। যে স্বামী রানী করে ঘরে তুলেছিল, সে-ই এখন চাকরানী করে ঘরছাড়া
করার চেষ্টা করছে। তাও মিথ্যা অভিযোগে! কিভাবে মানুষটা বদলে গেলো! মিছরি
থেকে ধুতরা হয়ে গেলো! আশ্চর্য!
.
মায়ের বয়েস হয়েছে। মেয়ের কষ্ট আর
নিজের খাওয়া-দাওয়ার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে, স্বাস্থ্য ভেঙে পড়লো। বিছানায়
পড়ে গেলেন। মেয়ে দিনে একবার এসে মায়ের কাজ যতটুকু পারে করে দিয়ে যায়। তার
নিজের স্বামীর ঘরে সুখ নেই, মাকে কিভাবে এ-দুর্দিনে সাহায্য করবে? মায়ের
মনে ভীষণ কষ্ট, মেয়েটাকে সুখী দেখে যেতে পারলেন না। মেয়ের মনে কষ্ট, মা চলে
গেলে কার কাছে মনের ভার লাঘব করবে?
.
মা শীর্ণ দুর্বল হাতটা মেয়ের মাথায় বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন:
-মা রে! আমার আর বেশি দেরী নেই। তোর জন্যে কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে। আমি
আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। জেনে শুনে কখনো স্বামীর অবাধ্য হইনি! পর্দা
ভাঙিনি। নামায-রোজা কাযা করিনি। অজান্তে গুনাহ করে ফেললে, বারবার তাওবা
করেছি! আমার জন্যে চিন্তা করিস না।
-তুমি যে আমার শেষ আশ্রয় ছিলে! তুমি না থাকলে আমি কার কাছে যাবো!
-ভুল বললি মা! আমি তোর শেষ আশ্রয় নই রে!
-কে?
-আমি তুই সবারই শেষ আশ্রয় হলেন ‘আল্লাহ’! একমাত্র আশ্রয়ও বটে। আমি নেই তো
কী হয়েছে! আল্লাহ আছেন। ছিলেন। থাকবেন। তোর বাবা মারা যাওয়ার পরও আমি সাহস
হারাইনি। হতোদ্যম হইনি। যৎসামান্য সঞ্চয় ছিল, ওটা দিয়েই কোনও রকমে দিন পার
করে দিয়েছি। ভেবেছিলাম তুই সুখী হবি! মিলল না। তবে তোর সুখী হওয়ার সময়ও
ফুরিয়ে যায় নি। মাত্র তো দুই বছর গেলো। তোর সামনে এখনো দীর্ঘ জীবন পড়ে আছে।
অবশ্য আল্লাহ যদি তোকে আগেই কাছে ডেকে নেন, সে ভিন্ন কথা!
-তাই যেন হয় মা, তাই যেন হয়। তুমি বিনা আমি আর পৃথিবীতে থাকতে চাই না!
-পাগলী! এমন কথা বলে না। দুনিয়া কারো জন্যে থেমে থাকে না। যাবার আগে তোকে একটা কথা বলতে চাই!
-কী কথা মা!
-আমি চলে গেলে, তুই নিঃসঙ্গ একাকী হয়ে পড়বি, এটা ঠিক নয়। আগেও তোকে কথাটা
বলেছি! একটা কাজ করবি! আমি থাকতে যেমন প্রতিদিন এ-ঘরে আসতি, আমার মৃত্যুর
পরও আসবি!
-খালি ঘরে এসে কী করবো! মনটা আরো বেশি খারাপ হবে !
-না
হবে না। প্রথম প্রথম কষ্ট লাগলেও পরে ঠিক হয়ে যাবে। ঘরে এসে, আমার
জায়নামাযটা বিছিয়ে, দুই রাকাত নামাজ পড়ে, আল্লাহর কাছে সব কষ্টের কথা খুলে
বলবি। ঠিক আমাকে যেভাবে বলতি, সেভাবে। চোখের পানি ফেলে। মনের সব দুঃখ একসাথ
করেই বলবি। তাহলে দেখবি, আমার অনুপস্থিতির অভাব ধীরে ধীরে কেটে যাবে!
.
মা নেই। মেয়েকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি জমালেন। এমন দুর্দিনেও
স্বামীকে পাশে পেলো না। কষ্টগুলোর আগের মতোই আছে। সারাদিন হাঁড়ভাঙ্গা
খাটুনি। রাতে স্বামীর বকুনি। শুধু দুপুরবেলাটা একান্ত নিজের করে পাওয়া।
মায়ের কথামতো আল্লাহর দরবারে ধর্না দিতে শুরু করেছে অসহায় বিপন্ন মেয়েটা।
প্রথম দিন তেমন কিছু হয়নি। আসলে আল্লাহর কাছে এভাবে কখনো বলাই হয়নি। নিয়মিত
নামাজ-কালাম হয়েছে। বাবা-মা ছোটবেলা থেকেই এবাদতে অভ্যস্ত করে তুলেছিলেন।
কিন্তু আল্লাহকেই শেষ ও একমাত্র আশ্রয় মনে করার মানসিকতাটা কেন যেন গড়ে
ওঠেনি। মায়ের মৃত্যুশয্যার মিনতিভরা আখেরী উপদেশ! জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল।
.
মায়ের কাছেও যেসব কথা বলা যেতো না, মায়ের কষ্টের কথা ভেবে রেখেঢেকে বলতে
হতো, আল্লাহর দরবারে সেসবের বালাই নেই। যা ইচ্ছে খুলে বলা যায়। আরও অবাক
করা ব্যাপার হলো, মায়ের কাছে বলার সময় প্রতিদিন কান্না পেতো না। দুঃখ-কষ্টও
একটা অভ্যেসে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু রবের কাছে হাত তুললেই বুকভেঙে কান্না
আসে। আগের চেয়ে মনটা বেশি হালকা হয়ে যায়। একটা পাষাণ নেমে যায়।
.
নেশার মতো হয়ে গেছে। মনটা আকুলি-বিকুলি করতে থাকে। কখন দুপুর হবে। কখন
আল্লাহর কাছে যাবে। এখন শ্বশুর বাড়ির যাতনাকে অসহ্য মনে হয় না। মনটাও
হাসিখুশি থাকে। ব্যাপারটা এ-বাড়ির কুটনীদের দৃষ্টি এড়াল না। কী ব্যাপার!
মা-মরা মেয়ের মুখে এমন হাসি! তারা নিপীড়নের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিল। কাজ হলো
না। এক মহিলা বললো:
-বউকে তার মায়ের বাড়ি থেকে আসার পরই বেশি উৎফুল্ল
দেখা যায়! প্রতিদিন সাথে করে ভরা কলসি নিয়ে যায়, আসে খালি কলসি নিয়ে!
ব্যাপার কি! ব্যাপারটা সুবিধের ঠেকছে না। তার জামাইকে বিষয়টা তাড়াতাড়ি
জানাতে হবে! এমন দুশ্চরিত্রের মেয়ে ঘরের বধূ হয়ে থাকবে! মেনে নেয়া যায় না।
আমাদের সোনার টুকরা সহজ সরল ছেলেটা বলেই সহ্য করে আছে! আজ একটা হেস্তনেস্ত
হতেই হবে! আরো আগেই খেয়াল করা উচিত ছিল। মা-ও বোধ হয় এমন ছিল। তার কাছেই
শিখেছে। কে জানে, মা বেঁচে থাকতেই এসব শুরু করেছিল। এখন আর নিজেকে বশ
মানাতে পারছে না! আমাদের সরলতার সুযোগে এই করে বেড়াচ্ছে! দেশে কি
দ্বীন-ধর্ম নেই!
.
ছেলে এলো রাতে। তাকে একান্তে ডেকে ফিসফিস করে
সব সালংকারে বলা হলো। ছেলের মাথায় আগুন ধরে গেলো। তাকে সমঝে-সুমঝিয়ে ঠান্ডা
করা হলো। ঠিক হলো, আগামী কাল আর অফিসে গিয়ে কাজ নেই। ঘর থেকে অফিসের নাম
করে বের হয়ে, সোজা শ্বাশুড়ীর ঘরে গিয়ে লুকিয়ে থাকবে। একেবারে হাতেনাতে ধরা
যাবে ‘দু’জনকে’।
.
দুপুর হলো। স্বামী অবাক হয়ে দেখলো, স্ত্রী ঝটফট
গোসল সারলো। মায়ের রেখে যাওয়া ধবধবে শাদা পোশাকটা পড়লো। নামাযে দাঁড়িয়ে
গেলো। তারপর দীর্ঘ মুনাজাতে ডুবে গেলো। একে একে নিজের কষ্টের কথাগুলো বললো।
কারো বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ না করেই, নিজের জীবনে সুখশান্তি কামনা করলো।
স্বামীর জন্যে দু‘আ করলো। শ্বাশুড়ীর জন্যে দু‘আ করলো। এমন অপার্থিব দৃশ্য
দেখে স্বামীর মনটা কেমন যেন হয়ে গেলো। অনুশোচনায়। লজ্জায়। বিবেকের দংশনে।
.
-আরিয়া! তুমি কতোদিন ধরে এমন করে নামায পড়ছো?
-আম্মুর ইন্তেকালের পর থেকে!
-কী আশ্চর্য! আমি এতটাই নির্দয়-নির্বোধ, একটুও টের পেলাম না! অন্ধ হয়ে
অন্ধকারেই ডুবে ছিলাম! তোমার প্রতি যে যুলুম করেছি, তার প্রায়শ্চিত্ত
কিভাবে হবে বলো!
-কিছুই করতে হবে না! আগে মনে ভীষণ কষ্ট থাকলেও, আম্মু মারা যাওয়ার পর থেকে, কারো প্রতি কোনও রাগ নেই।
-অবাক করলে! মায়ের মৃত্যুর পর তোমার কষ্ট তো আরও বেশি হওয়ার কথা। আমরা সবাই মিলে যা করেছি!
-তেমনি হওয়ার কথা ছিল। হয়নি তার কারন, আম্মু মারা যাওয়ার আগের দিন, আমাকে
কাছটিতে বসিয়ে কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। বিশেষ করে দু’টো শব্দ বলেছিলেন।
আব্বুও ইন্তেকালের সময় আম্মুর অসহায় বিপন্ন অবস্থা দেখে, শব্দদুটো
বলেছিলেন। সাথে ব্যাখ্যা শুনিয়ে সান্ত¦না দিয়ে গিয়েছিলেন। এজন্য আম্মু শত
কষ্টেও নুয়ে পড়েন নি। আপনি যখন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন, সেটা ছিল
আমাদের জন্যে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। আম্মুর দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল,
এটা আব্বুর উপদেশ অনুযায়ী আমল করারই ফল! পরে অবশ্য কিছু সময়ের জন্যে, আমার
কষ্ট দেখে, তার বিশ্বাসে কিছুটা চিড় ধরেছিল। ইন্তেকালের আগে আবার আল্লাহর
প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলেন।
-শব্দ দু’টো কি কি?
-সেগুলো আসলে কুরআনের একটা আয়াতের অংশ! সূরা ‘আলাক’ মানে ইক্বরা-এর শেষ দু’টি শব্দ। উসজুদ ইকতারিব! তুমি সিজদা করো। নিকটবর্তী হও!
নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া আরম্ভ
করেছেন। প্রকাশ্যে কাবাচত্বরে নামায পড়তে শুরু করেছেন। আবু জাহলের এ-নিয়ে
ভীষণ উষ্মা! সে নামায বন্ধ করার জন্যে অতি তৎপর হয়ে উঠলো! বাধা দিতে এলো।
দম্ভভরে বললো:
-তুমি নামায পড়লে আমি পা দিয়ে তোমার গর্দন পিষে দেব (নাউযুবিল্লাহ)!
আবু জাহলের এই দম্ভোক্তির প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তা‘আলা সূরা আলাকের ছয় থেকে
শেষ পর্যন্ত আয়াতগুলো নাযিল করেন। প্রথম পাঁচ আয়াত নাযিল হয়েছিল আরো আগে।
সেই শুরুতে। হেরা গুহায়।
নবীজি আবু জাহলের কথা শুনে তাকে উল্টো ধমক দিলেন। আবু জাহল তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বলেছিল:
-আমি মক্কায় একা নই। আমার একান্ত বৈঠকে প্রচুর লোক সমাগম হয়। আমি ডাকলেই তারা ছুটে আসবে।
নরাধমের এহেন ঔদ্ধত্যের জবাবে আল্লাহ তা‘আলা পাল্টা হুমকি দিয়েছেন:
-সুতরাং সে ডাকুক তার জলসা-সঙ্গীদের! আমিও ডাকব জাহান্নামের ফেরেশতাদের।
হে নবী! আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি আমার সিজদা করুন। তাহলে আপনি আমার
আরো নিকটবর্তী হতে থাকবেন!
নবীজি সিজদার মাধ্যমে সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে
গিয়েছিলেন। আল্লাহর কাছাকাছি হয়েছেন। আম্মুকেও দেখেছি দিনদিন আল্লাহর আরো
কাছে, আরো কাছে যেতে। আমিও সে চেষ্টায় রত ছিলাম। যাতে সব কষ্ট ভুলে থাকা
যায়। আর এটা পেয়ারা নবীর আদর্শ। সুন্নাত। তার চেয়েও বড় কথা, সরাসরি আল্লাহর
দেয়া অব্যর্থ ধন্বন্তরি ‘ব্যবস্থাপত্র’। অারেকটা ব্যাপারও বেশ অবাক করা!
-কোন ব্যাপারটা?
-আমি এতদিন যাকে সবচেয়ে কাছের মনে করতাম, তাকেই সব খুলে বলতাম! এভাবেই
মাস কে মাস বলে গেছি! কোনও সমাধান আসে নি। কিন্তু যেই আল্লাহকে সরাসরি
নিজের কথা বললাম, অল্প ক’দিনের মধ্যে তিনি সমাধান করে দিলেন!
আলহামদুলিল্লাহ!
.
-আরিয়া! তুমি এতকিছু জানো। কখনো টের পেতে দাওনি তো!
-আপনি টের পেতে চেয়েছেন?
-চলো, আজ আর ঘরে ফিরবো না! এখানেই কিছু সময় কাটিয়ে দেই!
-কেন টের পেতে ইচ্ছে হচ্ছে বুঝি!
-তোমার হচ্ছে না?
-জ্বি।
-তবে আর দেরী কেন!
-এ্যাই কী হচ্ছে এসব! আমাদের ঘরের কলটা নষ্ট তো!
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
One
অনেক ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। খেয়ে দেয়ে আবার ক্লান্তও হয়ে যায়। যার কিছু হয়তো ভাল, আবার কিছু হয়তো কালো। তেমনি আজ একটা বিষয় মাথায় আসলো।...
-
মানুষ তার পরিবেশের কারণে প্রভাবিত হয়। একজন শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয়, এরপর থেকেই সে প্রতিনিয়ত বড় হয় ও শিখতে থাকে। শিখতে থাকে তার চারপাশে যা আছে ত...
-
কাছে আসার গল্প-০২ গল্পের নায়ক HSC পাশ করে অনেক কষ্টে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ...
-
কাছে আসার গল্প-০৩ ভোর থেকেই আকাশ কাদঁছে কারণ কাল মেঘ তাকে ঢেকে রেখেছে। চারদিকের পরিবেশ অনেক ঠান্ডা। ঘুমে...
No comments:
Post a Comment