গল্প - "Be Careful"
"Be careful "
পর্ব: ১
সারা,নাবিলা,রিচি তারা ক্লাস ৬ থেকে বান্ধবী। সব সময় একসাথেই থাকতো ঘুরাঘুরি করতো ও অনেক মজা করতো।
.
.
ক্লাস ৬ এর ক্লাস টিচার হলেন ফাতেমা ম্যাডাম।
ম্যাডাম ক্লাসে পড়ার ফাঁকেফাঁকে একটু একটু কথাও বলতেন।
তবে ক্লাসের বেশিরভাগ মেয়েরা ম্যাডামকে ভয় পেত।কারো কাছে খুব ভালো লাগতো ম্যাডামকে আবার কারো কাছে....
.
.
ক্লাসে ম্যাডাম পড়ার ফাঁকে মুসলিম মেয়েদের বুঝাতেন।নামায, রোজা,পর্দা ইত্যাদি বিষয়ে বলতেন।এইসব করলে কি ফায়দা হবে আবার না করলে কি শাস্তি হবে তাও বলতেন।
.
.
সারা ম্যাডামকে প্রথমে একটু একটু ভয় পেত।কিন্তু এখন সে তেমন ভয় পায় না।সে ক্লাসে ম্যাডামের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতো।আস্তে আস্তে ম্যাডামের প্রতি তার ভালোবাসা তৈরি হয়।
তবে নাবিলা আর রিচি ম্যাডামের এইসব কথায় পাত্তাই দিতো না।তাদের কাছে বোরিং লাগতো।তারা চাইতো কখন যে ম্যাডাম ক্লাস থেকে যাবে!!!
যখন নেক্সট ক্লাসের ঘণ্টা বেজে উঠতো তখন তারা মহা খুশি!!!
(চলবে)...
ইনশাআল্লাহ।
-----
Be careful"
পর্ব: ২
সারা, নাবিলা,রিচি তাদের ক্লাস ৬ পড়া শেষ হলো এইভাবেই।
.
.
ক্লাস ৭, ৮ এ উঠে নাবিলা ও রিচি অনেক খুশি!তবে এই খুশি নতুন ক্লাসে উঠেছে এইজন্য না, খুশি এইজন্য এখন আর ফাতেমা ম্যাডামের ক্লাস নেই!হুররে কি মজা!!
কিন্তু সারা এতে একদম ই খুশি না!সে চায় ম্যাডামের ক্লাস একদিন হলেও যেন থাকে।
.
.
সারাকে নাবিলা ও রিচি হেসে হেসে বলল, কীরে দেখছিস এখন আর ফাতেমা ম্যাডামের ক্লাস নেই!
সারা : হুম..এইখানে খুশি হওয়ার কী?ইশ..ম্যাডাম কত্ত ভালো ভালো কথা বলতো!
নাবিলা: উঁহু.. তোর তো ফেভারিট টিচার তাই না?
সারা: হুম..
রিচি : আহারে..নাবিলা এইসব বলিস না তো!বেচারি.. তার ফেভারিট টিচারের ক্লাস এখন আর নেই..তাই তার মন ও ভালো না।হিহি..
নাবিলা: আচ্ছা বাদ এইসব! এই দেখ ফুচকাওয়ালা.. চল ফুচকা খাই! সারা তুইও চল..তো!
পরেরদিন ক্লাসে...
হঠাৎ হাশেম স্যার আসলেন।এসেই কিছু কথা বলে সবার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন।
(চলবে)..
ইনশাআল্লাহ।
-----
"Be careful"
পর্ব: ৩
হাশেম স্যার রিটায়ার হয়ে গেছেন।তাই ৭ও ৮ এ.. একটি ক্লাস এখন ফাতেমা ম্যাডামকে করাতে হবে।ফাতেমা ম্যাডামের ক্লাস পেয়ে কেউ খুশি আবার কেউ....
.
.
নাবিলা ও রিচি ফাতেমা ম্যাডামের ক্লাসের দিন শুধু একটু কষ্ট করে নামায পড়তো আর কম স্টাইল ছাড়া স্কুলে আসতো..
আর বাকিদিন.....!
আর সারা...
সে ক্লাস ৬ থেকেই নামায পড়ে আসছে,ম্যাডামের বোরকা পরা দেখে সেও বোরকা পরে।
.
.
দুইবছর পর...।
.
.
তারা ক্লাস ৯/১০ এ। এখন তো ছেলেমেয়েদের একসাথেই ক্লাস হয়!আর ছেলেমেয়েদের ফ্রেন্ডলি অনেক কথাও হয়।নাবিলা আর রিচি টিফিন করার পর তাদের অনেক টাইম থাকতো তাই বিভিন্ন পড়ার সাবজেক্ট নিয়ে ছেলেরা তাদের কথা বলতো আর একটুআধটু মজাও করতো।
আর সারা...
সে ছেলেদের সাথে কথা বলতে পছন্দ করে না তেমন।ছেলেরাও সারার সাথে কথা বলতে ভয় করে!
সারা টিফিন টাইমেও বেশি টাইম পায় না খাওয়ার জন্য।নামায পড়তে পড়তেই প্রায়ই টিফিন পিরিয়ড শেষ হয়ে যায়।
তবে মাঝে মাঝে নাবিলা তার জন্য টিফিন কিনে রাখতো।
.
.
একদিন....
রিচি: এই সারা!আজ তোর নামায না পড়লে হয় না?
শুধু আজকের জন্য আরকি।
সারা: নারে..নামায মিস করতে পারবো না।নামায পড়লে যেএএ অনেক ভালো লাগে!তুইও চল....দেখবি ভালো লাগবে।
রিচি: এঁ..না..অন্য সময়।আজ ভালো লাগছে না।
সারা:আরেএ তাহলে তো নামায পড়! দেখবি ভালো লাগবে।
নাবিলা: সারা!আজ তুই একটু তাড়াতাড়ি নামায থেকে আসার চেষ্টা করিস তো।
সারা: কেন রেএএ?
নাবিলা:আজ একসাথে টিফিন করবো তাই।
রিচি: হুম...
সারা: ইনশাআল্লাহ!
***টিফিন চলাকালীন সময়...
নাবিলা:ওয়াহ!দোস্ত... আজকের টিফিনটা অনেক মজার হলো।
সারা: হুম্মম্মম্ম..
রিচি : দোস্ত.. আর ১৫ মিনিট বাকি। কী করি?
নাবিলা: চল মাঠে একটু ঘুরে আসি।
সারা: না রে.. আমি যাচ্ছি না।
রিচি: কেন????
সারা : এমনি..বাইরে কত ছেলে খেলছে।
নাবিলা: তো? তারা খেলছে তাতে আমাদের কী?চল তো! বেশি কথা বলিস না।
সারা :আচ্ছা ওয়েট !! আমি নিকাব টা পরে আসি।
রিচি :তাড়াতাড়ি..
(চলবে)..
ইনশাআল্লাহ।
-----
"Be careful"
পর্ব: ৪
সারা,নাবিলা,রিচি.. এখন কলেজে।
.
.
নাবিলা ও রিচি একটু বেশিই স্টাইল করে কলেজে আসে।তাদের দেখে কলেজের অনেক ছেলে "হা" করে তাকিয়ে থাকে।
আর সারা বোরকা,নিকাব পরে আসে।অনেকে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে! আনস্মার্ট, আনকালচারড ইত্যাদি.. বলে।
.
নাবিলা:এই সারা তুই বোরকা পরা বন্ধ করিস না কেন? এই দেখ.. অনেকে হাসাহাসি করছে!এইসব ভালো লাগে বল?
রিচি: হ্যাঁ সারা..তোকে তারা আনস্মার্ট বলে হাসাহাসি করে এতে আমাদেরও ভালো লাগে না।তোকে নিয়ে কলেজের ছেলেমেয়েরাও হাসে!
সারা: সমস্যা নেই!আমি মন খারাপ করিনি।আমি তো আমার আল্লাহর হুকুমই মানছি।এতেই আমার খুশি! কে কী বলল তাতে আমার কিছু যায় আসে না দোস্ত!
নাবিলা: দেখ সারা..তুই বেশি করছিস! আর মনের পর্দাই বড় পর্দা!এইসব নিকাব টিকাব না পরলেই তো হয়।
রিচি: ভিতরে ভালো থাকলেই হয় দোস্ত!আর বোরকা পরেও অনেক মেয়েরা খারাপ কাজ করে!
তাই এইসব বাদ দেয়!তুই কত্ত সুন্দর! তাহলে কেন এইভাবে মুখ ঢাকিস?
সারা:দেখ,মনের পর্দা ঠিক আছে মানলাম!পর্দা মন থেকেই করতে হবে।আর ভিতরে কার কতটুকু পর্দা তা আল্লাহই ভালো জানে!
হ্যাঁ মনের পর্দা তো অবশ্যই করতে হবে।মনের পর্দা করে না বলেই অনেকেই তো বোরকা পরে খারাপ কাজ করেছে!তারা তো আল্লাহর হুকুম মেনে পর্দা করে নি তাই এইরকম কাজ করেছে। তাদের সঠিক পর্দাই হয় নি।
যারা ঠিকমত পর্দা করে তারা নিশ্চয় খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকে।মনের পর্দা আর বাহিরের পর্দা দুই হুকুমই মানে!
আল্লাহ তা'আলা মেয়েদের পর্দা করার হুকুম করেছেন!তা নিশ্চয় আমাদের ভালোর জন্যই করেছেন!পর্দা করার কারণে অনেক ছেলেরা আমাদের দিকে তাকায় না!খারাপ নজরে দেখে না!আর এতেই আমরা অনেকটা সেইফ থাকি।
আর আমাদের আল্লাহ বেশি সুন্দর করে বানিয়েছেন!তাহলে এইসব সৌন্দর্য কেন সবাইকে দেখাচ্ছি আমরা?!আমাদের পাওয়ার জন্য কতজন খারাপ ধারণা করবে।বন্ধুদের সাথে বাজে কথাও বলবে!তাই আমাদের দেখার জন্য নির্দিষ্ট মাহরাম রয়েছেন!
***নাবিলা ও রিচি এইসব শুনে আর কিছু বলল না।আর সারার আগের মতো তেমন মিলেও না।
ক্লাসে ছেলেমেয়ে একসাথে।
আর ওই ক্লাসে রাহুল নামের এক ছেলে।ক্লাসের সব ছেলের থেকে সে একটু বেশিই সুন্দর! আর খুব সিম্পল থাকে..
মেয়েদের দিকে তেমন তাকায় না।তবে মেয়েরা নিজ থেকে কথা বলে।
রাহুল হঠাৎ নাবিলাকে দেখলো!..
(চলবে)
ইনশাআল্লাহ
-----
"Be careful"
পর্ব:৫
রাহুল হঠাৎ নাবিলাকে দেখলো।
নাবিলার পাশে একটি বোরকা পরা মেয়ে।
রাহুল:দোস্ত..ওই বোরকা পরা মেয়েটা কে রেএএএ? চিনিস?
রাশেদ: নাহ!কথা হয়নি।ক্লাসে নিউ তারা।
রাহুল:অহ আচ্ছা!
.
.
-----ক্লাসে স্যার এসেছেন।ক্লাস টেস্ট হবে তাই লিখার জন্য সারা হাতমোজা টা খুলল।
আর পাশের ব্রেঞ্চ এ রাহুল সারার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে।
সারা অবশ্য তা খেয়াল করেনি।
নাবিলা: এই রিচি! তোর কাছে এক্সট্রা কলম কী আছে?আমার কলমের কালি শেষ।
রিচি: ওয়েট!দেখি আছে কিনা।
নাবিলা: তাড়াতাড়ি দেখনা!!!
রিচি: সরি রেএএ...আমি এক্সট্রা কলম আজ আনিনি। সারাকে জিজ্ঞেস করে দেখ তো।
নাবিলা: এই সারা!তোর কাছে কী এক্সট্রা কলম আছে? থাকলে তাড়াতাড়ি দেয় তো।
সারা: ওয়েট! আছে।এই নেয়।তাড়াতাড়ি লিখা শুরু কর!
.
.
----রাহুল সারার কন্ঠ শুনলো।আর সারার দিকে তাকিয়ে থাকলো!
হঠাৎ..স্যার রাহুলের পাশে এসেই তার পেপার নিয়ে গেলেন।
রাহুল:স্যার! স্যার!স্যার! আমি কিছু করিনি তো।
স্যার: তুমি ওই দিকে ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছিলে কেন?
রাহুল : না..মানে স্যার..একটু ঘাড় ব্যথা করছিল তাই। সরি স্যার!আর হবে না।
স্যার: তো লাস্ট চান্স!মনে থাকে যেন।
রাহুল :জ্বী স্যার!থ্যাংকইউ।
.
.
ক্লাস শেষে...
সারা, নাবিলা ও রিচি কথা বলছে।কার কেমন এক্সাম হলো।
রাহুল তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
রাশেদ: কীরে রাহুল..তোর আবার কী হলো? এই দিকে বার বার তাকাচ্ছিস যে!
রাহুল : কই না তো..এমনি।
রাশেদ:অহ.. কিছু না হলেই ভালো।চল..ওইদিক দিয়ে যাই।ঠাণ্ডা বাতাস আছে!
রাহুল: না রেএএ..তুই যা!
রাশেদ: কেন? আরে চল না!
রাহুল: আচ্ছা।
.
.
রাহুল নানাভাবে সারাকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করে!প্রথম প্রথম সারা তা তেমন পাত্তা দেয় নি।কিন্তু কোন না কোন কারণে রাহুল সারার সাথে কথা বলতো ।
(চলবে)
ইনশাআল্লাহ।
-----
"Be Careful"
পর্ব:৬
রাহুল:এই সারা.. সারা..শুনো প্লিজ!
সারা:জ্বী বলেন।
রাহুল :আসলে...
সারা:কী?
রাহুল: আই লাভ ইউ
সারা: কী?! আপনার সাহস তো কম না!আপনিই এইটা চিন্তা করলেন কীভাবে?
শুনেন, ভুলেও আপনি আর আমার সাথে কথা বলার চেষ্টাই করবেন না!আপনি গায়রে মাহরাম..আপনার সাথে কথা বলাও গুনাহ!
রাহুল:প্লিজ! প্লিজ!বুঝার চেষ্টা করো সারা!!!
সারা: দেখেন,এইখানে লেখাপড়ার জন্য এসেছি।এইসব রিলেশন এর জন্য না।
আমাকে আপনি ভালোবাসলে কখনো এইভাবে আমাকে এসে বলতেন না!আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন!হালাল ভাবেই চাইতেন!আর আমার ফ্যামিলিতে জানাতেন!
কিন্তু আপনি তা করেন নি।আপনি হারাম রিলেশনশিপ করতে চান।যা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
রাহুল:প্লিজ সারা! তুমি এইভাবে বলো না।আমি তোমার ফ্যামিলিতে বলবো।কিন্তু পড়ালেখা শেষ হউক তারপর।এখন আমরা শুধু কথা বলবো আর ঘুরবো এই আরকি।
সারা:আমি আগেই বলেছি.. কথা বলা গুনাহ!আমি আগুনে পুড়ে যাই তাহলে আপনি কী খুশি হবেন?
রাহুল: এই এই কী বলো!এইসব বলো না প্লিজ!
সারা: জ্বী..আপনি এখন যে কথাটি বললেন একটুআধটু কথা বলার জন্য, ঘুরার জন্য এইটার জন্য ঠিক আমাকে জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে!শুধু আমি না.. সাথে আপনি ও..
সত্যিকারের ভালোবাসা বিয়ের পরই শুরু হয়!এবং তা শেষ হয় না।
রাহুল: উফ!
সারা: আপনাকে এতো কিছু বলার দরকার আমার নেই।আর বেশি কথা না বলাই ভালো!
.
.
ক্লাসে....
নাবিলা: ওই সারা!কই ছিলি এতক্ষণ?
সারা: এইতো একটু সামনে ছিলাম।কেন?
নাবিলা: না..এমনি। আজও রিচি আসছে না কেন?
সারা: জানি না। কোন সমস্যা হয়তো।কাল একবার দেখে আসবো তাকে।
নাবিলা: ওকে।
.
.
পরেরদিন...
এইইই রিচি! কী হইছে রে তোর?
(চলবে)..
ইনশাআল্লাহ।
-----
"Be careful"
পর্ব:৭
এইইই রিচি..কী হয়েছে রে তোর? নাবিলা বলল।
রিচি: এইতো জ্বর,সর্দি,কাশি!
সারা:তুই এতো অসুস্থ!আর আমাদের জানালে না কেন?
নাবিলা:ডাক্তারে গিয়েছিলি?
রিচি:হুম...
সারা: আচ্ছা তুই রেস্ট নেয়।আমরা এখন যাই।
নাবিলা:হুম..যাই দোস্ত!আর ঔষধ খাবি ঠিকমত!
রিচি :ওকে।
.
.
নাবিলা ও সারা রাস্তায়...
সারা: নাবিলা! আমি এই কয়েকদিন কলেজে আসবো না।
নাবিলা: কেন?
সারা: বাসায় থাকতে হবে।মেহমান আসবেন তাই।
নাবিলা: অহ আচ্ছা। তো কখন আসবি?
সারা: আরেএএ দুই-তিন আসবো না।
নাবিলা: ঠিক আছে।আমাকে দাওয়াত দিবি নাহ�?
সারা: ফ্রেন্ডকে দাওয়াত দিতে হয় না।
নাবিলা: হেহ.. দিতে হবে।এমনি এমনি যাবো না।
সারা: আচ্ছা যাহ..দিলাম। আসবি এবার!
নাবিলা: এইভাবে দাওয়াত দিবি?!
সারা: তাহলে? কীভাবে দিবো?
নাবিলা: দাওয়াতের কার্ড দিতে হবে!
সারা: এখন কেউ কার্ড দেয় না! মেসেজ দিলেই হয়ে যায়।
নাবিলা:হেহেহে..।
.
.
পরেরদিন কলেজে....
নাবিলে ক্লাসে যাবার সময় একটা ছেলের সাথে ধাক্কা খেল।
নাবিলা:ইশ!
ছেলে: সরি.. সরি..সরি!
নাবিলা:আশ্চর্য! আপনি কী দেখেন না?আমার সব বই নিচে পরে গেল। (নাবিলা বই তুলতে তুলতে বললো)
ছেলে:সরি..খেয়াল করি নি। (ছেলেটিও নাবিলার বই তুলছে)
নাবিলা:ওকে..
.
.
ক্লাসে টেস্ট আজও..
নাবিলা: উফ!!! আল্লাহ কী করি!সারা ও রিচি আজ তো দুইটাই নাই।
ছেলে: জ্বী আপনি কিছু খুঁজছেন?
নাবিলা: হুম..
ছেলে: কী খুঁজছেন জানতে পারি?
নাবিলা:কলম খুজছিলাম।
ছেলে: অহ..তো আমি দেই?
নাবিলা: (কিছুক্ষণ চুপ থেকে) ... আচ্ছা।
ছেলে: এই নিন
.
.
ক্লাস শেষে..
নাবিলা:এই নিন আপনার কলম।
ছেলে:হুম..
নাবিলা:আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!আর....
ছেলে:আর কী?
নাবিলা: দুঃখিত! ক্লাসে আসার সময় আগে আপনার সাথে রাগারাগি করেছি তাই।
ছেলে:সরি বলতে বলতে হবে না।আর আমিও দুঃখিত!
নাবিলা: না..না.. আপনি আর সরি বলবেন না।
ছেলে:আচ্ছা ঠিক আছে।
নাবিলা: তো আমি যাই।
ছেলে: ওকে..কাল দেখা হবে।
নাবিলা: হুম..
(চলবে)
ইনশাআল্লাহ।
-----
"Be Careful"
পর্ব:৮
নাবিলা এখন প্রায়ই একা চলে আসতো।সারা আর রিচির অপেক্ষা করতো না।
কলেজে এসেই ছেলেটির সাথে কথা হতো।
তারা ঘুরাঘুরি করতো।
.
.
নাবিলা:কীরে সারা!তুই এসেছিস! কেমন আছিস?
সারা:আলহামদুলিল্লাহ্। তুই??
নাবিলা:ভালো। রিচি আসে নি?
সারা:জানি না তো।তোর সাথে আসেনি? আমি তো মনে করেছিলাম তোর সাথে এসেছে।
নাবিলা:অহ! নাহ।আমি তাকে আনতে যাই নি। চল..ক্লাসে যাই।
.
.
ক্লাসে.....
সারা: আচ্ছা, নাবিলা!তুই এতো আজ এতো চুপ কেন রে?আর খুশি খুশিও লাগছে।কী হয়েছে বল তো?
নাবিলা:কই.. না তো।কিছু না।
সারা:আল্লাহ জানে!এইরকম তো ছিলি না।আচ্ছা রিচি আজও এলো না!
নাবিলা:হুম..কাল আসবে হয়তো।
.
.
পরেরদিন....
সারা:এই নাবিলা! এই দেখ..রিচি।
নাবিলা:হুম..
সারা:কী হুম্মম্ম??চল!
নাবিলা:আসছি।
সারা:এই রিচি! তুই এতো দিন কই ছিলি?
রিচি: এমনি..বাইরে বেড়াতে গিয়েছিলাম।
নাবিলা:ওয়াহ! কোথায় কোথায় গেলি?
রিচি: আরেএএ এমনি ঘুরাঘুরি একটু!চল ক্যান্টিনে..
.
.
সারা:সারাদিন খেতেই থাকবি?
নাবিলা: যদি পারতাম তাহলে ভালোই ছিল!�
রিচি:হা..হা..হা..
সারা: আরেএএ ক্লাসে চল..
.
.
ক্লাসে...
আশ্চর্য কী হচ্ছে এইসব! >_<
(চলবে)
ইনশাআল্লাহ।
-----
"Be Careful"
পর্ব:৯
আশ্চর্য তো! কী হচ্ছে এইসব! দুইটা শুধু মুচকি মুচকি হাসে! :/ আমাকে কিচ্ছু বলে না! ওই নাবিলা!ওই রিচি!বল না!!!কী হয়েছে??.. সারা বলল।
রিচি:কই! না তো কিছু না।
নাবিলা:তুই চোখে বেশি দেখছিস। �
সারা: হেহ!
.
.
ক্লাস শেষে...
রিচি: এই নাবিলা!তুই ওইদিকে কী করিস?
নাবিলা:না...কিছু না।
সারা:কারো জন্য অপেক্ষা করছিস?
নাবিলা :না রেএএ..চল!বাসায় যাই।
রিচি: হুম..
.
.
রাস্তায়...
সারা:ওই নাবিলা!আজ কিছু বলছিস না যে!
রিচি:হ্যাঁ..এতো চুপচাপ কেন?
নাবিলা:এমনি..আজ বিকেলে বেড়াতে যাবি?
সারা:কোথায়?
নাবিলা:খালার বাসায়। খালার বিয়ে ঠিক হবে।
সারা: আচ্ছা দেখি। রিচি তুই যাবি না???
রিচি :নাহ!আজ আমার কাজ আছে।
নাবিলা: কী কাজ? চল না তুইও!
রিচি: নাহ!আজ বাসায় মেহমান আসবে।
নাবিলা:অহ!
.
.
বিকেলে..
নাবিলা:এই..সারা!তুই রেডি?
সারা:একটু ওয়েট!
নাবিলা: হুম..
সারা: হ্যাঁ..চল এবার!
নাবিলা:আমার মোবাইল তোর রুমে চার্জে দিয়েছিলাম।ওইটা দেয় তো!
সারা:দিচ্ছি! এঁ...এইইই আমার মোবাইল তো রিচির বাসায় রেখে এসেছি!
নাবিলা:তুই...না! আচ্ছা চল, রিচির বাসায়।দেখি আরেকবার সেও আসে কিনা।
সারা:হুম..
.
.
রিচির বাসায়.....
নাবিলা:সারা!তুই গিয়ে মোবাইল টা নিয়ে আয়।আমি এখানে থাকি।ড্রাইভার চলে যেতে পারে তাই।
সারা:আচ্ছা।
নাবিলা:তাড়াতাড়ি।
.
.
সারা:আসসালামু আলাইকুম আন্টি! রিচি কই? আমার মোবাইল টা তার রুমে ভুলে রেখে গেছি।
আন্টি: রিচি তো পার্কে গেল!নাবিলাও সাথে হয়তো। কেন তুমি জানো না?
সারা: কীইইই?!!!!
আন্টি: কী হলো?
সারা: নাহ কিছু না।মোবাইল টা।
আন্টি: হুম..
.
.
নাবিলা:কীরে? এতো সময় লাগলো? কী হলো?কিছু বলছিস না যে!
সারা:আন্টি বললো..রিচি পার্কে গেছে।তাও তুইও নাকি সাথে! আমি আর কিছু বলি নি।হয়তো তার কোন নতুন ফ্রেন্ড এর জন্য গেছে।
নাবিলা:নতুন ফ্রেন্ড হবে কেন!নাহ..হলে হতেও পারে।
আচ্ছা খালার বাসার রাস্তার আগেই তো পার্ক টা। তাহলে দেখি!
সারা:হুম..
(চলবে)
ইনশাআল্লাহ।
-----
"Be Careful"
পর্ব:১০
নাবিলা:রিক্সা এইখানে সাইড করেন! আর এই নেন আপনার টাকা।
সারা:ওই আমি টাকা দিয়ে দেই?
নাবিলা: আরেহ না..অন্য সময় তুই দিবি।
সারা:ঠিক আছে।
নাবিলা: চল..রিচি কোথায় দেখি।
সারা: হুম..
নাবিলা: কিন্তু...আচ্ছা সারা!তুই ওইদিক টা দেখ।আর আমি এইদিক দেখি।
সারা: ঠিক আছে।
.
.
কিছুক্ষণ পর......
হঠাৎ রিচিকে দেখলো নাবিলা!
নাবিলা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে!
নাবিলার ফোন বেজে উঠলো! কিন্তু সে ব্যাগ থেকে মোবাইলটি বের করতে পারছে না!তার হাত কাঁপছে!!
কিছু সময় পর সে কল রিছিভ করলো!
সারা: হ্যালো..
নাবিলা: ....... (চুপ করে আছে)
সারা: হ্যালোও....এই নাবিলা!! রিচিকে পাইছো নাকি?
নাবিলা: হুম. . .
সারা: তোর কী হইছে? এইরকম কথা বলছিস কেন? আচ্ছা কোথায় বল আমি আসছি।
.
.
সারা: ওই নাবিলা! কই রিচি?
নাবিলা: এইতো!
সারা: আরেহ এই ছেলেটাকে দেখছি মনে হইতেছে..
নাবিলা: মানে?
সারা: আরেহ! ওইটা তো রাহুল!!!
নাবিলা: রাহুল!!! আরে তার নাম তো... যাইহোক,
আচ্ছা তুই চিনিস কীভাবে???!
সারা: হ্যাঁ.. রাহুল ই তো।আমাদের কলেজে পড়তো।আমাকে নাকি ভালোবাসে!আমি অবশ্য বলেছি.. বিয়ে আগে ভালোবাসা এইসব বিশ্বাস করি না।সত্যিকার ভালোবাসা বিয়ের পরেই শুরু হয়!
কিন্তু তোর কী হলো??? তুই এইরকম মন খারাপ করছিস কেন? কিছু হয়েছে নাকি?!
নাবিলা: ... (চুপ করে আছে)
সারা: আরে কাঁদছিস কেন? বল না!রাহুল কে তুইও চিনিস?
নাবিলা: .. সারা!! তু-ই রিচির সাথে আসিস।
.
.
এই কথা বলেই দৌড় দিল নাবিলা!
সামনে একটি বড় বাস আসছে!!
সারা: নাবিলা!!!! থাম প্লিজ!
.........এক্সিডেন্ট
রিচি:এক্সিডেন্ট হয়েছে মনে হয়। দেখি আসি তো!
.. রাস্তার পাশে অনেক ভিড়! একটু সামনে যাই! নাহ আগে জিজ্ঞেস করি কাউকে!
- ভাই ওইখানে কী হয়েছে?
-একটি মেয়ের এক্সিডেন্ট হয়েছে!
- অহ!আচ্ছা ভাই ধন্যবাদ।
তাহলে একটু সামনে গিয়ে দেখেই আসি কে মেয়েটা!আর কেনই বা এইরকম করলো!
না-বি-লা!!!!
(চলবে)
ইনশাআল্লাহ।
-----
"Be Careful"
পর্ব:১১
নাবিলাকে দেখে অজ্ঞান হয়ে গেল সারা!
রিচি: দেখি.. দেখি.. একটু সাইড দেন তো ভাই।
.
.
নাবিলা!!!!
হায় আল্লাহ! এই সারা... এইইই কী হয়েছে?
ভাই প্লিজ কেউ গাড়ি আনেন। তাকে Hospital নিয়ে যেতে হবে প্লিজ ভাই!তাড়াতাড়ি করেন!!
.
.
নাবিলা আই.সি. ইউ তে ভর্তি।
আর সারা এখন ভালো।
.
.
রিচি: সারা!এখন কেমন লাগছে তোর?
সারা: আলহামদুলিল্লাহ্!
রিচি:আচ্ছা সারা!কী হয়েছে রে? তোদের এই অবস্থা কেন?
সারা: .... ( চুপ করে আছে)
রিচি :বল না..সারা! প্লিজ!!! কী হয়েছে? আর নাবিলার এক্সিডেন্ট এর কীভাবে হলো?
সারা: .. এইটা এক্সিডেন্ট না!
রিচি: মানে? এক্সিডেন্ট না! নয়তো কী?
সারা: .. (চুপ করে আছে)
রিচি: বল না! আর তোদের তো খালার বাসায় যাওয়ার কথা ছিল। তাই না?
সারা: হুম..
রিচি: তাহলে পার্কে কেন গেলি?
সারা: আচ্ছা আগে তুই বল।
রিচি: ..... কী বলবো?
সারা: তোর না.. বাসায় মেহমান আসার কথা ছিল।তাহলে তুই কেন পার্কে গেলি?
রিচি: আম্মম্ম..
সারা: কী হলো? বল!
রিচি: না মানে..এমনি আরকি।
সারা: এমনি? দেখ রিচি! প্লিজ.. তুই মিথ্যা বলিস না। সত্যি করে বল।
রিচি: আরে কী সত্যি বলবো?
সারা: পার্কের ওই ছেলেটা...
রিচি: মানে? অহ.. এইটা আমার কাজিন।
সারা: সত্যি কাজিন? আন্টিকে জিজ্ঞেস করি?
রিচি : না না..
সারা: তাহলে বল।
রিচি : আসলে.. সে আমার..বিএফ
সারা: জানতাম!
রিচি: মানে?
সারা: তোর বিএফ.. যে ওইটা।
রিচি: অহ..সে অনেক ভালো রে!
সারা:নাহ দোস্ত! সে ভালো নয়। সে আস্তা একটা বেয়াদব!
রিচি: আশ্চর্য! সারা..তুই কী বলছিস এইসব?
সারা: দেখ!আমি তোকে রাগাচ্ছি না! যা সত্যি তাই বলছি!
রিচি: কীসের সত্যি?
সারা: জানিস..সে আমাকেও বলেছিল ভালোবাসে।সে আমাকে বিয়েও নাকি করতে চায়।কিন্তু পড়াশোনার জন্য সম্ভব নয়।তাই তার সাথে যেন প্রেম করি..এই প্রস্তাব দিয়েছিল।
রিচি: সারা! তুই কেন এইসব বলছিস?
সারা: শোনো, নাবিলার অবস্থার জন্য দায়ী কে জানিস?
রিচি: কে দায়ী হবে আবার? ওইটা তো এক্সিডেন্ট!
সারা: নাহ!এক্সিডেন্ট না..নাবিলা সুইসাইড করতে চেয়েছিল।
রিচি: কী??! কী বলছিস এইসব? সে কেন সুইসাইড করতে যাবে?
সারা: হ্যাঁ..তার সুইসাইড করার কারণ জানবি?
রিচি: হ্যাঁ..
সারা: ওই ছেলেটা.. মানে তুই যাকে বিএফ মনে করেছিস!
রিচি : Stop! অনেক হয়েছে! প্লিজ সারা.. এইসব মিথ্যা বলিস না।
সারা: আমি মিথ্যা বলি নি। তুইও তো মিথ্যা বলতি না!মিথ্যা তো তুই আজ আমায় বললি। তুই শুধু আমায় না..ফ্যামিলিতে মিথ্যা বলে পার্কে তার সাথে দেখা করেছিস! তুই কী চিন্তা করেছিস? তুই কত বড় খারাপ কাজের দিকে যাচ্ছিস?
রিচি: আমি খারাপ কাজ তো করছি না!জাস্ট ঘুরাঘুরি তো করছি.. আর কিছু তো করছি না।লেখাপড়া পর তাকেই বিয়ে করবো।
সারা: এইটাও তো গুনাহ রে বোন! এইটাও যিনা!আর আল্লাহ যিনার আশেপাশেও না যেতে বলেছেন! বিয়ের আগে প্রেম ট্রেম কেন করবি? বিয়ের পরই সত্যিকার ভালোবাসা শুরু! আর যিনা এমন এক পথ যা শুধু ক্ষতির দিকেই নিয়ে যায়।
.... হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো!
(চলবে)
ইনশাআল্লাহ।
----
"Be Careful"
পর্ব:১২ (শেষ পর্ব)
-হ্যালো..!
-জ্বী হ্যালো!
-নাবিলার শরীর খারাপ করছে।তাড়াতাড়ি চলে এসো।
-ঠিক আছে! আমরা আসছি এখনই।
.
.
-কী হয়েছে আন্টি?
-নাবিলার অবস্থা ভালো না রে মা!ডাক্তার বলেছে দোয়া করতে!
.
.
কিছুক্ষণ পর...
-নাবিলার অবস্থা কেমন?
-আগের থেকে ভালো।
-আলহামদুলিল্লাহ্!
-আচ্ছা সারা নামে এইখানে কেউ আছেন?
- হ্যাঁ.. আমিই সারা!
-আপনাকে নাবিলা ডাকছে।
-তো যাবো?
-হুম..তবে বেশি কথা বলবেন না।তাড়াতাড়ি চলে আসবেন।
-ঠিক আছে।
.
.
সারা: নাবিলা!
নাবিলা: .. (কী যেন বলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না)
সারা: চুপ থাক তো। কথা বলিস না!
নাবিলা: ..(কাঁদছে)
সারা: আরে কাঁদিস না তো! আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নেয়।আর দোয়া কর।সব ঠিক হবে ইনশাআল্লাহ!
নাবিলা: মুচকি হাসলো (আস্তে আস্তে কী বলছে)।
সারা: ইন্নালিল্লাহ..নার্স!ডাক্তারকে ডাক দিন!
.
.
-সরি!
-মানে?
-নাবিলা আর নেই!!দুঃখিত!
.
.
সারা কাছ থেকে রাহুলের কথা শুনে রিচি তা বিশ্বাস করে নি।সারার কোন কথাই সে ঠিকমত শুনে নি।তাই সারার সাথে রিচি আর আগের মতো থাকেউ না।
.
.
কয়েকমাস পর..
রিচি তার মামার বাড়ি যাচ্ছিল।
-ড্রাইভার! একটু থামো।
ওইটা রাহুল নাকি!
কিন্তু সাথে মেয়েটা কে?!
আরেহ নাহ!রাহুল না..অন্য কেউ হয়তো।
আচ্ছা ড্রাইভার চলো।
.
.
-হ্যালো রাহুল!
-হুম্মম্ম..
-আজ তুমি বিকেলে পার্কে ছিলে নাকি?
-পার্ক! কীসের পার্ক! আর আমি কাজে ছিলাম। কেন? কি হয়েছে?
-নাহ.. কিছু না।
-আরে বলো না।
-না মানে.. মামার বাসায় যাওয়ার সময় তোমার মতো কাউকে দেখছিলাম। পরে মনে মনে বললাম.. নাহ তুমি হবে না।তাই চলে যাই আবার।
যাইহোক, বাদ দেও এইসব।
-কী করো?
-এইতো বসে আছি ভালো লাগছে না।
-কেন গো?
-জানি নাহ।আচ্ছা কাল মার্কেট এ যাবে নাকি?
-কেন?
-বলো না..আমি মার্কেটে যাবো। তুমিও চলো প্লিজ!
-আম্ম..আসলে..আমার কাজ খুবই জরুরি কাজ আছে।
-কি কাজ?
-আব্বু কিছু কাজের জন্য যেতে হবে।
-অহ।
-আচ্ছা..কাল তুমি নিজেই চলে যাও।অন্য সময় তোমাকে নিয়ে যাবো। Ok?
-হুম..
.
.
মার্কেটে সারার সাথে দেখা হয়ে গেল রিচির..
কিন্তু রিচি সারার আশেপাশেও যাচ্ছে না।
.
.
মার্কেটের পর...
.
বৃষ্টির জন্য কোন রিক্সা ই মিলছে না।এদিকে রিচিকে দেখে কয়েকটা ছেলে গান গাইছে।
হঠাৎ..একটি রিক্সা এলো।
সারার সামনে রিক্সা থেমে গেল।কিন্তু সারা রিক্সায় উঠলো না।সে রিচির দিকে গেল..
সারা:রিচি তুই রিক্সা দিয়ে চলে যা..
রিচি: তাহলে তুই?
সারা:আমি যাবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ ব্যবস্থা করে দিবেন।
রিচি: আচ্ছা.. তুইও চল আমার সাথে।
সারা:হুম..
.
.
এই রিক্সা থামো! থামো!
সারা: কী হলো?
রিচি :দাড়া..
সারা: কোথায় যাচ্ছিস?
রিচি: ওই তো সামনে।
সারা:কেন? আমি আসবো?
রিচি:ঠিক আছে।
.
.
রিচি:এইইই.. তুমি না তোমার আব্বুর অফিসের কাজের জন্য বিজি।তাহলে এইখানে কী করো?
রাহুল:ইয়েএএএ..মানে আপনি কে?
রিচি:আমি কে মানে?ফাজলামি করো?আর তোমার সাথে মেয়েটা কে?
রাহুল:আপনাকে কেন বলবো?
রিচি :মানে?
রাহুল:মানে টানে কিচ্ছু জানি না।আপনি যান তো এইখান থেকে।
---রাস্তায় সবার সামনে এইভাবে অপমান করলো রিচিকে!
.
.
সারা:এইইই রিচি থাম!
ওই থাম বলছি!
রিচি:-কী?
সারা: শুনো, যা হওয়ার হয়ে গেছে।
আর কী দরকার এমন একটা মানুষের জন্য নিজের জীবনেটা নষ্ট করার?!
রিচি: হুম..
সারা: মন খারাপ করিস না দোস্ত!
রিচি: সারা!তোর সাথে কথা বলতে লজ্জা করছে।তুই ঠিক ই বলেছিলি।
আমি কেন যেন এইরকম হয়ে গেলাম!!! আর আগে থেকে যদি সতর্ক থাকতাম!তাহলে এরকমটা হতো না।
ইশ!যদি আজ নাবিলাও থাকতো! তাহলে তারও এমন হতো না।
সারা: বাদ দেয়।আর নাবিলাকে আল্লাহ মাফ করুক।এর থেকে বেশি কিছুই বলার নেই।
তবে হ্যাঁ..আর কোন বোনের যেন নাবিলার মতো অবস্থা না হয়।এইজন্য আমাদের আরও Careful হতে হবে।আর যিনা তো দূর.. যিনার আশেপাশেও যাওয়া যাবে না! কারণ এই পথে শুধু ক্ষতিই আছে!
যাইহোক,
শুকরিয়া আদায় কর।সত্য টা তো সামনে আসলো। আর তুইও তোর ভুলটা বুঝলি।তাই মন খারাপ করিস না।আর নতুন করে চলা শুরু কর!
রিচি: দোস্ত!আমি কত গুনাহ করেছি!আল্লাহর কত হুকুম মানি নি।এইসব এ পাত্তাই দেই নি।আফসোস! আমি কী করলাম এতো টা বছর!বছরের পর বছর গুনাহ করেছি!
আল্লাহ কী আমায় মাফ করবেন?
সারা:ইনশাআল্লাহ!অবশ্যই করবেন।
আল্লাহ তা'আলার রহমতের ব্যাপারে কখনো নিরাশ হবে না!
আল্লাহ তো রাহমান!!
বান্দা যখন তার ভুল বুঝতে পারে এবং এই ভুল আর করবে না বলে ওয়াদা করে তাহলে .. আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তাকে মাফ করে দিবেন!
তাই এখনই তাওবার করো!
আর ফিরে এসো..
আল্লাহর দিকে!
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
One
অনেক ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। খেয়ে দেয়ে আবার ক্লান্তও হয়ে যায়। যার কিছু হয়তো ভাল, আবার কিছু হয়তো কালো। তেমনি আজ একটা বিষয় মাথায় আসলো।...
-
মানুষ তার পরিবেশের কারণে প্রভাবিত হয়। একজন শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয়, এরপর থেকেই সে প্রতিনিয়ত বড় হয় ও শিখতে থাকে। শিখতে থাকে তার চারপাশে যা আছে ত...
-
কাছে আসার গল্প-০২ গল্পের নায়ক HSC পাশ করে অনেক কষ্টে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ...
-
কাছে আসার গল্প-০৩ ভোর থেকেই আকাশ কাদঁছে কারণ কাল মেঘ তাকে ঢেকে রেখেছে। চারদিকের পরিবেশ অনেক ঠান্ডা। ঘুমে...
No comments:
Post a Comment