Thursday, October 6, 2016

Collected - দাম্পত্যজীবন সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিণাম ও কিছু দিকনির্দেশনা

দাম্পত্যজীবন সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিণাম ও কিছু দিকনির্দেশনা
JULY 31 · PUBLIC
আল্লামা আবু তাহের মিসবাহ দা.বা.
কিছু দিন আগে আমার এক প্রিয় তালিবে ইলম দেখা করতে এসে বললো, হুযূর, আগামী পরশু আমার বিবাহ। চমকে উঠেতাকালাম। বড় ‘বে-চারা’ মনে হলো। কারণ আমিও একদিন বড় অপ্রস্ত্তত অবস্থায় জেনেছিলাম, আগামীকাল আমার বিবাহ! ভিতর থেকে হাম দরদি উথলে উঠলো। ইচ্ছে হলো তাকে কিছু বলি,যিন্দেগির এই নতুন রাস্তায় চলার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পাথেয়,আল্লাহর তাওফীকে তাকে দান করি। আল্লাহর তাওফীক ছাড়া আমরা কেই বা কী করতে পারি! তো তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বিবাহের জন্য কী প্রস্ত্ততি নিয়েছো? বড় ভোলাভালা নও জোয়ান! সরলভাবে বললো, আমার কিছু করতে হয়নি, সব প্রস্ত্ততি আববা -আম্মাই নিয়েছেন। কেনা-কাটা প্রায় হয়ে গেছে, শুধু বিয়ের শাড়ীটা বাকি। অবাক হলাম না, তবে দুঃখিত হলাম, আমার এই প্রিয় তালিবে ইলম এখন একজন যিম্মাদার আলিমে দ্বীন। দীর্ঘ কয়েক বছর আমাদের ছোহবতে ছিলো, তার কাছে বিবাহের প্রস্ত্ততি মানে হলো জিনিসপত্র এবং বিয়ের শাড়ী! তাহলে অন্যদের অবস্থা কী?! বড় মায়া লাগলো; বললাম, দেখো, মানুষ যে কোন কাজ করতেচায়, প্রথমে সে ঐ বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করে। কাজটির হাকীকত ও উদ্দেশ্য কী? কাজটি আঞ্জাম দেয়ার সঠিক পন্থা কী? শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী কী সমস্যা হতে পারে, সেগুলোরসমাধান কী? এগুলো জেনে নেয়। এজন্য দস্ত্তর মত আমাদেরশিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার আয়োজন আছে, এমনকি বাস্তব প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা আছে। অথচ জীবনের সবচে’ কাঠিন ও জটিল অধ্যায়ে মানুষ প্রবেশ করে, বরং বলতে পারো ঝাঁপ দেয়, কিছু না শিখে, না জেনে এবংনা বুঝে একেবারে অপ্রস্ত্তত অবস্থায়। ফল কী হতে পারে?! কী হয়?! অন্যদের কথা থাক, চোখের সামনে আমার ক’জন ছাত্রের ঘর ভেঙ্গে গেলো! একজনের তো এমনকি দু’জন সন্তানসহ। কিংবাঘর হয়ত টিকে আছে, কিন্তু শান্তি নেই। স্বাভাবিক শান্তি হয়ত বজায় আছে, কিন্তু বিবাহ যে দুনিয়ার বুকে মানবের জন্য আল্লাহর দেয়া এক জান্নাতি নেয়ামত, সুকূন ও সাকীনাহ, সে খবর তারা পায়নি, শুধু অজ্ঞতার কারণে, শুধু শিক্ষার অভাবে। আশ্চর্য, মা-বাবা সন্তানকে কত বিষয়ে কত উপদেশ দান করেন;উস্তাদ কত কিছু শিক্ষা দেন, নছীহত করেন, কিন্তু জীবনের সবচে’ কঠিন ও জটিল বিষয়টি কেন যেন তারা সযত্নে এড়িয়ে যান! তাকে বললাম, যদিও তুমি এ উদ্দেশ্যে আসোনি তবু তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই, যা ইনশাআল্লাহ আগামী জীবনে তোমার কাজে আসবে। খুব জযবা ছিলো, অবেগের তোড় ছিলো, ‘দিল কো নিচোড় ক্যর’,বাংলায় যদি বলি তাহলে বলবো, হৃদয় নিংড়ে, কিন্তু দিল কোনি চোড়না-এর ভাব হৃদয় নিংড়ানোতে আসবে কোত্থেকে! যাক,বলছিলাম, হৃদয়টাকে নিংড়ে কিছু কথা তাকে বলেছিলাম। পরে আফসোস হলো যে, কথাগুলো তো সব হাওয়ায় উড়ে গেলো, যদি বাণীবদ্ধ করে রাখা যেতো কত ভালো হতো! হয়ত আল্লাহর বহু বান্দার উপকারে আসতো। শেষে বললাম, এককাজ করো, এ কথাগগুলোর খোলাছা কাগজে লিখে আমাকে দেখিও। আগামী পরশুর বিয়ের খবর দিয়ে ছেলেটা সেই যে গেলো, তিনবছরে আর দেখা নেই! দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিভিন্নসময় দরসেও আমি অনেক কথা বলেছি। ‘সবচে’ বেশী বলেছি আমার নূরিয়ার জীবনের প্রিয় ছাত্র (বর্তমানের হাতিয়ার হুযূর) মাওলানা আশরাফ হালীমীকে, আশা করি তিনি সাক্ষ্য দেবেন,অনেকবার বলেছেন, আমার কথাগুলো তার জীবনে বে-হদ উপকারে এসেছে। আরো অনেকে বলেছে, কিন্তু কথাগুলো কেউ ‘কলমবন্দ’ করেনি। তো এখন এই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে তোমাদের মজলিসে ঐকথাগুলো আবার বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আফসোস, সেইআবেগ ও জযবা তো এখন নেই যা ঐ প্রিয় তালিবে ইলমকে বলার সময় ছিলো। আবেগ ভরা দিলের কথা তো রসভরা ইক্ষু, আর শুধুচিন্তা থেকে বলা কথা হলো রস নিংড়ে নেয়া ইক্ষুর ছোবা! তবু কিছুনা কিছু ফায়দা তো ইনশাআল্লাহ হবে।
আমি আমার প্রিয় ছাত্রটিকে বলেছিলাম, এখন তোমার জীবনের এই যে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে উর্দূতে এটাকে বলে ইযদিওয়াজী যিন্দেগী, বাংলায় বলে দাম্পত্য জীবন, অর্থাৎ এটা জীবন ওযিন্দেগির খুবই এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়,বরং অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এটা তোমাকে ঘাবড়ে দেয়ার জন্য বলছি না; প্রয়োজনীয় প্রস্ত্ততি গ্রহণ ও পাথেয় সংগ্রহ করার জন্য বলছি, যাতে পূর্ণ আস্থা ও সাহসের সঙ্গে তুমি তোমার এই নতুন জীবন শুরু করতে পারো। আল্লাহ যদি সাহায্য করেন তাহলে সবই সহজ। এটা যে শুধু তোমার ক্ষেত্রে হচ্ছে তা নয়! আমার জীবনেও হয়েছে,আমার মা-বাবার জীবনেও হয়েছে! তোমার মা-বাবাও একদিন এ জীবন শুরু করেছিলেন। যদি সহজ ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক থাকে তাহলে তোমার মাকে, বাবাকে জিজ্ঞাসা করতে পারো, কীভাবে তারা এদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন? জীবনের শুরুতে তারা কী ভেবেছিলেন, কী চেয়েছিলেন, কী পেয়েছেন? কখন কী সমস্যা হয়েছে, সেগুলো কীভাবে সমাধান করেছেন। এই জীবনের শুরুতে তোমার প্রতি তাদের কী উপদেশ? এধরনের সহজ আন্তরিক আলোচনায় সংসার জীবনের পথচলা অনেক সহজ হয়ে যায়। অবশ্য সব মা-বাবার সঙ্গে সব সন্তানের এমন সহজ সম্পর্ক থাকে না, তবে থাকা উচিত। জীবনের যে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য সন্তান মা-বাবার কাছেই আসবে, মা-বাবাকেই নিরাপদ আশ্রয় মনে করবে, বন্ধুবান্ধবকে নয়। কঠিন সমস্যার মুখে একজন অপরিপক্ব বন্ধু কীভাবে সঠিক পথ দেখাতে পারে!কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটাই ঘটে। সন্তান মা-বাবাকে ভয় করে, হয়ত কোন জটিলতায় পড়েছে; তখন তাদের প্রথম চেষ্টা হয় যে,মা-বাবা যেন জানতে না পারে, কারণ তাদের কানে গেলে সর্বনাশ! ছেলে তার বন্ধুর শরণাপন্ন হয়, মেয়ে তার বান্ধবীর কাছে বলে, তারা তাদের মত করে পরামর্শ দেয়। ফলে অবস্থা আরো গুরুতর হয়। অতীতে যাই ছিলো, এখন তো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, মা-বাবার জন্য সন্তানের বন্ধু হওয়া। বিপদে সমস্যায় সন্তানকে তিরস্কার পরেকরা, আগে তার পাশে দাঁড়ানো। তাহলে সন্তান আরো বড় অন্যায় করা থেকে এবং আরো গুরুতর অবস্থায় পড়া থেকে বেঁচে যায়। কিন্তু এখন অবস্থা হলো, সন্তান মা-বাবাকে ভয় করে, বন্ধুকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করে। আমার ছেলেকে আমি এটা বোঝাতে চেয়েছি এবং আশা করি, কিছুটা বোঝাতে পেরেছি।অনেক সমস্যা থেকে সে রক্ষা পেয়েছে, কারণ সবার আগে সে আমার কাছে এসেছে, আর আমি বলেছি, ভয় নেই, আমি তোমার পাশে আছি। আগে তাকে সাহায্য করেছি, তারপর প্রয়োজনে দরদের সঙ্গে তিরস্কার করেছি, বা শিক্ষা দিয়েছি। বন্ধুর কাছে আগে পাওয়া যায় সাহায্য, মা-বাবার কাছ থেকে আগে আসে তিরস্কার। তাই সন্তান সমস্যায় পড়ে মা-বাবার কাছে আসে না,বন্ধুর কাছে আসে। এভাবে নিজের কারণেই সবচে’ কাছের হয়েও মা-বাবা হয়ে যায় দূরের, আর দূরের হয়েও বন্ধু হয়ে যায় কাছের। সন্তানের সমস্যা বন্ধু জানে সবার আগে। মা-বাবা জানে সবার পরে, পানি যখন মাথার উপর দিয়ে চলে যায় তখন। তো আমি আশা করছি, জীবনের অন্যসকল ক্ষেত্রে যেমন তেমনি,আল্লাহ না করুন দাম্পত্যজীবনে যদি কোন রকম সমস্যার সম্মুখীন হয় তাহলে সন্তান সবার আগে আমার কাছে আসবে, তার মায়ের কাছে আসবে, আমাদের উপদেশ, পরামর্শ নেবে। আলহামদু লিল্লাহ, সেই রকমের সহজ অন্তরঙ্গ সম্পর্কই সন্তানের সঙ্গে আমার, আমাদের। আমার প্রিয় ছাত্রটিকে বললাম, কথা অন্য দিকে চলে গেছে, তোএই প্রসঙ্গে তোমাকে একটি আগাম নছীহত করি; আজ তোমরাস্বামী-স্ত্রী, দু’দিন পরেই হয়ে যাবে, মা এবং বাবা। সেটা তো জীবনের আরো কঠিন, আরো জটিল অধ্যায়। আমি প্রায় বলে থাকি, প্রাকৃতিক নিয়মে মা-বাবা হয়ে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু আদর্শ মা-বাবা হওয়ার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ শিক্ষা ও দীক্ষা। তো তোমরা দু’জন জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করোযে, একটি মেয়ে কীভাবে একজন আদর্শ মা হতে পারে এবং একটি ছেলে কীভাবে একজন আদর্শ বাবা হতে পারে! আগে বলেছিলাম একটি নছীহত, এখন বলছি দু’টি নছীহত। সন্তানের সামনে কখনো তার মাকে অসম্মান করো না। তোমাকে মনে রাখতে হবে, সে তোমার স্ত্রী, কিন্তু তোমার সন্তানের মা, তোমার চেয়েও অধিক শ্রদ্ধার পাত্রী। সন্তান যেন কখনো, কখনোইমা-বাবাকে ঝগড়া-বিবাদ করতে না দেখে। এ নছীহত আমি তোমাকে করছি, আল্লাহর শোকর নিজে আমল করে। আমার বড় সন্তানের বয়স ত্রিশ বছর, এর মধ্যে কখনো সে আমাদের বিবাদ করতে এমনকি তর্ক করতেও দেখেনি। দ্বিতীয়ত তোমরা উভয়ে সন্তানের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করো, এমন বন্ধু যাকে নিজের মনের কথা, সব কথা নিঃসঙ্কোচে জানাতে পারে। আগের কথায় ফিরে আসি; আগামী পরশু তোমার বিবাহ। তার মানে, আজ তুমি নিছক একটি যুবক ছেলে, অথচ আগামী পরশু হয়ে যাচ্ছো, একজন দায়িত্ববান স্বামী। কত বিরাট পার্থক্য তোমার আজকের এবং আগামী পরশুর জীবনের মধ্যে। বিষয়টি তোমাকে বুঝতে হবে। কেন তুমি বিবাহ করছো? বিবাহের উদ্দেশ্য কী?দেখো, আমাদের দেশে পারিবারিক পর্যায়ে একটা নিন্দনীয় মানসিকতা হলো, সংসারের প্রয়োজনে, আরো খোলামেলা যদিবলি, কাজের মানুষের প্রয়োজনে ছেলেকে বিয়ে করানো। সবাইযে এমন করে তা নয়, তবে এটা প্রবলভাবে ছিলো, এখনো কিছু আছে। আমি নিজে সাক্ষী, আমার একজন মুহতারাম তাঁর মেয়েকেবিয়ে দিলেন, বিয়ে হওয়া মাত্র ছেলের বাবা স্বমূর্তি ধারণ করে বলতে লাগলেন, আর দেরী করা যাবে না, তাড়াতাড়ি মেয়ে বিদায় করেন। মেয়ের মা ও বাবা তো হতবাক! মেয়ে বিদায় হলো। শশুরবাড়ীতে রাত পোহালো, আর পুত্রবধুর সামনে কাপড়ের স্ত্তপ নিক্ষেপ করে শাশুড়ী আদেশ করলেন,কাপড়ে সাবান লাগাও, দেখি, মায়ের বাড়ী থেকে কেমন কাজশিখে এসেছো! আমার এক ছাত্রের কথা, বিয়ের প্রয়োজন। কেন? কারণ মা-বাবার খেদমত করার কেউ নেই। এটা কিন্তু বিবাহের উদ্দেশ্য বা মাকছাদ হতে পারে না। মা-বাবারখেদমত মূলত তোমার দায়িত্ব। এখন সে যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তোমার সাথে এতে শরীক হয়, তবে সেটা তোমাদের উভয়ের জন্য সৌভাগ্যের কারণ হতে পারে। দেখো, আল্লাহ চাহে তোঅচিরেই আমাদেরও ঘরে পুত্রবধু আসবে। আমরা আমাদের না দেখা সেই ছোট্ট মেয়েটির প্রতীক্ষায় আছি। কিন্তু আমি আমার পুত্রকে অবশ্যই বলবো, বিবাহের উদ্দেশ্য মা-বাবার খেদমত করাহতে পারে না। আমি দু’আ করি, তোমার মা-বাবা তোমার যেমন, তেমনি তোমার স্ত্রীরও যেন মেহেরবান মা-বাবা হতে পারেন। আমার দুই মেয়ের শশুর, দু’জনই এখন জান্নাতবাসী (ইনশাআল্লাহ)। আল্লাহর কাছে আমার সাক্ষ্য এই যে, সত্যি সত্যি তারা আমার মেয়েদু’টির ‘বাবা’ ছিলেন। আমার ছোট মেয়ের শশুর বড় আলিম ছিলেন, তাঁকে আমার একটি বই হাদিয়া দিয়েছিলাম এভাবে, ‘সাফফানার আববুর পক্ষ হতে সাফফানার আববাকে’। তিনি খুশী হয়ে অনেকদু’আ করেছিলেন, আর বলেছিলেন, ‘আপনি তো এই ছোট্ট একটিবাক্যে সম্পর্কের মহামূল্যবান এক দর্শন তুলে ধরেছেন! আমার বড় মেয়ের অবস্থা হলো, মায়ের বাড়ী থেকে যাওয়ার সময়সে কাঁদে না, কাঁদে ‘আম্মার’ বাড়ী থেকে আসার সময়। দুআ’ করি, আমার দেশের প্রতিটি মেয়ে যেন মা-বাবার ঘর থেকে এমন মা-বাবার ঘরে প্রবেশ করতে পারে। আর তুমি দু’আ করো,আমরা দু’জন যেন আমাদের অনাগত মেয়েটির জন্য তেমন মা-বাবাই হতে পারি। তো বলছিলাম বিবাহের উদ্দেশ্যের কথা। বৈধ উপায়ে স্ত্রী পরিচয়ে কাউকে ভোগ করা, এটাও বিবাহের উদ্দেশ্য বা মাকছাদ হতেপারে না। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে বলা হয় শরীকে হায়াত, জীবনসঙ্গী এবং জীবন-সঙ্গিনী। বস্ত্তত এই শব্দটির মধ্যেই দাম্পত্য জীবনের সুমহান উদ্দেশ্যটি নিহিত রয়েছে। আর যদি কোরআনের ভাষায়বলি তাহলে বিবাহের উদ্দেশ্য হল, هن لباس لكم وانتم لباس لهن তুমি তো কোরআন বোঝো। ভেবে দেখো, দাম্পত্য-সম্পর্কের কী গভীর তাৎপর্য এখানে নিহিত! পেয়ারা হাবীব ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিবাহ হচ্ছে আমার সুন্নত। আর বলেছেন, যে আমার সুন্নতের প্রতি বিমুখহবে সে আমার উম্মতভুক্ত নয়। বিবাহ নবীর সুন্নত! সুতরাং সহজেই বোঝা যায়, বিরাট ও মহানকোন মাকছাদ রয়েছে এর পিছনে। বিবাহের আসল মাকছাদ বা উদ্দেশ্য হলো স্বামী ও স্ত্রী- এইপরিচয়ে একটি নতুন পরিবার গঠন করা এবং মা ও বাবা- এইপরিচয়ে সন্তান লাভ করা। তারপর উত্তম লালন-পালন এবংআদর্শ শিক্ষা-দীক্ষা ও তারবিয়াতের মাধ্যমে নেক সন্তানরূপে গড়েতুলে দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করা, যাতে নস্লে ইনসানি বা মানব বংশ কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর পছন্দমত আগে বাড়তে থাকে। এটাই হলো বিবাহের আসল উদ্দেশ্য; অন্য যা কিছু আছে তা সবপার্শ্ব-উদ্দেশ্য। তো এখনই তুমি নিয়ত ঠিক করে নাও যে, কেন কী উদ্দেশ্যে বিবাহ করবে। উদ্দেশ্য যদি ঠিক হয়ে যায় তাহলে দেখতে পাবে, আল্লাহ চাহে তো এখনই তোমার ভিতরে কত সুন্দর পরিবর্তন আসছে! কী আশ্চর্য এক পরিপূর্ণতা নিজের মধ্যে অনুভূত হচ্ছে! আগামী জীবনের সকল দায়-দায়িত্ব পালন করার জন্য গায়ব থেকে তুমি আত্মিক শক্তি লাভ করছো। আল্লাহ তাওফীক দান করেন।
এবার আসো জীবনের বাস্তবতার কথা বলি, এতদিন তোমার জীবনে ছিলেন শুধু তোমার মা, যিনি তোমাকে গর্ভে ধারণ করেছেন, প্রসব বেদনা ভোগ করেছেন। নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করে তোমাকে প্রতিপালন করেছেন। এতদিন তোমার উপর ছিলো তাঁর অখন্ড অধিকার।হঠাৎ তিনি দেখছেন, তাঁর আদরের ধন, তাঁর অাঁচলের রত্ন পুত্রের জীবনে স্ত্রী পরিচয়ে অন্য এক নারীর প্রবেশ (অনুপ্রবেশ?) ঘটেছে! এভাবে পুত্রের উপর তার অখন্ড অধিকার খন্ডিত হতে চলেছে। যে পুত্র ছিলো এতদিন তাঁর একক অবলম্বন, এখন সে হতে চলেছে অন্য এক নারীর অবলম্বন। এ বাস্তবতা না তিনি অস্বীকার করতে পারছেন, না মেনে নিতে পারছেন। সংসারে প্রত্যেক মায়ের জীবনে এ কঠিন সময়টি আসে। এমন এক অর্ন্তজ্বালা শুরু হয় যাশুধু তিনি নিজেই ভোগ করেন, কাউকে বোঝাতে পারেন না,এমনকি এতদিনের আদরের ধন পুত্রকেও না। ফলে সামান্য সামান্য কারণে, এমনকি অকারণেও তিনি খুব সংবেদনশীল হয়ে পড়েন; তাঁর অনুভূতি আহত হয়। এমন সময় ছেলে (এবং তার স্ত্রী অজ্ঞতা, অনভিজ্ঞতা ও অপিরপক্বতার কারণে) যদি অসঙ্গত কিছু বলে বা করে বসে তাহলে তো মায়ের মনে কষ্টের শেষ থাকে না। প্রসব বেদনা থেকে শুরু করে প্রতিপালনের সব কষ্ট একসঙ্গে মনে পড়ে যায়। আম্মার কাছে শুনেছি, গ্রামের এক মা তার পুত্রবধুকে বলেছিলেন, ‘ততা ফানি আমি খাইছিলাম, না তুই খাইছিলি?’ তখনকার যুগে প্রসব পরবর্তী বেশ কিছু দিন মা ও শিশুর স্বাস্থ্যগত কল্যাণ চিন্তা করে মাকে গরম পানি খেতে দেয়া হতো, ঠান্ডা পানি দেয়া হতো না। তো কথাটা কিন্তু নির্মম। আমার জন্য ‘তাতানো পানি’ আমার মা খেয়েছেন, আমার সব আবর্জনা আমার মা পরিস্কার করেছেন। নিজের জীবন তিলে তিলে ক্ষয় করে তিনি আমাকে বড় করেছেন,উপযুক্ত করেছেন। সেই সব কষ্টের সুফল হঠাৎ করে অন্য একটিমেয়ে এসে অধিকার করে বসেছে। তখন সব হারানোর একটা বেদনা তাকে কুরে কুরে খায়। তো তোমার মায়ের অন্তরেও এরকম অনুভূতি হওয়া স্বাভাবিক। মায়ের মনের এই কষ্টের উপশম, এই বেদনার সান্ত্বনা তোমাকেই চিন্তা করতে হবে। মায়ের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে বাবার কথা, তারপর ভাই-বোনদের কথা। (এসম্পর্কেও ছাত্রটিকে বিশদভাবে বলেছিলাম।) তৃতীয়ত তোমার স্ত্রী। যদিও তৃতীয় বলছি, কিন্তু বাস্তবে এটাই হলোসবচে’ গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচে’ নাযুক। তবে এটা থাকবে তোমারদিলে, তোমার অন্তরে। মা-বাবার সামনে মুখের কথায় বা আচরণেএটা প্রকাশ করা প্রজ্ঞার পরিচায়ক হবে না। কেন বলছি স্ত্রীর বিষয়টি সবচে’ নাযুক? তার আগে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দাও; কোন বিবাহে কোন ছেলেকে কাঁদতে দেখেছো?! কোন ছেলের মা-বাবাকে বিষণ্ণ দেখেছো?! দেখোনি; (হয়তো ব্যতিক্রম এক দুইটি ঘটনা থাকতে পারে। কিন্তু সাধারণ অবস্থা এটিই, এদের কেউ কাঁদে না।) কেন? কারণ বিবাহের মাধ্যমে ছেলে কিছু হারায় না, ছেলের মা-বাবা কিছু হারায় না,বরং অর্জন করে। তাই তাদের মুখে থাকে অর্জনের হাসি এবং প্রাপ্তির তৃপ্তি। বিবাহের আসরে কাঁদে শুধু মেয়ে, আর মেয়ের মা-বাবা। কেন কাঁদে একটি মেয়ে? কারণ তাকে সবকিছু হারাতে হয়, সবকিছুত্যাগ করতে হয়। মা-বাবাকে ছেড়ে আসতে হয়, শৈশবের সবস্মৃতি তাকে মুছে ফেলতে হয়। একটি ছোট্ট মেয়ের জীবনে এটি অনেক বড় আঘাত। এ যেন একটি ছোট্ট গাছের চারাকে শিকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেলে বহু দূরে ভিন্ন পরিবেশে নতুন মাটিতে এনে রোপণ করা। বাকি জীবন তাকে এই মাটি থেকেই রস আহরণ করে বেঁচে থাকতে হবে। হিন্দিতে বলে, ‘আওর‌্যত কী ডোলী যাহা উত্যরতী হ্যয়, উসকীআর্থী ওহীঁ সে উঠতি হ্যয়।’ অর্থাৎ মেয়েদের পালকি যেখানে গিয়ে নামে, সেখান থেকেই তার জানাযা ওঠে। কত বড় নির্মম সত্য! তো তোমার স্ত্রীরূপে তোমার ঘরে আসা এই ছোট্ট মেয়েটির যখমি দিলে তাসাল্লির মরহম তোমাকেই রাখতে হবে। একমাটি থেকে উপড়ে এনে আরেক মাটিতে রোপণ করা একটি চারাগাছ থেকে দু’দিন পরেই ফল দাবী করা কতটা নিষ্ঠুরতা! ফল পেতে হলে তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে। চারা গাছটির পরিচর্যা করতে হবে, সকাল-সন্ধ্যা তার গোড়ায় পানি দিতে হবে।ধীরে ধীরে শিকড় যখন মাটিতে বসবে এবং মাটি থেকে রস সংগ্রহ করার উপযুক্ত হবে, তখন তোমাকে ফল চাইতে হবে না; সজীব বৃক্ষ নিজে থেকেই ফল দিতে শুরু করবে। কত আফসোসের বিষয়, দাম্পত্য জীবনের শুরুতে যত আদেশ-উপদেশ সব ঐ ছোট্ট মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বর্ষিত হয়। প্রথম দিনেই তাকে শুনতে হয়, এখন থেকে তাকে স্বামীর মন জয় করতে হবে, শশুর-শাশুড়ি সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে, শশুর বাড়ীর সবার মন যুগিয়ে চলতে হবে। তার নিজের যেন কোন ‘মন’ নেই। সুতরাং সেটা জয় করারও কারো গরজ নেই। তো মায়ের মন তোমাকেই রক্ষা করতে হবে, আবার স্ত্রীর মনোরঞ্জনও তোমাকেই করতে হবে। সবদিক তোমাকেই শামাল দিয়ে চলতে হবে। কত কঠিন দায়িত্ব! অথচ না শিক্ষাঙ্গনে, নাগৃহপ্রাঙ্গণে, কোথাও এ সম্পর্কে শিক্ষার নূন্যতম কোন ব্যবস্থা নেই। সম্পূর্ণ অপ্রস্ত্তত অবস্থায় দু’টি অপরিপক্ব তরুণ-তরুণীকে যেন সংসার সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়া! মেয়েটিও জানে না, আজ থেকে সেআর ছোট্ট মেয়েটি নেই। সে এখন স্ত্রী হয়ে একটি অপরিচিত মানুষের জীবনে প্রবেশ করছে, যার মা আছে, বাবা আছে, ভাইবোন আছে এবং তাদের প্রতি তার স্বামীর অনেক দায়-দায়িত্বআছে। সহানুভূতির সঙ্গে কোমলাতার সঙ্গে এই দায়িত্ববোধ কেউতার মধ্যে জাগ্রত করে দেয়নি। এ দোষ কার! তো আমার প্রিয় ছাত্রটিকে বলেছিলাম, কথা দ্বারা আচরণ দ্বারা তোমার মাকে তুমি বোঝাবে, মা, আমি আপনারই ছিলাম, আছি এবং থাকবো। স্ত্রী হলো আমার জীবনের নতুন প্রয়োজন; আপনি আমার প্রাণ, আপনার সঙ্গে আমার নাড়ির টান। অন্যদিকে স্ত্রীকে বোঝাতে হবে, এই সংসার সমুদ্রে তুমি একা নও;আমি তোমার পাশে আছি। নতুন জীবনে চলার পথে আমারও অনেক কষ্ট হবে, তোমারও অনেক কষ্ট হবে। তবে সান্ত্বনা এই যে, তুমিও একা নও, আমিও একা নই। আমার পাশে তুমি আছো, তোমার পাশে আমি আছি। আমার কষ্টের সান্ত্বনা তুমি, তোমার কষ্টের সান্ত্বনা আমি। আমরা পরস্পরের কষ্ট হয়ত দূর করতে পারবো না, তবে অনুভব করতে পারবো এবং হয়ত কিছুটা লাঘব করতে পারবো। আল্লাহর কসম, এমন কোন নারি হৃদয় নেই যা এমন কোমল সান্ত্বনায় বিগলিত হবে না। তোমার স্ত্রীকে তুমি এভাবে বলবে, আমাদের জীবন তো আলাদা ছিলো। আমরা তো একে অপরকে চিনতামও না। আল্লাহ আমাদের কেন একত্র করেছেন জানো?! একা একা জান্নাতে যাওয়া কঠিন। আল্লাহ আমাদের একত্র করেছেন একসঙ্গে জান্নাতের পথে চলার জন্য। আমি যদি পিছিয়ে পড়ি, তুমি আমাকে টেনে নিয়ে যাবে; তুমি যদি পিছিয়ে পড়ো, আমি তোমাকে টেনে নিয়ে যাবো। তুমি সতর্ক থাকবে, আমার দ্বারা যেন কারো হক নষ্টনা হয়; আমিও সতর্ক থাকবো, তোমার দ্বারা যেন কারো প্রতি যুলুমনা হয়। প্রিয় ছাত্রটিকে আমি আরো বললাম, স্ত্রীকে বোঝানোর জন্য তার সন্তানকে সামনে আনতে হবে। অর্থাৎ তুমি তাকে বলবে, দেখো, জীবন কত গতিশীল! সবকিছু কত দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে! দু’দিন আগে আমরা শুধু যুবক-যুবতী ছিলাম, আজ হয়ে গেছি স্বামী-স্ত্রী। দু’দিন পরেই হয়ে যাবো মা-বাবা। আমি বাবা, তুমি মা! আল্লাহর কাছে একজন মায়ের মর্যাদা কত! তোমার কদমের নীচে হবে তোমার সন্তানের জান্নাত! যেমন আমার মায়ের কদমের নীচে আমার জান্নাত। তো তোমার সন্তান কেমন হলে তুমি খুশী হবে? আমাকেও আমার মায়ের ঐরকম সন্তান হতে তুমি সাহায্য করো। আমি যদি ভুল করি, মায়ের কোন হক নষ্ট করি, মায়ের সামনে ‘উফ’ করি, তুমি আমাকে সাবধান করো, আমাকে সংশোধন করো। তাহলে ইনশাআল্লাহ তোমার সন্তানও তুমি যেমন চাও তেমন হবে। প্রয়োজন হলে স্ত্রীকে মা-বাবার সামনে তিরস্কার করবে, তবে ঘরে এসে একটু আদর, একটু সোহাগ করে বোঝাতে হবে, কেন তুমি এটা করেছো?! বোঝানোর এই তরযগুলো শিখতে হবে, আর এটাদু’একদিনের বিষয় নয়, সারা জীবনের বিষয়। কিন্তু আমরা ক’জন এভাবে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করি?! হয় মাতৃ ভক্তিতে স্ত্রীরপ্রতি অবিচার করি, না হয়, স্ত্রীর ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে মা-বাবার দিলে আঘাত দেই, আর দুনিয়া-আখেরাত বরবাদ হয়। আমার একটা কথা মনে রেখো, মায়ের পক্ষ নিয়ে স্ত্রীর প্রতি অবিচার করামূলত মায়ের প্রতি যুলুম, তদ্রূপ স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে মায়ের হক নষ্টকরা আসলে স্ত্রীর প্রতি যুলুম। আমার একথার উৎস হলো, أنصر أخاك ظالما أو مظلوما অবশ্য সবকিছু হতে হবে হিকমত ও প্রজ্ঞার সঙ্গে।
একটি ঘটনা তোমাকে বলি, তোমার মত আলিমে দ্বীন নয়,সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত একজন মানুষ আমাকে বলেছেন, একবার তার মা তাকে বললেন, তোর বউ আজ তোর এত আপন হয়েগেলো কীভাবে! আমি বললাম, দেখো মা, তোমাকে আমি মা বলি; এই ‘মা’ ডাকটুকু পাওয়ার জন্য তোমাকে কত কষ্ট করতে হয়েছে! অথচ‘পরের বাড়ীর মেয়েটি’র মুখ থেকে তুমি বিনা কষ্টে ‘মা’ ডাকশুনতে পাও! তোমাকে যে মা বলে ডাকে সে আমার আপন হবে নাকেন মা? আরেকটা ঘটনা, এক মা তার মেয়ের শাশুড়ী সম্পর্কে বললেন, মানুষ না, মেয়েটাকে আনতে পাঠালাম, দু’টো পিঠে বানিয়ে খাওয়াবো, দিলো না, ফেরত পাঠিয়ে দিলো! দু’দিন আগে তিনিও একই কাজ করেছিলেন, ছেলের বউকে নিতেএসেছিলো মায়ের বাড়ী থেকে। তিনি বললেন, দু’দিন পরে আমার মেয়েরা আসবে এখন তুমি গেলে কীভাবে চলবে! ভদ্রমহিলাকে বললাম, আপনার কাজটা কি ঠিক হয়েছিলো?আপনাকে কষ্ট দেয়া আমার উদ্দেশ্য নয়, সতর্ক করা উদ্দেশ্য।আল্লাহর কাছে যদি আটকা পড়েন তখন তো আপনিই বলবেন, তুমি তো হাদীছ-কোরআন পড়েছো, আমাকে সতর্ক করোনি কেন? মোটকথা, মেয়েদেরকে তারবিয়াত করতে হবে যাতে তারা আদর্শস্ত্রী, আদর্শ মা এবং আদর্শ শাশুড়ীরূপে আদর্শ জীবন যাপন করতেপারে। পুরুষ হচ্ছে কাওয়াম ও পরিচালক। সুতরাং তারবিয়াত ওপরিচালনা করা পুরুষেরই দায়িত্ব। স্ত্রী, মা ও শাশুড়ী, জীবনের এইতিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন ধাপের জন্য ঘরে ঘরে আমরা যদি আমাদের মেয়েদের গড়ে তুলতে পারি, আদেশ দ্বারা, উপদেশ,সর্বোপরি নিজেদের আচরণ দ্বারা তাহলেই সংসার হতে পারেসুখের, শান্তির। প্রিয় ছাত্রটিকে আরেকটি কথা বললাম, তোমার স্ত্রীর কোন আচরণ তোমার অপছন্দ হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রথমে তোমাকে ভাবতে হবে, তোমার সব আচরণ কি সুন্দর, তোমার স্ত্রীর পছন্দের? তাছাড়া তোমার স্ত্রীর ভালো দিক কি কিছু নেই। সেই ভালোদিকগুলোর জন্য শোকর করো, আর যা তোমার কাছে মন্দ লাগেতার উপর ছবর করো। আর যদি সংশোধন করতে চাও তাহলে ভালো দিকগুলোর প্রশংসা করো, তারপর কোমল ভাষায় বলো,তোমার এই বিষয়টা যদি না থাকতো তাহলে তুমি আরো অনেকভালো হতে। তবে আল্লাহর পেয়ারা হাবীব ছাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামের সেই প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ মনে রাখতে হবে, একটুবাঁকা থাকবেই, এই বক্রতা, সাহিত্যের ভাষায় যাকে বলে নায,আন্দায, মান, অভিমান, লাস্যতা, এই বক্রতা নারীর সৌন্দর্য,নারীর শক্তি। এটাকে সেভাবেই গ্রহণ করে তার সঙ্গে জীবন যাপনকরতে হবে, পূর্ণ সোজা করতে চাইলে ভেঙ্গে যাবে, আর সৌন্দর্যনষ্ট হয়ে যাবে। সত্যি সত্যি যদি তোমার স্ত্রীর গুরুতর কোন ত্রুটি থাকে তবে সেটা সংশোধনের দায়িত্ব ও কর্তব্য অবশ্যই তোমার। তবে সেক্ষেত্রেও সংশোধনের জন্য অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে দিনের পর দিন চেষ্টা করেযেতে হবে। ধমক দিয়ে, জোর খাটিয়ে সংশোধন করা যায় না,ঘরে অশান্তি আনা যায়, ঘর ভাঙ্গা যায়, আর সন্তানদের জীবনেবিপর্যয় আনা যায়।
ইসলামপুরে আমার আববার দোকানের অপর দিকে একভদ্রলোকের দোকান ছিলো। অবস্থা ছিলো এই যে, দোকানে বসেইমদ খেতো। আববা তাকে দাওয়াত দিলেন, আর সে খুব দুর্ব্যবহার করলো, কিন্তু আববা ধৈর্যের সঙ্গে দাওয়াত চালিয়ে গেলেন। দু’বছর পর তিনি মসজিদমুখী হলেন এবং এমন মুবাল্লিগ হলেনযে, বউকে তালাক দেবেন। কারণ সে দ্বীনের উপর আসছে না। আববা তাকে এভাবে বুঝালেন, ‘আমার সঙ্গে আপনার আচরণ কিমনে আছে? আমি যদি ধৈর্যহারা হয়ে আপনাকে ত্যাগ করতাম!এই পুরো কথাটা যেহেনে রেখে স্ত্রীকে তালিম করতে থাকেন। ছবর করেন, ছবর করলে আমার প্রতি আপনার যুলুম আল্লাহ মাফ করবেন। আল্লাহ যদি প্রশ্ন করেন আমার বান্দা তোমাকে আমার ঘরের দিকে ডেকেছে, তুমি তার প্রতি যুলুম করেছো কেন? তখন আপনি বলতে পারবেন, হে আল্লাহ, আমিও আপনার বান্দীর পিছনে ছবরের সঙ্গে মেহনত করেছি।’ সেই লোকের স্ত্রী কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরদানশীন হয়েছিলো। অথচ জোশের তোড়ে লোকটা তো ঘরই ভেঙ্গে ফেলছিলো। আসলে দোষ আমাদের। আমরা তারবিয়াত করার তরীকা শিখিনি। বোঝানোর তরয আয়ত্ত্ব করিনি।
প্রিয় ছাত্রটিকে আরো অনেক কথা বলেছিলাম, প্রায় দু’ঘণ্টা সময়তার জন্য ব্যয় করেছিলাম। সবকথা এখন মনেও নেই। তবে একটা কথা তাকে বলা হয়নি, এখন তোমাদের মজলিসে বলি, স্ত্রীর সঙ্গে আচরণ কেমন হবে, এ সম্পর্কে একজনকে যা বলতে শুনেছিলাম, তা ছিল খুবই মর্মান্তিক। তিনি বলেছিলেন, ‘মেয়েলোক যেন তোমার মাথায় চড়ে না বসে, তাই প্রথম দিন থেকেই তাকে শাসনের মধ্যে রাখবা। পূর্ণ ইতা‘আত ও আনুগত্য আদায় করে নিবা, গোরবা কুশতান দর শবে আওয়াল।’ এ প্রবাদ এমনই বিশ্ববিশ্রুত যে, আমাদের নিরীহ বাংলাভাষায়ও বলে, ‘বাসর রাতেই বেড়াল মারতে হবে’। কিন্তু জীবনের সর্বক্ষেত্রের মত এক্ষেত্রেও আমাদের অনুসরণীয় হলো সুন্নাতে রাসুল, আর তিনি ইরশাদ করেছেন, خيركم خيركم لأهله وأنا خيركم لأهلي তো জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শরীয়তের সীমারেখায় থেকে স্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণই আমাকে করতে হবে, যাতে সে মনে করে, আমি সর্বোত্তম স্বামী, আমার মতো উত্তম স্বামী হয় না, হতে পারে না। স্ত্রীগণের সঙ্গে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ কী ছিলো তা জানতে হবে এবং অনুসরণ করতে হবে। স্বামীর খেদমত করার মাধ্যমে স্ত্রী অনেক আজর ও ছাওয়াবের অধিকারিণী হতেপারে, এটা আলাদা কথা। তবে আমাকে মনে রাখতে হবে যে, এটা স্ত্রীর মহত্ত্ব, স্বামীর অধিকার নয়। তারা যদি কখনো মায়ের বাড়ী যেতে চায়, আমরা প্রশ্ন করি, ‘আমার খাওয়া-দাওয়ার কী হবে?’ অথচ এটা তার বিবেচনার বিষয় হতে পারে, আমার প্রশ্নকরার বিষয় নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সামান্য কথা বলেই মজলিস শেষ করছি। সহবাস দাম্পত্য জীবনের একটি অপরিহার্য সত্য। এবিষয়ে আলোচনাকে হায়া-শরমের খেলাফ মনে করা হয়। ফলেবিষয়টি অজ্ঞতার মধ্যে থেকে যায়। একারণে এমনকি অনেকসময় দাম্পত্য জীবন বিষাক্ত হয়ে পড়ে। স্ত্রী তোমার সারা জীবনের সম্পদ এবং সেরা সম্পদ। متاع মানে সম্পত্তি নয়, ভোগের বস্ত্ত নয় متاع মানে সম্পদ,ঐশ্বর্য। বিষয়টি বুঝতে না পেরে আধুনিক বুদ্ধিজীবীরা হাদীছের সমালোচনা করেন। আমরা হাদীছটির তরজমা ও ব্যাখ্যা এমন খন্ডিতভাবে করি যে, তারাও সুযোগ পেয়ে যায়। তো স্ত্রী তোমার সম্পত্তি নয়, স্ত্রী হলো তোমার জীবনের সর্বোত্তম সম্পদ, যা যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে তোমাকে রাখতে হবে এবংব্যবহার করতে হবে। প্রথমেই বর্বর ও পাশবিকরূপে নিজেকে স্ত্রীর সামনে তুলে ধরাবিরাট মুর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়। স্ত্রী স্বামীর ভোগের পাত্রী নয়,বরং স্বামী-স্ত্রী হলো পরস্পরকে উপভোগ করার জন্য। যত দিন লাগে, দীর্ঘ সাধনা করে প্রথমে হৃদয় জয় করো, মনের দুয়ার খোলো, অন্তরের গভীরে প্রবেশ করো। যিন্দেগীর এই কঠিন মারহালা সম্পর্কে কত কিছু যে বলার আছে,কত কিছু যে শেখার আছে! দেখি, যদি আবার কখনো সুযোগ হয়। [দাম্পত্যজীবন সুখময় হওয়ার জন্য শুধু পুরুষের প্রচেষ্টা ওসচেতনতাই যথেষ্ট নয়, নারীরও সদিচ্ছা ও সচেতনতা অতিপ্রয়োজন। এ বিষয়ে তারও আছে অনেক দায়িত্ব। কিন্তু নারীর তালীম-তরবিয়তের ভারও তো পুরুষেরই উপর। বিয়ের আগে পিতামাতাতার তরবিয়ত করবেন, বিয়ের পর স্বামী। দাম্পত্যজীবনে নারীরদায়িত্ব কী কী, সেই সকল দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে সচেতন করারপদ্ধতি কী এবং তার তালীম-তরবিয়ত কীভাবে করতে হবে-এটিআলাদা একটি বিষয়। আল্লাহ করুন, কোনো মজলিসে আমরা যেন হুজুরের কাছ থেকেএ বিষয়েও বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা লাভ করি।

Collected--গল্প - "Be Careful"

গল্প - "Be Careful"
"Be careful " পর্ব: ১ সারা,নাবিলা,রিচি তারা ক্লাস ৬ থেকে বান্ধবী। সব সময় একসাথেই থাকতো ঘুরাঘুরি করতো ও অনেক মজা করতো। . . ক্লাস ৬ এর ক্লাস টিচার হলেন ফাতেমা ম্যাডাম। ম্যাডাম ক্লাসে পড়ার ফাঁকেফাঁকে একটু একটু কথাও বলতেন। তবে ক্লাসের বেশিরভাগ মেয়েরা ম্যাডামকে ভয় পেত।কারো কাছে খুব ভালো লাগতো ম্যাডামকে আবার কারো কাছে.... . . ক্লাসে ম্যাডাম পড়ার ফাঁকে মুসলিম মেয়েদের বুঝাতেন।নামায, রোজা,পর্দা ইত্যাদি বিষয়ে বলতেন।এইসব করলে কি ফায়দা হবে আবার না করলে কি শাস্তি হবে তাও বলতেন। . . সারা ম্যাডামকে প্রথমে একটু একটু ভয় পেত।কিন্তু এখন সে তেমন ভয় পায় না।সে ক্লাসে ম্যাডামের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতো।আস্তে আস্তে ম্যাডামের প্রতি তার ভালোবাসা তৈরি হয়। তবে নাবিলা আর রিচি ম্যাডামের এইসব কথায় পাত্তাই দিতো না।তাদের কাছে বোরিং লাগতো।তারা চাইতো কখন যে ম্যাডাম ক্লাস থেকে যাবে!!! যখন নেক্সট ক্লাসের ঘণ্টা বেজে উঠতো তখন তারা মহা খুশি!!! (চলবে)... ইনশাআল্লাহ। ----- Be careful" পর্ব: ২ সারা, নাবিলা,রিচি তাদের ক্লাস ৬ পড়া শেষ হলো এইভাবেই। . . ক্লাস ৭, ৮ এ উঠে নাবিলা ও রিচি অনেক খুশি!তবে এই খুশি নতুন ক্লাসে উঠেছে এইজন্য না, খুশি এইজন্য এখন আর ফাতেমা ম্যাডামের ক্লাস নেই!হুররে কি মজা!! কিন্তু সারা এতে একদম ই খুশি না!সে চায় ম্যাডামের ক্লাস একদিন হলেও যেন থাকে। . . সারাকে নাবিলা ও রিচি হেসে হেসে বলল, কীরে দেখছিস এখন আর ফাতেমা ম্যাডামের ক্লাস নেই! সারা : হুম..এইখানে খুশি হওয়ার কী?ইশ..ম্যাডাম কত্ত ভালো ভালো কথা বলতো! নাবিলা: উঁহু.. তোর তো ফেভারিট টিচার তাই না? সারা: হুম.. রিচি : আহারে..নাবিলা এইসব বলিস না তো!বেচারি.. তার ফেভারিট টিচারের ক্লাস এখন আর নেই..তাই তার মন ও ভালো না।হিহি.. নাবিলা: আচ্ছা বাদ এইসব! এই দেখ ফুচকাওয়ালা.. চল ফুচকা খাই! সারা তুইও চল..তো! পরেরদিন ক্লাসে... হঠাৎ হাশেম স্যার আসলেন।এসেই কিছু কথা বলে সবার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। (চলবে).. ইনশাআল্লাহ। ----- "Be careful" পর্ব: ৩ হাশেম স্যার রিটায়ার হয়ে গেছেন।তাই ৭ও ৮ এ.. একটি ক্লাস এখন ফাতেমা ম্যাডামকে করাতে হবে।ফাতেমা ম্যাডামের ক্লাস পেয়ে কেউ খুশি আবার কেউ.... . . নাবিলা ও রিচি ফাতেমা ম্যাডামের ক্লাসের দিন শুধু একটু কষ্ট করে নামায পড়তো আর কম স্টাইল ছাড়া স্কুলে আসতো.. আর বাকিদিন.....! আর সারা... সে ক্লাস ৬ থেকেই নামায পড়ে আসছে,ম্যাডামের বোরকা পরা দেখে সেও বোরকা পরে। . . দুইবছর পর...। . . তারা ক্লাস ৯/১০ এ। এখন তো ছেলেমেয়েদের একসাথেই ক্লাস হয়!আর ছেলেমেয়েদের ফ্রেন্ডলি অনেক কথাও হয়।নাবিলা আর রিচি টিফিন করার পর তাদের অনেক টাইম থাকতো তাই বিভিন্ন পড়ার সাবজেক্ট নিয়ে ছেলেরা তাদের কথা বলতো আর একটুআধটু মজাও করতো। আর সারা... সে ছেলেদের সাথে কথা বলতে পছন্দ করে না তেমন।ছেলেরাও সারার সাথে কথা বলতে ভয় করে! সারা টিফিন টাইমেও বেশি টাইম পায় না খাওয়ার জন্য।নামায পড়তে পড়তেই প্রায়ই টিফিন পিরিয়ড শেষ হয়ে যায়। তবে মাঝে মাঝে নাবিলা তার জন্য টিফিন কিনে রাখতো। . . একদিন.... রিচি: এই সারা!আজ তোর নামায না পড়লে হয় না? শুধু আজকের জন্য আরকি। সারা: নারে..নামায মিস করতে পারবো না।নামায পড়লে যেএএ অনেক ভালো লাগে!তুইও চল....দেখবি ভালো লাগবে। রিচি: এঁ..না..অন্য সময়।আজ ভালো লাগছে না। সারা:আরেএ তাহলে তো নামায পড়! দেখবি ভালো লাগবে। নাবিলা: সারা!আজ তুই একটু তাড়াতাড়ি নামায থেকে আসার চেষ্টা করিস তো। সারা: কেন রেএএ? নাবিলা:আজ একসাথে টিফিন করবো তাই। রিচি: হুম... সারা: ইনশাআল্লাহ! ***টিফিন চলাকালীন সময়... নাবিলা:ওয়াহ!দোস্ত... আজকের টিফিনটা অনেক মজার হলো। সারা: হুম্মম্মম্ম.. রিচি : দোস্ত.. আর ১৫ মিনিট বাকি। কী করি? নাবিলা: চল মাঠে একটু ঘুরে আসি। সারা: না রে.. আমি যাচ্ছি না। রিচি: কেন???? সারা : এমনি..বাইরে কত ছেলে খেলছে। নাবিলা: তো? তারা খেলছে তাতে আমাদের কী?চল তো! বেশি কথা বলিস না। সারা :আচ্ছা ওয়েট !! আমি নিকাব টা পরে আসি। রিচি :তাড়াতাড়ি.. (চলবে).. ইনশাআল্লাহ। ----- "Be careful" পর্ব: ৪ সারা,নাবিলা,রিচি.. এখন কলেজে। . . নাবিলা ও রিচি একটু বেশিই স্টাইল করে কলেজে আসে।তাদের দেখে কলেজের অনেক ছেলে "হা" করে তাকিয়ে থাকে। আর সারা বোরকা,নিকাব পরে আসে।অনেকে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে! আনস্মার্ট, আনকালচারড ইত্যাদি.. বলে। . নাবিলা:এই সারা তুই বোরকা পরা বন্ধ করিস না কেন? এই দেখ.. অনেকে হাসাহাসি করছে!এইসব ভালো লাগে বল? রিচি: হ্যাঁ সারা..তোকে তারা আনস্মার্ট বলে হাসাহাসি করে এতে আমাদেরও ভালো লাগে না।তোকে নিয়ে কলেজের ছেলেমেয়েরাও হাসে! সারা: সমস্যা নেই!আমি মন খারাপ করিনি।আমি তো আমার আল্লাহর হুকুমই মানছি।এতেই আমার খুশি! কে কী বলল তাতে আমার কিছু যায় আসে না দোস্ত! নাবিলা: দেখ সারা..তুই বেশি করছিস! আর মনের পর্দাই বড় পর্দা!এইসব নিকাব টিকাব না পরলেই তো হয়। রিচি: ভিতরে ভালো থাকলেই হয় দোস্ত!আর বোরকা পরেও অনেক মেয়েরা খারাপ কাজ করে! তাই এইসব বাদ দেয়!তুই কত্ত সুন্দর! তাহলে কেন এইভাবে মুখ ঢাকিস? সারা:দেখ,মনের পর্দা ঠিক আছে মানলাম!পর্দা মন থেকেই করতে হবে।আর ভিতরে কার কতটুকু পর্দা তা আল্লাহই ভালো জানে! হ্যাঁ মনের পর্দা তো অবশ্যই করতে হবে।মনের পর্দা করে না বলেই অনেকেই তো বোরকা পরে খারাপ কাজ করেছে!তারা তো আল্লাহর হুকুম মেনে পর্দা করে নি তাই এইরকম কাজ করেছে। তাদের সঠিক পর্দাই হয় নি। যারা ঠিকমত পর্দা করে তারা নিশ্চয় খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকে।মনের পর্দা আর বাহিরের পর্দা দুই হুকুমই মানে! আল্লাহ তা'আলা মেয়েদের পর্দা করার হুকুম করেছেন!তা নিশ্চয় আমাদের ভালোর জন্যই করেছেন!পর্দা করার কারণে অনেক ছেলেরা আমাদের দিকে তাকায় না!খারাপ নজরে দেখে না!আর এতেই আমরা অনেকটা সেইফ থাকি। আর আমাদের আল্লাহ বেশি সুন্দর করে বানিয়েছেন!তাহলে এইসব সৌন্দর্য কেন সবাইকে দেখাচ্ছি আমরা?!আমাদের পাওয়ার জন্য কতজন খারাপ ধারণা করবে।বন্ধুদের সাথে বাজে কথাও বলবে!তাই আমাদের দেখার জন্য নির্দিষ্ট মাহরাম রয়েছেন! ***নাবিলা ও রিচি এইসব শুনে আর কিছু বলল না।আর সারার আগের মতো তেমন মিলেও না। ক্লাসে ছেলেমেয়ে একসাথে। আর ওই ক্লাসে রাহুল নামের এক ছেলে।ক্লাসের সব ছেলের থেকে সে একটু বেশিই সুন্দর! আর খুব সিম্পল থাকে.. মেয়েদের দিকে তেমন তাকায় না।তবে মেয়েরা নিজ থেকে কথা বলে। রাহুল হঠাৎ নাবিলাকে দেখলো!.. (চলবে) ইনশাআল্লাহ ----- "Be careful" পর্ব:৫ রাহুল হঠাৎ নাবিলাকে দেখলো। নাবিলার পাশে একটি বোরকা পরা মেয়ে। রাহুল:দোস্ত..ওই বোরকা পরা মেয়েটা কে রেএএএ? চিনিস? রাশেদ: নাহ!কথা হয়নি।ক্লাসে নিউ তারা। রাহুল:অহ আচ্ছা! . . -----ক্লাসে স্যার এসেছেন।ক্লাস টেস্ট হবে তাই লিখার জন্য সারা হাতমোজা টা খুলল। আর পাশের ব্রেঞ্চ এ রাহুল সারার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। সারা অবশ্য তা খেয়াল করেনি। নাবিলা: এই রিচি! তোর কাছে এক্সট্রা কলম কী আছে?আমার কলমের কালি শেষ। রিচি: ওয়েট!দেখি আছে কিনা। নাবিলা: তাড়াতাড়ি দেখনা!!! রিচি: সরি রেএএ...আমি এক্সট্রা কলম আজ আনিনি। সারাকে জিজ্ঞেস করে দেখ তো। নাবিলা: এই সারা!তোর কাছে কী এক্সট্রা কলম আছে? থাকলে তাড়াতাড়ি দেয় তো। সারা: ওয়েট! আছে।এই নেয়।তাড়াতাড়ি লিখা শুরু কর! . . ----রাহুল সারার কন্ঠ শুনলো।আর সারার দিকে তাকিয়ে থাকলো! হঠাৎ..স্যার রাহুলের পাশে এসেই তার পেপার নিয়ে গেলেন। রাহুল:স্যার! স্যার!স্যার! আমি কিছু করিনি তো। স্যার: তুমি ওই দিকে ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছিলে কেন? রাহুল : না..মানে স্যার..একটু ঘাড় ব্যথা করছিল তাই। সরি স্যার!আর হবে না। স্যার: তো লাস্ট চান্স!মনে থাকে যেন। রাহুল :জ্বী স্যার!থ্যাংকইউ। . . ক্লাস শেষে... সারা, নাবিলা ও রিচি কথা বলছে।কার কেমন এক্সাম হলো। রাহুল তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। রাশেদ: কীরে রাহুল..তোর আবার কী হলো? এই দিকে বার বার তাকাচ্ছিস যে! রাহুল : কই না তো..এমনি। রাশেদ:অহ.. কিছু না হলেই ভালো।চল..ওইদিক দিয়ে যাই।ঠাণ্ডা বাতাস আছে! রাহুল: না রেএএ..তুই যা! রাশেদ: কেন? আরে চল না! রাহুল: আচ্ছা। . . রাহুল নানাভাবে সারাকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করে!প্রথম প্রথম সারা তা তেমন পাত্তা দেয় নি।কিন্তু কোন না কোন কারণে রাহুল সারার সাথে কথা বলতো । (চলবে) ইনশাআল্লাহ। ----- "Be Careful" পর্ব:৬ রাহুল:এই সারা.. সারা..শুনো প্লিজ! সারা:জ্বী বলেন। রাহুল :আসলে... সারা:কী? রাহুল: আই লাভ ইউ সারা: কী?! আপনার সাহস তো কম না!আপনিই এইটা চিন্তা করলেন কীভাবে? শুনেন, ভুলেও আপনি আর আমার সাথে কথা বলার চেষ্টাই করবেন না!আপনি গায়রে মাহরাম..আপনার সাথে কথা বলাও গুনাহ! রাহুল:প্লিজ! প্লিজ!বুঝার চেষ্টা করো সারা!!! সারা: দেখেন,এইখানে লেখাপড়ার জন্য এসেছি।এইসব রিলেশন এর জন্য না। আমাকে আপনি ভালোবাসলে কখনো এইভাবে আমাকে এসে বলতেন না!আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন!হালাল ভাবেই চাইতেন!আর আমার ফ্যামিলিতে জানাতেন! কিন্তু আপনি তা করেন নি।আপনি হারাম রিলেশনশিপ করতে চান।যা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। রাহুল:প্লিজ সারা! তুমি এইভাবে বলো না।আমি তোমার ফ্যামিলিতে বলবো।কিন্তু পড়ালেখা শেষ হউক তারপর।এখন আমরা শুধু কথা বলবো আর ঘুরবো এই আরকি। সারা:আমি আগেই বলেছি.. কথা বলা গুনাহ!আমি আগুনে পুড়ে যাই তাহলে আপনি কী খুশি হবেন? রাহুল: এই এই কী বলো!এইসব বলো না প্লিজ! সারা: জ্বী..আপনি এখন যে কথাটি বললেন একটুআধটু কথা বলার জন্য, ঘুরার জন্য এইটার জন্য ঠিক আমাকে জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে!শুধু আমি না.. সাথে আপনি ও.. সত্যিকারের ভালোবাসা বিয়ের পরই শুরু হয়!এবং তা শেষ হয় না। রাহুল: উফ! সারা: আপনাকে এতো কিছু বলার দরকার আমার নেই।আর বেশি কথা না বলাই ভালো! . . ক্লাসে.... নাবিলা: ওই সারা!কই ছিলি এতক্ষণ? সারা: এইতো একটু সামনে ছিলাম।কেন? নাবিলা: না..এমনি। আজও রিচি আসছে না কেন? সারা: জানি না। কোন সমস্যা হয়তো।কাল একবার দেখে আসবো তাকে। নাবিলা: ওকে। . . পরেরদিন... এইইই রিচি! কী হইছে রে তোর? (চলবে).. ইনশাআল্লাহ। ----- "Be careful" পর্ব:৭ এইইই রিচি..কী হয়েছে রে তোর? নাবিলা বলল। রিচি: এইতো জ্বর,সর্দি,কাশি! সারা:তুই এতো অসুস্থ!আর আমাদের জানালে না কেন? নাবিলা:ডাক্তারে গিয়েছিলি? রিচি:হুম... সারা: আচ্ছা তুই রেস্ট নেয়।আমরা এখন যাই। নাবিলা:হুম..যাই দোস্ত!আর ঔষধ খাবি ঠিকমত! রিচি :ওকে। . . নাবিলা ও সারা রাস্তায়... সারা: নাবিলা! আমি এই কয়েকদিন কলেজে আসবো না। নাবিলা: কেন? সারা: বাসায় থাকতে হবে।মেহমান আসবেন তাই। নাবিলা: অহ আচ্ছা। তো কখন আসবি? সারা: আরেএএ দুই-তিন আসবো না। নাবিলা: ঠিক আছে।আমাকে দাওয়াত দিবি নাহ�? সারা: ফ্রেন্ডকে দাওয়াত দিতে হয় না। নাবিলা: হেহ.. দিতে হবে।এমনি এমনি যাবো না। সারা: আচ্ছা যাহ..দিলাম। আসবি এবার! নাবিলা: এইভাবে দাওয়াত দিবি?! সারা: তাহলে? কীভাবে দিবো? নাবিলা: দাওয়াতের কার্ড দিতে হবে! সারা: এখন কেউ কার্ড দেয় না! মেসেজ দিলেই হয়ে যায়। নাবিলা:হেহেহে..। . . পরেরদিন কলেজে.... নাবিলে ক্লাসে যাবার সময় একটা ছেলের সাথে ধাক্কা খেল। নাবিলা:ইশ! ছেলে: সরি.. সরি..সরি! নাবিলা:আশ্চর্য! আপনি কী দেখেন না?আমার সব বই নিচে পরে গেল। (নাবিলা বই তুলতে তুলতে বললো) ছেলে:সরি..খেয়াল করি নি। (ছেলেটিও নাবিলার বই তুলছে) নাবিলা:ওকে.. . . ক্লাসে টেস্ট আজও.. নাবিলা: উফ!!! আল্লাহ কী করি!সারা ও রিচি আজ তো দুইটাই নাই। ছেলে: জ্বী আপনি কিছু খুঁজছেন? নাবিলা: হুম.. ছেলে: কী খুঁজছেন জানতে পারি? নাবিলা:কলম খুজছিলাম। ছেলে: অহ..তো আমি দেই? নাবিলা: (কিছুক্ষণ চুপ থেকে) ... আচ্ছা। ছেলে: এই নিন . . ক্লাস শেষে.. নাবিলা:এই নিন আপনার কলম। ছেলে:হুম.. নাবিলা:আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!আর.... ছেলে:আর কী? নাবিলা: দুঃখিত! ক্লাসে আসার সময় আগে আপনার সাথে রাগারাগি করেছি তাই। ছেলে:সরি বলতে বলতে হবে না।আর আমিও দুঃখিত! নাবিলা: না..না.. আপনি আর সরি বলবেন না। ছেলে:আচ্ছা ঠিক আছে। নাবিলা: তো আমি যাই। ছেলে: ওকে..কাল দেখা হবে। নাবিলা: হুম.. (চলবে) ইনশাআল্লাহ। ----- "Be Careful" পর্ব:৮ নাবিলা এখন প্রায়ই একা চলে আসতো।সারা আর রিচির অপেক্ষা করতো না। কলেজে এসেই ছেলেটির সাথে কথা হতো। তারা ঘুরাঘুরি করতো। . . নাবিলা:কীরে সারা!তুই এসেছিস! কেমন আছিস? সারা:আলহামদুলিল্লাহ্‌। তুই?? নাবিলা:ভালো। রিচি আসে নি? সারা:জানি না তো।তোর সাথে আসেনি? আমি তো মনে করেছিলাম তোর সাথে এসেছে। নাবিলা:অহ! নাহ।আমি তাকে আনতে যাই নি। চল..ক্লাসে যাই। . . ক্লাসে..... সারা: আচ্ছা, নাবিলা!তুই এতো আজ এতো চুপ কেন রে?আর খুশি খুশিও লাগছে।কী হয়েছে বল তো? নাবিলা:কই.. না তো।কিছু না। সারা:আল্লাহ জানে!এইরকম তো ছিলি না।আচ্ছা রিচি আজও এলো না! নাবিলা:হুম..কাল আসবে হয়তো। . . পরেরদিন.... সারা:এই নাবিলা! এই দেখ..রিচি। নাবিলা:হুম.. সারা:কী হুম্মম্ম??চল! নাবিলা:আসছি। সারা:এই রিচি! তুই এতো দিন কই ছিলি? রিচি: এমনি..বাইরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। নাবিলা:ওয়াহ! কোথায় কোথায় গেলি? রিচি: আরেএএ এমনি ঘুরাঘুরি একটু!চল ক্যান্টিনে.. . . সারা:সারাদিন খেতেই থাকবি? নাবিলা: যদি পারতাম তাহলে ভালোই ছিল!� রিচি:হা..হা..হা.. সারা: আরেএএ ক্লাসে চল.. . . ক্লাসে... আশ্চর্য কী হচ্ছে এইসব! >_< (চলবে) ইনশাআল্লাহ। ----- "Be Careful" পর্ব:৯ আশ্চর্য তো! কী হচ্ছে এইসব! দুইটা শুধু মুচকি মুচকি হাসে! :/ আমাকে কিচ্ছু বলে না! ওই নাবিলা!ওই রিচি!বল না!!!কী হয়েছে??.. সারা বলল। রিচি:কই! না তো কিছু না। নাবিলা:তুই চোখে বেশি দেখছিস। � সারা: হেহ! . . ক্লাস শেষে... রিচি: এই নাবিলা!তুই ওইদিকে কী করিস? নাবিলা:না...কিছু না। সারা:কারো জন্য অপেক্ষা করছিস? নাবিলা :না রেএএ..চল!বাসায় যাই। রিচি: হুম.. . . রাস্তায়... সারা:ওই নাবিলা!আজ কিছু বলছিস না যে! রিচি:হ্যাঁ..এতো চুপচাপ কেন? নাবিলা:এমনি..আজ বিকেলে বেড়াতে যাবি? সারা:কোথায়? নাবিলা:খালার বাসায়। খালার বিয়ে ঠিক হবে। সারা: আচ্ছা দেখি। রিচি তুই যাবি না??? রিচি :নাহ!আজ আমার কাজ আছে। নাবিলা: কী কাজ? চল না তুইও! রিচি: নাহ!আজ বাসায় মেহমান আসবে। নাবিলা:অহ! . . বিকেলে.. নাবিলা:এই..সারা!তুই রেডি? সারা:একটু ওয়েট! নাবিলা: হুম.. সারা: হ্যাঁ..চল এবার! নাবিলা:আমার মোবাইল তোর রুমে চার্জে দিয়েছিলাম।ওইটা দেয় তো! সারা:দিচ্ছি! এঁ...এইইই আমার মোবাইল তো রিচির বাসায় রেখে এসেছি! নাবিলা:তুই...না! আচ্ছা চল, রিচির বাসায়।দেখি আরেকবার সেও আসে কিনা। সারা:হুম.. . . রিচির বাসায়..... নাবিলা:সারা!তুই গিয়ে মোবাইল টা নিয়ে আয়।আমি এখানে থাকি।ড্রাইভার চলে যেতে পারে তাই। সারা:আচ্ছা। নাবিলা:তাড়াতাড়ি। . . সারা:আসসালামু আলাইকুম আন্টি! রিচি কই? আমার মোবাইল টা তার রুমে ভুলে রেখে গেছি। আন্টি: রিচি তো পার্কে গেল!নাবিলাও সাথে হয়তো। কেন তুমি জানো না? সারা: কীইইই?!!!! আন্টি: কী হলো? সারা: নাহ কিছু না।মোবাইল টা। আন্টি: হুম.. . . নাবিলা:কীরে? এতো সময় লাগলো? কী হলো?কিছু বলছিস না যে! সারা:আন্টি বললো..রিচি পার্কে গেছে।তাও তুইও নাকি সাথে! আমি আর কিছু বলি নি।হয়তো তার কোন নতুন ফ্রেন্ড এর জন্য গেছে। নাবিলা:নতুন ফ্রেন্ড হবে কেন!নাহ..হলে হতেও পারে। আচ্ছা খালার বাসার রাস্তার আগেই তো পার্ক টা। তাহলে দেখি! সারা:হুম.. (চলবে) ইনশাআল্লাহ। ----- "Be Careful" পর্ব:১০ নাবিলা:রিক্সা এইখানে সাইড করেন! আর এই নেন আপনার টাকা। সারা:ওই আমি টাকা দিয়ে দেই? নাবিলা: আরেহ না..অন্য সময় তুই দিবি। সারা:ঠিক আছে। নাবিলা: চল..রিচি কোথায় দেখি। সারা: হুম.. নাবিলা: কিন্তু...আচ্ছা সারা!তুই ওইদিক টা দেখ।আর আমি এইদিক দেখি। সারা: ঠিক আছে। . . কিছুক্ষণ পর...... হঠাৎ রিচিকে দেখলো নাবিলা! নাবিলা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে! নাবিলার ফোন বেজে উঠলো! কিন্তু সে ব্যাগ থেকে মোবাইলটি বের করতে পারছে না!তার হাত কাঁপছে!! কিছু সময় পর সে কল রিছিভ করলো! সারা: হ্যালো.. নাবিলা: ....... (চুপ করে আছে) সারা: হ্যালোও....এই নাবিলা!! রিচিকে পাইছো নাকি? নাবিলা: হুম. . . সারা: তোর কী হইছে? এইরকম কথা বলছিস কেন? আচ্ছা কোথায় বল আমি আসছি। . . সারা: ওই নাবিলা! কই রিচি? নাবিলা: এইতো! সারা: আরেহ এই ছেলেটাকে দেখছি মনে হইতেছে.. নাবিলা: মানে? সারা: আরেহ! ওইটা তো রাহুল!!! নাবিলা: রাহুল!!! আরে তার নাম তো... যাইহোক, আচ্ছা তুই চিনিস কীভাবে???! সারা: হ্যাঁ.. রাহুল ই তো।আমাদের কলেজে পড়তো।আমাকে নাকি ভালোবাসে!আমি অবশ্য বলেছি.. বিয়ে আগে ভালোবাসা এইসব বিশ্বাস করি না।সত্যিকার ভালোবাসা বিয়ের পরেই শুরু হয়! কিন্তু তোর কী হলো??? তুই এইরকম মন খারাপ করছিস কেন? কিছু হয়েছে নাকি?! নাবিলা: ... (চুপ করে আছে) সারা: আরে কাঁদছিস কেন? বল না!রাহুল কে তুইও চিনিস? নাবিলা: .. সারা!! তু-ই রিচির সাথে আসিস। . . এই কথা বলেই দৌড় দিল নাবিলা! সামনে একটি বড় বাস আসছে!! সারা: নাবিলা!!!! থাম প্লিজ! .........এক্সিডেন্ট রিচি:এক্সিডেন্ট হয়েছে মনে হয়। দেখি আসি তো! .. রাস্তার পাশে অনেক ভিড়! একটু সামনে যাই! নাহ আগে জিজ্ঞেস করি কাউকে! - ভাই ওইখানে কী হয়েছে? -একটি মেয়ের এক্সিডেন্ট হয়েছে! - অহ!আচ্ছা ভাই ধন্যবাদ। তাহলে একটু সামনে গিয়ে দেখেই আসি কে মেয়েটা!আর কেনই বা এইরকম করলো! না-বি-লা!!!! (চলবে) ইনশাআল্লাহ। ----- "Be Careful" পর্ব:১১ নাবিলাকে দেখে অজ্ঞান হয়ে গেল সারা! রিচি: দেখি.. দেখি.. একটু সাইড দেন তো ভাই। . . নাবিলা!!!! হায় আল্লাহ! এই সারা... এইইই কী হয়েছে? ভাই প্লিজ কেউ গাড়ি আনেন। তাকে Hospital নিয়ে যেতে হবে প্লিজ ভাই!তাড়াতাড়ি করেন!! . . নাবিলা আই.সি. ইউ তে ভর্তি। আর সারা এখন ভালো। . . রিচি: সারা!এখন কেমন লাগছে তোর? সারা: আলহামদুলিল্লাহ্‌! রিচি:আচ্ছা সারা!কী হয়েছে রে? তোদের এই অবস্থা কেন? সারা: .... ( চুপ করে আছে) রিচি :বল না..সারা! প্লিজ!!! কী হয়েছে? আর নাবিলার এক্সিডেন্ট এর কীভাবে হলো? সারা: .. এইটা এক্সিডেন্ট না! রিচি: মানে? এক্সিডেন্ট না! নয়তো কী? সারা: .. (চুপ করে আছে) রিচি: বল না! আর তোদের তো খালার বাসায় যাওয়ার কথা ছিল। তাই না? সারা: হুম.. রিচি: তাহলে পার্কে কেন গেলি? সারা: আচ্ছা আগে তুই বল। রিচি: ..... কী বলবো? সারা: তোর না.. বাসায় মেহমান আসার কথা ছিল।তাহলে তুই কেন পার্কে গেলি? রিচি: আম্মম্ম.. সারা: কী হলো? বল! রিচি: না মানে..এমনি আরকি। সারা: এমনি? দেখ রিচি! প্লিজ.. তুই মিথ্যা বলিস না। সত্যি করে বল। রিচি: আরে কী সত্যি বলবো? সারা: পার্কের ওই ছেলেটা... রিচি: মানে? অহ.. এইটা আমার কাজিন। সারা: সত্যি কাজিন? আন্টিকে জিজ্ঞেস করি? রিচি : না না.. সারা: তাহলে বল। রিচি : আসলে.. সে আমার..বিএফ সারা: জানতাম! রিচি: মানে? সারা: তোর বিএফ.. যে ওইটা। রিচি: অহ..সে অনেক ভালো রে! সারা:নাহ দোস্ত! সে ভালো নয়। সে আস্তা একটা বেয়াদব! রিচি: আশ্চর্য! সারা..তুই কী বলছিস এইসব? সারা: দেখ!আমি তোকে রাগাচ্ছি না! যা সত্যি তাই বলছি! রিচি: কীসের সত্যি? সারা: জানিস..সে আমাকেও বলেছিল ভালোবাসে।সে আমাকে বিয়েও নাকি করতে চায়।কিন্তু পড়াশোনার জন্য সম্ভব নয়।তাই তার সাথে যেন প্রেম করি..এই প্রস্তাব দিয়েছিল। রিচি: সারা! তুই কেন এইসব বলছিস? সারা: শোনো, নাবিলার অবস্থার জন্য দায়ী কে জানিস? রিচি: কে দায়ী হবে আবার? ওইটা তো এক্সিডেন্ট! সারা: নাহ!এক্সিডেন্ট না..নাবিলা সুইসাইড করতে চেয়েছিল। রিচি: কী??! কী বলছিস এইসব? সে কেন সুইসাইড করতে যাবে? সারা: হ্যাঁ..তার সুইসাইড করার কারণ জানবি? রিচি: হ্যাঁ.. সারা: ওই ছেলেটা.. মানে তুই যাকে বিএফ মনে করেছিস! রিচি : Stop! অনেক হয়েছে! প্লিজ সারা.. এইসব মিথ্যা বলিস না। সারা: আমি মিথ্যা বলি নি। তুইও তো মিথ্যা বলতি না!মিথ্যা তো তুই আজ আমায় বললি। তুই শুধু আমায় না..ফ্যামিলিতে মিথ্যা বলে পার্কে তার সাথে দেখা করেছিস! তুই কী চিন্তা করেছিস? তুই কত বড় খারাপ কাজের দিকে যাচ্ছিস? রিচি: আমি খারাপ কাজ তো করছি না!জাস্ট ঘুরাঘুরি তো করছি.. আর কিছু তো করছি না।লেখাপড়া পর তাকেই বিয়ে করবো। সারা: এইটাও তো গুনাহ রে বোন! এইটাও যিনা!আর আল্লাহ যিনার আশেপাশেও না যেতে বলেছেন! বিয়ের আগে প্রেম ট্রেম কেন করবি? বিয়ের পরই সত্যিকার ভালোবাসা শুরু! আর যিনা এমন এক পথ যা শুধু ক্ষতির দিকেই নিয়ে যায়। .... হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো! (চলবে) ইনশাআল্লাহ। ---- "Be Careful" পর্ব:১২ (শেষ পর্ব) -হ্যালো..! -জ্বী হ্যালো! -নাবিলার শরীর খারাপ করছে।তাড়াতাড়ি চলে এসো। -ঠিক আছে! আমরা আসছি এখনই। . . -কী হয়েছে আন্টি? -নাবিলার অবস্থা ভালো না রে মা!ডাক্তার বলেছে দোয়া করতে! . . কিছুক্ষণ পর... -নাবিলার অবস্থা কেমন? -আগের থেকে ভালো। -আলহামদুলিল্লাহ্‌! -আচ্ছা সারা নামে এইখানে কেউ আছেন? - হ্যাঁ.. আমিই সারা! -আপনাকে নাবিলা ডাকছে। -তো যাবো? -হুম..তবে বেশি কথা বলবেন না।তাড়াতাড়ি চলে আসবেন। -ঠিক আছে। . . সারা: নাবিলা! নাবিলা: .. (কী যেন বলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না) সারা: চুপ থাক তো। কথা বলিস না! নাবিলা: ..(কাঁদছে) সারা: আরে কাঁদিস না তো! আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নেয়।আর দোয়া কর।সব ঠিক হবে ইনশাআল্লাহ! নাবিলা: মুচকি হাসলো (আস্তে আস্তে কী বলছে)। সারা: ইন্নালিল্লাহ..নার্স!ডাক্তারকে ডাক দিন! . . -সরি! -মানে? -নাবিলা আর নেই!!দুঃখিত! . . সারা কাছ থেকে রাহুলের কথা শুনে রিচি তা বিশ্বাস করে নি।সারার কোন কথাই সে ঠিকমত শুনে নি।তাই সারার সাথে রিচি আর আগের মতো থাকেউ না। . . কয়েকমাস পর.. রিচি তার মামার বাড়ি যাচ্ছিল। -ড্রাইভার! একটু থামো। ওইটা রাহুল নাকি! কিন্তু সাথে মেয়েটা কে?! আরেহ নাহ!রাহুল না..অন্য কেউ হয়তো। আচ্ছা ড্রাইভার চলো। . . -হ্যালো রাহুল! -হুম্মম্ম.. -আজ তুমি বিকেলে পার্কে ছিলে নাকি? -পার্ক! কীসের পার্ক! আর আমি কাজে ছিলাম। কেন? কি হয়েছে? -নাহ.. কিছু না। -আরে বলো না। -না মানে.. মামার বাসায় যাওয়ার সময় তোমার মতো কাউকে দেখছিলাম। পরে মনে মনে বললাম.. নাহ তুমি হবে না।তাই চলে যাই আবার। যাইহোক, বাদ দেও এইসব। -কী করো? -এইতো বসে আছি ভালো লাগছে না। -কেন গো? -জানি নাহ।আচ্ছা কাল মার্কেট এ যাবে নাকি? -কেন? -বলো না..আমি মার্কেটে যাবো। তুমিও চলো প্লিজ! -আম্ম..আসলে..আমার কাজ খুবই জরুরি কাজ আছে। -কি কাজ? -আব্বু কিছু কাজের জন্য যেতে হবে। -অহ। -আচ্ছা..কাল তুমি নিজেই চলে যাও।অন্য সময় তোমাকে নিয়ে যাবো। Ok? -হুম.. . . মার্কেটে সারার সাথে দেখা হয়ে গেল রিচির.. কিন্তু রিচি সারার আশেপাশেও যাচ্ছে না। . . মার্কেটের পর... . বৃষ্টির জন্য কোন রিক্সা ই মিলছে না।এদিকে রিচিকে দেখে কয়েকটা ছেলে গান গাইছে। হঠাৎ..একটি রিক্সা এলো। সারার সামনে রিক্সা থেমে গেল।কিন্তু সারা রিক্সায় উঠলো না।সে রিচির দিকে গেল.. সারা:রিচি তুই রিক্সা দিয়ে চলে যা.. রিচি: তাহলে তুই? সারা:আমি যাবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ ব্যবস্থা করে দিবেন। রিচি: আচ্ছা.. তুইও চল আমার সাথে। সারা:হুম.. . . এই রিক্সা থামো! থামো! সারা: কী হলো? রিচি :দাড়া.. সারা: কোথায় যাচ্ছিস? রিচি: ওই তো সামনে। সারা:কেন? আমি আসবো? রিচি:ঠিক আছে। . . রিচি:এইইই.. তুমি না তোমার আব্বুর অফিসের কাজের জন্য বিজি।তাহলে এইখানে কী করো? রাহুল:ইয়েএএএ..মানে আপনি কে? রিচি:আমি কে মানে?ফাজলামি করো?আর তোমার সাথে মেয়েটা কে? রাহুল:আপনাকে কেন বলবো? রিচি :মানে? রাহুল:মানে টানে কিচ্ছু জানি না।আপনি যান তো এইখান থেকে। ---রাস্তায় সবার সামনে এইভাবে অপমান করলো রিচিকে! . . সারা:এইইই রিচি থাম! ওই থাম বলছি! রিচি:-কী? সারা: শুনো, যা হওয়ার হয়ে গেছে। আর কী দরকার এমন একটা মানুষের জন্য নিজের জীবনেটা নষ্ট করার?! রিচি: হুম.. সারা: মন খারাপ করিস না দোস্ত! রিচি: সারা!তোর সাথে কথা বলতে লজ্জা করছে।তুই ঠিক ই বলেছিলি। আমি কেন যেন এইরকম হয়ে গেলাম!!! আর আগে থেকে যদি সতর্ক থাকতাম!তাহলে এরকমটা হতো না। ইশ!যদি আজ নাবিলাও থাকতো! তাহলে তারও এমন হতো না। সারা: বাদ দেয়।আর নাবিলাকে আল্লাহ মাফ করুক।এর থেকে বেশি কিছুই বলার নেই। তবে হ্যাঁ..আর কোন বোনের যেন নাবিলার মতো অবস্থা না হয়।এইজন্য আমাদের আরও Careful হতে হবে।আর যিনা তো দূর.. যিনার আশেপাশেও যাওয়া যাবে না! কারণ এই পথে শুধু ক্ষতিই আছে! যাইহোক, শুকরিয়া আদায় কর।সত্য টা তো সামনে আসলো। আর তুইও তোর ভুলটা বুঝলি।তাই মন খারাপ করিস না।আর নতুন করে চলা শুরু কর! রিচি: দোস্ত!আমি কত গুনাহ করেছি!আল্লাহর কত হুকুম মানি নি।এইসব এ পাত্তাই দেই নি।আফসোস! আমি কী করলাম এতো টা বছর!বছরের পর বছর গুনাহ করেছি! আল্লাহ কী আমায় মাফ করবেন? সারা:ইনশাআল্লাহ!অবশ্যই করবেন। আল্লাহ তা'আলার রহমতের ব্যাপারে কখনো নিরাশ হবে না! আল্লাহ তো রাহমান!! বান্দা যখন তার ভুল বুঝতে পারে এবং এই ভুল আর করবে না বলে ওয়াদা করে তাহলে .. আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তাকে মাফ করে দিবেন! তাই এখনই তাওবার করো! আর ফিরে এসো.. আল্লাহর দিকে!

Collected - ডিজিটাল হিজাব

আফিয়া ফাতেমাদের জন্য ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর তোদের জন্য লজ্জা......

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

শরীর মন দুইটাই প্রচণ্ড রকম খারাপ। আজ সকালে বাসায় আসলাম। বাড়ীর সবাই গ্রামে বিয়ের দাওয়াতে গেছে, বাসায় ঢুকতে গিয়েই মনটা খারাপ হয়ে গেল! বাসায় চোর ধুকেছে, সব তছনছ! যাক, আল্লাহ যাই করেন ভালোর জন্যই করেন। বাসার পাশেই সাইবার ক্যাফে, আমার অনেক দিনের আড্ডার স্থল! সেখানে গেলাম নেট ব্রাউজ করতে।নেট ব্রাউজ করছি! পাশের পিসিতে এক হিজাবি তরুণী, পাশে এক তরুণ! কোন খারাপ ধারণাই আসেনি, আর যাই হোক কমপ্লিট হিজাবি!! কিন্তু কিছুক্ষণ পর এই দুই অমানুষ রুচিহীনতার সর্বনিম্ন লেভেলে পৌঁছে “এমন কিছু!!” জগন্য কাজ শুরু করল আমার বোধশক্তি হঠাৎ লোপ পেয়ে গেল। ব্যাপারটা এতোটাই জগন্য ছিল এটা ভদ্রভাবে বলার কোন শব্দ আমার জানা নেই! আমার প্রচণ্ড রকম রাগ জমেছিল, ক্ষোভ জমেছিল! দাঁড়িয়ে গেলাম আর ওই হিজাবির ডেস্কের সামনে গিয়ে বললাম, “হায়রে হিজাবি! তুই একদিন কাঁদবি... ওয়াক থু ওয়াক থু ওয়াক থু! তোর জন্য লজ্জা, তোর জন্য ঘৃণা”!! কি পুস্তকি কথা মনে হচ্ছে?? এই কথাগুলো অনেকদিন থেকে আমার মনে ছিল, কোনদিন সাহস সঞ্চার করতে পারিনি বলার জন্য! দুই অমানুষ হঠাৎ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে, পাশের ডেস্কের কয়েকজন হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে! তাদের কাছে এই দুই পশুর রুচিহীনতা থেকে আমার আচরণই বেশী অস্বাভাবিক!!



জাহিলিয়াত বলে একটা টার্ম আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি ইসলামহীন অতীত জীবনের কথা প্রসঙ্গে। হয়তো আমি ভুল হতে পারি কিন্তু আমার মনে হয় by default পরিবার থেকে সঠিক ইসলামের আদর্শে বড় হয়েছে এরকম ছেলে মেয়ের সংখ্যা হাতে গোনা। আমি আমার পরিবার থেকে সঠিক ইসলাম তো দূরের কথা কোন ইসলামই পাইনি। ছোটবেলা থেকে আমার কাছে কেউ ইসলামের আদর্শের কথা বলতে আসেনি। পাড়ার হুজুরদের হা করে হিন্দি সিনেমা দেখা, মোবাইলে গানের কালেকশন আর দাওয়াত খেয়ে খেয়ে গর্দান মোটা করা ইসলাম থেকে আমরা বড় হয়েছি। জীবনের যে সময়টা আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করার কথা সেই সময়টাতে এসে আমাদের জানতে হচ্ছে, “ ও আচ্ছা, ইসলাম তাহলে এই!”। তাই বলতে কোন দ্বিধা নেই আমার ইসলামি জ্ঞানের দৌড় খুবই সীমিত,একেবারে প্রাথমিক পর্যায়! কিন্তু ইসলাম থেকে আমি একটা বিষয় বুঝেছি আর তা হল ইসলামের ভেতরে থেকে, এর লেভেল ধারণ করে এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা খুবই জগন্য একটা ব্যাপার! এটা কোন মুসলিমের বৈশিষ্ট্য নয়। আর একজন মুসলিম হিসেবে এই বিষয়গুলো সহ্য করা খুব দুরহ, এগুলো দেখিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ওই যে প্রথমে বললাম আমি কম জানি এটা আমার যোগ্যটার lackings, আর যেটা অন্যায় সেটা দেখিয়ে ন্যায়টা বলা আমার অধিকার, দায়িত্ব। মানুষের যোগ্যটায় হস্তক্ষেপ করা যায় কিন্তু অধিকারে হস্তক্ষেপ করা যায়না। তাই এখন যে কথাগুলো বলব সেখানে দয়া করে কেউ অধিকারের হস্তক্ষেপ করতে আসবেন না প্লিজ!



আচ্ছা এই মেয়েগুলো কি ভাবে? কি ভাবে জীবন নিয়ে? তাদের কাছে জীবনের অর্থটা কি? তাদের কাছে পর্দা কি? ইসলাম কি? প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের চারপাশে মেয়েরা বেড়ে উঠছে, কোন আদর্শে বেড়ে উঠছে?? হিন্দি সিরিয়ালে তুহি মেরি জান, মে তুমহারি দেওয়ানি হু সংলাপে কল্পনার রাজ্যে সবকিছু রঙ্গিন ভাবা আতলামি, সারারাত মোবাইল ফোনে কথা বলে প্রেমের ষোলকলা পূরণ হয়ে গেছে ভাবা আর বয়ফ্রেন্ডকে বিশ্বাস করি মর্মে বিশ্বাসযোগ্যতার সার্টিফিকেট অর্জন করতে রিকশা, সি এন জি, পার্কে শরীর সওদা করে বেড়ানো। সংক্ষেপে এক আধুনিকা?? হ্যাঁ আমি জানি!! আপনার মুখ বাকিয়ে করা প্রশ্ন কি আমি জানি?? আপনি বলবেন “ছেলেরা কি ধোয়া তুলসীপাতা??” না তারা তুলসীপাতা নয়, তারা খাটাস! কিন্তু আমি এখন আপনার সাথে কথা বলছি। আপনার মাথায় কি মগজ নেই? পবিত্র কুরানে আল্লাহ তায়ালা “আকল” শব্দটা ২৭ বার ব্যাবহার করেছেন তা কি শুধুমাত্র পুরুষের জন্য, আপনার জন্য নয়? আপনি সব বোঝেন নিজের শরীরের সম্মান কেন বোঝেন না? খাটাশ বয়ফ্রেন্ডগুলো যে আপনার শরীর ভোগের সুযোগ নেবে সেটা কেন বোঝেননা? রিকশা, সি এন জি, পার্কে, অন্ধকার রেস্টুরেন্টে কিংবা একটু সাহসী হলে চারদেয়ালের ভেতর আপনাকে কে যেতে বলেছে? সব খাটাশ ছেলেটার দোষ? আপনি কি পুতুল? আপনার কোন বোধশক্তি নেই? নিজের প্রতি সততা দেখান প্লিজ!ছেলেরা এমন ছেলেরা তেমন এটা যেমন কোন মেয়ের জন্য শুদ্ধতার মাপকাঠি নয় ঠিক তেমনি মেয়েরা এমন মেয়েরা তেমন এটা কোন ছেলের জন্যও শুদ্ধতার মাপকাঠি নয়! অন্যকে নিজের সাথে তুলনা করার প্রতিযোগিতা বাদ দেন। নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনার নিজের সম্পর্কে!



আমি আবারো বলছি এই লেখাটা নারী VS পুরুষ কোন সস্তা তর্কাতর্কি করার জন্যই নয়। মুসলিম নারীদের চোখ মেলে তাকানোর সময় পার হয়ে যাচ্ছে!

আমার বয়স এখন ২১। অনেক সময় পার করে ফেলেছি। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা এই পর্যন্ত আমি পরিচিতি একটা মেয়েকেও দেখিনি যে proper হিজাব করে, যে পর্দার ব্যাপারে সজাগ এবং সঠিক জ্ঞান রাখে, যে ইসলামের ব্যাপারে আগ্রহী, যে মাহরাম নন মাহরাম নিয়ে সজাগ! বিশ্বাস করুন একজনও না। জাহিলিয়াতের অন্ধ গলি থেকে থেকে যতজন ছেলেকে আমি দ্বীনের রাজপথে উঠতে দেখেছি তার সিকিভাগও দেখিনি মেয়েদের বেলায়। প্রথমে মনে করতাম এটা আমার ব্যর্থতা, দেখিনি! কিন্তু বাস্তবতা সেটা নয়, আপনার চারপাশে খোঁজ নিয়ে দেখুনতো!!

আজ সবখানেই মেয়েরা আছে, তাদেরই জয়জয়কার! ঢাবিতে আমার ডিপার্টমেন্টের প্রথম মেয়ে, দ্বিতীয় মেয়ে, তৃতীয় বাদ দিয়ে চতুর্থ সেও মেয়ে। অমুক ডিপার্টমেন্টে প্রথম__ মেয়ে! অমুক ডিপার্টমেন্ট____ মেয়ে! মেডিক্যালে কারা বেশী চন্স পায়__ মেয়েরা! বি সি এসে প্রথম___মেয়ে! কিন্তু দ্বীনের কথা আসলে, পর্দার কথা আসলে, ইসলামি অনুশাসনের কথা আসলে___ আরে বাদ দাও, ওরা কম বোঝে!! Why কম বোঝে?? Why? রংচঙে সাজগোজে, বেপর্দা আঁটসাঁট পোশাক, বন্ধু আড্ডা গান, হিন্দি সিরিয়ালের ভূত, বয়ফ্রেন্ড সবই তো বোঝে... সবই বোঝে... সবই!! আর কত পাশ কাটিয়ে যাওয়া? আর কত কোন কুকাম ঘটলে নারী নির্যাতনবিরোধী স্লোগানে নারীর মুক্তি খোঁজা? এই মেয়েগুলো কি কোনদিনও কিছু বুঝতে চাইবে না?? মগজ ব্যবহার করবে না?? কিছু হলে সব সমাজের দোষ? সমাজ নারীকে পন্য বানিয়েছে? এভাবে আর কত? মেয়েগুলো কি চোখ মেলে তাকাবে না??



যারা পর্দা করে, পর্দা সম্পর্কে জেনে বুঝে আধুনিকতার নোংরামিতে আল্লাহর দ্বীনকে অপমান করছে তাদের বিষয়টা আল্লাহ দেখেবেন ইনশাল্লাহ! কিন্তু যারা না জেনে বুঝে করছে আমি তাদেরকে পর্দার বিষয়টা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই! ইসলাম নারীকে তার সম্মান স্থায়ীভাবেই দিয়েছে। কিন্তু নিজের সম্মানটা আগে নিজেকে বোঝা উচিত। আর একজন নারীর সম্মানের আচ্ছাদন হল তার পর্দা। আল্লাহ বলেন...



“(হে নবী), তুমি মুমেন নারীদেরকেও বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিন্মগামি করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমুহের হেফাজত করে, তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে না বেড়ায়, তবে তারা (শরীরের) যে অংশ(এমনিই) খোলা থাকে(তার কথা আলাদা), তারা যেন তাদের বক্ষদেশ মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে, তারা যেন তাদের স্বামী, তাদের পিতা, তাদের শ্বশুর, তাদের ছেলে, তাদের স্বামীর (আগের ঘরের) ছেলে, তাদের ভাই, তাদের ভাইর ছেলে, তাদের বোনের ছেলে, তাদের (সচরাচর মেলা মেশার) মহিলা, নিজেদের অধিকারভুক্ত সেবিকা দাসি,নিজেদের অধীনস্থ (এমন) পুরুষ যাদের (মহিলাদের কাছ থেকে) কোন কিছুই কামনা করার নেই, কিংবা এমন শিশু যারা এখনো মহিলাদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে কিছুই জানেনা- (এমন মানুষ ছাড়া তারা যেন) অন্য কারো সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, (চলার সময়) জমিনের উপর তারা যেন এমনভাবে নিজেদের পা না রাখে যে সৌন্দর্য তারা গোপন করে রেখেছিল তা (পায়ের আওয়াজে) লোকদের কাছে জানাজানি হয়ে যায়; হে ঈমানদার ব্যক্তিরা,( ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য) তোমরা সবাই আল্লাহর দরবারে তাওবা কর, আশা করা যায় তোমরা নাজাত পেয়ে যাবে”। [আন নুরঃ ৩১]



এই বিষয়ে আরেকটা আয়াত হল...“ হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রী, মেয়ে ও সাধারণ মোমেন নারীদের বল, তারা যেন তাদের চাদর(থেকে কিয়দংশ) নিজেদের উপর টেনে নেয়, এতে করে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের কোনরকম উত্ত্যক্ত করা হবেনা, (জেনে রেখো), আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু”। [আহযাবঃ ৫৯]



সুবাহানাল্লাহ! অসাধারণ দুইটা আয়াত। আয়াত দুইটার তাফসীর করতে গেলে দিস্তার পর দিস্তা লিখেও শেষ করা যাবেনা। আমি একদম কমন কয়েকটা বিষয় পয়েন্ট আউট করতে চাই...

১। অবনত

২।হিজাব

৩। সৌন্দর্য প্রদর্শন করে না বেড়ানো

৪। নিজের নারিত্তের আইডেন্টিটি স্পষ্ট করা হিজাবের মাধ্যমে যাতে উত্ত্যক্ত করা না হয়।

৫। ভুল ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাওয়া।


এর পরেও এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল দুইটা আয়াতেই বলা হয়েছে ঈমানদার ও মোমেনাদের কথা। তাই একটু থমকে দাঁড়ান, চিন্তা করুন, নিজের প্রতি সততা দেখান আর ভেবে দেখুন এই পাঁচটা বিষয়ের কয়টা আপনার আছে?? যদি না থাকে এতে অস্থির হওয়ার কিছু নেই, একদিন হবে ইনশাআল্লাহ! কিন্তু নিজের বিষয়ে ঠিক না থেকে অন্যের কাছে সম্মান আশা করেন কিভাবে?? জাহেলি আধুনিকাদের কথা বাদই দিলাম আজকের হিজাবিরাও কি এর ধার দারে?? আজকের হিজাব মানেই হল একটা ছিপছিপে বোরখা আত টাইট জিন্স! গত ঈদে গ্রামে গিয়েছিলাম ঈদ করতে। পাড়ার ছেলেরা মিলে আড্ডা দিচ্ছি। এক বাল্যবন্ধু কাপড়ের দোকানে চাকরী করে। সে বলছে, “বুঝলি আজকাল মেয়েরা সেক্সি বোরখা পরে! কি যে **** লাগে!” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম “এটা আবার কি জিনিস?” জবাবে সে সেক্সি বোরখা কি, কেন, মেয়েরা অর্ডার দেওয়ার সময় কি কি সাইজের কথা বলে এসব বলে খুব কুৎসিত কুৎসিত কিছু মন্তব্য করছে! হা করে তাকিয়ে আছি আর সেক্সি বোরকার বর্ণনায় বন্ধুদের অট্টহাসি দেখছি! বোরখাকে আমি কখনই হিজাব মনে করিনা,। হিজাব অনেক পবিত্র একটা ব্যাপার, অনেক unique! কিন্তু আশংখায় পড়লাম সেক্সি বোরখাটা কি তবে সেক্সি হিজাবে রুপ নেবে??


একদিন আমার হলের পাশের হলে চা খেতে গেলাম! হঠাৎ কয়েকজন যুবক আমার পাশে বসতে বসতে তাদের চলমান আলোচনা শুরু করল এভাবে, “ আরে অমুকরে দেখছস?? ক্যাম্পাসে তো একেবারে হিজাব করে আসে, মুখও দেখা যায়না, কাল দেখি গেঞ্জি পইরা নাচতেছে সেই ভিডিও ফেসবুকে আপলোড দিছে! এই হইল হিজাবি বুঝলি!!” এরপর তারা অনেক কথাই বলেছে কিছু মনে নেই মাথায় শুধু ঘুরতেছে, “এই হইল হিজাবি... বুঝলি!!”। আমার ডিপার্টমেন্টের নিচে আরাবি ডিপার্টমেন্ট, এর নিচে ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামিক হিস্ট্রি! উঠতে নামতে এখানকার হিজাবি আপুদের বন্ধু আড্ডা গানের কেরামতি দেখলে লজ্জায় মাথা কাটা যায়। এই মেয়েগুলো কি জানে প্রতিটা দিন পবিত্র হিজাবকে অপমান করে ইসলামবিদ্ধেশিদের কাছে এরা কি বার্তা দিচ্ছে??


লজ্জা কর হে নারী, লজ্জা কর! আবু গারিব কারাগারে ফাতেমারা যখন আমেরিকান কুত্তাদের দ্বারা দিনে ৯ বার ধর্ষিত হচ্ছে তখন আধুনিকা হিজাবি সাইবার ক্যাফে, পার্কের বেঞ্চে শরীর সওদা করে বেড়াচ্ছে! পর্দা করার কারনে, আল্লাহর দ্বীন পালনের কারনে ২২ নিরপরাধ হিজাবি বোনকে যখন এদেশের পুলিশ সন্দেহের নামে হয়রানি করছে, অন্তঃসত্ত্বা বোনকে যখন টেনে হিঁচড়ে পশুর মত আচরণ করছে তখন আধুনিকা হিজাবি আমার হলের সামনে তার তিন ছেলেবন্ধুর সাথে তাস খেলছে!


আমাদের হিজাবি নারীরাও নববর্ষ আসলে গায়ে রঙ্গিন শাড়ি, ১৬ ডিসেম্বরের লাল সবুজের বাহার কিংবা ভ্যালেন্টাইন ডে তে লাল গোলাপ হাতে ছুটাছুটি করে! বিয়ে তো একবারই হবে তাই মেহেদি অনুষ্ঠান হবে না এটা আমাদের হিজাবিরাও মেনে নিতে চায়না! মেকাপ- মেহেদী নষ্ট হবে বলে মেহেদী নাইট আর বিয়ের দিন না হয় নামাজও বাদ থাকল... সে আর এমন কি!! এক ভাই বউ খুঁজতে গিয়ে আফসোস করলেন, “হিজাবিরাও এখন বিয়ের সময় টম ক্রুজ আর বিল গেটস খোঁজে”! বিয়ের পরও স্বামীর মতিগতি দেখে দিসিশান নেওয়া যাবে। স্বামী যদি পর্দা করতে বলে তাহলে করবে আর না হলে স্বামী যদি চায় তাহলে শিলা, মুন্নি, চাম্মাক চালো দিয়ে ওয়ারড্রব ভরিয়ে ফেলব! বান্ধবীরা পরে এত ভাল লাগে, এতদিন হিজাবের জ্বালায় পরতে পারিনাই! এসব আমার গালগল্প নয়, জেনেশুনেই বলছি!


RAG DAY বিষয়টার সাথে সবাই পরিচিত। ঢাকা ভার্সিটিতে বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে হঠাৎ করে RAG DAY উৎসব শুরু হল।আগে এসব নোংরামি চারদেয়ালের ভেতর হতো। কিন্তু জাফর ইকবালদের ভাবালুতা আদর্শে বেড়ে উঠা তরুণ তরুণী এখন আর চার দেয়ালের ভেতর থাকতে চায়না! তারা এবার “থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগতটাকে” থিউরি ব্যবহার করেছে। টি এস সি রাজু ভাস্কর্যের সামনে রাস্তা ব্লক করে “গ্যাংনাম” ধইঞ্চানাম যত বান্দরগিরি আছে সব দেখানো এই RAG DAY এর একটা অংশ। যাদের প্রথম আলো পড়ার দুর্ভাগ্য আছে তারা নিশ্চয় প্রতিদিন এসব RAG DAY এর একটা করে ছবি নিয়মিত পেয়েছেন। RAG DAY তে আপুরা নামে কাপড় ছোট করার প্রতিযোগিতায় । আরও আছে কনসার্টে উন্মাতাল ভাবালুতা! কয়দিন পর দেখি হলে আরেক উৎসব! সবার মোবাইলে, ল্যাপটপে RAG DAY এর ভিডিও! যে যত সেক্সি আপুর ‘বিশেষ’ ‘বিশেষ’ মুহূর্তের দৃশ্য ধারণ করতে পেরেছে তার তত DEMAND! অবিশ্বাস্য! জাহেলি মেয়েগুলো এসব করবে এটাই অনুমেয়! একদিন ক্লাস করে ফিরছি দেখি RAG DAY এর মাতাল উৎসবে হিজাবি আধুনিকারাও পুরুদস্তর নেকাব পরে জাহেলিদের মাঝে!! হায়, এই দুঃখ কোথায় রাখি!


আবারো লজ্জা কর হে নারী! লজ্জা কর! যখন ডঃ আফিয়া সিদ্দিকার গায়ে এক টুকরো কাপড় নেই, কুত্তাগুলো তাকে বলছে পবিত্র কুরানের উপর দিয়ে হেঁটে গেলে তাকে কাপড় দেওয়া হবে তখন তুই নিজের শরীর বিলিয়ে বেড়াচ্ছিস! ফ্রান্সে আমার মুসলিম বোনেরা যে হিজাব পরিধান করার অপরাধে জরিমানা গুনছে সেই হিজাব পরে তুই জেমস এর কনসার্টে জেমস... জেমস... করে গলা ফাটাচ্ছিস! তুই লজ্জা কর হে নারী! তুই লজ্জা কর!

আমাদের দ্বিনী তরুণ তরুণীদেরও আজকাল “দ্বিনী রিলেশন” থাকে! একদিন সেন্ট্রাল মসজিদে নামাজ পড়তে গেছি। এখন সেন্ট্রাল মসজিদেও মেয়েদের নামাজের জায়গা করা হয়েছে! ওইদিনের ঘটনা দেখে খুব খারাপ লাগলো। মসজিদে ঢুকার সময় দেখি কয়েকটা হিজাবি বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। মূল বিষয়টা বুঝলাম নামাজ পড়ে বেরোনোর সময়! তারা তাদের দ্বিনী বয়ফ্রেন্ডের জন্য অপেক্ষা করছিল! আপনার জানু নামাজটা অন্তত পড়ল but what abaout you? ক্যাম্পাসে হিজাবিদের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু নামাজের সময় তারা দিব্যি বন্ধু আড্ডা গানে ঘুরে বেড়াচ্ছে! What about your salah? নাকি আপনাদের সাতখুন মাফ??যাক!



অনেক বেশী কথা বলে ফেলেছি। বেশিরভাগই রাগ থেকে বলা এবং এগুলো একদিনের কথা নয় একটু একটু করে জমেছে! যখন আমার কোন বন্ধু কোন হিজাবির কাজকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে হিজাবকে অপমান করেছে আমার গায়ে লেগেছে, যখনি কোন হিজাবি আমার সামনে কুকাম করেছে গায়ে লেগেছে! আমি কখনো কিছু বলার সাহস সঞ্চয় করতে পারিনি! কাকে কি বলব?তবে আজ আমি একজন নারীর সবচেয়ে সুন্দর সফলতা কোন জায়গায় সেটা আপনাদের বলতে চাই! আজ নারী এমনকি ইসলাম বোঝা নারীরাও সফলতা খোঁজে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায়, একটা ভাল চাকরী, একটা ভাল......! ইসলামে সবচেয়ে সম্মানিত চারজন নারীর কথা আপনারা জানেন?? মনে করিয়ে দেই ১। হযরত খাদিজা (রাঃ) ২। হযরত ফাতেমা (রাঃ) ৩। হযরত আছিয়া (রাঃ) ( ফেরাউনের স্ত্রী) ৪। হযরত মারিয়াম (রাঃ) (ঈসা (আঃ) এর মা)। এরা কেউ পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা করে জয়ী হয়নি, এরা কেউ কর্পোরেট আইডল নয়, এরা কেউ মিডিয়ার প্রিয়মুখ নয়, এরা কেউ বিদ্যা বুদ্ধির বহর নয়! ভাল করে খেয়াল করে দেখুন এরা সবাই এক একজন ভাল স্ত্রী আর ভাল মা ছিলেন! ২২ হাজারেরও বেশী হাদিস বর্ণনা করে, বিদ্যা বুদ্ধির বহর থেকেও, মুসলিম উম্মাহর, দ্বীনের জন্য অনেক কিছু করেও হযরত আয়েশা (রাঃ) এই চারজনে নেই। আল্লাহ সুবাহানাতায়ালা একজন নারীর মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন দুইটা জায়গায় যেখানে তারা সবচেয়ে সুন্দর, মানানসই____ মাতৃত্ব আর স্ত্রীত্ব!


আবার সেই সাইবার ক্যাফের হিজাবির কাছে ফিরে যাই। এততা ঘৃণা আমার কখনো আসেনি, কারো সামনে এরকম ওয়াক থু ওয়াক থু করা যায় সেটাও আমি কোনদিন চিন্তাও করিনি, আমার সাহস খুব কম! কিন্তু ওইদিনের ঘটনা এতোটাই জগন্য ছিল বিশ্বাস করুন আমি এরপর আমার বোনের দিকে পর্যন্ত তাকাতে পারিনি! আচ্ছা এক অপরিচিত যুবকের ঘৃণা পেয়ে মেয়েটা কি অনুতপ্ত হয়েছিল? বুঝতে পেরেছিল সে খুব জগন্য একটা কাজ করেছে? সে কি তার হিজাবের মর্ম বুঝতে পেরেছিল? নাকি প্রতিদিনের মত অন্য কোথাও শরীর সওদা করতে গিয়েছিল! আমি জানিনা। কিন্তু আমি জানি এই মেয়েটা প্রতিদিনের মত বাড়ি ফিরেছিল! তার মা ই হয়তো দরজা খুলেছে কিন্তু সে তার মেয়ে কোথায় ছিল তার কোন কৈফিয়ত চায়নি, বাসায় তার ভাই ছিল সে কম্পিউটারে গেম খেলছে কিংবা ফেসবুক! বোনের খবর নেওয়ার সময় কই? তার বাবাও রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরেছে, সবাই একসাথে রাতের খাবার খেয়েছে কিন্তু সেও জানতে চায়নি মেয়ে আজ কোথায় ছিল! হায় মুসলিম! আমরা বাবা মা ,ভাই বোন সবাই একসাথেই থাকি কিন্তু একজনের খবর আরেকজন জানি না! লজ্জা লজ্জা লজ্জা! লজ্জা আমাদের সবার জন্যই!


আর কাউকে আমার কিছুই বলার নেই। আর কোনদিন নারীদের নসিহা দিতে যাবনা! এই শেষ! সবাই সুখে থাক... সুখে থাক! পথে ঘাটে, ঝোপে- ঝাড়ে শরীর সওদা করে সুখে থাক, দিনের পর দিন পর্দার আড়ালে পবিত্র হিজাবকে, নিজের আত্মসম্মানকে অপমান করে সুখে থাক, বন্ধু আড্ডা গানের বদৌলতে বন্ধুদের হাতে গনধর্ষিত হয়ে সুখে থাক, সারারাতের নিষিদ্ধ প্রনয় শেষে যার হাত ধরে বেরিয়ে এসেছিলি সেই মানুষের হাতেই ২৬ টুকরা হয়ে সুখে থাক, শিলা-মুন্নি-চাম্মাক চালো-ধুতি কাটিং কাপড়ের বাহারে সুখে থাক, হাড্ডি জড়িয়ে চামড়া নিয়ে জিরো ফিগারের সান্ত্বনায় সুখে থাক! সুখে থাক! সুধু জেনে রাখ তাকওয়া পূর্ণ ঈমান নিয়ে কোন পুরুষ তোর জন্য অপেক্ষা করবেনা, নিজের নফসকে সংযত করে অন্তরের পবিত্র ভালবাসায় কেউ তোর পবিত্রতা রক্ষা করতে আসবেনা, কোন মুমিন পুরুষ ভালবেসে কোনদিন তোর হাত ধরবেনা, বলবেনা, “এই দুনিয়ায় তুমিই আমার হুর”, আল্লাহর ভয়ে চোখের পানি ফেলা কোন পুরুষের কাঁধে মাথা রেখে তুই কোনদিন জোছনা দেখতে পারবিনা, অভিমান করতে পারবিনা, খুনসুটিতে মাততে পারবিনা! আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক! তিনি কারো সাথে অবিচার করেন না। তিনি বলেছেন......“(জেনে রেখো) নষ্ট নারীরা হচ্ছে নষ্ট পুরুষের জন্য, নষ্ট পুরুষরা হচ্ছে নষ্ট নারীদের জন্য, (আবার) ভাল নারীরা হচ্ছে ভাল পুরুষদের জন্য, ভাল পুরুষরা হচ্ছে ভাল নারীদের জন্য, (মোনাফেক) লোকেরা (এদের সম্পর্কে) যা কিছু বলে তারা তা থেকে পাক পবিত্র; (আখিরাতে) এদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রেযেক”। [আন নুরঃ ২৬]



{বিঃদ্রঃ শেষের কথাগুলো আর আয়াতটা পুরুষদের জন্যও} আমি আবারো বলছি এই লেখাটা নারী বনাম পুরুষ কোন সস্তা তর্কের জন্য নয়। আর যেসব বোন দ্বীনের পথে আছেন, যারা দ্বীন ইসলামকে সিরিয়াসলি নিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করবেন ইনশাআল্লাহ। আর শেষ করার আগে দুইজন নারীর কথা বলে সেষ করতে চাই...



১। লেখায় আফিয়া সিদ্দিকার কথা বলেছি। এক রমজানে ডঃ আফিয়া তার মায়ের সাথে ফোনে কথা বলছিলেন। তার মা বললেন, “তোমার প্রতি জালেমদের অত্যাচারের কথা জেনে আমি আর সহ্য করতে পারছিনা”। আফিয়া জবাবে বললেন, “মা, আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। প্রায় প্রতি রাতেই আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখি। একবার তিনি আমাকে বললেন, “তোমার মাকে দুঃখ করতে মানা কর, কারন আল্লাহ তার জন্য আখিরাতে যা রেখেছেন সেটাই উত্তম” আরেকটা স্বপ্নে তিনি আমাকে তার প্রিয়তমা স্ত্রী হযরত আয়েশা (রাঃ) এর কাছে নিয়ে গেলেন আর বললেন, “এই হচ্ছে আমাদের মেয়ে আফিয়া”। আল্লাহু আকবর (ভাবানুবাদ করা হয়েছে! আর আমি জানিনা এটা কতটুকু সত্য, তবে অসম্ভব নয়। একজন আমাকে নিশ্চিত করেছেন এটা ডঃ আফিয়া সিদ্দিকার ওয়েবসাইটেও আছে। দোয়া করি ইসলামের জন্য এই বোন যে অত্যাচার সহ্য করেছেন তার বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন... আমীন... ইয়া আল্লাহ... আমীন।



২। একজন নারী তার মৃত্যুর আগে আরেকজন মহিলার কাছে অছিয়ত করে গিয়েছিলেন তার জানাজা যেন রাতের অন্ধকারে হয় এবং রাতের অন্ধকারেই যেন তাকে কবর দেওয়া হয়। এর কারন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “পর্দা ফরজ হওয়ার পর আমি কোন পরপুরুষের সামনে যাইনি, কোন পরপুরুষও আমাকে দেখেনি! আমি চাইনা দিনের আলোতে জানাজা আর কবর হলে কাফন পরা অবস্থায় কোন পরপুরুষ আমার শরীরের গঠন দেখে ফেলুক”।আল্লাহু আকবর! এই মহীয়সী নারীর নাম হযরত ফাতেমা (রাঃ) আমাদের মুসলিমদের ঘরে ঘরে ফাতেমারা জন্ম গ্রহণ কুরুক...আমীন

আর এই লেখায় সত্যিকার অর্থে দ্বীনের পথে থাকা কোন বোন কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত, আমাকে ক্ষমা করবেন! কিন্তু যাদের জন্য এই লেখা এটা যদি তাদের জন্য সত্য হয় তবে সেই সত্যের জন্য আমি দুঃখিত নই তা যতজনকে যত কঠিনভাবেই আঘাত করুক না কেন।আল্লাহ সবাইকে হেদায়াত দিন । আর কোনদিন যেন কোন হিজাবির জন্য কাউকে লজ্জিত হয়ে না হয়। আর আমাদের জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমাদেরকে এমন কাজ থেকে বিরত রাখেন যাতে কোন হিজাবি বোনের আমাদের মুসলিম ভাই হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ না হয়। আমীন... ইয়া রব... আমীন।


একজন লজ্জিত মুসলিম যুবক!

Monday, October 3, 2016

Collected - আমি কবে ?

ফজরের নামাজে এর পর প্রতিদিন এইদিক সেইদিক নদীর পাড়, মাঠে হাটা হাটি করি।
আজ গিয়েছিলাম বেড়াতে, যেখানকার ফাইনাল বাসিন্দা হবো , আসল ঠিকানায় বেড়াতে। কবর স্থানে। আসল ঠিকানা দেখে আসলাম। মাঝে মাঝে যাওয়া ভালো।
সারি সারি কবর। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসিক, ফকির মিসকীন, আস্তিক, নাস্তিক, সব শ্রেণীর সব বয়সের মানুষ আছে। কয়েক কবরে লেখা দেখলাম নামের নীচে শিক্ষাগত ডিগ্রী লেখা আছে।
কারোর কবর সাজানো ঘেড়াও করা, কারোর বা এমনি বেড়া দিয়ে। কারোরটা মিশে গেছে ।
আচ্ছা ডিএমসি তে পড়লে কি আযাব একটু কম হবে ? কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে একটু বেশি ? ৫ তলা প্রসাদ কি কোনভাবে কবরে নিয়ে যাওয়া যাবে ? বা প্রিয়তমা স্ত্রী ? ছুটছি কিসের পেছনে ? দুনিয়ার ক্যারিয়ার টা, রিযিক না হয় নিশ্চিত করলাম কিন্তু কবরের ক্যারিয়ার টা ? সেখানকার রিযিক ?
শত শত কবর লাগালাগি। অথচ কারোর সাথে কারোর লিংক নাই। জায়গা নিয়ে কোন ঝগড়া নাই, এরাই কি দুনিয়াতে সামান্য কিছু জমি নিয়ে ঝগড়া করেছিল ? কেউ হয়ত ভেতড়ে পুড়ছে, কেউবা জান্নাতের বাতাসে শান্তির নিদ্রায় শায়িত। প্রত্যেকেই একা। নিজ নিজ। দুনিয়াই তাদের সব ছিল, এখন তাদের আমল ছাড়া আর কিছুই নাই। তাহলে কি প্রথম থেকে আমল এর উপরই ক্যারিয়ার গড়া শ্রেয় ছিলো না ? আমল কেই আপন বানানো ?
তাহলে তো সব হারিয়ে আবার জান্নাতে সব ফিরিয়ে দেওয়া হত বাপ মা স্ত্রী সন্তান,যেখানে আর হারানোর ভয় নাই !!
এই মাটিতে তারাও একদিন হাটাহাটি করেছে, আজ আমরা যেমন টা করি। খুব রহস্যময় জীবন, সত্য খুব কঠিন।

One

অনেক ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। খেয়ে দেয়ে আবার ক্লান্তও হয়ে যায়। যার কিছু হয়তো ভাল, আবার কিছু হয়তো কালো। তেমনি আজ একটা বিষয় মাথায় আসলো।...