Wednesday, October 17, 2018

পারিবারিক অবহেলা এবং অন্ধকারে প্রবেশ

মানুষ তার পরিবেশের কারণে প্রভাবিত হয়। একজন শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয়, এরপর থেকেই সে প্রতিনিয়ত বড় হয় ও শিখতে থাকে। শিখতে থাকে তার চারপাশে যা আছে তা থেকে। প্রথম যে শিক্ষা পায় তা তার পরিবার থেকে, আরও জোর দিয়ে বললে তার মায়ের থেকে। শিশুর প্রথম শিক্ষক তার মা। একজন মা যদি শিক্ষিত হয়, সেই শিশুর জন্য শিক্ষা পেতে বেশি অসুবিধা হয় না। এখানে শুধু একাডেমিক উদ্দেশ্য না, দায়িত্বসচেতন, পরিবেশ সমন্ধে সচেতন, স্বাস্থ্য সমন্ধে সচেতন এরকম শিক্ষা বোঝায়। বাকি শহরে অনেক চাকুরিজীবি মায়েরাই আছে, যারা শিক্ষিত হয়ে তাদের সন্তান পরিচর্যা সমন্ধে তেমন কোন জ্ঞান নেই।
একটি বীজ থেকে যেমন চারা গজায়, সে চারাকে পরিচর্যা করতে হয় ঠিক যেমন একজন শিশু প্রয়োজন। আবার একটা গাছ তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে বেড়ে ওঠে। অর্থাৎ একটা আম গাছ তার বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখে এক সময় সে ফল দিবে। আবার ধান গাছ তার বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখে এক সময় ফল দিবে। আপনি যত চেষ্টাই করুন, আম গাছে কখনোই ধান হবে না, না ধান গাছে ধরবে আম। মানব শিশুরও কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য স্বকীয় থাকে, সেগুলো সবার সাথে এক করলে চলবে না। কেউ মানসিকভাবে কিছুটা দূর্বল, কেউ বা সবল, কেউ প্রতিবন্ধী কেউ বা পূর্ণাঙ্গ। সবচেয়ে আলাদা যে বৈশিষ্ট্য শুরুতেই থাকে তা হলো, ছেলে বা মেয়ে। এটাকে এক ভাবা কোন ভাবেই কাম্য নয়।
আমাদের সমাজের আশেপাশে তাকালে একটা বিষয় বেশ ভালভাবেই লক্ষ্য করা যায় সেটি হলো, বেশির ভাগ বাবা-মা সন্তান একটু বড় হলে অর্থাৎ ১০-১২ বয়স হলেই ভাবে তার সন্তান একা একা সব করতে পারবে। কোন কোন বাবা-মা সন্তানরা স্কুল, কলেজ বা টিউশনিতে ঠিকমতো যাচ্ছে কিনা এসব খোঁজখবর রাখে। তারা সবচেয়ে বেশি যে খোঁজটা নেয় তা হচ্ছে, পরীক্ষার ফলটা কি করলো তার সন্তান। পরীক্ষায় যদি ভাল করে তাহলে তার হাজার অপরাধ মাফ। অথচ এই বয়সটা থেকেই আস্তে আস্তে ছেলে-মেয়েরা বয়ঃসন্ধিতে প্রবেশ করে। শারীরিক, মানসিক দুইভাবেই পরিবর্তন আসতে থাকে। এখন এই পরিস্থিতিতে সে এসব কিভাবে মোকাবেলা করবে, কোন কাজটা সঠিক আর কোন কাজটা ভুল এটা সে কিভাবে নির্ণয় করবে, এসব বিষয়ে যেন বাবা-মারা ভ্রূক্ষেপও করেন না। অথচ জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা এই সদ্য কিশোর হওয়া সন্তানটা কতটা ভয়ানক অবস্থায় আছে, তা কিছু সময় পরই আবিষ্কার করা যায়। কোন খারাপ সঙ্গ পেলে খারাপ দিকে, এবং ভাল সঙ্গ পেলে ভাল দিকে ধাবিত হয়। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া, শরীরের বিশেষ অঙ্গগুলোর পরিবর্তন, কণ্ঠসরের পরিবর্তন, নিঃসঙ্গতা, যে কোন কাজের প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি। ইন্টারনেট ও স্মার্ট ডিভাইসগুলোর সহজলভ্যতা তো বয়স হওয়ার আগেই তাকে বয়সী বানিয়ে ফেলে। সে কম বয়সে এমন সব জগত আবিষ্কার করে যা, বড়দেরও অনেক সময় জেনে আশ্চর্য হতে হয়। বিভিন্ন ধরনের অপরাধ যেমন- সিগারেট খাওয়া থেকে শুরু করে নেশাজাতীয় বিভিন্ন দ্রব্যের সংস্পর্শে আসা, অহেতুক মারামারি থেকে ছিনতাই, খুন, আইটেম সং দেখা থেকে শুরু করে পর্ণগ্রাফী। শতকরা কতজন কিশোর কিশোরী এই ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেয়েছে, যেখানে সমাজে এসব বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দেয়াকে ট্যাবু মনে করে? পেপার পত্রিকার নিত্যদিনের খবর এসব অপরাধের অথচ আমাদের বাবা-মায়েরা যেন অন্ধ বধির, আত্মীয়-স্বজনদেরও দায়িত্বহীনতা। এরপর বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটলেই সব দোষ সন্তানদের ঘাড়েই ফেলে আফসোস করতে থাকে। 


গত কয়েক বছরের ঘটনাগুলো একটু মনে করার চেষ্টা করি, কিশোর বয়সী ঐশীর তার বাবা-মাকে খুন করা, উত্তরায় গ্যাং এর সদস্য কিশোর খুন হওয়া ইত্যাদি। আমাদের যেন কিছুই করার নেই। আমাদের অভিভাবকরা ভাববে কবে? শেখাবে কবে? এসব দূর্ঘটনার শেষই বা কোথায়? নাকি এসব কেবল শুরু মাত্র? সামনের দিনগুলোতে আরও ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে?

One

অনেক ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। খেয়ে দেয়ে আবার ক্লান্তও হয়ে যায়। যার কিছু হয়তো ভাল, আবার কিছু হয়তো কালো। তেমনি আজ একটা বিষয় মাথায় আসলো।...